বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
প্রেম-ট্যাম দিয়ে জীবন চলবে না।
মিনু চাকমার বিয়ের কথা চলছে। কারবারী মিনু চাকমার পিতা-মাতাকে বিয়ের প্রস্তাবে রাজী করিয়েছেন। এবার শুধু মিনু চাকমা বিয়েতে রাজী হলেই শুভ কাজ হবে। মিনু চাকমা তার বান্ধুবীদের সাথে শুভর প্রেম কাহিনীর কথা জানিয়েছে। এবার বিয়ে কথা। কী করা যায়। একদিকে বিয়ে অন্যদিকে প্রেম। বান্ধুবীরা জানাল যে, বিয়েই করো। প্রেম-ট্যাম দিয়ে জীবন চলবে না। জীবন শুধু প্রেম পত্র দিয়ে চলে না। শুভ পড়া লিখা পাগল ছেলে সামনে তার অনেক ভবিষ্যৎ । এই বয়সে বিয়ে করলে জীবন চালাতে কষ্ট হবে। মিনু চাকমার বান্ধুবীরা জানাল, এবার চিঠির উত্তর বিলম্ব করে দে। প্রয়োজনে আগের মতই চিঠি দিবি কিন্তু বুঝতে দিবি না। যেমন আলোচনা তেমন কাজ। এবার মিনু চাকমা চিঠির উত্তর দিয়েছে। একমাস পর।
প্রিয় সৈকত,
আদর ও বালবাসা নিও। আমি তোমার পরীক্ষার জন্য আর্শীবাদ করেছি। আশা করি তুমি পরীক্ষা ভালভাবে দিয়েছ।
আমি জানি না আমাদের ভবিষ্যৎ কি হয়? আমি জীবনে তোমাকে পাই বা না পাই, সৈকত তোমাকে আমি ভালবাসী। সৈকত, আমি জানিনা মানুষ কেন বলে প্রেমে অনেক কষ্ট। পাওয়া না পাওয়ার বেদনা। তারা হয়তো জানেনা ভালোবাসা কি। তাদের হয়তো সে ধৈর্য ছিলোনা সত্যিকারের ভালোবাসার মানুষটিকে খুঁজে পাবার। নিজের জোর করে তৈরি করা ভালোবাসায় আবদ্ধ তারা। তা না হলে তারা জানতো, সত্যিকারের ভালোবাসায় চাওয়ার কিছু থাকেনা। সৈকত, আমাদের প্রেমে যদি কখনো কোন বাঁধা বা পরাজয় আসে তাহলে কী করবো? ভেবে পাচ্ছি না।
সৈকত, আমি তোমার জন্যে অপেক্ষা করছি । আমি তোমায় ভালোবাসবো চোখে চোখ রেখে। ভালোবাসবো তোমায় আঙুলের স্পর্শে। সব দুর্নিবার দূরত্বের কষ্ট আমি উড়িয়ে দিবো বুকে চেপে ধরে। তোমার অস্থিরতা আমি শান্ত করবো। তোমার সব অতৃপ্ততা আমি ভালোবাসার আগুনে পুড়িয়ে দিবো। তোমার অভিমানে জল আমি ঠোঁটে ছুয়ে মুছে দিবো । তোমায় ভালোবাসবো আমি সঙ্গীতের মূর্ছনায়। আমি ভালোবাসবো তোমার সুগন্ধি। তোমার প্রতিটি মুহূর্ত কাটবে প্রথম মুহূর্তের পুনরাবির্ভাবের পুলকে। আমি বুঝে নিবো তোমার সব সুক্ষতা। আমি চিনে নিবো তোমার সব চাতুর্য। আমি বাস্তব করবো তোমার সব কল্পনা।
সৈকত তোমাকে যদি হারাই তাহলে আমার বোবা কান্না হয়ত কেউ দেখবেনা,হয়ত আমার হৃদয় ভাঙ্গার শব্দ কেউ শুনবেনা তারপরও তোমাকে ভালবেসে যাব।
কেন আমার স্বপ্নে শুধু তুমি। অদেখা ভবিষ্যৎ শুধু তুমি। আমার হৃদয় কেন অবিচল, সবসময়, তোমার পক্ষে।
আমি কখনো তোমার হাত ছুয়ে দেখিনি। কখনো একসাথে হাসিনি। কখনো একসাথে কাঁদিনি। একসাথে কখনো বৃষ্টিতে ভিজিনি। কখনো চুমু খাইনি তোমার ঠোঁটে। বৃষ্টির সময় তোমাকে খুব মনে পড়ে। তোমাকে সাথে নিয়ে ঝর্ণায় স্নান করতে চাই। তোমার হাত ধরে নির্জন পাহাড়ের পথে হাটতে চাই। সৈকত, আমি তোমাকে কারণে অকারণে ভালবাসি এবং ভালবাসব।
তোমারই
প্রাণ প্রিয়তমা
মিনু চাকমা।
শুভ টেস্ট পরীক্ষার পর মিনু চাকমার চিঠি পেলো। টেস্ট পরীক্ষার পর স্কুল জীবনে স্বাধীন হয়ে যায় আর এখানে টেস্ট পরীক্ষার পর পড়া চাপ আরো বাড়িয়ে উঠে। নিয়মিত কলেজে যেতে হয়। আগের মত বাড়ির কাজ বা পড়া মুখস্ত করতে হয়। মিনু চাকমার চিঠি পেয়ে মনোযোগসহকারে পড়ল। চিঠি পড়ে শুভ গোলক ধাঁধায় পড়ে গেল। কারণ চিঠিতে প্রথম দিকে নিরাশার বানী পেয়েছে আর নিচের দিকে প্রেমে সাধ-আলাপ পেয়েছে। কোনটা যে কি তা বিধাতাই বলতে পারবে। শুভ বন্ধু-বান্ধবদের প্রেমের কাহিনী শোনে শোনে প্রেমে আগ্রহী হয়ে উঠল। কিন্তু এই প্রেমের বিষয়টি অন্যরকম। শুভ ও মিনু চাকমা কেউ কাউকে দেখেনি। না দেখে প্রেম টিকে কি না? সেটাও ভাবার বিষয়। শুভর ইচ্ছে যদি মিনু চাকমা চলে আসে তাহলে তাকে সত্যি সত্যি বিয়ে করবে। প্রয়োজনে পিতাকে ভালভাবে বুঝিয়ে এইকাজে সাফল্য লাভ করবে।
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now