বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
র, অসহায়ত্বের প্রতিটি দানাকে আমি জানি। ওভারব্রিজের নিচে বাস স্টপে ওদের দাঁড় করানো রেখেই আমার বাস সামনের দিকে এগোতে লাগলো। আমার মন, ভেতরের চোখ, গাড়ির চাকার সঙ্গে পাল্লা দিয়ে ক্রমশ পেছনের দিকে ছুটছিল। দেখছিলাম, রাত অন্ধকারে পেছনের দরোজার খিড়কি খুলে কিশোরী মেয়েটি পালাচ্ছে তার বাবার কাছ থেকে, মায়ের কাছ থেকে, ভাইয়ের কাছ থেকে, বোনের কাছ থেকে। মেয়েটি অন্ধকারে ছেলেটির হাত ধরে যত যাচ্ছে তত পেছনের দিকে ছুটছে তার পড়ার টেবিল, স্কুল ঘর, মায়ের স্বপ্ন, বাবার ঘাম আর নিজের ভবিষ্যৎ। ঘর পালানো মেয়েগুলোর জন্য খুব মায়া হয়। কী এক অর্বাচীন ঘোরের প্যাঁচে পড়ে তারা ঘর ছাড়া হয়ে যায়। এই ঘোর-এর নাম বুঝি প্রেম?
আরেকদিন, সন্ধ্যার ট্রেনে চড়ে সিলেট যাচ্ছিলাম। চোখ ছিল জানালায়। তখন মনে হচ্ছিল আব্বাস কিরোসতামির সিনেমা চলছে আর আমরা বিভিন্ন বগি থেকে সহস্র লোক চলন্ত গ্যালারিতে বসে সিনেপর্দায় সেই দৃশ্য মুগ্ধ হয়ে দেখছি। সবুজ ধান ক্ষেতের আল ধরে দুই বন্ধু হেঁটে যাচ্ছিল। ধরা যাক, তাদের হাতের মোবাইলে চলছিল শাকিব খানের সিনেমা। দুই বন্ধুর হেঁটে যাওয়া যখন আমাদের সিনেমার দৃশ্য তখন তাদের হাতের মোবাইলে নৃত্য করতে করতে শাকিব খানের গলায় ঝুলছিল অপু বিশ্বাস। এরপরের দৃশ্যে ধান ক্ষেতে একটি গরু নেমে যায়। গরুর পেছনে পেছনে এক মহিলাকে অস্থির হয়ে ক্ষেতে নেমে যেতে দেখি। মহিলার অস্থিরতা শেষ হওয়ার অনেক আগেই বেশকিছু ধানের চারা নষ্ট হয়ে যায় আর আমরা দেখি অন্য এক টুকরো ক্ষেতে পানি দেওয়ার মেশিনের পাশে বসে সন্ধ্যেবেলা ঢের আগে গত হওয়া দুপুরের খাবার খাচ্ছে তিন কৃষক। তাদের কানে সম্ভবত বিড়ি গুঁজে ছিল।
পরের দৃশ্য শুরু হয় ক্ষেতের পাশে ঢিবির মতো উঁচু জায়গার ওপাশে এক জোড়া ছেলে-মেয়ের মাথা দুটো আবছা দেখা যাচ্ছে এমন কিছু দিয়ে। কিন্তু হঠাৎ ট্রেনের ভেতর থেকে কেউ একজন ‘নামাইয়া দিয়া যা শুয়োরের বাচ্চা’ বলে রশিতে হ্যাঁচকা টান দিলে আমাদের সিনেমা দর্শনে বিঘœ ঘটে। অচেনা এক জায়গায় ট্রেন থামলো। ভরপুর সন্ধ্যে তখন। আমার সিনেমাটা ফেড আউট হচ্ছিল।
তো ওই বন্ধু দুটি আগামীকাল বাকি অংশ দেখার সান্ত¦না নিয়ে বাড়ি চলে যায়, মহিলাটি গরু নিয়ে গোয়াল ঘরে, বিড়ি টানতে টানতে তিন কৃষকও বাড়িতে যায়। ফেড আউটের আড়ালে, অন্ধকারে ঢিবির ওপাশে মাথা দুটো কী করছিল তা কেবলই অজানা থেকে যায়। রেল লাইনের পাশে ঢিবির আড়ালে তারা কি নিজেদের জীবন নিয়ে জুয়া খেলছিল? তারা কি বাড়িতে থেকে লুকিয়ে আসা কোনো প্রেমিক-প্রেমিকা? কী ছিল আর কী করছিল মরণ গতির ট্রেনের খুব কাছের ছেলেটি-মেয়েটি? প্রেম কী, কতভাবে, কেমন? আমার জানতে ইচ্ছে করে। জয় গোস্বামীকে একদল ছেলে-মেয়ে ঘিরে ধরেছিল। জানতে চেয়েছিল- ‘আপনি তো কবি, বলেন তো প্রেম কী? জয় গোস্বামী সেদিন কোনো উত্তর দিতে পারেননি। কিন্তু একটা সোনার মেয়ের মুখ মনে ভাসছিল তখন। প্রেম কি সেই সোনার মেয়ে?
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now