বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
৪র্থ পর্ব!!
রাফিদ বেশি কিছু না ভেবে ফোনটা ধরেই ফেলল।
ফোনের ওপাশ থেকে একটা মেয়েলি কন্ঠে ভেসে আসলো
:-কেমন আছেন??? (মেয়ে)
:-ভালো কিন্তু কে আপনি???? (রাফিদ)
:-এতো দ্রুত ভুলে গেলেন?? যেখানে সারা জীবন মনে রাখতে হবে।
:-আপনি এমন কোন মহান ব্যাক্তি যে আপনাকে আমার সারা জীবন মনে রাখতে হবে!!! যদি পরিচয় দেন তাহলে কথা বলবো না হয় রাখলাম।
রাফিদ এই বলে ফোনটা রেখে দিতে যাবে তখনই মেয়েটা বলে উঠলো
:-প্লিজ রাখবেন না। আমি আমার পরিচয় দিচ্ছি।
:-দিন তাহলে???
:-আমি তিশা।
:-কোন তিশা??? সেই বাস কন্না তিশা????
:-বাহ! আপনি এত্তো দ্রুত আমার একটা নাম ও রেখে ফেলেছেন.??
:-না আসলে.... আপনার সাথে বাসে দেখা হয়েছে তো তাই বাস কন্না বললাম।
:-ওওও! তবে নামটা কিন্তু খারাপ না।
:- হুম। কিন্তু আপনি আমার নাম্বার পেলেন কোথায়???
:-হুম পেয়েছি কোন একভাবে। বলা যাবে না।
:-ওকে!! তবে আজকের মতো রাখলাম।
ভালো থাকবেন।
:-জ্বী! আপনিও ভালো থাকবেন।
রাফিদ ফোনে কথা বলা শেষ করে নিজের ল্যাপটপটা চালু করে ব্যাংক একাউন্ট চ্যাক করলো তাতে ১৫ লক্ষ টাকা এসে পরেছে। এখন তার যাওয়ার পালা। সে তার কন্টাক্টের ২৫ লক্ষ টাকা পেয়ে গেছে এবং সে কাজও করে দিয়েছে। এখন আর এখানে থাকার প্রশ্নই উঠে না। কিন্তু কোন এক অজানা কারণে তার যেতে ইচ্ছে করছে না।
তার মাথায় কি কিছুই ধরছে না। থাকবে, না চলে যাবে।
ভাবতে ভাবতে রাফিদ ঘুমিয়ে পরলো। ফোনের শব্দে তার ঘুম ভেঙ্গে যায়।
:-হেলো কে???(রাফিদ)
:-আমি তিশা। আমার সাথে একটু দেখা করতে পারবেন খুব বিপদে পরেছি। আপনার সাহায্য দরকার। আপনাকে ছাড়া সাহায্য পাওয়ার মতো আর কাউকে পাচ্ছি না। (তিশা)
:-আপনি আশ্চর্যরকম মেয়ে তো!! একদিনের পরিচয়ে আমার কাছে সাহায্য চেয়ে বসেছেন।
:-দেখুন খুব বিপদে পরে বলেছিলাম। সাহায্য না করতে চাইলে করতে হবে না। আমি অন্য কারো কাছে চেয়ে নিব।
:-ঠিক আছে!!! বলুন কোথায় আসতে হবে???
:-হাতিরঝিল।
:-ওকে আসছি।
রাফিদ ফ্রেশ হয়ে হাতিরঝিল উদ্দেশ্যে রওনা হয়। রাফিদ গন্তব্যস্থানে পৌছেই দেখে তার জন্য তিশা অপেক্ষা করছে।
রাফিদ গিয়ে তিশার পাশে দাঁড়ায়।
:-তুমি এসেছো??? আমি তো ভেবেছিলাম তুমি আসবে না। (তিশা)
:-এমনটা ভাবার কারণ কি???(রাফিদ)
:-না,তেমন কিছু না। এক দিনের পরিচয়তে কি আর কেউ কাউকে এভাবে সাহায্যের জন্য এগিয়ে আসে!! তাই ভেবেছিলাম তুমি আসবে না।
:-হেলো মিস তিশা!! আপনি আমাকে তুমি করে বলছেন কেন???
:-বলুন তো আপনি কেমন ছেলে!!! একটা মেয়ে আপনার সাথে ঘনিষ্ঠ হতে চাচ্ছে আর আপনি তাকে দূরে সরিয়ে দিচ্ছেন??
:-ওকে!! এসব বাদ দিন। বলুন আপনার কি সাহায্য দরকার???
:-আসলে আমার কোন সাহায্যের দরকার নেই। আপনি যেন এখানে আসেন তাই মিথ্যা বলেছি। আমি জানি, যদি আপনাকে আমি এমনিতেই আসতে বলতাম আপনি আসতেন না। তাই একটু মিথ্যার আশ্রয় নিলাম। আর এটাও জানি আপনি কারো বিপদের কথা শুনলে সাহায্য না করে পারেন না।
এভাবেই ধীরে ধীরে রাফিদ আর তিশা একে অপরের কাছে চলে আসে।
তিশার ছোয়ায় রাফিদ তার পিছের ব্যাথাগুলো ভুলে যাচ্ছিল এবং পিছের অপরাধগুলোকেও ঘৃণা হচ্ছিল।
এখন দুজনই দুজনকে চায়। কিন্তু রাফিদের মন তিশাকে চাইলেও তার বিবেক তাকে বাধা দেয়। তার বিবেক বলে এমন এক নিষ্পাপ মেয়েকে তার পাপী জীবনের সাথে জড়াতে না। তবুও রাফিদের মন তা মানছে না।
রাফিদ ভাবছে আজ সে তিশার সাথে দেখা করেই চলে যাবে। তার সামনে আর কখনো আসবে না।
একটা কফি হাউজে রাফিদ-তিশা সামনা-সামনি বসে আছে। দুজনই চুপ। কেউই কিছু বলছে না। সব নিরবতা ভেঙ্গে তিশা বলে উঠলো।
:-রাফিদ!!! আমাকে বিয়ে করবে??? (তিশা)
রাফিদ হতভম্ব হয়ে গেল। সে ভেবেছে কি আর মেয়েটা এই সময় বলছেটা কি। রাফিদ চুপ করে আছে। সে কিছু বলতে পারছে না।
:-কি হলো!!! রাফিদ কিছু বলছো না কেন??(তিশা)
রাফিদ অনেক ভেবে-চিন্তে দেখলো তিশাকে সব কিছু বলে দেয়াটাই ভালো।
:-তিশা!! তুমি আমার সম্পর্কে কিছুই জানো না। যদি জানতে আমাকে বিয়ে করতে চাইতে না।(রাফিদ)
:-কে বলছে আমি তোমার সম্পর্কে কিছু জানি না! আমি সব জানি সব!
উত্তেজিত হয়ে)কি জানো তুমি??? বলো কি জানো??? কিছুই জানো না।
উত্তেজিত হয়ে) তুমি একজন কিলার!! তবুও সাধারণ কোন কিলার নয়। একজন প্রফেশনাল কিলার। এর চেয়ে বেশি কিছু জানা কি লাগবে?
এই কথা শুনে রাফিদ থ হয়ে গেল। এই মেয়েটা তার সম্পর্কে এতো কিছু জানলো কিভাবে??? যা সে ছাড়া পৃথিবীর কেউ জানে না....................
চলবে...............
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now