বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

প্রথিবীটা কি শুধু মানুষের?

"শিক্ষণীয় গল্প" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান সাফায়েত হোসেন (০ পয়েন্ট)

X ‌টিকটিক শব্দে ফোনের এলার্ম বাজছে।এলার্মটা বন্ধ করে বিছানাটা গুছিয়ে নিলাম।হাত মুখ ধুয়ে নিয়ে সকালের নাস্তা করে নিলাম।তারপর প্রতিদিনের মত ফোন এ নিউজ পড়তে লাগলাম।এমনিতে আমি কাগজের নিউজই বেশি পড়ি কিন্তু এখন নিজের দেশ সহ পুরো বিশ্ব এক অদৃশ্য এক করোনা ভাইরাসের থাবায় জর্জরিত।এই জন্য সবকিছু বন্ধ তাই অগত্যা কি আর করার মোবাইল এই পড়া লাগছে নিউজ।কথায় কথায় আমার পরিচয় দিতেই ভুলে গেছি।আমার নাম সবুজ।আমি জাহাঙ্গিরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র।আমার বাসা বিশ্বের সবচেয়ে বড় সুমুদ্র সৈকত কক্সবাজারে।দেশে করনা ভাইরাস প্রথম যখন ধরা পড়ে তার দুই এক দিন আগেই আম্মুর অসুস্থতার জন্য আমি বাসায় চলে আসি।তারপর তো সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধই ঘোষণা করে দিল।জানি না আবার কবে খুলবে সব।আমার বাসা থেকে কক্সবাজার সমুদ্র প্রায় আধা ঘন্টার হাটা পথ।কিন্তু বাসায় এসে সমুদ্র এ জাওয়ার সময় হয় নি।আম্মু অসুস্থ ছিল তার মধ্যে আবার লকডাউন তাই জাওয়ার তেমন সু্যোগ হয় নি।গতকাল অবশ্য গেলাম গিয়ে দেখলাম চারিদিক শূন্যতা।যেখানে সারাবছর দেশি বিদেশি পর্যটকে মূখরিত থাকে সৈকতের চারপাশ।আর আজ এক অদৃশ্য ভাইরাসের থাবায় সারা বিশ্বের মানুষ আজ ঘরবন্দি।যাই হোক এখন নিউজ পড়ায় মন দেই হঠাৎ একটি নিউজ দেখে আমি অবাক হলাম।কক্সবাজার এ ডলফিন দেখা গেছে।স্থানিয় একজন লোক নাকি দেখেছেন।আমার ভাগ্যে অবশ্য দেখার সৌভাগ্য হল না।চারপাশে ফাকা পেয়ে তারা মনের আনন্দে খেলা করছে।বাহ নিউজটা পড়ে এত খারাপ খবরের মধ্যেও একটি ভাল খবর পেলাম।এমনিতে তো প্রতিদিন খবর এ দেখি এত এত লোক আক্রান্ত হচ্ছে আর এত এত লোক মারা যাচ্ছে।আবার টিভিতে দেখলাম কিছুদিন আগে কুয়াকাটাতে নাকি অনেক কাকড়া দেখা যাচ্ছে,অস্টেলিয়ায় শহরে ক্যাঙ্গারু ঘুড়ে বেড়াচ্ছে,পাখিরা আকাশে নির্বিঘ্নে ঝাকে ঝাকে উড়ে বেড়াচ্ছে ইত্যাদি অনেক ঘটনা চোখে পড়ছে।লকডাউনে মানুষ যেখানে ঘরবন্দি সেখানে প্রকৃতি যেন হাফ ছেড়ে বাচছে।প্রকৃতি নিজেকে যেন সাজিয়ে নিচ্ছে তার আপন মহিমায়।যেই কক্সবাজারে গত ৩০ বছরে ডলফিন দেখা যায় নি সেখানে আজ ডলফিনের অবাধ বিচরণ দেখা যাচ্ছে।সমুদ্র সৈকতে সবুজ গুল্মলতা গজিয়ে উঠছে।ওজন স্তর যেন ধীরে ধীরে তার আগের অবস্থায় ফিরে যাচ্ছে।করোনা আজ মানুষজাতি কে দেখিয়ে দিচ্ছে।কিভাবে প্রকৃতি কে রক্ষা করতে হয়।প্রকৃতির বিরুদ্ধে গেলে প্রকৃতি যে কতটা ভয়াবহ হতে পারে তার বাস্তব প্রমাণ পাচ্ছে নয় কি এই মানবজাতি।প্রকৃতির এই নতুন ভাবে সেজে উঠা দেখে কি আমরা অনুধাবন করতে পারছি নয় কি যে আমরা তিলে তিলে আমাদের বাসভূমিকে প্রথিবী কে ধংশের দিকে ঠেলে দিচ্ছি?আমরা মানুষ আজ এতই স্বার্থপর হয়ে গেছি যে নিজেদের স্বার্থে প্রকৃতিকে শেষ করে দিচ্ছি।আমাদের জন্য অনেক প্রাণী আজ বিলুপ্ত হয়ে গেছে।অনেক প্রাণীর প্রজাতি আজ ধংশের মুখে।আজ এই লকডাউনে সব পশুপাখি যেন নতুন একটা জীবন পেয়েছে।কিছুদিন আগে ফেসবুকে একটা মজার মিম দেখলাম যে আগে মানুষ চিড়িয়াখানায় গিয়ে খাঁচায় বন্দি পশুপাখি কে দেখতো আর এখন পশুপাখি ঘরবন্দি মানুষকে দেখছে।সত্যি!আল্লাহ চাইলে কি না হয়।একদিন হয়তো এই করোনা ভাইরাস থাকবে না।সব ঠিক হয়ে যাবে প্রথিবী তার স্বাভাবিক গতিতে ফিরে যাবে।ফ্রান্সের আইফেল টাওয়ারে মানুষ ভিড় করবে।ভালোবাসার প্রতিক তাজমহলে প্রেমিক প্রেমিকার দেখা মিলবে।ঢাকা শহরের সেই চিরচেনা জ্যাম দেখা যাবে কিন্তু প্রথিবী কি এই সুন্দর স্বচ্ছ থাকবে? নাকি আবার সেই আগের দূষিত,মৃত্যুপায় অবস্থায় ফিরে যাবে।খবরে প্রকৃতির নতুন রূপ দেখে হয়তোবা আমরা সবাই খুশি হচ্ছি।কিন্তু এখন যদি সবাইকে বলি সব যদি স্বাভাবিক হয়ে যায় তাইলে কি প্রথিবী কি এই অবস্থায় থাকবে নাকি আগের অবস্থায় ফিরে যাবে।কি হবে আপনার উত্তর?আপনার কাছে কি সঠিক উত্তর আছে কোনো?তাই সবাইকে নিজের জায়গা থেকে প্রকৃতি রক্ষায় এগিয়ে আসতে হবে।নইলে একরম ভাইরাস যে আরো আসবে না তার কি নিশ্চয়তা আছে।অনেক্ষন খবর পড়লাম দেখি অনেক বেলা হয়ে গেছে আজ উঠি।কিন্তু মনের মধ্যে একটাই প্রশ্ন শুধু ঘুরপাক খাচ্ছে যে "প্রথিবীটা কি শুধুই মানুষের"?


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১১২০ জন


এ জাতীয় গল্প

→ প্রথিবীটা কি শুধু মানুষের?

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now