বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
আমাদের স্বপনের প্রেম করার খুব সখ। মানুষের ‘এইম ইন লাইফ’ কত কিছুই থাকে। সেই নিয়ে কত রচনাও মুখস্ত করতে হয়। স্বপনেরও ঠোঁটস্হ তেমনি এক জীবন লক্ষ্যের রচনা। ‘প্রেমে পড়িতে চাই’ যার শিরোনাম। যা অবশ্য পরীক্ষার খাতায় লেখা যায় না।
চেহারাটা কি আয়নায় দেখেছো? না, কেউ বলেনি তাকে এই কথাটা। আয়নায় সামনে দাঁড়িয়ে নিজেকেই সে শোনায় প্রবাদখানা। কি দেখে তোর পটবে মেয়েরা, প্রেম পাগলা? নিজেকে শুধায় আর গালের এখানে ওখানে খুঁটে। মুচকি মুচকি হাসেও বা। ওই হাসির আড়ালে মনে মনে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ হয়। ‘প্রেম কইরা ছাড়ুম’।
কলেজে পড়ুয়া ভগ্নির এক ডজন বান্ধবী। কে যেনো বলেছিলো বোনের বান্ধবীদের উপর রীতিমত হক থাকে। একেকজনকে প্রজাপতির মত মনে হয়। কিন্তু স্বপনের মনে হওয়ায় কি আসে যায়। ওরা তাকে ভ্রাতা বলতে অজ্ঞান। ধর্মে যদি রাখী বাঁধার প্রথা থাকতো! একডজন রাখী হাতে নিয়ে ঘুরতে হতো তাকে।
একজনের বাসায় দাওয়াত খেতে গিয়েছিলো সেদিন। খাওয়া শেষ করে হাত ধুতে যেতেই সাবান এগিয়ে দেয় মেয়েটি। এখান থেকেই শুর করা যাক ভেবে সাবানের বদলে হাতটা চেপে ধরে স্বপন। দিলেন তো ভাইয়া হাতটা নষ্ট করে বলে হাতটা ছাড়িয়ে নিলো বোনের বান্ধবীটি। পাক্কা তিনদিন গুম হয়ে কাটালো স্বপন সেই ঘটনার পর। তারপর নতুন উদ্যমে আবার উজ্জীবিত হলো সে।
খালাতো, চাচাতো, মামাতো বোনদের নিয়েও ভেবে দেখেছে সে। একদিন জিগরি দোস্ত নীলরঞ্জন সাহার সাথে শেয়ার করলো অভিলাষটা। নীলরঞ্জন বললো, এ রাম এমন তোদের হয় নাকি! আমাদেরতো মাসতুতো খুড়তুতোরা ভাইবোনদের মত। বাধা পেয়ে সেই প্ল্যানও বাতিল করতে হলো।
স্বপনের বাবা মা নাকি প্রেম করে বিয়ে করেছিলো। সেটা জানা অবধি স্বপনের আরো রোখ চেপে যায়। জেনেটিকালি প্রেম তার লহুতে, শিরায় উপশিরায়। জীবনে প্রেম না আইস্যা যাইবো কই!
এদিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের পাঠ চুকিয়ে কর্মজীবনে প্রবেশ করে স্বপন। বাবা মা পাত্রী জোগাড় করে ফেলে। দিনকাল খারাপ। তাছাড়া ছেলের সময় নষ্ট করেই কি লাভ? স্বপন গাঁই গুই করে। পাত্রীর ছবিটা হেলায় ফেলায় দেখে। একসময় বলেই ফেলে,
বিয়ে আমি করছিনা মা। হন্ হন্ করে ঘর থেকে বেরিয়ে পড়ে। হয়ত সেই প্রেমের খোঁজে।
রাতে মা’র পিড়াপিড়িতে মেয়েটার বাড়িতে সবার সাথে দাওয়াতে যেতেই হলো স্বপনকে। বিয়ে নাইবা করলি, শুধু খেয়ে চলে আসবি বাবা। মায়ের ছলো ছলো চোখের অনুনয় ফেলা গেলো না।
ওই বাড়িতে গিয়ে একটানা মুখ নিচু করে খেলো স্বপন। একবারও দেখলো না একজোড়া উৎসুক চোখ তার দিকে তাকিয়ে। খাওয়া শেষ করে হাত ধুতে এগোয় স্বপন। পেছনে পেছনে সাবান হাতে মেয়েটি। পিছু ফিরে মেয়েটিকে দেখলো সে। হঠাৎ মনে হলো একটি প্রজাপতি তার সামনে। সাবান নিতে গিয়ে যেন অসাবধানে মেয়েটির হাত ধরে ফেললো স্বপন। মেয়েটিও যেন হাত ছাড়িয়ে নিলো না।
প্রেম-দেবতা কিউপিড স্বীয় কর্ম সম্পাদনান্তে মুচকি হেসে ওঘর থেকে নিষ্ক্রান্ত হলেন।
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now