বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

প্রথম অনলাইন ক্লাস

"জীবনের গল্প" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান মোহাম্মদ শাহজামান শুভ (০ পয়েন্ট)

X প্রথম অনলাইন ক্লাস 17জুন ২০২০ অনলাইন ক্লাস রেকর্ডিং করার জন্য পরিবেশ পাচ্ছি না। একটা বোর্ডও নাই। আমার বড় ভাই, শাহাবৃদ্ধি আব্দুল মালেকশাহ মাদ্রাসা থেকে একটি ছোট বোর্ড এনেছে। স্কুল তো অনেক দূরে। গ্রামের প্রাইমারি স্কুলও বন্ধ। গ্রামের সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের চাবী থাকে প্রধান শিক্ষকের নিকট আর প্রধান শিক্ষক থাকে ছয় কিলোমিটার দূরে। আমার বাড়ির আশে পাশে নজেয় আর সাউন্ডে ভরপুর। কি করি? আমার বাড়ি হতে একটু দূরে নিরিবিলি স্থানে নতুন বিল্ডিং করতেছে সেখানে গেলাম। সেখানে গিয়ে ওয়ালে বোর্ড আটকিয়ে নিলাম। একটা বয়া কিনেছে আমার বড় ভাই মোহাম্মদ শাহজাহান । তিনি জগতপুর সাধানা উচ্চ বিদ্যালয়ের সিনিয়র শিক্ষক। নিরিবিলি স্থানটি ভাল লাগলো কিন্তু আলো কম। যাই হোক চলবে। শুরু করলাম তিতাস অনলাইন স্কুলে লাইভ ক্লাস। আমি ক্যামেরাম্যান আর ভাই হলো শিক্ষক। ইংরেজি সেন্টেন্সের উপর ক্লাস। ১৮মিনিটে একটি সেশন শেষ করলাম। আমি ভাইকে ক্যামের দিয়ে ক্যামেরার সামনে গেলাম। অষ্টম শ্রেণি বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি বইয়ের পত্র দরখাস্ত ক্লাস। ভয়ে আমার বুক কাঁপছে। একটু একটু জড়তা কাটলো। ক্লাসটি করার সময় আমি একটি ফতোয়া পড়িহিত ছিলাম। গরমে এবং ভয়ে আমার শরীর ঘেঁমে শরীর ভিজে গেছে। ভাইকে বললাম, তিতাস অনলাইন স্কুল করলাম নিয়মিত ক্লাস পাবো কই? ভাই বলল, আমি নিয়মিত ইংরেজি ক্লাস দেব। আমি বুকে সাহস পেলাম। তিতাসের অন্য স্যারের ক্লাস না দিলেও তিতাস অনলাইন স্কুল চলবে। লাইভ ক্লাশগুলো লক্ষ্য করলাম। ক্লাশ বা ভিডিও কাঁপে। আমি কয়েকজনের সাথে আলাপ করলাম বিশেষ করে কুমিল্লা ক্যান্টনমেন্ট ইস্পাহানী স্কুল এন্ড কলেজের মহিমচন্দ্র বিশ্বাস এবং সংরাইশ ছালেহা বালিকা বিদ্যালয়ের আজিম খান রাজুর স্যারের সাথে। তাঁরা জানাল, ভিডিও ধারণ করার সময় হাত সম্ভবত কাঁপছিল। একটি টাইপয়েড কিনে টাইপয়েডে মোবাইল রেখে ক্লাস রেকর্ডিং করার কথা জানাল। আমি ভাইকে বললাম, একটা ট্রাইপয়েড লাগবে। ভাই পরের দিন গৌরিপুর বাজার থেকে একটা দেড় হাজার টাকা দিয়ে ট্রাইপয়েড কিনে আনল। টাইপয়েড ক্যামেরা, বয়া নিয়ে আমি, ভাই এবং আমার ভাতিজা শাহরেয়াজুর রহমান রাজকে নিয়ে বাড়ি থেকে একটু দূরে নিরিবিল পরিবেশে গেলাম এবং সেখানে ক্লাস রেকর্ডিং করলাম। এবার রেকর্ড লাইভ টেলিকাস্ট করব তিতাস অনলাইন ক্লাশে কিন্তু আমি তা পারি না। সংরাইশ ছালেহা বালিকা বিদ্যালয়ের আজিম খান রাজুর স্যারের সাহয্য নিলাম। রাজু স্যারকে বললাম, ভাই আমার তিতাস অনলাইন স্কুলে রেকর্ড লাইভ প্রচার করেন। আমি তো পারি না তাছাড়া ইন্টারনেটও ভাল না। রাজু স্যার বললেন, ‘ঠিক আছে ক্লাসগুলো আমাকে দেন আর আমাকে আপনার পেইজে এডমিন করেন এবং সময় দেন কখন দেব’? আমি ইউটিউবে আমার চ্যানেলে ( Mohammad Shahzaman/Shuvoh Sir) আপলোড করে রাজু স্যারকে লিংক পাঠালাম এবং রাজু স্যারকে তিতাস অনলাইন স্কুলের এডমিন বানালাম। পরের দিন রাজু স্যার তিতাস অনলাইন স্কুলে রেকর্ড লাইভ ক্লাস প্রচার করল। আমি আমার এবং ভাইয়ের লাইভ প্রচারিত ক্লাস দেখলাম। ক্লাসে কিছু ভুল ত্রুটি লেখলাম তারপরেও ভালো লাগলো। নিজের কাছে আনন্দ মনে হল। আমার ক্লাস শিক্ষার্থী ও অন্যরা দেখতেছে। রাজু স্যার আমাকে জানাল, ফতোয়া,টি-শার্ট বা রঙ্গিন শার্ট পড়ে ক্লাস নেওয়াটা শিক্ষকের জন্য শোভনীয় নয়। রাজু স্যারের কথাটি আমার কাছে ভাল মনে হল। পরবর্তিতে এই পোশাকগুলোর প্রতি লক্ষ্য রেখে ক্লাস রেকর্ড করব।


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১০৯৬ জন


এ জাতীয় গল্প

→ প্রথম অনলাইন ক্লাস

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now