বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
প্রণয় ও অতঃপর ।
লিখেছেন- সাব্বির আহমেদ শাওন ।
মাহিদা মেয়েটার সাথে শুভর পরিচয় ফেইসবুকে।
মেয়েটা শুভকে ভালোই পাত্তা দিচ্ছিলো। একদিন
দুদিন দুষ্টুমি করতে করতে প্রণয়ে জড়িয়ে পড়ে
দুজন। রাতভর কথা বলা, মিষ্টি মিষ্টি রোমান্স করা
প্রতিদিনের ব্যাপার হয়ে যায় দুজনের। মাহিদা শুভর
সাথে প্রতিদিন ই দেখা করতে চায়। কিন্তু শুভ
থাকে চাঁদপুর আর মাহিদা ময়মনসিংহ। কিভাবে দেখা
হবে অতো দূরে। তাছাড়া ফেইসবুক প্রেম।
নিজের সেফটির ও একটা ব্যাপার আছে। এদিকে
মাহিদার আর তর সইছে না। শুভর সাথে দেখা করা
জরুরী হয়ে গেছে। শুভও মোটামুটি পাগল মাহিদা
কে একটি নজর সত্যি সত্যি দেখার জন্য।
শুভ কি করবে বুঝতে পারছে না।একা একা এতো
দূর যাওয়াটা রিস্কি হয়ে যায়। আবার না গেলে ও
হচ্ছে না।প্রেম করেছে দেখা না করলে হয়
না। পরক্ষণেই শুভর মনে পরে রাতুল আংকেল
কথা। আরে রাতুল আংকেল তো ময়মনসিংহ থাকে।
রাতুল কে আংকেলকে বলে দেখা যায়। শুভ
রাতুলের সাথে বেশ ফ্রি। রাতুলের সাথেও শুভর
পরিচয় ফেইসবুকে। শুভ উত্তেজিত হয়ে সাথে
সাথে ডায়েল করে রাতুল কে।
ওপার থেকে রাতুল ফোনটা রিসিভ করে বলে
"কিরে শুভ কি হয়েছে? "
শুভ বলে "রাতুল আংকেল আমার তো মাহিদার সাথে
ডেটিং ফিক্সড হয়েছে। তোমাদের এলাকায়
আসতে হবে। আসবো কিনা বুঝতেসি না"
"চলে আয়। সমস্যা নেই।আমি তোর রিস্ক নিলাম।
" বলে রাতুল।
"তুমি বলছো? তুমি বললে আসবো"
"আয় আয় দুই একদিনের মাঝেই চলে আয়।
তোর সাথেও আমার দেখা টা হয়ে যাবে। "
"ওকে রাতুল আংকেল আমি আসছি" ফোনটা কাটার
সাথে সাথে শুভর মনটা উত্তেজনায় ভরে যায়।তার
মাহিদার সাথে দেখা হবে ভাবা যায়। এই মেয়েটের
জন্য কতো কি করেছে শুভ। ভদ্র ছেলে
থেকে হয়েছে লুল। তারপরেই তো মাহিদাকে
পটানো গেলো। আর এখন সে মাহিদার সাথে শুভ
এক সাথে রিক্সায় বসে ঘুরবে,মাহিদা আলতো
করে আদর করে দিবে, ভাবতেই শুভর মনটা
আনন্দের নেচে উঠে। শুভর আর তর সইছে
না। কখন ময়মনসিংহ যাবে সময় যেনো আর
কাটতে চায় না।
রাতুল ক্যাম্পাস ক্যান্টিনে বসে চা খাচ্ছিলো।
রাতুলের ফোনটা বেজে উঠেছে। রাতুল
ফোনটা বের করে যাকে আশা করছিলো তার
ফোনই এসেছে।শুভ ফোন করেছে। আজ
শুভর আসার কথা। বাসে উঠেছে সকাল। রাতুল
বলে দিয়েছে ময়মনসিংহ বাস স্ট্যান্ডে নেমে
রাতুলকে একটা ফোন দিতে। রাতুল চায়ের কাপটা
রেখে ফোনটা রিসিভ করে। "কিরে শুভ চলে
আসলি নাকি "
"হ্যা আংকেল বাস থেকে নামলাম"
"তুই ওখানেই দাড়া।দশ মিনিট লাগবে আমি চলে
আসছি।"
রাতুল ফোনটা পকেটে ঢুকিয়ে চায়ের বিলটা
পরিশোধ করে ছুটে শুভর কাছে। ছেলেটা একা
একা দাড়িয়ে আছে। পথঘাট চেনে না কিছু।কোন
ঝামেলা হবার আগে যাওয়া দরকার।
রাতুল পৌছে শুভকে ফোন দেয়, "কিরে শুভ তুই
কই আছিস"
"আংকেল আমি তো গ্রামীণফোনের বড়
বিলবোর্ড টার নিচে দাড়িয়ে আছি।তুমি কই"
"আচ্ছা তুই দাড়া ওখানেই।আমি আসছি" ফোন
কেটে রাতুল। গ্রামীণফোন এর বিলবোর্ড
বরাবর হাটা দেয়। রাতুল শুভ কে দেখতে পেয়ে
বড় রকমের একটা ধাক্কা খায়। শুভ পাশেই দাড়িয়ে
আছে অপরুপ সুন্দর একটি পরী।মেয়েটা
আসোলেই ছবির চেয়েও বেশি সুন্দর। রাতুল
মাহিদাকে ছবিতে দেখেছে। আজ বাস্তবে
দেখলো। শুভর আসার খবর পেয়ে মেয়েটা
বাসস্টপেজ চলে এসেছে।ভাবা যায়।
রাতুল মোটামুটি শিওর ছিলো ওইটা শুভ।তবুও কাছে
গিয়ে জিজ্ঞেস করলো "এক্সকিউজ মি, শুভ না?"
শুভ তাকিয়ে হাসি দিয়ে বলে "আরে রাতুল
আংকেল"
মাঝখান দিয়ে মাহিদা রাতুল কে লম্বা একটা সালাম ঠুকে
দেয় "আসসালামু ওয়ালাইকুম রাতুল আংকেল"
রাতুল হাসি মুখে সালাম টা গ্রহন করে।মেয়েটা
আগে রাতুল কে ভাই বলেই ডাকতো
ফেইসবুকে কিন্তু শুভর সাথ রিলেশনে যাবার পর
থেকেই আংকেল ডাকা শুরু করেছে। রাতুল ও
ব্যাপারটা স্বাভাবিক ভাবেই নিয়েছে।
রাতুল মুখে একটা লম্বা হাসি টেনে বলে "বাহ কি
প্রেম একদম বাসস্ট্যান্ড চলে এসেছো মাহিদ"
মাহিদা লজ্জায় মাথা নিচু করে ফেলে। শুভ ও বিব্রত
হয়ে যায়
রাতুল বুঝতে পেরে কথা ঘুরানোর চেষ্টা করে
"তা শুভ আসতে ঝামেলা হয় নি তো? "
শুভ হেসে উত্তর দেয় "নাহ ঝামেলা হয় নি
তেমন। একটু জ্যাম ছিলো।মাহিদার কথা ভেবেই
সময় কেটে গেছে " বলেই শুভ হাসি দেয়
একটা। মাহিদার দিকে তাকায়।মেয়েটা লজ্জা
পেয়েছে স্পষ্ট বুঝা যাচ্ছে।সুন্দরী
মেয়েদের এই একটা সমস্যা তারা লজ্জা ঢাকতে
পারে না।নিজের গালটা লাল করে সবাইকে জানান
দিয়ে দেয় "আমি লজ্জায় আছি।দয়া করে আর
লজ্জায় ফেলবেন না"
রাতুল এই লজ্জা লজ্জা খেলার মাঝ দিয়ে নিজের
কথা ঢুকিয়ে দিয়ে খেলা ভঙ্গ করে দেয়। " শুভ
তুই কি মাহিদার সাথে ঘুরতে যাবি নাকি আমার বাসায় যাবি?
"
শুভ মাহিদার দিক থেকে চোখ সড়িয়ে নিয়ে রাতুল
কে বলে "আংকের চলো আগে তোমার বাসায়
যাই। বাসাটা চিনে নেই।পরে মাহিদা কে নিয়ে
ঘুরতে বের হবো।"
বাসস্ট্যান্ড থেকে রাতুলের বাসা বেশি দূরে নয়।
তিনজন মিলে হাটা দেয়। রাতুল শুভ আর মাহিদাকে
একা সময় কাটানোর সুযোগ করে দিয়ে সামনে
চলে যায়। একটা সিগারেট ধরায় রাতুল। মনের সুখে
সিগারেট টা টানতে থাকে। বহুদিন পর সিগারেট
খেয়ে এতোটা তৃপ্তি পাচ্ছে রাতুল। ভাবছে ইস
একটা প্রেমিকা থাকলে খারাপ হতো না।আমাকে
দেখে লজ্জায় লাল হয়ে যাব,আমাকে বলবে তুমি
এতো সিগারেট খেও না।ভাবতে ভাবতে নিজের
অজান্তেই একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলে রাতুল।
সিগারেট শেষ হতে হতে রাতুলের বাসায় চলে
এসেছে ওরা। রাতুল বাহির থেকে তার বাসাটা
দেখিয়ে দেয়। "এটা আমার বাসা।আয় তোরা বাসায়
আয়"
মাহিদা ছোট্ট পাখির মতো শুভর হাতটা চেপে
ধরে রেখেছে। রাতুল বাসায়য় যাবার কথা বলার
সাথে সাথে মাহিদা শুভর হাতে একটা চাপ দেয়।রাতুল
ব্যাপারটা দেখতে পেয়ে লুকিয়ে মুচকি হাসে।
শুভ বলে উঠে "না আংকেল আমি মাহিদাকে বাসায়
দিয়ে আসি আর দুপুরে।খাই নি ওকে নিয়ে
খেয়ে বিকালে আমি চলে আসবো"
রাতুল শুভর থেকে এমন একটা উত্তর ই আশা
করছিলো। রাতুল মনে মনে ভাবে যে ছেলে
এই এলাকার কিছুই চিনে না সে এখন এলাকার মেয়ে
মাহিদার গাইড হয়ে গেলো।ভালোই তো।একেই
বলে প্রেম।রাতুল আর কথা না বাড়িয়ে ওদের বিদায়
দিয়ে দেয়।একবার ভেবেছিলো ওদের সাথে
যাবার কথা বলবে।কারন ছেলেটা কিছুই চিনে না।
পরে চিন্তা করলো কাবাবের হাড্ডি হয়ে লাভ
নেই।ফোন তো আছেই কোন ঝামেলে
হলে ফোন দিয়ে দিবে।।
সারাদিন গিয়ে প্রায় সন্ধ্যা হয়ে গেছে।শুভর আসার
নাম নেই। রাতুল শুভ কে ফোন দেয় "কিরে শুভ
কই তুই"
"আংকেল জায়গাটার নাম জানিনা।তবে আমি ভালোই
আছি চিন্তা করো না"
"আসবি কখন"
শুভ বলে "চলে আসবো একটু পরেই।এসে
আমি তোমাকে ফোন দিবো"
"সাবধানে থাকিস।ঝামেলা হলে ফোন দিস" বলে
রাতুল ফোনটা কেটে দেয়।
শুভ চলে এসেছে। আসতে আসতে সন্ধ্যা ৭টা
বেজে গেছে। রাতুল বলে "কিরে ভাতিজা
ভালোই তো ডেটিং করলি"
"শুভ হেসে বলে এইতো ভালোই। অনেক
জায়গায় ঘুরেছি"
রাতুল বলে "তা তো বুঝাই যাচ্ছে। আয় খেয়ে
নে। থাকবি কয়দিন"
শুভ বলে "কালই চলে যেতে হবে।বাসা থেকে
না বলে বন্ধুর বাসায় থাকবো বলে এসেছি।না হয়
আরো কয়েকদিন থাকতাম।মেয়েটার মায়ায় পরে
গেছি।অনেক ভালো মেয়েটা"
রাতুল আলতো করে হাসে।
শুভ বলে "আমি কিন্তু কিছুদিন পর পর ই এসে
তোমাকে জ্বালাবো
রাতুল বলে কিছুদিন পর পর আসা লাগবে না।আমি
একেবারে এখানে থাকার ব্যাবস্থা করে দিচ্ছি
তোকে।"
শুভ ভ্যাবাচেকা খেয়ে বলে "মানে? কি বললা বুঝি
নাই"
রাতুল বলে দাড়া বুঝাচ্ছি তোকে, বলেই শান'ত
রাতুল হিংস্র বাঘের মতো ঝাঁপিয়ে পরে অপ্রস্তুত
শুভর উপরে। শুভর গাল বরাবর নিজের হাতটা মুঠ
করে চালিয়ে দেয় রাতুল।এক ঘুষিতেই শুভ মাটিতে
পরে যায়।
"রাতুল আংকেল কি করছো তুমি এগুলো" টলতে
টলতে কোনরকম প্রশ্ন করে শুভ। রাতুল শুভর
কোন প্রশ্নের উত্তর দেবার আগ্রহ না
দেখিয়ে শুভকে চাপ দিয়ে ধরে ঘারের
পেছনে মাঝ বরাবর আঘাত করে রাতুল। এক
আঘাতেই জ্ঞান হারায় শুভ।
হাত পা বাধা অবস্থায় মেঝেতে পরে আছে শুভ।
গালে আঘাতের ছাপ দেখা যাচ্ছে। গালটা ফেটে
রক্ত বেরুচ্ছে। বুঝাই যাচ্ছে কেউ প্রচন্ড
জোরে ঘুষি দিয়ে গালটা ফাটিয়ে দিয়েছে শুভর।
শুভ পেটেও আঘাত অনুভব করছে। অসহনীয়
আঘাত। শুভ জ্ঞান ফিরে পেয়ে আঘাতের
যন্ত্রণায় আবার ধীরে ধীরে চোখ দুটো
এক করে দেয়। রাতুল চেঁচিয়ে উঠে। শুভ
কোনরকম চোখ খুলে রাতুলের দিকে তাকায়।
কিছু বলতে পারে না। রাতুল হাসি দিয়ে বলে "খুব
সাহস তোর না একা একা চলে এসেছিস। ভালো
তো ভালো না। "
শুভ কোন রকম জিজ্ঞেস করে "আমার অপরাধ
কি রাতুল আংকেল"
"চুপ শালা আংকেল বলবি না।আরেক বার আংকেল
বললে স্কলপেন দিয়ে একদম জীভটা কেটে
দিবো।এতো বড় ছেলে হইয়া আবার আংকেল
আংকেল করে।"
শুভ ভয়ে চুপষে যায় শুভ লক্ষ্য করে দেখে
তার শরীর থেকে সব কাপড় খুলে ফেলা
হয়েছে।। শুভ অসহায় দৃষ্টিতে তাকায় রাতুলের
দিকে।
রাতুলের মুখে ক্রুর হাসি ফুটে উঠে। "তোর
তো সাহস বড়ই। একা একা এসেছিস সাথে আবার
বিশ হাজার টাকাও এনেছিস। আবার মোবাইলটাও বেশ
দামী। ভেবেছিলাম তোর চোখ কিডনী বের
করে বিক্রি করে টাকা ইনকাম করবো। কিন্তু এখন
আর সে ঝামেলার দরকার নেই। এমনেই অনেক
দিয়েছিস আমাকে তুই"
শুভ আঘাতের যন্ত্রণায় কাঁদো কাঁদো গলায় বলে
"এখন আমাকে ছেড়ে দাও প্লিজ"
রাতুলের মুখে পাশবিক হাসি ফুটে উঠে "শিকার
হাতে পেয়ে ছেড়ে দিবো হা হা। তোকে
ছেড়ে দেই আর তুই আমাকে জেলের ভাত
খাওয়াস। এতো বোকা পেয়েছিস আমাকে হা হা।
বলেই উঠে দাড়ায় রাতুল। আবার শুভর ঘাড়ে একটা
জোরালো আঘাত করে রাতুল। শুভ কিছু বুঝে
উঠার আগেই জ্ঞান হারায়।
শুভর চোখে পানির ছিটা পরতেই জ্ঞান ফিরে পায়
শুভ। চারদিক তাকিয়ে শুভ বুঝতে পারে শুভ রুমে
নেই।তাকে বাহিরে আনা হয়েছে। রাতুলের
দিকে তাকিয়ে দেখে রাতুল ঘেমে একাকার। রাতুল
বলে "তুই জ্ঞান হারিয়ে আছিস।আর দেখ তোর
জন্য কবর খুঁড়তে খুঁড়তে আমার কি অবস্থা। "
শুভ এমনি ভয়ে পেয়ে আছে। তার উপর কবরের
কথা শুনে শুভর পিলে চমকে যায়। পাশে তাকিয়ে
দেখে সত্যি সত্যি একটা গর্ত করা আছে। শুভ
কেঁদে দেয়।বলে "আমার কি দোষ।আমি কি
অপরাধ করেছি? "
তোর কোম দোষ নেই।তুই একা একা আসলি
কেন? খুব প্রেম করার শখ তাই না। নে এবার
কবরের ভেতরে শুয়ে শুয়ে আরাম করে
প্রেম কর কেউ ঝামেলা করবে না"
শুভ বলে "আমার সাথে এমন করে তুমি বেচে
যাবে ভেবেছো তুমিও ধরা খাবে "
তাই নাকি বলে হেসে উঠে রাতুল।তা আমাকে কে
ধরবে? তোর বাবা মা তো জানেই না তুই কই
আছিস"
শুভ বলে "মাহিদা ঠিকি বুঝে ফেলবে।ধরিয়ে দিবে
তোমাকে।"
রাতুলের হাসি আরো বিস্তৃত হয় "তাই বুঝি।আচ্ছা দাড়া
তোর মাহিদাকে ফোন দিয়ে তোর এই অবস্থার
কথা বলছি।দেখি কি করে সে"
রাতুল লাউডস্পিকার অন করে মাহিদাকে ফোন
দেয়।
"হ্যালো রাতুল কি অবস্থা"
"মাহিদা জানু তোমার প্রেমিক শুভ বলছে তুমি নাকি
আমাকে ধরিয়ে দিবে।" বলেই অট্টহাসিতে
ফেটে পরে রাতুল
ওপারের হাসিটা আরো জঘন্য ভাবে এসে শুভর
কানে লাগে। মাহিদা পাশবিক হাসি দিয়ে বলে "রাম
ছাগলটা কই"
"এইতো আমার পাশেই আছে। ওকে এখুনি মাটির
নিচে পাঠিয়ে দিচ্ছি"
মাহিদা বলে "পাঠিয়ে দিচ্ছো মানে? ওর থেকে
টাকাপয়সা কিছু পেয়েছো?"
"যথেষ্ট ইনকাম হয়েছে।এই আগাছাটার আর দরকার
নেই। " বলে রাতুল।
এবার আদুরে গলায় বলে মাহিদা "এই শুনো না
ছেলেটাকে মেরো না।কষ্ট দিয়ো না।ও
অনেক ভালো। আমাকে একটা স্বর্ণের আংটি
দিয়েছে। তোমাকে কিন্তু তার ভাগ আমি দিবো না
জানু"
"ভাগ দিবে না মানে কি? এসে দেখাচ্ছি।আগে
ওকে শেষ করে দেই।ওর জন্য রাত ৪টা পর্যন্ত
আমার জেগে থাকা লেগেছে।"
ফোনটা কেটে রাতুল শুভর দিকে দানবীয়
চোখে তাকায়।শুভ বুঝে গেছে তার আর কিছুই
করার নেই।নিরব আত্মসমর্পণ ছাড়া।দোষ তো তার
ই।সবাই প্রেম করে।আমার কেন প্রেমিকা
থাকবে না।প্রেমিকা প্রেমিকা করে এখন সেই
প্রেমিকা কবরে পাঠিয়ে দিলো।
রাতুল শাবল টা হাতে নিয়ে হেটে চলেছে। মাহিদার
কথা মতো শুভ কে হত্যা করেনি সে।কোন
কষ্ট দেয় নি।হাত পা বেধে গর্তে ফেলে
দিয়ে মাটি চাপা দিয়ে এসেছে। শুভ একটু প্রতিবাদ
করার চেষ্টা করেনি।নিরবে সব মেনে
নিয়েছে।যখন রাতুল শুভর উপরে মাটি ফেলছিলো
শুভ শুধুই ফ্যালফ্যাল করে অবুঝ দৃষ্টি তে তাকিয়ে
ছিলো রাতুলের দিকে।চোখে ছিলো একরাশ
অশ্রু। কিন্তু রাতুল মাহিদাদের এইসব অশ্রুতে চোখ
দিতে নেই। তাদের জন্য ইমোশন নয়।তারা টাকার
জন্য সব করতে পারে। তাদের চোখে টাকা
ভাষে।শুভর অশ্রুভেজা জীবন বাঁচানোর আকুতি
নয়।
রাতুল হাটতে হাটতে মাহিদাকে ফোন দেয়
পরবর্তী টার্গেট ঠিক করা আছে কিনা জানার জন্য।
এভাবেই চলতে থাকবে।হয়তো তারা একদিন ধরা
খাবে।না হয় কোন দিন খাবে না।যতো দিন না
খাবে ততোদিন এভাবেই ছেলেরা মাহিদার
প্রেমে পড়ে জীবন হারাবে।
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now