বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
এক বন্ধু , ব্লেড দিয়ে নিজের হাত কেটে লিখে ফেললো " সুমি" । আমরা সবাই হা করে দেখছিলাম । কেউ একজন বলে উঠল " সাবাস বাঘের বাচ্চা ! তোর সাথেই সুমির প্রেম হবে "
......... সুমি'র সাথে বন্ধটার প্রেম হয়েছিলো । যাকে বলে গাঢ় প্রেম । আমি শুধু ভাবতাম ' শালা কেম্নে পারে এরা , একজনের জন্য নিজের হাত কেটে নিজেকে বিশ্বপ্রেমিক জাহির করতে ! উহু আমার দ্বারা এসব হইবে না ! '
আমি বাধ্য ছেলের মতো বাইক পাহাড়া দেই । পাংকু টাইপ বন্ধুটা গার্লস স্কুলের সামনে গোলাপ হাতে দাড়িয়ে প্রিয়তমার জন্য অপেক্ষা
করতে থাকে । দেখা আর কথা শেষে বুক ফুলিয়ে বন্ধু আমার কাছে আসে । এসেই বলে " দেখলি গান্ডু ! এরেই বলে ভালবাসা ! সাহস থাকতে হয় সাহস ! এখন সরে দাড়া ,বাইকটা স্টার্ট দেই"
আমি পাঙ্কু বন্ধুটার বাইকের পিছে বসি আর মনে মনে ভাবি , " বাপরে বাপ ! মেয়ে তো বন্ধুর জন্য পুরাই ফিদা ! আমি জীবনে কি করলাম !! শালার জীবনের ষোল আনাই মিছা ! "
............অবশেষে আমারও প্রেম হইলো ! লাজুক লাজুক মেয়ে ! মুখে থাকতো সবসময় মুচকি হাসি । আর চোখ দুটো ভীষণ অসহায় ! দুটো অসহায় চোখ আমার হৃদয়কে হিম শীতল করার জন্য ছিলো যথেষ্ট !
এবং সেইরকম মাপের ছ্যাক খাইলাম । প্রেমিকা আমারই এক বন্ধুর সাথে শুরু করেছিলো পরকিয়া ! আমি কেদে কেটে পরাজয় মেনে নিয়ে লাইফ
টাকে গুছানোয় মন দিলাম ।
লাইফ এখনো গুছাতে পারিনি ঠিকই । তবে মস্তিস্কে গুছিয়ে রেখেছি আমার দেখা দারুন কিছু প্রেক্ষাপট !
যে বন্ধুটা হাত কেটে ফেলেছিলো ভালবাসা পাবার জন্য, সে আজ হাত ফুটো করে সিরিঞ্জ ঢুকিয়ে দেয় ভালবাসা ভুলে থাকার জন্য !
সিগারেট , গাজা, ড্রাগস এখন ছেলেটির প্রিয় সঙ্গী ! জানি না 'সুমি' কি করেছিলো । শুধু জানি আমার বন্ধুর জীবনে আর কোনো 'সুমি' নেই !
না, স্কুল পড়ুয়া মেয়েটা আত্মহত্যা করেনি । এটা জেনেও করেনি যে , আমার পাঙ্কু বন্ধুটা ওর মতো আরো অনেক মেয়েকেই ফ্লাটে নিয়ে
যেতো । মেয়েটা কিন্তু বেঁচে থেকেও বেঁচে নেই । জানালার ওপারে, রাত জেগে থাকা পাখিরা
কেবল জানে মেয়েটা আজও প্রতিটা নিস্তব্ধ রাতে স্মৃতির তাড়নায় কতোবার মরে যায়............।
একটা সময় ছিল , আমি ফেসবুকে লগ ইন করেই কর্পোরেট ধাঁচের গল্প গুলো মনোযোগ
দিয়ে পড়তাম । অবাক হয়ে আবিষ্কার করতাম প্রতিটা ঘটনার প্লট আমার অতি পরিচিত , আমার আশে পাশের ই কারো জীবনের জীবন্ত গল্প !
আমি ভালবাসা নিয়ে গবেষনা
করতে আসি নি । এক জোড়া নর নারীর ভালবাসাকে অপমান করতে এই পোস্ট
লিখছিনা । আমি শুধু আমার মস্তিস্কের সেলে বহুদিন ধরে গুছিয়ে রাখা কয়েকটি বিচ্ছিন্ন প্রেক্ষাপট লিখতে বসেছি ।
শেষ করি হিরুর গল্প দিয়ে । আমাদের স্কুলের সামনে যে মাঠটা ছিলো সেখানে সকালে আর বিকেলে কাজ করতো হিরু আর হিরুর মা । হিরুর কাজ ছিলো মাঠের ঘাস কেটে সমান
করা। বিকেলে স্কুলে পিরিয়ড শেষে স্কুল ক্লাসে কোচিং হতো । ছেলে মেয়ে একসাথে কোচিং ।
হিরু ক্লাসের অদুরেই কাজ করতো ।
ক্লাসের সবচেয়ে সুন্দরি মেয়েটি বসতো জানালার পাশে । হিরু কাজের ফাকে ফাকে আড় চোখে
মেয়েটাকে দেখতো । আমি সহ আর দুজন বন্ধু প্রথম ব্যাপারটা বুঝতে পারি । আমরা নিজেরা মজা নিতাম । কোথায় হিরু আর কোথায় মেয়াটা ! আকাশ পাতাল তফাৎ ! ব্যাপারটা
ক্লাসের সবাই যেনে গেলো যেদিন হিরু আমাদেরই এক বন্ধুর মুখে ঘুষি মেরে রক্ত বের করে ফেললো ।
জানতে পারলাম , বন্ধুটা ঐ মেয়েকে
নিয়ে মাঠে দারিয়ে বাজে কথা বলছিলো , হিরুর সহ্য হয় নি ; দুই তিনটে ঘুষি লাগিয়ে দিয়েছে ।
মেয়েটিও জানতে পারে এসব । তারপর যা হলো তা আমরা কেউ কল্পনাও করি নি .........
মেয়েটা মাঠে দাড়িয়েই আমাদের সবার সামনে হিরুর গালে চড় বসিয়ে দিলো । হিরুকে অনেক কথা শুনিয়ে মেয়েটা বাসায় চলে গেলো ।
আমরা শুধু হিরুকে দেখছিলাম । ছেলেটার চোখ ভর্তি পানি কিন্তু মুখে ছিলো হাসি । পরিতৃপ্তির হাসি ।
তারপর হিরুকে আর কখনো দেখিনি । হিরুরা অন্য কোথাও চলে গেছে হয়তো । হিরুদের গল্পের কোনো হ্যাপি এন্ডিং হয় না । হিরুদের গল্প
আমাদের মন কাড়ে না । তবে আমার মস্তিস্কে গেঁথে রয়েছে হিরু ,, সেই সাহসী ছেলে হিরু যে নিজের তোয়াক্কা না করে শুধু মনের
প্রতিবাদে মালিক শ্রেণীর গায়ে হাত তুলেছিলো!
অসংখ্য কর্পোরেট ভালবাসার গল্পের ভীড়েও আমার হিরুর কথা মনে পড়ে , হিরুর অসমাপ্ত গল্প মনে পড়ে । জানি না সেটা ভালোবাসার গল্প কিনা ! তবে শুদ্ধ এক আবেগ মিশে আছে সে
গল্পে , একদম শুদ্ধ.....
[] শোয়েব []
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now