বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

"প্রথম-ফুল"

"উপন্যাস" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান রিয়াদুল ইসলাম রূপচাঁন (০ পয়েন্ট)

X ১ম পর্ব >>>>>> শামসুন্নাহার খালার এক্সিডেন্টের কথা শুনে খালার ৩য় মেয়েও চলে এসেছে ক্লিনিকে। তাই খালুজান বলতাছে, এতো মানুষ এখানে থেকে লাভ হবেনা। তাই আমাকে দায়িত্ব দেওয়া হলো রিম,ঝিম ও নাঈমাকে তাদের বাড়িতে পৌঁছে দেওয়া। একটা রিক্সা নিলাম। ব্যাটারি চালিত রিক্সা। নাঈমা আর আমি এক রিক্সায়৷ রিম,ঝিম আমাদের দুইজনের কোলে। নাঈমার সাথে আমি কখনও ক্লোজলি কথা বলিনি। তার দিকে অন্য চোখেও কোনোদিন তাকায়নি। আজকে আমার কেমন যেন লাগছে৷ বুকে চিনচিন ব্যাথা শুরু হয়েছে। আমি বুঝতে পারছিনা কেন এই অনুভুতি? মনে হচ্ছে ভালোবাসার মানুষকে নিয়ে কোথাও যাচ্ছি। ইচ্ছে হচ্ছে একটু তার হাতে হাত রাখি,তার দিকে তাকিয়ে থাকি। কিন্তু পারছিনা কিছুই,আমার সাহস হচ্ছে না। এই সিচুয়েশনে আমি কি যে ভাবছি? ধুরর!! নিজেকে সামলিয়ে নিলাম। কিন্তু পরক্ষণেই তার সাথে কথা বলার প্রবণতা আরও বেড়ে গেল। তাই সাহস নিয়ে বলে ফেললাম। কি বললাম জানেন? বললাম এক্সিডেন্ট হল কিভাবে? উত্তরটা জানি তবুও প্রশ্ন করলাম। তখন নাঈমা উত্তর দিল,আপুর বাসা থেকে আসার সময় সিএনজি'র সাথে অটোরিক্সা ধাক্কা লেগে অটোরিক্সা উল্টে গিয়েছিল। আমি বললাম, ওহ্ আচ্ছা! কিছুক্ষণ চুপ থেকে আবার বললাম,তুমি কোন ক্লাসে যেন পড়ো? নাঈমা বলল, ক্লাস টেনে উঠবো এইবার। আমি বললাম, ওহ আচ্ছা। একটু তাকালাম তার দিকে। আড়চোখে। রিক্সা থামল শেরীঘাটে। করোনা ভাইরাসের জন্য গাড়ি চলাচল বন্ধ করা হয়েছে। কিছু কিছু গাড়ি চলছে, তবে এক এলাকার গাড়ি অন্য এলাকায় যেতে পারছেনা। মানে এক জায়গায় যেতে হলে দুই,একটা গাড়ি বদল করতে হয় আরকি। এরপর আমি স্থির করলাম, ওদেরকে আরেকটা অটোতে তুলে দিবো, আমি সাথে যাবোনা। কারণ আমার মনে হচ্ছে আমাকে ভুতে ধরেছে। এই ভুত ভালো না। কারণ নাঈমা তো আমার খালাতো বোন। আর আমি কিসব ভাবছি? নাঈমা নিরব একটা মেয়ে। প্রশ্ন করলে উত্তর দেয়। এর বেশি কিছুই বলে না। আরেকটা অটোতে তুলে দিয়ে ভাড়া মিটিয়ে দিয়ে বললাম, যাও ভালো থেকো। শেরীঘাট দাড়িয়ে তাদের চলে যাওয়া দেখলাম। তারপর খালার খবর নিয়ে বাসায় চলে এলাম। রাতে কিছুক্ষণ নাঈমাকে নিয়ে ভাবলাম। তারপর মাথা থেকে ভুত ঝেড়ে ফেললাম। দিন আগের মতোই কাটছে আমার। শো-রুমে আসা যাওয়া । একদম সাদামাটা জীবন বলে যাকে। জীবনের সবচেয়ে বড় আঘাতটা আমি পেয়ে গেছি। তাই জীবনের রস বলতে কিছু নেই। ২০১৭ সালের ১২ই ডিসেম্বরে প্রিয় জননী এই পৃথিবী ছেড়ে চলে যান না ফেরার দেশে। এর চেয়ে বড় আঘাত আর কি বা হতে পারে? জমি-জমাও বিক্রি করে দেওয়া হয়েছে। আমি সুজাতা খালার বাসায় থাকি। নিজেকে সব সময় ব্যস্ত রাখার চেষ্টা করি। কারণ ব্যস্ত থাকলে দুঃখ ভুলে থাকা যায়। মা মারা যাওয়ার পর রূপচাঁন একেবারে শেষ হয়ে গেছে। পড়া লেখা বাদ,আনন্দ, খেলা সব কিছু থেকে একেবারে আলাদা হয়ে গেছে। খালার বাসায় খালাতো ভাই-বোনদের সাথে মিশে থাকতে থাকতে দুঃখ কিছুটা লাঘব হতে শুরু করেছে। তবে জীবনে পাওয়া এই কষ্টের বাগিচা, কখনো মা হারাবার ব্যথা ভুলাতে পারবেনা। শামসুন্নাহার খালার বাড়িতে বেড়াতে গেলাম। মিম তার শ্বশুরবাড়ি থেকে এসেছে৷ তাই আমাকে যেতে বলেছে মিম নিজেই। সেই ছোট বেলা থেকেই মিম আর আমার সু-সম্পর্ক। আমরা খুবই ঘনিষ্ঠ। মিমের প্রতি আমার অনেক টান। মিম ডাকলেই আমি ছুটে চলে যাই।আজও ছুটে চলে এসেছি। এখানে কোনো স্বার্থ নেই দুজনের, কোনো প্রেম নেই। তবে ভাই-বোন এবং বন্ধুত্বের সত্যিকারের যে ভালোবাসা সেটাই দুজনের মধ্যে সীমাবদ্ধ। আমি যাওয়াতে মিম অনেক খুশি হই। রাতে মিম আর আমি গল্প শুরু করলাম। আমি ফোন টিপছি আর গল্প করছি। মিম ফোনটা নিয়ে নিল। তারপর নাটক বের করে দেখা শুরু করলো। ঐ রুম থেকে আওয়াজ এলো,"আপু কি করিস?" আমার বুকটা যেন কেঁপে উঠলো। চিরচেনা কেউ যেন আমাকে ডাকছে মনে হল। ধুরর! এটা তো নাঈমা। মিমকে জিজ্ঞেস করলো, আমার এমন লাগছে কেন? মিম বলল, নাটক দেখাতাছি,দেখবি? নাঈমা এই রুমে চলে এল। তারপর মিমের পাশে বসে নাটক দেখতে লাগলো। আমিও নিশ্চুপ হয়ে দেখছি নাটক। নাঈমাকে তো হাজারবার দেখেছি। তখন তো কোনো অনুভুতি কাজ করেনি আমার। ইদানীং নাঈমার সাথে দেখা হলে আমি কেমন যেন হয়ে যায়৷ আমি কি প্রেমে টেমে পড়লাম নাকি? আরে নাহ্ কি ভাবছি। মনকে সামলিয়ে নিলাম। মিম: তোরা নাটক দেখ,আমি একটু বাইরে থেকে আসি। (মিম বাইরে চলে গেল। ফোন এখন নাঈমা হাতে নিল) মিম বাইরে চলে যাওয়াতে আমার মনোযোগ নাটকে নেই। নাঈমার দিকে মনোযোগ। তার চুলগুলো কত সুন্দর, তার হাত,চোখ সব কিছুই আমি আড়চোখে দেখছি। কেমন যেন একটা ভালো লাগা কাজ করছে আমার। তার একটু কাছে যাওয়ার চেষ্টা করছিলাম। অনেকটা কাছে চলেও এলাম নাটক দেখার বাহানায়! আমি ঠিক করছি নাকি ভুল করছি এটাও ভাবছিনা। নাঈমার হাত ধরার ইচ্ছে হচ্ছে খুব। ঠিক করলাম ওর হাতে হাত দিবো এখনি। তাই হাত রেডি হলাম। হঠাৎ মিম চলে এলো। আমি ভয় পেয়ে গেলাম। নাঈমা থেকে অনেকটা দূরে সরে এলাম৷ মিম কিছু টের পেয়ে গেলো নাতো? বুক কাপছে। মিম কিছু বলল না৷ কারণ ও জানে আমি কেমন! খালা খাবার খেতে ডাকলো। তারপর সবাই মিলে রাতের খাবার খেলাম। আমি গেলেই খালা গরুর গোশত নয়তো মুরগি জবাই করে। এতো আদর করে যে, বলে বুঝাতে পারবোনা। নিজের ছেলের মতো ভালোবাসে আমাকে। তাই খালাতো বোনের সাথে আমি কোনো সম্পর্ক করতে চাইনা। আমি চাইনা খালার এতো আদর, ভালোবাসাকে অপমান করতে। চাইনা কোনো ভুল করতে। মিম কিছু ছন্দ লিখে দিতে বলল, রোমান্টিক ছন্দ । তাই লিখে দিলাম। নাঈমাও সব লেখা দেখলো আর প্রশংসা করলো। তারপর বলল, "শহর" নিয়ে একটা ছন্দ লিখো। আমি তখন লিখলাম, " ভালোবাসার শহরে তুমি আমার রাজত্ব, তোমায় নিয়ে দেখবো আমি,স্বপ্ন যত ইচ্ছে গুলো করবো পূরণ, থাকো যদি পাশে ঘুড়ি হয়ে উড়বো দুজন,প্রেম-আকাশে। " এরপর আরও কিছু ছন্দ তাদেরকে লিখে দিয়ে ঘুমিয়ে পড়লাম। পরের দিন সকালে, খাওয়া শেষ করে তাদের বাড়ি থেকে চলে এলাম। আমার ভালোবাসাকে আড়াল করে নিলাম। আমার ভালোবাসা প্রকাশ করে, কাউকে কষ্ট দিতে চাইনা। মিম, খালা, খালুজান এদের কথা ভেবে ভালোবাসার কথা নাঈমাকে বলতে পারলাম না। তাদের ভালোবাসাকে রক্ষা করতে গিয়ে, নিজের ভালো লাগাকে আড়াল করাই শ্রেয়। তাছাড়া নাঈমাকে যদি বলিও, সে যদি রাজি না হয় বা কষ্ট পায় আমার কথায়। তাহলে তো কোনোদিন তাদের কারো সামনে মুখ দেখাতে পারবেনা! কিছু ভালোবাসা নাহয় চাঁপা পড়ুক মরীচিকার অন্তরালে। যাকে চাইলেও ধরা যায়না। বিঃদ্রঃ >> (কোনো এক অচেনা মানুষের অনুপ্রেরণায় লেখা। অসংখ্য ধন্যবাদ অনুপ্রেরণা যোগানোর জন্য)


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১১৪০ জন


এ জাতীয় গল্প

→ "প্রথম-ফুল" পর্ব-০২
→ "প্রথম-ফুল"

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now