বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
২য় পর্ব!!
২দিন পর পরীক্ষা। রাফিদ খুব চিন্তিত। এখনো আরো ৪টা বই শেষ করা বাকি। যেভাবেই হোক আজকের মধ্যে ১টা বই শেষ করতে হবে।
রাত ২ বেজে ৪৫ মিনিট। রাফিদ ঘড়ি দেখলো। আজকের মতো পড়া শেষ। আর ৩টা বই বাকি। কাল ২টা এবং পড়ের দিন একটা পড়ে শেষ করতে হবে। কিন্তু এখন তার ঘুমাতে হবে। না হয় শরীর খারাপ করবে।
বিছানায় শুয়ে রাফিদ ল্যাপটপটা হাতে নিল। ১০মিনিট ল্যাপটপ ব্যবহার করে ঘুমিয়ে পরবে।
ল্যাপটপ টা অন করতেই ২টা ইমেইল আসলো।
তাহলে এবারো তার আর পরীক্ষা দেয়া হচ্ছে না। তার কাজে যেতে হবে। এবার কাজটা ঢাকায়। সে আগেও কয়েকবার ঢাকায় ঘুরতে গিয়েছিল। কিন্তু এইবার তার কাজের জন্য যেতে হবে।
ইমেইলে তার সব কাজ বুঝিয়ে দেয়া হয়েছে।
রাফিদ দ্রুত তার ব্যাগ ঘুছিয়ে নিল। কাউকে বুঝতে দেয়া যাবে না। সে চলে যাচ্ছে কারণ কেউ বুঝতে পারলে তাকে পরীক্ষা না দিয়ে যেতে দিবে না। সে সব কিছু ঘুছিয়ে বের হয়ে গেল।
রাফিদ একটা সিএনজি নিয়ে বাসস্ট্যান্ট চলে গেল। সে মাত্র ২০মিনিটের জন্য আগের বাসটি পাইনি। এখন তার অপেক্ষা করতে হবে। কারণ ৭টার আগে কোন বাস নেই। ঘড়িতে তাকিয়ে দেখে মাত্র ৫টা বাজে। তার মানে এখনো ২ঘন্টা বসে থাকতে হবে। টিকেট কেটে সে বাসে উঠে পরলো। পাশের ম্যাগাজিনের দোকান থেকে একটা ম্যাগাজিন ও কিনে নিয়েছে। কারণ যেতে যেতে পড়া যাবে।
ঠিক ৭টার সময় বাস ছেড়ে দিল। রাফিদের পাশের সিটটা খালি। সে মনে মনে খুব খুশি হলো। কারণ সে জানালার সাথে এবং দুই সিটে আরামে যেতে পারবে। কিন্তু টিকেট সেলার তো বলছিল সব টিকেট বুকিং হয়ে গেছে। হয়তো এই সিটের যাত্রী বাস মিস করে ফেলেছে। কিন্তু না তার খুশি আর বেশিক্ষণ টিকিয়ে রাখতে পারলো না কারণ পরের কাউন্টার থেকেই তার পাশের সিটে একটা মেয়ে এসে বসেছে। অন্য সবাই হলে খুশি হতো। এতো বড় জার্নিতে পাশে একটা মেয়ে থাকলে জার্নিটাই খুব মজাদার হয়ে যায় কিন্তু রাফিদ একদম আলাদা। তার মেয়েদের প্রতি অতিরিক্ত কোন আগ্রহ নেই।
তবে এই মেয়েটা দেখতে খারাপ নয়। রাফিদের মেয়েটাকে দেখতে ভালোই লাগছে। যদিও পাশের সিটে বসার কারণে প্রথমে তার খুব মেজাজ খারাপ হয়েছিল। কিন্তু এখন মেয়েটাকে দেখতে খারাল লাগছে না। একটা সবুজ রঙের শাড়ি পরেছে। ঠোটে লাল রঙের লিপস্টিক দিয়েছে। চোখে কাজল মেখেছে। আবার বাতাসে কিছু চুল হাল্কা উড়ছে। মাঝে মাঝে মেয়েটির চুল গুলো উড়ে গিয়ে মেয়েটির কপালে পরছে তখন সে তার ডান হাত দিয়ে চুল গুলো ঠিক করে নিচ্ছে।
রাফিদ এইগুলো অপলক দৃষ্টিতে দেখছিল। তার কথাও বলতে মন চাচ্ছে কিন্তু সাহস হচ্ছে না। যদি অন্য কিছু মনে করে। এরকম অনেক কিছুই সে ভাবছে।
হঠাৎ ডাক পরলো
:-এই যে মিঃ!! (মেয়েটি)
থতমতিয়ে) জ্বী আমাকে বলছেন??. (রাফিদ)
:-আমার পাশে তো বলার মতো অন্য কেউ নেই যে বলবো।
:-ও! তাহলে তো আমাকেই বলছেন??
:-হ্যা! আপনাকেই বলছি।
:-তাহলে বলুন!!
:-আপনি আশ্চর্য রকম একটা ছেলে তো!! আপনার পাশে এত্তো সুন্দর একটা মেয়ে বসে আছে আবার আপনার সাথে কথাও বলতে চাচ্ছে কিন্তু আপনি কোন পাত্তাই দিচ্ছেন না?? অন্য কোন সময় যদি বাসে উঠি তো পাশে কোন ছেলে বসলে তার যন্ত্রণায় থাকতেই পারি না। আর সেখানে আপনার কোন ফিলিংসই নেই। অহ!! আপনি কি পুরুষ না???
তারপরেই বিরতিহীন তাদের কথা চলতে থাকে।
হাজারো কথা ও দুষ্টামি করতে করতে দুজন ঢাকা এসে পৌছায়। তখন ঘড়িতে বিকাল ৪টা বাজে। দুজনই দুজন থেকে বিদায় নিয়ে দু-দিকে চলে যায়।
মেয়েটি যাওয়ার পর রাফিদের মনে হয় সে তো মেয়েটির নাম ছাড়া আর কিছুই জানলো না। পরে মন চাইলেও সে মেয়েটিকে কখনো কাছে পাবে না। তার খুব আফসোস হচ্ছে কিন্তু এখন আর আফসোস করে কোন লাভ নেই.............
চলবে.............
বিঃদ্রঃ রাফিদ তো মেয়েটির নাম জেনে গেছে কিন্তু আপনারা না হয় পরেই জানলেন। কি বলেন??
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now