বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
আজ আকাশটা বড় অশান্ত। বাইরে মুষলধারে বৃষ্টি। দিনা অন্ধকারে একটি চেয়ারে বসে উপভোগ করেছে এই রিমঝিম বৃষ্টি। অন্ধকার আর বৃষ্টি তার খুব ভালো লাগে। অন্ধকারে বৃষ্টিতে যেন জীবনের অনেক লেনাদেনা দিনার। হিসেব মিলিয়ে নিতে চেষ্টা করে কিন্তু জীবনের হিসেবটা মিললো কিনা কে জানে।
ডায়রির পাতা থেকে চলে গেছে অনেক গুলো দিন। সময়ের বির্বতনে কতো কিছু বদলে গেছে। সাদা চুল পাকা হয়ে গেছে, চোখ ও ঝাপসা। কিন্তু স্মৃতিগুলো যেন ঠিক একি রকম। সেখানে কোন বদল নেই।বৃষ্টির শব্দে পৃথিবীর কোলাহল আর নেই। কতো ভাবনা যেন এসে ভিড় করছে। এইতো মনে হয় কদিন আগেই, গ্রামের আলো বাতাসে বড় হওয়া আমি। বাবার আদরের আমি। কতো আবদার বাবার কাছে। গ্রামের ছেলে - মেয়েরা একসাথে দলবেঁধে স্কুলে যাওয়া। ঈদে, পূজা সব মিলে মজা করা।কতোই না আনন্দের ছিল সেই দিনগুলো। ভাবতেই যেন চোখে পানি আসে।
আর এইযে বৃষ্টি তা নিয়ে কি কম স্মৃতি। সেদিন স্কুলে ফিরার পথে মুষলধারে বৃষ্টি ছিল। আমি আর ও। মানে আমাকে যে পাগলের মতো ভালবাসা তো।কিন্তু বলতে পারতোনা। কি করে বলবে আমরা তো ধনী বাড়ির মেয়ে। সে জানতো বললে কোন লাভ নেই। তাই আমাকে বলার সাহস দেখাতো না। তবে আমারও যে ভালো লাগতোনা তা নয়। আমার ও খুব ভাল লাগতো। আর ওকে কে আবার ভালবাসবেনা। কিযে সুন্দর ছিল দেখতে। মেয়েরা দেখলেই প্রেমে পড়ে যেত। কিন্তু ও আমাকে ভালবাসতো পাগলের মতো।
বাড়ি ফিরার পথে ও আর আমি। সঙ্গে ছিল মুষলধারে বৃষ্টি। ওর কাছে কোন ছাতা ছিল না। মনের সাথে যুদ্ধ করে পেরে উঠলাম না।বললাম আরিফ আস আমার ছাতার নীচে। এতো বৃষ্টিতে ভিজলে জ্বর আসবে। সে যেন আকাশ থেকে পড়লো।
না না দিনা আমার অভ্যাস আছে।
আরে আসতো।
সে আমার কথা ফেলতে পারেনি। চলে এলো আমার ছাতার নীচে। শক্ত করে ধরলো ছাতাটাকে। দু'জনে হাঁটা শুরু করলাম। কিন্তু মাঝে মাঝে ওর শরীর আমার শরীরকে স্পর্শ করছে। আমি বুঝাতে পারছি না আমার কিযে এক অনুভূতি কাজ করছিল।বৃষ্টিটা ক্রমানয়ে বেড়েই চলেছে। আমার ওর মুখে কত কথা যে শুনতে ইচ্ছে করছিল কিন্তু না একটি কথাও বললোনা।নীরবে হাঁটতে থাকলো। বিদ্যুৎ চমকাচ্ছে। ভয়ে আমরা জড়সড় তারপর খুব ভাল লাগছে।
হঠাৎ আমি বুঝে ওঠার আগেই সে আমাকে জড়িয়ে ধরে অনেক গুলো চুমু খেল। আমি যেন শক্তি হারিয়ে ফেললাম কিচ্ছু বললাম না ওকে। আমার ভালবাসার প্রথম অনুভূতি।
রাস্তা শেষ হয়ে এলো। যে যার মতো বাড়িতে চলে গেলাম। কেউ কাওকে কিচ্ছু বললাম না।
বেশ কিছুদিন কেটে গেছে কিন্তু ওর দেখা আর মিললো না।
বাবা আমার বিয়ে ঠিক করে ফেললেন। আমি বাবাকে বলতে পারলাম না। বলতে পারলাম না আমার ভালো লাগার কথা। আর
বললেই কি আর হতো?
শুরু হলো আমার জীবনে আরেক অধ্যায়। বাবার বাড়ি তেমন একটা যাওয়া হতোনা আমার। যখন যেতাম সবার কাছে জিজ্ঞেস করতাম অবশ্য শুনেছি সে অনেক বড় চাকরি পেয়েছে। বিয়ে করেছে ভালো আছে।
আচ্ছা বলতো তুমি কি আমাকে মনে রেখেছো আমার মতো?
আমি তো তোমায় ভুলিতে পারিনি।
তবে বলবনা তোমাকে সবসময় মনে রেখেছি, তুমি ছিলে কাজের শেষে আমার অবকাশ।
সন্ধ্যার আকাশে মিটমিটে অস্পষ্ট একটি তারা।
বৃষ্টির দিনে রিমঝিম শব্দের কোলাহল বিহীন সুর।
কিংবা কোন কষ্টে লুকিয়ে কান্নার শেষে সুখ।
আমি তো তোমাকে সারাজীবন এভাবেই নিজের করে রেখে দিয়েছি।
জানো এ ভালবাসাই কোন ভয় নেই।হারানোর কোন ভাবনা ও নেই। বাবার শাসন ও নেই।
আচ্ছা তুমি কি আমাকে ভুলে গেছ? নাকি আমার মতো তুমি ও আমাকে এভাবেই ভালবাসছো?
আমি তো ভুলতে পারিনি আমার
প্রথম প্রেমকে। আমার ভালবাসার প্রথম অনুভূতিকে। আমি হারাবো অন্ধকারে, মিলবো
দু'জন দু'জনাতে।
বৃষ্টিটা থেমে গেল, মুয়াজ্জিনের আযানের সুর কানে ভেসে আসলো দিনার। বাস্তব জগৎতে ফিরে এলো। দুটো চোখ গড়িয়ে জল পড়ছে। কিন্তু বাইরের বৃষ্টি থেমে গেলেও থামেনি নিজের জীবনের বৃষ্টি।
ধন্যবাদ গল্পের ঝুড়ি কে।অনেক দিন ধরে ভাবছি লিখবো কিন্তু কোথায় লিখবো বুঝে উঠতে পারছিলাম না। আমার ছোট ভাই
শফিউল মাহমুদ মাউলা তার কাছে জানতে পারলাম এবং আমি পেইজে ডুকে দেখলাম ভালো লাগলো। সাহস করে লেখাটা পাঠালাম। দয়া করে দেখবেন।এবং লেখার সুযোগ দিবেন আশা রাখছি।আবারও ধন্যবাদ গল্পের ঝুড়ি কে।
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now