বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

প্রিয়া, তোমায় বলা হলো না।

"ছোট গল্প" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান Salman al Riyad(guest) (০ পয়েন্ট)

X রিয়াদের বাবা খুব ছোট বেলায় মারা গেছে। ওর বয়স তখন মাত্র, আড়াই বছর। ওর বাবা, সামান্য একজন দিনমজুর ছিলেন। যাই হোক, বাবা যতোদিন ছিলেন ওদের পরিবারে তেমন কিছুর অভাব ছিলো না। শীতের দিনে রিয়াদের বাবা, খেজুর গাছ কেটে রস নামাতেন। ও তখন খুব ছোট, তাই যেতে পারতো না সাথে। ওর বড়ভাই বাবার সাথে সাথে যেতো। খেজুরগাছ কাটার সময়, খেজুরের ফুল বের হওয়ার জন্য, ছোট ছোট কুড়িগুলোকে মাতি বলে। ওগুলো খেতে ভীষণ মজা। তো, ওর বড়ভাই বাবার সাথে গিয়ে ওগুলো আনতো। খেজুরের রস দিয়ে মিঠা তৈরি করতেন, রিয়াদের মা। তারপর সেই মিঠা বিক্রি করেও তাদের আয় হতো প্রচুর। বাবার মৃত্যুর পর পরিবার এর মেরুদণ্ড প্রায় ভেঙে যাওয়ার উপক্রম হলো। ওর বড়ভাইকে আর্থিক অভাবের কারণে, একটা ফার্নিচার এর দোকানে কাজে দিয়ে দিলো। পড়ালেখার প্রতি তার মনোযোগ একেবারেই ছিলো না। তবে মেধা খুবই ভালো ছিলো। কোনো কাজ খুব দ্রুত আর সহজে শিখে নিতে পারতো। এরপর, রিয়াদ এর মা কাজ নিলেন। রাস্তার পাশের জংগল সাফ আর ভাঙা রাস্তা মেরামতের জন্যে সরকার মহিলা কর্মীদের নিয়োগ দেয়। তাদের সাথে কাজ পেলেন তিনি। রিয়াদ তখনো খুব ছোট। ও তখন হাটতে শিখেছে। মা ওকে তার সাথেই নিয়ে যেতেন। এভাবে রিয়াদ পাচ বছর বয়স পর্যন্ত মায়ের সাথে সাথে যেতো। রিয়াদের অত্যন্ত তীক্ষ্ণ মেধা ছিলো। ওকে শুধুমাত্র আদর্শলিপি এর বর্ণমালা গুলো শিখিয়ে দিয়েছিলো ওর এক চাচা। ব্যস, এর পর থেকে রিয়াদের আর কারো সাহায্য নেয়ার প্রয়োজন পড়ে নি। নিজের পড়া নিজেই তৈরি করে নিতো। ওকে একদিন, ওর এক চাচী স্কুলে নিয়ে গেলেন। মা কাজে গেছেন। তার আসতে সন্ধ্যে হবে। চাচী স্কুলে ভর্তি করিয়ে নিয়ে এলেন। স্কুল বাড়ি থেকে খুব কাছেই। হেটে হেটে দল বেধে স্কুলে যায় রিয়াদ। বাড়ি থেকে দশ বারো মিনিটস লাগে স্কুলে পৌঁছাতে। গ্রামের রাস্তা। মনোরম সুন্দর। প্রতিদিন স্কুলে সাড়ে নয়টায় রওনা দেয়, আর দুপুর বারোটার সময় বাসায় ফেরে। ওর মা সকালে ভাত রান্না করে রেখে যায় ওর জন্য। বাড়ি এসে খেলা ধুলা করে চাচাতো ভাই বোন আর বন্ধুদের সাথে। রিয়াদ খুব অল্প দিনেই মেধাবী হিসেবে পরিচিত হয়ে ওঠে। শিক্ষক - শিক্ষিকা আর ছাত্র - ছাত্রীরা ওকে খুব স্নেহ আর সম্মান দিতে শুরু করে। রিয়াদের হাতের লেখা দেখে সবাই খুব অবাক হয়ে যেতো। ভীষণ সুন্দর। যেনো, কম্পিউটার দিয়ে টাইপ করা হয়েছে। ক্লাস ওয়ানের ফাইনাল পরীক্ষায় রিয়াদের ক্লাস রোল এক (০১) হয়। সবাই রেজাল্ট পেয়ে খুশি অথচ রিয়াদ এর মনটা খুব খারাপ আজ। কোনো কথা বলছে না ও আজ কারো সাথে। বারোটার সময় স্কুল ছুটি হলো। প্রিয়া, মিতু, মৌ, রাকিব, এমদাদুল এই পাচজন রিয়াদের বেষ্ট ফ্রেন্ড। একই বাড়ির পাশাপাশি ঘর। বাড়ি আসার পর ওর চাচাতো ভাইরা জিজ্ঞেস করলেন, রিয়াদ তোর রোল কতো হইছে? ওর মন খারাপ দেখে তারা বুঝলেন, হয়তো রেজাল্ট ভালো হয় নি। বললেন, রোল কতো হইছে তোর? রিয়াদ কাঁদো কাঁদো কন্ঠে উত্তর দিলো, ভাইয়ো আমার রোল এক হইছে !! ওরা আমার চেয়ে বেশি রোল পাইছে। আমি শুধু এক রোল পাইছি। ওর কথা শুনে তারা হাসতে হাসতে গড়াগড়ি খেতে লাগলেন। বলে কি ! বোকা ছেলে? তারপর বুঝিয়ে দিলেন, রোল নম্বর যতো কম, ততোই ভালো ছাত্র। এরপর রিয়াদের পড়ালেখার উৎসাহ পুরো দ্বিগুণ হয়ে যায়। আরো ভালো করে পড়ালেখা করা শুরু করে। যার ফলাফল সে আশাতীত ভাবেই উপলব্ধি করছিলো। রিয়াদ প্রিয়াকে দেখলেই কেমন যেনো অনুভব করতো। ওর বুকের মধ্যে ঠান্ডা হাওয়ার স্রোত বয়ে যেতো। কিন্তু এটা কেনো হতো, কিভাবে হতো, এর মাথা মুন্ডু ওর কিছুই আয়ত্বে আসতো না। দেখতে দেখতে রিয়াদ ক্লাস, ওয়ান থেকে টু, তারপর থ্রি, এখন ক্লাস ফোরে চলে এসেছে। ক্লাসরুমে প্রথম স্থানটা এখনো ওর দখলে। রিয়াদ একটু বড় হয়েছে। এখন কেমন যেনো ওর গান শুনতে ভীষণ ভালো লাগে। টিভিতে গান শোনে, নিজেও গুন গুন করে আবার গলা ছেড়েও গান গায়। তবে ওর একটা দুর্বলতা দিনের পর দিন বেড়েই চলছিলো। প্রিয়াকে দেখলেই ও যেনো কেমন হয়ে যেতো। এখন রিয়াদ ক্লাস ফাইভে পড়ে। ওর বড়ভাই ফার্ণিচার এর কাজ সব শিখে নিয়েছে। মা খুব হিসেব করে খরচ করছেন। রিয়াদ প্রতি ছয়মাস পর পর স্কুল থেকে উপবৃত্তি পায়। ভালো ছাত্র হিসেবে। রিয়াদ এর বড়ভাই শহরে দোকান দেয়। তার জমানো টাকা দিয়ে। পরিবারের খরচ ওর মা চালাতো। তাই তার টাকা জমা থাকতো। তো, এদিকে রিয়াদ ক্লাস ফাইভের প্রায় শেষ পর্যায়ে চলে এসেছিলো। অনেকটা বড় হয়ে গেছে। প্রেম ভালোবাসা বিষয়ক জ্ঞান ও লাভ করেছে বড় ভাই, বোনদের কাছ থেকে। রিয়াদ ধীরে ধীরে বুঝতে পারে ও প্রিয়াকে ভালোবাসে। ওকে না দেখলে ওর রাতে ঘুম হয় না। ওকে ভাবতে ভালো লাগে। প্রথম সাময়িক পরীক্ষা শেষ। কিছুদিন স্কুল বন্ধ। স্কুল খুলবে প্রায় পনেরো দিন পর। প্রিয়া মামা বাড়িতে বেড়াতে গেছে। ওকে ছাড়া এখন সময় যেনো কাটতেই চাইছে না। ও থাকলে গান গাইতো, গল্প শোনাতো, গোল্লাছুট, ছি বুড়ি, চোর পুলিশ খেলতো বন্ধুদের নিয়ে। ও নেই তাই খেলা হয় না। কিছুদিন পর প্রিয়া চলে আসলো। রিয়াদের যেনো ধড়ে প্রাণ ফিরে এলো। স্কুল খুলবে কিছুদিন পর। প্রিয়ার সাথে সারাদিন এ বাড়ি ও বাড়ি ঘোরাঘুরি করে ছুটির সময় গুলো কেটে গেলো। কাল স্কুল খুলবে। বর্ষাকাল শুরু হয়ে গেছে। রাস্তা কাদায় ভরে যায় একটু বৃষ্টি হলেই। পরদিন সকাল থেকেই গুড়ি গুড়ি বৃষ্টি হচ্ছে। রিয়াদ প্রিয়াকে ডেকে নিয়ে স্কুলে রওনা দিলো। পথে দেখা হলো এমদাদুল এর সাথে। ও রিয়াদ এর খুব ভালো বন্ধু। প্রিয়া আর রিয়াদ এক ছাতার নিচে যাচ্ছিলো। এমদাদুল ওদের সামনে সামনে একা হাটছে। আকাশের রঙ টা ধুসর কালো হয়ে গেছে। কেমন যেনো একটা ঠান্ডা শিরশিরে অনুভূতি চারপাশ জুড়ে। হঠাৎ প্রিয়ার পা কাদায় পিছলে যায়। রিয়াদকে জাপটে ধরে কোনোমতে পড়ে যাওয়া থেকে রক্ষা পেলো। স্কুলে আজ বেশি কেউ ই আসে নি। বৃষ্টি হলে উপস্থিতি কমে যায়। যেই আসুক বা না আসুক, ঝড় - বৃষ্টি উপেক্ষা করে রিয়াদ আর প্রিয়া নিয়মিত আসবেই। স্কুল ছুটির পরে প্রিয়া রিয়াদের কাধে হাত দিয়ে ছাতার নিচে আসতে লাগলো বাড়ি। বৃষ্টি থামে নি তখনো। বাসায় এসে রিয়াদের প্রিয়ার জড়িয়ে ধরার কথাটা বারবার মনে পড়তে লাগলো। বারবার চোখের সামনে ভেসে ভেসে উঠছিলো। রিয়াদ প্রিয়ার প্রতি অতিরিক্ত দুর্বল হয়ে পড়ছে। রিয়াদ এর বড়ভাই শহরে বাসা ভাড়া করলো। সেখানে রিয়াদ কে নিয়ে ওর ফাইভের সমাপণী পরীক্ষার পরে থাকা শুরু করবে। ওরা এখান থেকে চলে যাবে। রিয়াদ ভীষণ খুশি হয়েছিলো ওর ভাইয়ার এই কথা শুনে। এদিকে প্রিয়ার প্রতি ওর মায়া দিনের পর দিন বেড়েই যাচ্ছিলো। সমাপণী পরীক্ষা শেষ হয়ে রিয়াদ শহরে চলে আসলো। ওর মা, ভাই আর ও থাকবে এখানে। প্রিয়াকে কিছু না জানিয়েই ও চলে আসে। পরীক্ষার পর প্রিয়া মামা বাড়িতে বেড়াতে যায়। কিন্তু রিয়াদ সেটা জানতে পারে না। চোর পুলিশ খেলা নিয়ে সেদিন কি কারণে যেনো রিয়াদ প্রিয়াকে অনেক বকা দেয়। প্রিয়া খুব কেঁদেছিলো সেদিন। তাই না বলেই মামা বাড়িতে চলে যায়। রিয়াদ ও শহরে চলে আসে। রিয়াদ সিক্সে, শহরের একটা বয়েজ স্কুলে ভর্তি হয়। এখানে এসে বন্ধুবান্ধব আর আড্ডা দিয়ে সময় কাটাতে শুরু করে। ক্রিকেট এর মহা ভক্ত রিয়াদ। দারুন খেলে ক্রিকেট। ব্যাটিং বলিং এ অসাধারণ পারফরমেন্স। পড়ালেখা, বন্ধুবান্ধব, আড্ডা, ঘোরাঘুরি ইত্যাদি করতে করতে মেট্রিক পরীক্ষা শেষ হয়ে গেলো রিয়াদ এর। রিয়াদ দের অবস্থা এখন আর গরীব নেই। ওর ভাই একজন ভালো ব্যবসায়ী। নিজের জমি কিনে বাড়ি করেছেন। প্রিয়া গ্রামের ই একটা স্কুল থেকে মেট্রিক পরীক্ষা দিয়েছে। রেজাল্ট দিলো, প্রিয়া সাইন্স এ A+। আর রিয়াদ ও সাইন্স এ A+। কিন্তু, এরই মধ্যে একটা ঘটনা ঘটে গেছে। রিয়াদ একদিন দাদা বাড়ি গিয়ে প্রিয়াকে দেখতে পেলো। সেই যে ফাইভের পরীক্ষা দিয়ে গেছে, আর এই মেট্রিক পরীক্ষা দিয়ে এলো। প্রিয়াকে দেখে সে আজ চিনতে পারে নি। সেই ছোট প্রিয়া আজ এক মায়াবী অপরুপা অপ্সরী। অপলক দৃষ্টিতে তাকিয়ে রইলো। যার সাথে তার এতোদিনের পরিচয়, এতো আবেগ, ভালোবাসা, কতো মধুর স্মৃতি। তার সাথে আজ সে কথা বলতে পারলো না। কিসের যেনো একটা বাধা অনুভব করলো। রিয়াদ শহরে চলে আসলো। চাচাতো ভাইকে ফোন করে জানতে পারে, মেট্রিক পরীক্ষার এক মাস আগে প্রিয়ার মামা বাড়ির এক ছেলে ওকে দেখে ভীষণ পছন্দ করে। ছেলেটা ইটালি থাকে। ওকে বিয়ে করার জন্য পাগল হয়ে ওঠে। প্রিয়া কিছুতেই রাজি ছিলো না। ছেলেটা বিষ খাবে বলে ভয় দেখায়। শেষ অবধি জোর করে ওর অমতে বিয়ে দিয়ে দেয় প্রিয়ার পরিবার। একদিন, দুপুরের খাবার খেয়ে ঘুমাচ্ছিলো রিয়াদ। হঠাৎ একটা অচেনা নাম্বার থেকে ফোন এলো। রিসিভ করলো। ওপাশ থেকে মধুর নারী কন্ঠের আওয়াজ এলো, হ্যালো, আমি প্রিয়া বলছি। কিছুটা অবাক হলো। পরে বললো এমদাদুল এর কাছ থেকে নাম্বার পেয়েছে। কতোক্ষণ কথা বললো হিসেব নেই। ফোনে 100% চার্জ ছিলো, 5% হওয়ার পরে কথা শেষ করেছে। ছোটবেলার স্মৃতিচারণ আর শহরের কাটানো দিনগুলোর গল্প। তারপরেও রিয়াদ ওর মনের কথাটা বলতে পারেনি। রিয়াদ কোনো মেয়েকে এখনো প্রপোজ করেনি। প্রিয়ার মতো কাউকে খুঁজে পায়নি ও। প্রিয়ার জন্য ভালোবাসাটা ওর হৃদয়ের গোপন কুঠুরিতেই থাকুক। কিছু কিছু ভালোবাসা হয় ই এমন যেটা চিরদিন অব্যক্ত থেকে যায়। দুটি মনের ভয়ে শিহরনে চাপা পড়ে থাকে মনের গভীরে।


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১১২৮ জন


এ জাতীয় গল্প

→ প্রিয়া, তোমায় বলা হলো না।

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now