বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

প্রজেক্ট প্যালিড্রম (শেষ পর্ব)

"সাইন্স ফিকশন" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান রিয়েন সরকার (০ পয়েন্ট)

X দুঃখিত সাইদুল, হাস্যেজ্জ্বল মুখে শুরু করলেন তিনি, নিরাপত্তার বিষয়টি নিশ্চিত করতেই আপনার ওপর একটু জুলুম করে ফেলেছি আমরা। আমাদের প্রতিষ্ঠানের গুরুত্ব ও ভাব গাম্ভীর্য বজায় রাখার স্বার্থে ব্যাপারটা জরুরী। আপনার ফ্যামিলির আপডেট নিয়মিতই আপনি পাবেন। প্রয়োজনে আমার স্যাটেলাইট ফোন দিয়ে তাদের সাথে কথা বলতেও পারবেন। তবে এখানকার ঠিকানা আপনাকে বলা হবে না। তারাও জানবেন না। যদি একান্তই কেউ চিঠিপত্র পাঠাতে চায় সেটি লন্ডন অফিস থেকে রিডিরেক্ট হয়ে এখানে আসবে। যাবেও লন্ডন ঘুরে। আপনার লেখা চিঠি অবশ্যই এডিট করব আমরা। একটু পরেই আপনাকে বিজ্ঞানালয়ে নিয়ে যাওয়া হবে। আপনার কর্মস্থল হবে ওটাই। ওখানে একটা মোটামুটি শক্তিশালী সুপার কম্পিউটার সিস্টেম গড়ে তুলেছি আমরা। ক্রে জাগুয়ারের মতো দানবীয় শক্তি না থাকলেও আমাদের পেটাফ্লপস মেশিনটি একদম কমও নয়। সেকেন্ডে এক কোয়াড্রিলিয়ন হিসেব করতে পারে এইচ পির এই মেশিনটি। বলা যায় দুলক্ষ উচ্চ গতির ল্যাপটপের সমতূল্য এই মেশিন। যেটায় কাজ করার পর গর্ব বোধ করবেন আশা করি। এই অঞ্চলে এতো শক্তিশালী সিস্টেম আর একটিও নেই। সত্যি সত্যি মেশিনের সামনে এসে বিষ্ময়ে প্রায় বোবা হয়ে গেল সাইদুল। যেন পুরো একটি টি অ্যান্ড টি এক্সচেঞ্জ। শত শত কেবিনেট, ওয়্যার, মনিটর এলাহী কান্ড। তবে ইনপুট দেবার সনাতন কী বোর্ড পদ্ধতি দেখে মনে সামান্য বল পেল সাইদুল। ওর প্রজেক্টের নাম প্রজেক্ট প্যলিন্ড্রম। সব অনাবিষ্কৃত প্যালিন্ড্রম বের করতে হবে। কাজটি খুব কঠিন হওয়ার কথা নয়। মেশিনকে কয়েকটা লজিক দিতে হবে যেন প্রতি সংখ্যার সাথে তার বিপরীত সংখ্যা সে অটোমেটিক যোগ করে যায় যতক্ষণ না প্যালিন্ড্রম পাওয়া যায়। তার পর বসে বসে অপেক্ষা কখন সেকরম একটা সংখ্যা বের করা যায়! সাইদুল জানে যে এখন পর্যন্ত ১৯৬ সংখ্যাটিকে তার বিপরীত সংখ্যার সাথে হাজার বার যোগ করার পরও কোনো প্যালিন্ড্রম সংখ্যা পাওয়া যায়নি। তাই প্রথমে ১৯৬ নিয়েই পড়ল সে। প্রথম দুমাস দিন রাত খেটে সিস্টেমের জন্য প্রয়োজনীয় লজিক লিখল ও। তারপর মেশিনে ফিট করে কাজ শুরু করে দিল। অনেক শক্তিশালী মেশিন-সেকেন্ডে এক হাজার ট্রিলিয়ন অংক কষতে পারে। মেশিন স্টার্ট করার সাথে সাথেই পুরো ঘর জুড়ে সেঁটে থাকা শত শত মনিটরে সংখ্যা বৃষ্টি শুরু হয়ে গেল। একঘেঁয়ে ভাবে মনিটরের পর্দার ওপর থেকে নিচে নামছে সংখ্যাগুলো। কদিনের মধ্যেই একটা রুটিনের মধ্যে বাঁধা পড়ে গেল জীবন। মেশিন মোট ষোল ঘন্টা চালু থাকে প্রতিদিন। সাইদুলকে সারাক্ষণ বসে থাকতে হয় না। ও মাঝে মাঝে এসে সামারি রিপোর্ট পর্যালোচনা করে। কোনো সম্ভাবণা আছে কিনা তা বের করে। অনেকের সাথেই পরিচয় হলো এর ফাঁকে। বোঝা গেল তারা সবাই এই সংখ্যার কাজে খুবই আগ্রহী। মাঝে মাঝে ধর্মাত্মাও দর্শন দেন। একসময় কাজের ওপর বিরক্ত ধরে গেল সাইদুলের। একদিন ধর্মাত্মাকে কাছে পেয়ে ও প্রশ্ন করল আচছা এই সবচেয়ে বড় প্যালিন্ড্রম বের করার চেষ্টা করছেন সেটা কেন করছেন? বের করতে পারলে কী লাভ হবে? ব্যাপারটা আপনার কানে কেমন শোনাবে জানিনা। তবে আমাদের বিশ্বাস হচেছ যে পরমপ্রভু একটি মিশন দিয়ে মানবজাতিকে সৃষ্টি করেছেন। তা হলো তাঁর প্রকৃত পরিচয় খুঁজে বের করা। তবে তা লুকোনো আছে কোনো সংখ্যার মারপ্যাঁচে। আমাদের নানান দল নানান বিষয় নিয়ে কাজ করছে। যেমন আমরা আপাতত প্যালিন্ড্রম নিয়ে কাজ করছি। আমাদের ধর্মগুরুরা হাজার বছর আগেই ভবিষ্যদ্বাণী করে গেছেন যে হাজার বছর পরে হয়তো তার উত্তর পাওয়া যাবে। উত্তর পেলে তারপর কী হবে? আপনাদের মিশন তো তখন শেষ হয়ে যাবে--তখন? তখন নিশ্চয়ই আমাদের আর কিছু করতে হবে না। যা করার পরমপ্রভুই করবেন। শাস্ত্রমতে যে মুহূর্তে তার নামের কোড ব্রেক করতে পারব আমরা ঠিক সেই মুহূর্তেই চিরকাঙ্খিত মাহেন্দ্রক্ষণটি এসে হাজির হবে..। কী সেই মাহেন্দ্রক্ষণ? মহাপ্রলয়। বেশ কৌতুক অনুভব করল সাইদুল। দুনিয়ায় কত কিসিমের পাগল যে থাকে! নামের কোড বের করতে পারলেই পৃথিবীর সমাপ্তি? একদম দ্য এন্ড! ধর্মাত্মা যে থট রীডার তা আগেই দেখেছিল সাইদুল। এবারও তার অবিশ্বাস দেখে একটা সূক্ষ্ণ হাসির রেখা ভিক্ষুর ঠোঁটে দেখা দিয়েই মিলিয়ে গেল। এরপর আরো ক মাস কেটে গেছে। সেই একই বোরিং জীবন। আর ভাল্লাগছেনা সাইদুলের। ভাবছে রিজাইন দেয়া যায় কিনা। টাকা কিছু কম পেলেও এখানে আর থাকতে ইচ্ছে করছে না। আজই ধর্মাত্মাকে ব্যাপারটা বলতে হবে। কন্ট্রোল রুমের চেয়ারে বসে তন্দ্রা মতো এসে গিয়েছিল। হঠাৎ তির তির একটা শব্দে ঘোর কাটল সাইদুলের। অবাক হয়ে দেখল মনিটর স্থির হয়ে গেছে। লাল ডিজিট গুলো সবুজ আলো হয়ে জ্বলছে। এমনই প্রোগাম করেছিল ও। সংখ্যা খুঁজে পেলে লাল ডিজিট সবুজ হয়ে যাবে। তার মানে ওই বিশেষ প্যালিন্ড্রম সংখ্যাটি পাওয়া গেছে! সামারি শিট বলছে ১৯৬ কে মোট তের ট্রিলিয়ন ট্রিলিয়ন মিলিলিয়ন বার যোগ পাল্টা যোগ করার পরই মিলেছে এই বিশেষ সংখ্যা। সংখ্যাটি বেশ বড়। ঠিক কত বড় তা ভেবে বের করতে পারল না সাইদুল। তবে কেউ যদি সংখ্যাটি পড়তে শুরু করে তাহলে হয়তো কয়েক কোটি বছর লেগে যাবে! সে যাই হোক প্রজেক্ট প্যালিন্ড্রম সফল সমাপ্তির মুখ দেখেছে এটাই বড় কথা। এবার এমনিতেই এখানকার পাট চুকানো যাবে। ভাবতেই একটা ভাল লাগায় আচ্ছন্ন হয়ে যাচ্ছিল সাইদুল। তখনই খেয়াল হলো তির তির শব্দটা যেন আরো বেড়েছে। সুপার কম্পিউটার যখন চলত তখনো তো এরকম শব্দ হতো না! ভাল ভাবেই তাকাতেই ব্যাপারটা খেয়ালে এলো ওর। প্রায় প্রতিটি প্রসেসর কেবিনেটই একটু একটু কাঁপছে। যাচাই করতে কাছে গিয়ে একটাতে হাত ছোঁয়াতেই কাঁপনটা স্পষ্ট টের পেল। ভূমিকম্প হলে যেমন কাঁপে প্রায় সেরকম। একবার ভাবল ইন্টারকমে ধর্মাত্মাকে জানাবে। পরক্ষণেই কী হচ্ছে জানতে নিজেই বিজ্ঞানালয়ের বাইরে বেরিয়ে এলো। তখনই বুঝল কারণটা। সামনের বিশাল পাহাড়টা আড়াআড়ি দুভাগ হয়ে যাচ্ছে! সাইদুল ভয়ে-বিস্ময়ে নড়ার শক্তি হারিয়ে ফেলল। ওর বিস্ফারিত চোখের সামনে দিয়ে আজদাহা সাপের মতো ফাটলটা এগিয়ে আসছে ওরই দিকে। মহাপ্রলয়?! কেমন লাগলো প্লিজ জানাবেন।। (কপি)


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১১২৩ জন


এ জাতীয় গল্প

→ প্রজেক্ট প্যালিড্রম (শেষ পর্ব)

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now