বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

প্রজেক্ট প্যালিড্রম-০১

"সাইন্স ফিকশন" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান রিয়েন সরকার (০ পয়েন্ট)

X বিজ্ঞাপনে লেখাই ছিল যে শুধু নির্বাচিত কিছু প্রার্থীকেই মৌখিক পরীক্ষার জন্য ডাকা হবে। তবে এতটা নির্বাচিত হবে ব্যাপারটা আন্দাজ করে উঠতে পারেনি সাইদুল। পেপারে অ্যাডটা দেখেই একটু অন্যরকম লেগেছিল। আর দশটা অ্যাডের মতো জমকালো নয়। স্রেফ শাদার মাঝে কালো দিয়ে ছাপা। একজন প্রোগামার চাওয়া হয়েছিল। যোগ্যতা হিসেবে বলা ছিল গণিতের প্রতি তীব্র মমত্ববোধ থাকতে হবে। এ ধরণের নরম বিশেষণ আজকাল চোখেই পড়ে না। সবাই ভীষণ তেতে থাকে। গ্যারান্টি, ওয়ারেন্টি, ধরিয়ে দিন, সুবর্ণ সুযোগ, আর মাত্র কয়েক ঘণ্টা, এগুলোই এখন পেপার-পত্রিকার ভাষ্য। সেখানে গণিতের প্রতি তীব্র মমত্ববোধ! ইন্টারেস্টিং লাগাতেই একটা অ্যাপ্লিকেশন ড্রপ করা ওর। তা গণিতের প্রতি মমত্ববোধ সাইদুলের আছে বৈ কি। একদম ছোটবেলা থেকেই সংখ্যা ভীষণ টানত ওকে। বাবা ছোট বেলায় ওকে সংখ্যার জাদু বইটা গিফ্ট করেছিলেন। সেই থেকেই শুরু। গণিত অলিম্পিয়াডে ওর যে সাফল্য তাও সে কারণেই। যত দিন গেছে তত অবাক হয়ে সাইদুল সংখ্যার শক্তি আবিষ্কার করেছে। পুরো বিশ্ব চরাচর বাঁধা পড়ে আছে সংখ্যাতেই। সব কিছুকেই সংখ্যা দিয়ে বিচার করা যায়। গ্রহ নক্ষত্রের পরিমাণ থেকে শুরু করে পরমাণুতে ঘূর্ণায়মান ইলেকট্রন-প্রোটন সবই সংখ্যার শক্তিতে চলছে। একটি অরবিটালে কয়টা ইলেকট্রন থাকতে পারে তাও নির্ধারিত আছে সংখ্যাতত্ত্বের ভিত্তিতেই। সংখ্যার ভিতরও কত মজা। মৌলিক সংখ্যা, যৌগিক সংখ্যা কত কী। সংখ্যাই যে সব কিছুর মূলে তা কম্পিউটারের দিকে তাকালেই পরিষ্কার বোঝা যায়। শুধু ‘শুণ্য’ আর ‘এক’ এর কী দারুণ খেলা! রাজধানীর অভিজাত পাড়ার একটি ফ্ল্যাটে বসে সংখ্যা নিয়ে সাত পাঁচ ভাবছে সাইদুল। দেখছে আজকে ভাইভা দিতে কেবল ওই এসেছে। তবে যে ঘরে সে বসে আছে সেটা কিছুতেই কোন অফিসের অভ্যর্থণা কক্ষের মত নয়। ওকে প্রথমেই বাইরে জুতো খুলে আসতে হয়েছে। ঘরে সোফা- টোফাও নেই। সারা ঘরে আলো-আঁধারির খেলা। রিসিপশনে কম্পিউটার আর কয়েকটা ছোট ছোট চেয়ার। কেমন যেন একটা পবিত্র ভাব খেলে গেল সাইদুলের মনে। দেয়ালে কিছু বিমূর্ত ছবি ঝোলানো। এছাড়া কোথাও কিছু নেই। কিছুক্ষণ পর বেয়ারার এসে ওকে ভিতরে নিয়ে গেল। ভেতরে ঢুকে হতাশই হতে হলো ওকে। অফিসের বস এ রকম! একটা শতরঞ্চিতে ধ্যানমগ্ন হয়ে বসে আছেন একজন এক সৌম্যদর্শন লোক। মাথার চুল কামানো। পরনে গেরুয়া রংয়ের সেলাইবিহীন দুই প্রস্থ কাপড়। গলায় রুদ্রাক্ষের মালা। এ তো দেখি ধর্মশালার ভিক্ষু! হ্যাঁ আপনি ঠিকই ধরেছেন! গমগমে একটা কন্ঠ সাইদুলের চিন্তাসূত্র ছিন্ন করে দিল। চমকে গেল ও। বাববাহ! থট রীডার নাকি? ভদ্রলোক ‘বসুন’ বলাতে সাইদুল তাকিয়ে দেখল যে ওই ঘরে বসার জন্য চেয়ার-টেয়ার কিছু নেই। অগত্যা ভদ্রলোকের স্টাইলে মাটিতেই বসতে হলো তাকে। তবে মেঝেতে কোনো ধুলো-বালি নেই। দেখুন মিস্টার সাইদুল আপনার সিভি দেখে আমরা এ সিদ্ধান্তে পৌঁছেছি যে আপনিই আমাদের কাজের জন্য সেরা লোক।


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১১১৯ জন


এ জাতীয় গল্প

→ প্রজেক্ট প্যালিড্রম-০১

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now