বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
" তুমি ছেলেটা কে মারতাছ কেন?
এ কথা বলে সুস্মিতা রাগি মুখ নিয়ে আমার দিকে থাকিয়ে থাকল।
আমি যদি দেখতাম সুস্মিতা আসছে তাইলে ছেলেটা কে বুকে জড়িয়ে মুখ চেপে ধরে মারতাম। ছেলেটার কি সাহস। রাস্তাঘাটে বড় ভাইদের সম্মান করে না। এমন কি আমাকেও করে না। আমি এই এলাকার বড় ভাই। ছেলেরা আমাকে খুব সম্মান করে। আমিও তাদের কে ভালোবাসার চোখে দেখি। কিন্তু এই ছেলেটা একটা বজ্জাত। তাই শাস্তি দিতে ছিলাম।
>> আরে কই মারলাম?
ছেলেটা কে তো আমি বুঝাচ্ছি। যে বড় ভাইদের সম্মান করতে হয়। (হিমু)
>> আমাকে কি বোকা পাইছ?
এই ছেলে তোমাকে হিমু কিসের জন্য মারল?
>> আপু আর বলো না। ভাইজান বলে ছিল সিগারেট আনতে। কিন্তু আমি তো কলেজ যাচ্ছিলাম। তাই ভাইজান কে আনতে পারব না বলেছিলাম। না বলাতে ভাইজান আমাকে মারছে।
>> সুস্মিতা বিশ্বাস করো। এ ছেলেটা মিথ্যা বলছে।
>> এই ছেলে তুমি যাও।
>> তুই যা তোরে আমি পরে দেখে নিব। মিথ্যা কথা বলিস।
>> চুপ করবা তুমি। সারাদিন শুধু মারামারি। এই কাজ গুলো কি তুমি ছাড়তে পারবে না।
>> এসব কথা বাদ দেও। চলো একটু হাঁটি।
>> আমার ভালো লাগছে না।
>> তাইলে আমি ক্রিকেট খেলতে যাই। তুমি বাসায় চলে যাও।
>> না। তুমি যাবে না।
>> কেন যাব না?
তুমি তো আমার সাথে হাঁটতে চাও না।
>> তুমি কেন শুধু মারামারি করো?
এসব আমার ভালো লাগে না। এসব ছেড়ে দিলে তোমার কি এমন ক্ষতি হয়?
>> চলো তো। শুধু শুধু আজাইরা বকাবকি করতাছ।
>> ও। এ কথা গুলো তোমার কাছে আজাইরা মনে হয়। আমি তো রোমান্টিক ভাবে কথা বলতে পারি না।
>> কোথায় একটু ঘুরাঘুরি করব। না। তা না করে আমাকে এসে বকতে শুরু করলা। এই একটাই মেয়েদের দোষ। কিছু হলেই ভূমিকম্প শুরু করে দেই।
>> আচ্ছা চলো একটু হাঁটি। তোমার সাথে আমি কথায় পারব না।
.
তারপর দেখতে পেলাম সুস্মিতা ব্যাগ থেকে হেডফোন বের করল। সম্ভবত গান শুনবে। হ্যাঁ। সুস্মিতা হেডফোন কানে লাগিয়ে গান শুনতে লাগলো। আর মুচকি মুচকি হাসছে। তার মানে সুস্মিতা রোমান্টিক গান শুনতাছে। কষ্টের গান হলে তো চোখ দিয়ে পানি পড় তো।
আমি সুস্মিতার দিকে চেয়ে বলি " তুমি দিন দিন পর পর হয়ে যাচ্ছ।"
সুস্মিতা অবাক হয়ে বলে "হলাম।"
আমি আর কিছু বললাম না। আমি সব সময় আমার কষ্ট নিজের কাছে বন্ধী করে রেখে দেই। কাউকে বলি না। বললে নিজের ওই ক্ষতি হয়। আমার দুর্বলতার সুযোগ পেয়ে মানুষ আমাকে কষ্ট দেয়।
অবশ্য সুস্মিতা কে সব কথা বলি। সুস্মিতাকে কেমন কেমন নিজের আপন মানুষ মনে হয়।
" গান শুনবে?" এ কথা বলে সুস্মিতা আমাকে হেডফোন দিল।
আমিও হেডফোন নিয়ে আমার গানে লাগিয়ে গান শুনতে লাগলাম।
>> জানো হিমু?
এই গানটা আমার খুব ভালো লাগে। আমার যখন মন খারাপ হয় এই গান টা শুনি। এই গানটার মাঝে এক অন্যরকম সুখ আছে।
>> হ্যা।। গানটা খুব ভালো।
>> আচ্ছা তোমাকে একটা কথা বলি রাখবা?
>> কি কথা?
>> কাল আমার ছোট ভাইয়ের জন্মদিন।
আমি চাই। তুমি কাল আমাদের বাসায় যাবে।
>> তা কি করে হয়। তোমার আম্মু আব্বু কি ভাববে। আমি যাব না।
>> আমি কিছু বুঝতে চাই না। তুমি কাল আমাদের বাসায় যাবে। নইলে তোমার সাথে আমি আর কথা বলবো না।
>> হিহিহিহি।
ঠিক আছে যাব।
>> সত্যি যাবে?
>> বললাম তো যাবো।
.
সুস্মিতা আমার হাত টা ধরে আমার কাঁধে মাথা রাখল। আমিও চুপ হয়ে বসে তাকলাম। আকাশ টা দেখতে লাগলাম।
আকাশের নিচে আমরা দু'জন্য বসে আছি। আমাদের পাশে অনেক ছেলে-মেয়েও বসে আছে। তারা খুব গল্প করছে। কেউ কেউ হাসাহাসি করতাছে। কেউ কেউ কান্না করছে।
.
আমি রাতে বিছানায় শুয়ে আছি। শুয়ে শুয়ে ভাবছি। সুস্মিতা আসলে একটা পাগলি মেয়ে। পাগলি না হলে কি আমাকে দাওয়াত দেয়। সুস্মিতার মা-বাবা আমাকে দেখলে রাগ করবে। সুস্মিতা এইটা কি বুঝতে পারল না। সুস্মিতা যতটা সহজে আমাকে দাওয়াত দিয়েছে তার মা-বাবা ততটা সহজে আমাকে সহ্য করতে পারবে না। এসব ভেবে ঘুমিয়ে গেলাম। সকাল বেলা ঘুম থেকে উঠে দেখি সুস্মিতা প্রায় ২০ টা কল দিয়েছে কিন্তু আমি বুঝতে পারি নি। অনেক ঘুমে ধরে ছিল। তারপর মোবাইল টা বন্ধ করে দিলাম। যেন সুস্মিতা আমাকে আর কল না দিতে পারে।
রাত প্রায় ৭ টার পর মোবাইল খুললাম। দেখি ৩০ মিনিট পর সুস্মিতার ফোন।
>> কুত্তা। হাদারাম। ভাল্লুক। সারাদিন মোবাইল বন্ধ ছিল কেন?
আমার ভাইরে কি তুমি গাড়ি গিপ্ট উপহার দিবে নাকি। তোমার পকেটে তো একটা টাকাও নাই সেটা আমি জানি।
>> সুস্মিতা তোমার ভাই কে আমি দুলাভাই উপহার দিব।
>> ফাজলামি বন্ধ করো। সারাদিন মোবাইল বন্ধ ছিল কেন?
>> চার্জ ছিল না।
>> মিথ্যা কথা বলা বন্ধ করো। আমার সাথে একদম মিথ্যা কথা বলবে না।
আর ঠিক মতো তো মিথ্যা কথাও বলতে পার না।
>> বললাম তো বাবা চার্জ ছিল না।
>> কেন চার্জ ছিল না?
>> ঘুরতে গিয়েছিলাম।
>> কি?
আমাকে রেখে অন্য কারো সাথে ঘুরতে যাওয়া হচ্ছে। দাঁড়াও তোমার খবর আছে।
>> আরে অন্য কে আর হবে।
এলাকার ছোট ভাইদের সাথে ঘুরতে গিয়েছিলাম।
>> তুমি আবার এলাকার ছোট ভাইদের সাথে চলাফিরা শুরু করছ।
.
আমি পড়ে গেলাম ঝামেলায়। কি থেকে কি বললাম। আসলে আমি ছোট ভাইদের থেকে অনেক দূরে থাকি। সেটা সুস্মিতা জানে। কিন্তু এখন আমি সুস্মিতা কে কি বলব। ধরা খেয়ে গেলাম। তাই সত্য কথা বলতে হবে-
>> আমার জন্মদিন অনুষ্ঠান ভালো লাগে না।
>> ভালো লাগবে কেন? অন্য কেউ দাওয়াত দিলে তো ঠিক ওই চলে যেতে।
ধ্যাত ভালো লাগে না।
.
তারপর সুস্মিতা ফোন টা কেটে দেয়। জানি আমার উপর বিরক্ত হয়েছে। আমার উপর সবাই বিরক্ত হয়। কারণ কারো কথা আমি ঠিক মতো পালন করতে পারি না। ৫ মিনিট পর সুস্মিতা আমাকে ফোন দিয়ে বলে সেন্টার ব্রিজে
এসো বিকাল ৪ টায়।
আমি কিছু বললাম না। জানি আজ আমার কপালে শনি আছে।
.
বিকাল ৪.২০ মিনিট হয়ে গেল সুস্মিতা এখনও আসে নি। আমি আশেপাশের পরিবেশ টা দেখতে লাগলাম। কেমন কেমন হাসি চেহারা নিয়ে আমার দিকে থাকিয়ে আছে। আমি গাল ফুলিয়ে বসে থাকলাম।
>> তুমি একটা গাদা।
.
এ কথা টা কে বলল তা দেখতে পিছনের দিকে থাকিয়ে দেখি একটা ছেলে একটা মেয়ে কে বলছে। আমি বুকে থু থু দিলাম। অনেক ভয় পাইছি। আমি ভাবলাম সুস্মিতা এ কথা টা আমাকে বলছে।
অনেক দূরে দেখতে পেলাম সুস্মিতা হেঁটে হেঁটে আমার কাছে আসলো। এসে ভালো মেয়ের মতো বসলো। ভাবলাম হয়তো কিছু বলবে না। একটু অপেক্ষা করলাম। আমি কিছু বলছি না। সুস্মিতা এবার শুরু করল -
>> জীবনে আমার জন্য কিছু করবে না। সারাদিন তো পাগলের মতো করে এ দিক সে দিক ঘুরাঘুরি করে বেড়াও।
>> কই ঘুরাঘুরি করি?
>> এই মুখে আবার কথা বলো লজ্জা করে না। তুমি না একটা হাদারাম।
>> ও আমি তো তোমার চোখে হাদারাম।
কোনো দিন কি আমি তোমার চোখে লক্ষ্মী ছেলে হতে পারছি।
>> হতে পারবে কি করে। কোনো দিন কি একটা ভালো কাজ করে দেখাতে পারছ।
>> ঝগড়া করবে না। দেখতে পারছ না আশেপাশে মানুষ।
>> তাতে কি হয়েছে?
তোমাকে ধরে পিটানো উচিৎ।
>> পিটানো উচিৎ। আর আমি কি তোমাকে ছেড়ে দিব। এক খিল দিয়ে তোমার নাক পাঠিয়ে দিব। হিহিহি।
>> আমি এখানে রাগে চটপট করছি। আর তুমি ফাজলামি শুরু করছ।
>> মোবাইলে লুডু খেলবে?
>> না। তুমি লুডু খেলতে থাকো। এক তো আমার ভাইয়ের জন্মদিনে যাও নি। তারপর তোমার এসব আজাইরা কথা আমার ভালো লাগে না।
>> আরে খেল না। দেখবে মন ভালো হয়ে যাবে।
>> চুপ। একদম চুপ। চুপ হয়ে এখানে বসে থাকো।
.
আমি চুপ হয়ে বসে থাকলাম। এ মেয়ে কে বিশ্বাস নাই। কোন সময় কি করে বসে । যদি রাগ উঠে যায় তাইলে আমাকে মারতেও সময় লাগবে না।
" আমার মনের ঘড়ে
তুমি কখন আসবে।"
সুস্মিতা এ গানটার দুই লাইন গাইতেই আমি হেসে পেলি। সুস্মিতা রেগে গিয়ে আমার গাল হাত দিয়ে টান দিয়ে মুখ ভেংচি দিয়ে বলে "হাসলে কেন?"
>> কই হাসলাম?
>> আবার মিথ্যা বলছ। ভ্যাএএএএএএ।
>> কান্না করছ কেন?
>> আমি ভালো গান গাইতে পারি না বলে তুমি আমার গান শুনতে চাও না। যাও আমার কাছ থেকে।
>> যাব না।
>> যেতে বলছি যাও। যাও বলছি।
>> তুমি অনেক ভালো গান গাইতে পারো।
>> আমাকে বোকা মেয়ে পাইছ। তুমি আমাকে খুশি করার জন্য এ কথা বলতে যাচ্ছ।
>> না রে বাবা। তুমি অনেক ভালো গান গাইতে পারো।
>> তাইলে আমি একটা গান শুনাই।
>> বলো।
.
"তুমি আমার জন্য একটা উপহার।
তুমি আমার জন্য একটা চাঁদনী রাতের আলো।" সুস্মিতা এ দুই লাইন বলতেই আমি হেসে দেই। সুস্মিতা কিছু না বলে একদম চুপ হয়ে চলে যায়। আমি আমার জিহ্বায় কামড় দিলাম। কেন হাসি টা দিলাম। তাই নিজের মাথায় নিজে একটা থাপ্পড় দিলাম। মন খারাপ করে রাস্তা দিয়ে হেঁটে হেঁটে বাসায় যাচ্ছি। আমার হঠাৎ চোখ পড়ল একটা রিক্সার দিকে। জিসান ভাই রিক্সার মাঝে কানে ধরে আছেন।
" জিসান ভাই কানে ধরে আছেন কেন?"
"ডাক্তারনী বলছে কানে ধরে থাকতে।" এ কথা বলে মুমু আপুর দিকে তাকালেন । আমি বুঝে গেলাম। মুমু আপু বলছে কানে ধরে থাকতে। কিন্তু তাই বলে রিক্সার মধ্যে কানে ধরে থাকতে।
" মুমু আপু জিসান ভাই কি করছিল?
যে এতো বড় শাস্তি দিলেন।"
" আর বলেন না ভাই। আমি গান গাইতে ছিলাম। কিন্তু উনি আমার গান শুনে হাসি দিয়ে আমার দিকে ড্যাবড্যাব করে থাকিয়ে থাকলেন। আমি এ কথা শুনে আর দাঁড়ালাম না। কারণ আমি তো নিজে ওই চুর। দেখলেন না সুস্মিতার গান শুনে আমি হাসি দিয়েছিলাম।
.
সন্ধ্যা হয়েছে। কিছু ভালো লাগছে না। সুস্মিতা কে ফোন দিলাম। সুস্মিতা ফোন ধরে নি। মনে হয় অনেক রাগ করেছে। তাই মোবাইল টা হাতে নিয়ে বসে থাকলাম। একটু পর দেখি মোবাইল টা বেজে উঠলো। মোবাইলের দিকে চেয়ে দেখি সুস্মিতা ফোন করেছে।
>> ফোন দিয়েছিলে কেন?
>> নিশ্চুপ। (হিমু)
>> আরে গাদা ফোন দিয়েছিলে কেন?
>> নিশ্চুপ।
>> ওই হাদারাম ফোন দিয়েছিলে কেন?
.
কিছু না বলে ফোন কেটে দিলাম। কি বলব? আমাকে গাদা বলে। আমাকে হাদারাম বলে। আমি এমন কি দোষ করলাম। যাইহোক আমি আর ফোন দিব না। আমি ফোন দিয়েছিলাম বলে। আমাকে বলে ফোন দিয়েছিলে কেন?
সুস্মিতা আবার ফোন দিয়েছে। এখন ভাবতে লাগলাম ফোন ধরব কিনা। এসব ভাবতে ভাবতে ফোনটা ধরে ফেললাম।
>> কাল বিকালবেলা শিশির পার্কে থাকবে বলে দিলাম।
.
আমি কিছু বললাম না। শুধু শুনলাম। তারপর সুস্মিতা ফোন টা কেটে দেয়।
এখন প্রায় বিকাল ৪.৩০ বাজে। জায়গা টার মধ্যে খুব ভীর। সূর্য প্রায় নেমে এসেছে। এখন এখানে খুব আড্ডা হবে। সবাই তাদের প্রিয় মানুষের কাছে মনের কথা খুলে বলবে। কেউ শুনবে আবার কেউ বলবে। কেউ কেউ তাদের প্রিয় মানুষের সৌন্দর্য প্রশংসা করবে। সব কিছু মিলিয়ে এখানে সবাই সুখে আছে।
আমি খুব বিরক্ত হলাম। এখানে একা বসা থাকা মানে নিজের কষ্ট নিজে উপভোগ করা। কারণ সবাই তো জোড়া। আপনারা ওই বলেন ভালো কি লাগবে? লাগবে না আমি জানি।
" সরি অনেক দেরী হয়ে গেল।" এ কথা টা সুস্মিতা বলেই ব্যাগ থেকে একটা বাটি বের করল। তার মধ্যে কি আছে আমি দেখতে উঁকি দিলাম। দেখি পায়েস। আমার অনেক শখ হলো খেতে। আমি শুধু বাটির দিকে তাকাচ্ছি। সুস্মিতা বুঝতে পেরে। আমাকে বলে "খাবে।"
আমি সাথে সাথে হ্যা বলে দেই।
সুস্মিতা আমাকে তার নিজের হাতে আমার মুখে খাবার তুলে দিল। ইশ! কি মজা। খুব ভালো লাগছে।
>> পায়েস টা কে করছে?
>> কে করবে আমি করছি।
>> তুমি আমার জন্য পায়েস করে আনলে?
>> কেন আমি কি তোমার জন্য পায়েস করে আনতে পারি না?
>> পারো। কিন্তু হঠাৎ?
>> এতো কথা বলো কেন? চুপ হয়ে খেতে থাকো।
>> তোমার গালে কি?
>> কই?
>> লাল যে দেখা যায়।
>> হিহিহি। হালকা একটু মেকাপ করলাম।
>> পাগলি কোথাকার। আমি কি বলছি তুমি মেকাপ করতে।
>> তোমার কি মনে হয়। আমি তোমার জন্য মেকাপ করছি?
>> তাইলে তুমি কার জন্য মেকাপ করে এতো সুন্দর হয়ে আসলে?
>> একটা ছেলে জন্য।
>> ছেলে টা কে?
>> সেটা তোমাকে বলবো কেন?
সব থেকে সত্য কথা আমি তোমার জন্য সেজে বাসা থেকে বের হয়ে আসে নি।
.
আমি কিছু বললাম না। উঠে চলে আসতে লাগলাম। এখানে বসে বসে কি করব। পায়েস খাব? তা আমার গলা দিয়ে ঢুকবে না। তাই উঠে চলে আসলাম ।
রাস্তা দিয়ে হেঁটে অনেক জায়গা চলে আসলাম। পিছনে দেখি রিক্সা হরণ দিচ্ছে। আমি বিরক্তিকর ভাব নিয়ে পিছনের দিকে তাকালাম। দেখি সুস্মিতা রিক্সার মধ্যে। রিক্সা মামা কে কিছু বললাম না। সুস্মিতা মায়াবতী চেহারা নিয়ে আমার দিকে তাকাল। আমি উদাস হয়ে গেলাম। তারপর নিজে কে একটু কন্ট্রোল করলাম। এই মেয়ে কে বুঝা দায়। কোন সময় কি করে বসে নিজেও বুঝে না।
>> আমি কিছু বললেই রাগ করে চলে আসো। তুমি কিছু বললে আমি তা করি।
তুমি কত বড় অপরাধ করছ একবার ভাবো নিজের মাথা দিয়ে। (কান্না করে করে)
>> আমি কি ভাববো গো?
নিজে তো বললে। তুমি আমার জন্য সেজে আসো নি। তারপর আমার কি বলার থাকে। যার জন্য সেজে আসলে তার কাছে যাও।
>> আমি তো ঢং করে বললাম। তুমিও বিশ্বাস করে নিলে। তুমি এতো হাদারাম কেন?
>> এই আমাকে হাদারাম বলবে না। ভালো হবে না।
>> কি করবে শুনি?
আমার তো কিছু করতে পারবে না। আবার বড় বড় কথা বলা হচ্ছে।
>> পথ ছাড়ো। আমি বাসায় যাবো।
>> পথ ছাড়বো কেন?
পথ কি তোমার?
>> এখন গায়ে পড়ে ঝগড়া করবে না। আমি বাসায় যাব। পথ ছাড়ো।
>> আচ্ছা ঝগড়া করব না। রিক্সায় উঠো।
>> আমি রিক্সায় উঠবো না। তুমি একা একা যেতে পারো।
>> আমি এমন কি বললাম। শুধু তো একটু মজা করে বললাম। তোমার জন্য সেজে আসে নি। তাই বলে এতো রাগ করতে হবে।
>> তুমি নিজের মুখে বলছ। তুমি আমার জন্য সেজে আসো নি।
>> আমি মজা করছিলাম। আচ্ছা যাও সরি বললাম।
>> এমন কথা আর কোনো দিন বলবে না।
>> ঠিক আছে আমি বলবো না।
এখন রিক্সায় উঠো।
>> মামা বালুচর এর দিকে যান তো।
>> বালুচরে কেন যাবে?
>> চুপ হয়ে বসে থাকো। সেখান গিয়ে বসে বসে চাঁদ দেখবো। আজ চাঁদ টা কাছে থেকে দেখতে অনেক মন চাচ্ছে।
.
আমি বোবার মতো হয়ে বসে থাকলাম। কি বলবো। মেয়ে নয় যেন পেত্নী। সব কিছু নিজের মতো করে ভাবে। আমাকে কিছু ভাবতে দেয় না। আকাশের দিকে তাকালাম। দেখি আকাশ টা আজ সাদা হয়ে আছে। অন্য দিন অন্য রকম থাকতো। প্রকৃতির মধ্যে আজ খুব বাতাস। সুস্মিতার চুল গুলো উড়ছে এক দুই টা আমার মাথায় মুখে এসে পড়ছে। আমি বিরক্ত হচ্ছি না। বিরক্ত হয়ে কি লাভ। সে আমার কথা শুনবে না। বরং আমাকে ওই বকা দিবে।
এখন প্রায় রাত ৭ টা বাজে। আমরা সহ আর অনেক মানুষ বালুচরে বসে আছে। খুব ভালো লাগছে। পরিষ্কার আকাশ। তারপর হালকা বাতাস। বাতাস না শুধু। মিষ্টি বাতাস। আমি দূরের চাঁদ টা কে দেখছি।
" এই চাঁদের মতো করে আমাকে সারাজীবন ভালবাসতে পারবে?" এ কথা বলে সুস্মিতা আমার দিকে তাকাল।
"হ্যাঁ পারব।" আমিও কোনো ধরেণ চিন্তা না করে সাথে সাথে উত্তর দিয়ে দিলাম।
ভালবাসার মানুষের সব আবদার পূরণ করা যায়। যদি ভালবাসার মানুষ টা বিশ্বাস করে। হ্যাঁ সুস্মিতা আমাকে বিশ্বাস করে। আমাকে ভালবাসে।
"আমি যদি মরে যাই।" এ কথা টা বলেই সুস্মিতা আমার হাত টা ধরল।
আমার চোখে পানি এসে গেল। সুস্মিতা উপর খুব রাগ হলো। কেন সুস্মিতা এ কথা বলল। সুস্মিতা বুঝতে পারছে। আমার মন টা খারাপ হয়ে গেল। তাই সুস্মিতা আমার দুই হাত ধরে দুঃখিত বলল।
>> তুমি যদি আর কোনো দিন এ ধরণের কথা বলো তাইলে দেখবে আমি আর কোনো দিন তোমার সাথে কথা বলবো না।
>> জানো। আমার না অনেক চিন্তা তোমাকে নিয়ে। সারাদিন শুধু মারামারি করো।
>> আমি মারামারি করি কোথায়?
আমি তো ছোট ছোট ছেলেদের বুঝাই।
>> তুমি বুঝাও তাদের। তাদের গায়ে হাত তুলে তুমি তাদের বুঝাও।
>> আচ্ছা যাও। আর মারামারি করবো না। এবার খুশি তো।
>> অনেক খুশি।
>> একটা হাসি দেও।
>> হিহিহি।
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now