বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
লেখিকা - Polok Hossain
পলক হোসাইন
~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~
মাথায় খাটো করে ঘোমটা টেনে নিলো নিহিলা।টেবিলে খাবার সাজিয়ে রাখা হয়েছে।হেমন্ত আর মামা খেতে বসেছেন।নিহিলা মাথা ঝুকে খাবার এগিয়ে দিচ্ছে।
মামা খাচ্ছেন আর রাজ্যের কথা নিয়ে বসেছেন হেমন্তের সাথে।হেমন্ত অবশ্যি কথার ফাঁকেফাঁকে নিহিলার দিকে তাকাচ্ছে।মনে হচ্ছে আরেকটু সময় মেয়েটির সাথে গল্প করতে বসলে মন্দ হতো না।নিঃসন্দেহে মেয়েটি দারুণ।ভবিষ্যতে আদর্শ স্ত্রী হয়ে এই মেয়েই পারবে তার সংসার আগলে রাখতে।এই মেয়ের সেই ক্ষমতা আছে।
তৈমুর হেমন্তকে বললেন-
-বাবা হেমন্ত,খাবার কেমন হয়েছে?ভালো লাগছে তো?আরাম করে খাও।ওতো তাড়াহুড়া করো না।
হেমন্ত বললো-
-আঙ্কেল,একটা কথা ছিলো?
-বলো বাবা হেমন্ত..যা বলার মন খুলে বলবে।কোনো প্রকার লজ্জা দিয়ে কথা ঢেকে রাখবে না।
-কাল মা আসবে বলেছিলো সাথে আমিও আসতে পারি।যদি অনুমতি দেন তাহলে আমি নিহিলাকে নিয়ে বাহিরে কোথাও যেতে চাই।
কথা শুনে খাবার মাথায় উঠে বিষম খাওয়ার মতো অবস্থা হতে চলেছিল কিন্তু তৈমুর নিজেকে সামলে নিলেন।একটু ভেবে নিয়ে বললেন-
-বাবা,আমরা একটা সোসাইটিতে বসবাস।এই সোসাইটিতে আমাদেরকে খুব হিসাব নিকাশ করে চলতে হয়।সামান্য ভুল হলেই ত্রুটি তুলে ধরা সোসাইটির মানুষদের স্বভাব।এরা ভুল ধরার সুযোগ খুঁজতে থাকে।আমাদের দেশটা যদি আমেরিকার মতো হতো তাহলে আমি নিজেই তোমাকে এই কথাটা প্রস্তাব দিতাম।কিন্তু..ব্যাপারটা যে আমাকে ফিরিয়ে দিতে হচ্ছে বাবা।আশা করি তুমি আমার কথা বুঝেছো।
হেমন্ত সামান্য হাসির রেখা মুখে টানলো যেন সে সব কিছুই সহজে বুঝে নিয়েছে।কিন্তু মনে মনে একটু আফসোস হলো।একটু সময় কাটালে খুব ভালো হতো।হয়তো একসময় প্রেমময় আবহাওয়া সৃষ্টি হতো।প্রকৃতি নতুন করে কিচ্ছা বানাতে পারতো।যেই কিচ্ছা হবে একটু অন্যরকম।একটু ভালো লাগা,মন্দ লাগা আবার একটুতে অনেক কিছুর প্রত্যাশা।
তৈমুর আর হেমন্ত যতোক্ষণ না পর্যন্ত খাবার খেয়ে টেবিল থেকে উঠবে না ততোক্ষণ পর্যন্ত মা,মামী,সাবেরা আর নিহিলাকে পাশে দাঁড়িয়ে থাকতে হবে।কিন্তু নিহিলার দাঁড়িয়ে থাকতে ইচ্ছে হচ্ছে না।দুই তিনবার যাওয়ার জন্য ব্যস্ত হয়ে পরেছিলো রোকসানা ওকে সামলিয়ে রেখেছেন।সাবেরা নিহিলার কাছে এসে ফিসফিসিয়ে বললো-
-দেখসেন বুবু,হবু দুলাভাই আপনেরে কত্ত ভালোবাইসা ফেলসে!আপনেরে নিয়া বাইরে যাওয়ার অনুমতি চাইলো।খালু জান অনুমতি দিয়া দিলে ভালোই হইতো।
সাবেরা মুখে হাত চেপে ফিক করে হেসে ফেললো।নিহিলা রাগান্বিত চোখে সাবেরার দিকে তাকাতেই সাবেরা আগের মতো চুপ হয়ে দাঁড়িয়ে রইলো।
খাওয়া দাওয়ার পর্ব শেষ হয়ে গেছে।হেমন্ত সুযোগ খুঁজতে লাগলো নিহিলার সাথে আরেকটি বারের মতো কথা বলে নিতে।কিন্তু তৈমুর তাকে কোনো না কোনোভাবে অন্য প্রসঙ্গ তুলে কথা বলে যাচ্ছেন।যা না শুনলেও হেমন্তর জন্য এক ধরনের বেয়াদবি হবে।মুরুব্বি মানুষদের কথা মনোযোগ দিয়ে শোনা এক ধরনের আদব কায়দা।সেই ভদ্রতাকে বজায় রাখতেই হেমন্ত মনোযোগ সহিত কথা শুনে গেলো কিন্তু মন শুধু একদিকেই আটকে আছে।নড়ছেও না,হেমন্তকেও নড়তে দিচ্ছে না।মন হয়তো নিহিলা মেয়েটির জন্য চুম্বকীয় শক্তিতে রুপান্তরিত হয়েছে।অবশেষে কিছুক্ষণ থেকেই বিদায় হতে হলো।ইচ্ছে ছিল বিদায়টা অন্যরকমভাবে নেওয়ার।যেমন,নিহিলা মেয়েটি মামার পিছুপিছু লজ্জিত ভঙ্গিতে এসে তাকে বিদায় দিবে।সাথে একটু মুচকি হাসি দিয়ে মুখের উপর উড়ে আসা চুলগুলো কানের পিঠে সড়াবে।কিন্তু এইরকম কিছুই হলো না।মেয়েটির নাম্বারটা নেওয়াও খুব বেশী জরুরি ছিল।কিন্তু তাও আর নেওয়া হলো না।
.
.
জবা আর জুই পড়তে বসেছে।সন্ধ্যা হওয়ায় প্রতিদিনের মতো আজও পড়তে বসেছে তারা।তবে দুইজন দুই দিকে পড়ছে।জবা পড়ছে টেবিলে বসে আর জুই পড়ছে খাটে বসে।
জবা বই পড়ার মতো ভান করে বসে আছে।কিন্তু সে পড়ছে না।একটি সাদা কাগজ বইয়ের ভেতর নিয়ে পড়ার ভান করছে।এই সাদা কাগজটি রাখার উদ্দেশ্য হচ্ছে সে একজনকে চিঠি লিখবে।যেই চিঠির প্রাপক হবে রুমন স্যার।রুমন স্যারকে ঘিরেই সে পুরো চিঠিটাকে সাজাতে চাচ্ছে।জবা এদিকওদিক সামনে পেছনে তাকিয়ে গোপনে চিঠিটা লেখার মতো একটি পরিবেশ সৃষ্টি করতে চাইলো কেননা চিঠিটি গোপনে লেখা অত্যন্ত জরুরি।যদি নিহিলা আপু মাঝখানে এসে সব কিছু দেখে ও জেনে ফেলে তবে নিঃসন্দেহে বিপদ দেখা দিবে।বইয়ের ভেতর কাগজ লুকিয়ে জবা চিঠি লিখে গেলো-
শ্রদ্ধেয় স্যার,
আপনাকে চিঠি লেখাতে অবাক হয়েছেন নিশ্চয়ই।মূলত আপনাকে অবাক করে দেওয়ার জন্যই আমার এই চিঠিটা।আমি মানুষকে অবাক করে দিতে খুব বেশী পছন্দ করি।আর তাই মানুষ আমাকে সহজে ভুলতে পারে না।তাই আমার বিশ্বাস এক সময় আপনিও আমাকে সহজে ভুলতে পারবেন না।আমি আর জুই আপনার কাছে প্রাইভেট পড়ছি প্রায় তিন বছরের মতো হবে।এই তিন বছরে আপনি আমার প্রিয় মানুষগুলোর লিস্টে অতি দ্রুত যুক্ত হয়ে গেছেন।যদিও আমি চট করে কাউকে আমার প্রিয় মানুষগুলোর তালিকায় স্থান দিতে পারি না।কিন্তু আপনি কিভাবে সেখানে নিজের নাম বসিয়ে নিলেন বুঝতেই পারলাম না।আপনি হয়তো জানেন না আপনাকে আমি খুব বেশী পছন্দ করি।আমি কিন্তু আপনার পড়া শিখতে বসে আপনাকে চিঠি লিখে ফেলছি।আপনি আবার রাগ করবেন না তো!আপনি আমার প্রতি রাগ করে থাকলে আমার খুব কষ্ট লাগে।আমার প্রতি রাগ করে থাকতে আপনারও কি আমার মতোই কষ্ট হয়।খুব বেশী জানতে ইচ্ছে করে।জানি,আপনি আমার থেকে কমপক্ষে বারো তেরো বছরের বড়।আপনাকে আমি যা বলছি একজন স্টুডেন্ট হিসেবে এসব আপনাকে বলাও হয়তো ঠিক হচ্ছে না আমার।কিন্তু আমি আপনাকে খুব পছন্দ করি।মন থেকে।এইটা পৃথিবী সূর্যের চারিদিকে ঘুরার মতোই চিরন্তন সত্যি।চিঠি দেখে ঘাবড়ে যাবেন না।ঠান্ডা মাথায় পড়ে বিবেচনা করবেন।আমি আপনার জবাবের অপেক্ষায় রইলাম।
ইতি
আপনার ছাত্রী জবা।
লেখা শেষে জবা পুরো চিঠিটা দ্বিতীয়বারের মতো মনোযোগ দিয়ে পড়ে নিলো।চিঠিটা এইবার ভাজ করে বইয়ের ভেতরেই লুকিয়ে রাখলো।
.
.
এই দিনটি অরনিতার জন্য খুব চমৎকার একটি দিন ছিল।উদয়কে সে যেমনটা ভেবে এসেছিল উদয় তেমনটা না।দুই শব্দের "থ্যাঙ্ক ইউ" না বললে হয়তো অন্যায় হয়ে যাবে ছেলেটির সাথে।অরনিতা বিছানার উপর পিঠে বালিশ ঠেস দিয়ে বসে আছে।হাতে এতোক্ষণ ফোন ছিল।হাতের ফোন রেখে উদয়ের দিকে তাকালো।বলবে বলবে ভাব।কিন্তু বলতে পারছে না।হঠাৎ করে "থ্যাংক ইউ" বলতেও মুখে বাধছে।উদয় বই হাতে বসে আছে।যদিও বইটা সে মনোযোগ দিয়ে পড়ছে না।শুধুই পাতা উলটে চোখ বুলিয়ে যাচ্ছে।অরনিতা উদয়ের দিকে মুখ নিয়ে কাপা কাপা কন্ঠে বললো-
-থ্যাংক ইউ।
উদয় বইয়ের দিকে তাকিয়ে বললো-
-থ্যাংক ইউ শব্দটা শোনার মতো আমি কি বিশেষ কোনো কাজ করেছি?
-হু।করেছেন?
-কি করেছি?
-আজকের দিনটাকে আমার জন্য বিশেষ একটা দিন বানিয়ে দিয়েছেন।
-এর জন্যই তো বলি..ঝাল কন্ঠে হঠাৎ করে মধুর স্বর শোনা যাচ্ছে কেন?
-কি বললেন?আমার কন্ঠ ঝাল?
-হুম,ঝাল।বোম্বাই মরিচও ফেইল।
-আমি জানি আপনি আমাকে রাগাতে চেষ্টা করছেন কিন্তু আর যা কিছুই বলেন,আমি আজ আপনার সাথে ঝগড়া করবো না।
-কারন?
-কারন আমি বলবো না।বলতে ইচ্ছে হচ্ছে না।
-ঠিকাছে বলো না।
-শুনুন,আপনিও এখন থেকে আমার সাথে ঝগড়া করবেন না।
-ঠিকাছে।তবে শর্ত আছে?
-এর জন্য শর্ত লাগবে আপনার?
-হ্যা লাগবে।
-বলুন আপনার শর্ত।আমি শর্ত মানতে রাজি।
উদয় হাসিমুখে তাকিয়ে রইলো অরনিতার দিকে।তবে কিছু বলতে পারলো না।অরনিতার দিকে মুখ ঘুরিয়ে আবার বইয়ের দিকে তাকিয়ে বললো-
-শর্তটা জমা রেখে দিলাম।অন্য আরেকদিন বলবো।তখন তোমাকে আমার শর্ত মানতে হবে।
-ঠিকাছে।আমি রাজি।আপনার কাছে একটি কাগজ কলম হবে?
-কাগজ কলম দিয়ে কি করবে?
-পরে বলবো।আগে কাগজ কলম দিন।
অরনিতার কথা মতো উদয় ওকে কাগজ কলম এগিয়ে দিলো।অরনিতা হাটুতে বালিশ রেখে তার উপর কাগজ নিয়ে লিখে গেলো।লিখলো:-
সাংসারিক কানুননামা :
ভোর সাতটায় ঘুম থেকে জেগে ওঠা (আবশ্যক)
সকালে চা নাস্তা বানানো (আবশ্যক)
সপ্তাহে একবার কাপড়চোপড় ধোয়া (ঐচ্ছিক)
হালিমার কাছ থেকে রান্না শেখা (আবশ্যক)
অরনিতাআপনাআপনি কিছু ভেবে নিয়ে উদয়কে কাগজ কলম এগিয়ে দিয়ে বললো-
-নিচে একটি নোট লিখুন।আপনার পছন্দ আর অপছন্দ নিয়ে একটি লিষ্ট বানান।
উদয় কাগজ হাতে নিয়ে ওর লেখাগুলো দেখলো।মেয়েটির কান্ড দেখে হাসি পাচ্ছে।উদয় হেসে বললো-
-এগুলো লিখে রেখে করবেটা কি?
-একজন বউ হিসেবে আমি আমার রুটিন বানাচ্ছি।রুটিনট
া পারফেক্ট মতো বানানোটা জরুরি।
উদয় কলম নিয়ে লিখে গেলো-
ঝগড়া+খুনসুটি+ভা
লোবাসা=টোনাটুনির সংসার
মিস্টার অক্সিজেন+মিসেস অক্সিজেন=অক্সিজেন জুনিয়র।
উদয় লেখা শেষ করে কাগজটা অরনিতাকে ফিরিয়ে দিয়ে বললো-
-এই নাও।আমার লেখা শেষ।
অরনিতা অবাক হয়ে তাকিয়ে বললো-
-এগুলো কি লিখলেন?হাবিজাবি।
-উহু..হাবিজাবি না।লেখাগুলোর অন্তর্নিহিত একটা অর্থ আছে।
-আমি আপনাকে বলেছি আপনার সব পছন্দ অপছন্দের একটা লিস্ট বানাতে।হাবিজাবি কোনো লেখা লিখতে বলি নি।
-তোমাকে এর অন্তর্নিহিত অর্থ খুঁজতে বলেছি।কিন্তু তুমি কিছুই বোঝো নি।তোমাকে তাই বাধ্য হয়ে দশের মধ্যে শূণ্য দিতে হচ্ছে।সুতরাং তুমি ফেইল করেছো।
-হাবিজাবি লিখে বলছেন নিজ থেকেই বুঝে নিতে!আবার নিজেই পরীক্ষক হয়ে নাম্বার দিচ্ছেন?আপনার কাছে কি খেলা মনে হচ্ছে?
-বিষয়টা খুবই সিম্পল।রাগ না হয়ে ঠান্ডা মাথায় কিছুক্ষণ ভাবো।বুঝে যাবে।আমি তোমাকে সময় দিলাম চব্বিশ ঘন্টা।এই চব্বিশ ঘন্টায় যদি বুঝতে না পারো তাহলে অতি দু:খের সাথে বলতে হচ্ছে যে তোমাকে মিস টিকটিকি উপাধিতে ভূষিত করা হবে।এই উপাধি থেকে বাঁচার এই একটাই উপায়।তোমাকে ওই লেখাগুলোর অর্থ বুঝতে হবে।
অরনিতা রাগী গলায় বললো-
-আমার কি মনে হয় জানেন!আপনার মাথার নিরানব্বইটা ক্রু ঢিলা।শুধু একটা বাদে।
-একটা বাদে কেন?আমি তো আগে ভাবতাম আমার মাথার একশটা স্ক্রু-ই ঢিলা।
এই বলে উদয় হেসে উঠলো।অরনিতা বললো-
-আমি সিরিয়াসলি বলেছি।কোনো জোকস বলি নি।সুতরাং হা হা করে হাসারও কোনো প্রয়োজন দেখছি না।
-তুমি কি রেগে যাচ্ছ?
-আপনি আমাকে রাগাতে চেষ্টা করলে রাগ তো আমার হবেই।তবে আমি কন্ট্রোলে রাখার চেষ্টা করছি।কারন আমি আগেই বলেছি আজ আপনার সাথে কোনো ঝগড়া করবো না।
এই বলে অরনিতা রুম থেকে বেরিয়ে গেলো।উদয় বললো-
-যাচ্ছ কোথায়?
অরনিতা কিছু না বলেই চলে গেলো।
.
অরনিতা গেলো হালিমার রুমে।হালিমা বিছানা গুছিয়ে ঘুমানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে।অরনিতা এসে বললো-
-বিছানায় দুইটা বালিশ বিছিয়ে রাখো হালিমা।আরেকটা বালিশের ব্যবস্থা করো।
হালিমা কিছুই বুঝলো না।অরনিতার দিকে তাকিয়ে রইলো।অরনিতা বললো-
-আজ আমি তোমার সাথে ঘুমাবো।তাই দুইটা বালিশের ব্যবস্থা করতে বলেছি।
হালিমা কিছুই বললো না।অরনিতার কথা মতো ড্রয়ার থেকে আরেকটি বালিশ বের করলো।অরনিতা আবার বললো-
-তোমার সাথে ঘুমালে তোমার কোনো অসুবিধা হবে না তো হালিমা?
হালিমা না সূচক মাথা নাড়ালো।অরনিতা বললো-
-আমার ঘুম পাচ্ছে।জলদি মশারি টাঙাও।আমি ঘুমাবো।
-আমি মশারি ছাড়াই ঘুমাই।
-সে কি?মশা কামড়ে ঘুমের বারোটা বাজিয়ে ফেলবে তো!
-আমার অভ্যাস আছে।
অরনিতা অসহায় চোখে হালিমার দিকে তাকিয়ে রইলো।দীর্ঘ নিশ্বাস ফেলে বললো-
-ঠিকাছে।তুমি বিছানা গুছাও।আমি কোনো ব্যবস্থা করতে পারি কি না দেখি।
.
অরনিতা রুম থেকে বেরিয়ে পরলো।একটা মশারির ব্যবস্থা করতে পারলে এইখানেই একটা চমৎকার ঘুম সেরে নেওয়া যাবে।রুমে যেতে ইচ্ছে হচ্ছে না উদয়ের জন্য।উদয় হা হা করে হাসলেই রাগে মেজাজ খুব বেশী খারাপ হয়ে যায় অরনিতার।
হঠাৎ পরীকে রুনার রুমে যেতে দেখে অরনিতা পরীর কাছে গিয়ে বললো-
-এইখানে এসো,পরী।এখনো ঘুমাও নি কেন তুমি?
-আমি দাদুর সাথে ঘুমাবো।
-তুমি একা একা রুম থেকে বেরিয়ে পরেছো কেন?তোমার আম্মু তোমাকে দেখতে না পেলে খুঁজতে থাকবে।
-আমি দাদুর সাথেই ঘুমাবো।
অরনিতার কাছে মনে হলো ভাই-ভাবী আবারও হয়তো ছোট মেয়েটির সামনেই ঝগড়া তর্কে লেগে পরেছেন তাই হয়তো ছোট মেয়েটি ভয়ে রুনা আন্টির রুমে ঘুমুতে এসে পরেছে।অরনিতা বললো-
-আজ আমার সাথে ঘুমাবো পরী?আমার রুমে?
পরী বললো-
-না।আমি দাদুর সাথে ঘুমাবো।
-শুধু আজকের জন্যই আমার সাথে ঘুমাও।আমি তোমাকে ব্যাঙকুমারের গল্প শোনাবো।
পরীকে এইবার রাজি করানো গেলো।অরনিতা হালিমাকে গিয়ে বললো-
-হালিমা,তোমাকে ডিস্টার্ব করবো না।তুমি তোমার মতো করে ঘুমিয়ে পরো।
হালিমার রুম থেকে এসে অরনিতা পরীকে নিয়ে ওর রুমে গেলো।উদয় এখনো বসে বইয়ের দিকে তাকিয়ে আছে।কথায় কথায় রাগ জমা করে ফেলা মেয়েটির জন্য এখন একটা সাধারণ বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।উদয় খেয়াল করলো অরনিতা পরীকে নিয়ে এসেছে।
অরনিতা পরীকে বিছানায় বসিয়ে বললো-
-আজ তুমি আমার আর তোমার চাচ্চুর মাঝখানে ঘুমাবে।
পরী বললো-
-দাদুর কাছে যাবো।
-তোমার দাদু ঘুমাচ্ছে।শুধু একটা দিনের জন্য তোমার চাচীর সাথে ঘুমাও।প্লিজ..
পরী শুয়ে শুয়ে বললো-
-ব্যাঙকুমারের গল্প শোনাও।
অরনিতা বললো-
-এক ছিল এক ব্যাঙকুমার।ব্যাঙকুমার ছিল খুব পচা।ব্যাঙকুমারীকে সে সবসময় রাগাতে চেষ্টা করতো।ব্যাঙকুমারীর সাথে সারাক্ষণ ঝগড়া লাগতো।
উদয় বুঝতে পেরেছে যে অরনিতা তাকে উদ্দেশ্য করেই গল্পটা সাজাচ্ছে।তাই উদয়ও এই খুনসুটিতে অংশ নিলো।আর পরীকে বললো-
-জানো পরী,ব্যাঙকুমারী ছিল হিটলারের মতো।ব্যাঙকুমারী একটা জিনিসকে খুব ভয় পায়।সেই জিনিসটা হচ্ছে টিকটিকি।
অরনিতা পরীকে বললো-
-তুমি আমার গল্পটা শোনো পরী।ব্যাঙকুমার ইচ্ছে করে ব্যাঙকুমারীকে রাগাতে চেষ্টা করে।ব্যাঙকুমার এত্তগুলা পচা।পচা পচা কথাও বলতে জানে।
উদয় পরীকে বললো-
-তোমার চাচী মিথ্যা বলছে পরী।ব্যাঙকুমার খুব ভালো।ব্যাঙকুমার
ী পচা।পচাদের মতো শুধুই ঝগড়া করতে জানে আর কিছুই জানে না।
অরনিতা আবার পরীকে বললো-
-ব্যাঙকুমারী এখন আর ঝগড়া করে না।ব্যাঙকুমার ইচ্ছে করে ঝগড়া বাধাতে চায়।
পরী একবার অরনিতার দিকে তাকাচ্ছে আরেকবার তাকাচ্ছে উদয়ের দিকে।
পরীকে গল্প শোনাতে গিয়ে দুজনেই গল্পের মাধ্যমে ঝগড়া করে যাচ্ছে।কিন্তু পরী গল্প মনে করেই শুনে যাচ্ছে।পরীর খুব ঘুম পাচ্ছে।ওদের দুইজনের গল্প তর্ক শুনতে শুনতে পরী হঠাৎ ঘুমিয়ে পরলো।
To Be Continued..
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now