বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
-দুস কই রে তুই
(সাকিব)
-আমি তো নামায পইড়া শুইয়া রইলাম
(আকাশ)
-জলদি করে আমার বাসার সামনে আস
-কেন রে..?
-তরে আসতে বলছি
-ওকে,আসতেছি
.
আমি আকাশ।
যার সাথে এখন কথা বললাম।
সে হলো আমার বন্ধু।
আমরা এক
সাথেই পড়ালেখা করি।
আমরা একে অপরকে
অনেক ভালোবাসি।
সাকিব এখন কল করে
বলতেছে,
যাওয়ার জন্য।
সাকিব স্কুলে অনেক মজা করলেও সে অনেক ভালো ছেলে, নামাযের সময় হলে সাথী হিসাবে একমাত্র তাকেই পেতাম, যার কারনে জীবনের বড় ব্ন্ধু টা তাকে বানালাম,
সাকিব একটি
মেয়েকে ভালোবাসে,মেয়েটিও সাকিব
কে
অনেক ভালোবাসে।
গতকাল বলছিল আজকে
মেয়েটিকে নিয়ে ঘুরতে যাবে।তাই তো
সকাল সকাল কল করে আমার ঘুম টা ভেঙ্গে
দিল।
মেয়েটির নাম হলো সেতু।দেখতে
অনেক সুন্দর।আমি আর সাকিব যে স্কুলে
পড়ি,
সে স্কুলেই সেতু পড়ে।
আচ্ছা যাই
এখন।
.
ঘুম থেকে ওঠে ফ্রেশ হয়ে জলদি করে কাপড়
পড়ে বেরিয়ে পড়লাম।সাকিবের বাসার
সামনে যেতেই দেখি।সাকিব দাঁড়িয়ে
আছে।
-কিরে এতক্ষন লাগল আসতে(সাকিব)
-সরি রে দোস্ত
(আমি)
-আচ্ছা,চল এখন
-কোথাই
-সেতুর বাসার সামনে
-এখন হুম
-এখন তো সেতু স্কুলে আসবে,আমরা চল
স্কুলে যাই
-তুই কি এদিকে কিছু খাছ নাকি
-মানে
-আজকে তো শুক্রবার,
স্কুল বন্ধ
-ওও..ভুলেই গেছি
-চল এখন
-ওকে,চল
.
একটা রিক্সা নিয়ে চলে গেলাম। সেতুর
বাসার সামনে।পাঁচ মিনিট অপেক্ষা করার
পর সেতু বাসা থেকে বেরিয়ে আসল।
তারপর আরো একটা রিক্সা নিয়ে আমরা
চলে আসলাম,তিতাস নদীর পাড়।
একটা
রিক্সাতে সাকিব আর সেতু আর অন্য
রিক্সাতে আমি একাই।তারা দুজনে কিসব
কথা যে বলতেছে বুঝা যাচ্ছে না।মনে হয়
আমার সম্পর্কে বলতেছে।বার বার সেতু
আমার দিকে তাকাচ্ছিল।তাই বুঝতে
পারলাম আমাকে নিয়েই কথা হচ্ছে।
আমরা
নদীর পাড় চলে আসলাম।
আর হ্যা,সাকিব যেখানেই ঘুরতে
যাই,সেখানেই আমাকে নিয়ে যাই।তাই তো
সবসময়ের মতো আজকেও আমি আসলাম
তাদের সাথে।
.
তারা দুজনে এক সাথে বসে কথা বলতেছে।
আর আমি তাদের থেকে একটু দূরে বসে বসে
আমার সঙ্গি হিসেবে পান খাচ্ছি।
একমাত্র পানই আমার জীবন সঙ্গি।
তাই তো সবসময় আমার সাথে পান
থাকে।
সাকিব আবার পান খাই না।
কারণ সেতু সাকিব কে বলছে এসব যাতে
না খাই।
আমার তো কেউ বলার নাই, তাই
আমি স্বাধীন ভাবে পান খেতে
পারি।
সন্ধা ঘনিয়ে আসতেছে।আমরাও চলে
আসলাম নদীর পাড় থেকে।এখন আমাদের
গন্তব্য কোনো এক রেস্টুরেন্টে।রে
স্টুরেন্টে
ডুকার আগে সেতু আমাকে বলল...
.
-আকাশ ভাই একটা কথা বলব(সেতু)
-হম বলেন
(আমি)
-সাকিব তুমি একটু ভিতরে যাও,আমি
আকাশ ভাইয়ের সাথে একা কথা বলব
-ওকে
(সাকিব)
-কি বলবেন বলেন
(আমি)
-কথাটা যে কিভাবে বলব
-আরে সমস্যা নাই,
বলেন
-আচ্ছা, আকাশ ভাই আমি তো সাকিব কে
ভালোবাসি,
সাকিবও আমাকে
ভালোবাসে।
আমরা দুজনে একটু সময় পাই
ঘুরার জন্য, আপনে কেন সাকিবের সাথে
আসেন....!
আপনে আসলে আমাদের অনেক
সমস্যা হয়।
আর আপনে কি কখনো নিজের
চেহারাটা আয়নাতে দেখেছেন....!!
সারাদিন
শুধু পান খান।
প্লিজ আকাশ ভাই
আপনে আর কোনো দিন সাকিবের সাথে
আসবেন না।
এমনকি সাকিবের সাথে
চলাফেরাও করবেন না।
দয়া করে আর
আসবেন না প্লিজ।
আমি কি বলব আমার মুখের ভাষা হারিয়ে
ফেলছি।কিছুই বলতে পারতেছি না।
মনে মনে আমি মেয়েটার কুরুচি কথার আচল বোঝতে পারলাম,
আমি জেনে গেছি মেয়েটা নির্জনে কি চায়...!
তবুও আমি কিছু না বলে
ঝিনুক কে বললাম...
-আচ্ছা,আর কোনো দিন আসব না
-ধন্যবাদ, আকাশ ভাই,
-আমি আসি
এই বলে চলে আসলাম।বাড়িতে এসে আমার
কিছুই ভালো লাগতেছে না।সেতু আমাকে
আজ এসব কি বলল।যাদের জন্য আমি এতো
কিছু করলাম।আজকে তার এই প্রতিফলন
পেলাম।
তাদের রিলেশনটা করার জন্য
আমি অনেক কষ্ট করেছি।
দিন নেই রাত নেই
কতো খাটছি তাদের জন্য।
শেষ পর্যন্ত এমন
ফল পেলাম....!
এমন সময় সাকিবের কল আসল..
-কিরে বল
-তুই সেই সময় এসে পড়ছিলি কেন...?
-আমার একটা জুরুরি কল আসছিল তাই,
এসে
পড়ছি
-ওকে,কালকা তুই আসিস আমাদের বাসায়
-ওকে
.
পরের দিন চলে গেলাম সাকিবের বাসাতে।
সাকিব বলল..
-চল
-কোথাই
-সেতু কে নিয়ে ঘুরতে যাব
-নারে,আমি আর তদের সাথে যাব না
-কেন
-এমনি
-তাহলে তকে যেতেই হবে
-নারে যাব না,তুই যা
-কেন বলবি তো
-যাব না
পরে জোড় করে আমাকে নিয়ে গেল।সেতু
আমাকে দেখে চোখ মুখ লাল করে আছে।
সেতু আর সাকিব বসে কথা বলতেছে আর
আমি পান খাচ্ছি।
এমন সময় সাকিবকে
দেখলাম সেতু কে একটা থাপ্পর মারছে।
দৌড়ে তাদের কাছে গেলাম।সাকিবকে
বললাম..
-কিরে কি হয়ছে
-কি বলতেছে এসব
-কি বলে
-আমি নাকি তর সাথে আর চলাফেরা না
করতাম
-তার জন্য তুই সেতু কে মারবি
-হুমম..মারব
-দোস্ত আমি তো তদের সাথে শুধু শুধু আসি, আর
আসব না।
আমার দ্বারা তদের সমস্যা হয়।
তদের মাঝে আমাকে মানাই না।
যাই রে
দোস্ত,
ভালো থাকিস।
এমন সময় সাকিব আমার হাত টেনে ধরল।
-যাস কই তুই,
তকে যে কাল সেতু যেসব কথা
বলছে,সব কথা আমি শুনছি।তাই তো আজকে
তরে জোড় করে আমি নিয়ে আসছি।
সেটা
পরীক্ষা করার জন্য।
আমাদের রিলেশনে
সবচেয়ে বেশি তর অবদান।
আর তর সাথেই
নাকি আমি চলাফেরা না করতাম বলে।
তর
সাথে সেই প্রাইমারি স্কুল থেকে এক
সাথে চলে আসতেছি।
আজ পর্যন্ত এক সাথেই
আছি।আর এই সেতু, সেই দিন তো ওর সাথে
পরিচয়।
সে বলে তকে ভুলে যেতাম।
কি বলে
এসব.....!
তুই যে আমার কলিজার হাফ।তকে কি
করে ভুলব রে....!
তুই যে আমার শত বিপদে সবার
আগে এগিয়ে আসিস,
হাজার বাধা অতিক্রম
করে।
-এই মেয়ে শুন,তর মতো শতশত মেয়েকে
মুহুর্তের মধ্যে ভুলে যেতে পারব, কিন্তু
কোনো দিন আকাশ কে ভুলতে পারব না।
.
আরো একটা থাপ্পর মারল সেতু কে।
আমার
চোখ থেকে পানি গড়িয়ে আসতেছে।
আমাকে এতো ভালোবাসে,সাকিব।
আমাকে বুকে ঝড়িয়ে কাঁদতে লাগল
সাকিব।
-অনেক ভালেবাসি রে তরে অনেক
ভালোবাসি
(সাকিব)
কাধে হাত রেখে আমি আর সাকিব চলে
আসতেছি।
আর আমি বার বার সাকিবের
দিকে তাকাচ্ছি।
আমাকে এতো
ভালোবাসে।
আমার জন্য সাকিব সেতু কে
মারল।
আমার জন্য সাকিব তার ভালোবাসা
কে বিসর্জন দিল.....!!!
অনেক ভালোবাসিরে তকে সাকিব।
আসলে এমন বন্ধু খুুঁজে পাওয়া অসম্ভব।
বেঁচে থাকুক পৃথিবীর এমন হাজারো বন্ধুত্ব।
আসলে মেয়েটা ছিলো ভোগপতী, যে কি না প্রেম করে বিলাসীতা করতে চেয়েছিলো, কিন্তু আমার দোস্ত নামাযী ছেলে ছিলো বলে ভোগ করতে দ্বিধা বোধ করে,
আর তাই সে এই কাজ করে,
কেননা কথায় আছে যে,
"নামায সকল খারাপ ও অশ্লীল কাজ থেকে বিরত রাখে"
আমার বন্ধুরও এমনি হয়,
সে খারাপ কাজ থেকে বিরত হয়,
মেয়ে তুমি কি একবার চিন্তা করেছো যে, তুমি যেটা চাচ্ছিলে সেটা কেমন নিকৃষ্ট......!!!
নারী সব থেকে বড় সম্পদ হলো তার নারীত্ব, আভ্রু, সতিত্ব, কুমারিত্ব,
একজন নারীর যদি বিয়ের আগে তার সম্ভ্রম চলে যায়
তাহলে আর সে নারীর কাতারে জাগা থাকে না,
বরং তার সামনে একটা বড় টাইটেল যুক্ত হয়,
তা হলো "পতিতা "
তখন তাকে "পতিতা নারী" বলে ডাকা হয়,
তুমি কি জানো না পতিতা কি..!
তুমি কি জানো না কুমারিত্ব কি..!!
তুমি কি জানো না, একজন নারীর কাছে পুরুষের আমানত কি...!!!
আজ একজন ভালো নামাযী ছেলের সাথে প্রেম থাকায় তোমার কুমারিত্ব যায় নি,
যোগ হয় নি "পতিতা" শব্দ,
শুধু একটা থাপ্পড় পেয়েছো
যার দাগ ক্ষনিক পরই মিলিয়ে যাবে,
কিন্তু যদি "পতিতা" শব্দ যোগ হতো তা মৃত্যুর পরও মুছা হতো নাহ,
তাই সময় থাকতে নিজেক সামলিয়ে নাও,
আর সম্পর্ক করলে একজন সৎ, আদর্শ, নিষ্ঠাবান, নামাযী ছেলে-মেয়ের সাথে করো,
তাহলে সত্যিকারের ভালো বাসা পাবে,
তাছাড়া নোংরামি তো সবাই করতে পারে,
তুমি একটু ভালো কাজ করে দেখাও............!!!!
ভুল-ত্রুটি ক্ষমার দৃষ্টিতে দেখবেন
সবাইকে ধন্যবাদ
:::-- সমাপ্ত
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now