বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
__২য় ও__ শেষ পর্ব__
......বাসায় এসে ফ্রিজের এক গ্লাস ঢান্ডা পানি খেয়ে যখন ডয়েং রুমে বসলাম…
এমন সময় কলিং বেল বেজে উঠলো।আম্মা বল
-: তুই বস আমি দেখছি।
তার পর কার সাথে কি যেন কথা বলে ফিরে আসলো। কিন্তু আম্মার পেছনে যা দেখলাম তাতে চমকে উঠলাম । ভয়ে ভেতরটা দমড়ে মুচড়ে গেলো. বাসের সেই মেয়েটা আমাদের বাসায আসলে কেন? দৌড়ে গিয়ে…
-: আরে শূণ্যতা তুমি এখানে?
-: তুমি কেমন স্বামী বলো তো? নিজের বউকে এভাবে কেউ স্টেশনে একা ফেলে আসে?
-: কিসের স্বামী , কিসের বউ? আর তুমি তো বাসের মধ্যেই ছিলে ।
..কথাটা শোনা মাত্র আম্মা এমন বিলাপ করে কান্না শুরু করে দিলো তাতে মনে হচ্ছে আমি মরে গেছি নয়তো আম্মার বাবা মারা গেছে।
-: আম্মা তুমি এভাবে কাদছো কেন?
-: তুই ঐ মেয়েটাকে চিনিস?
-: হুম।না মানে ইয়ে…..
কথাটা শোনার পর আম্মা কান্না ৫ ডিগ্রী বেড়ে গেলো।
-: আম্মা রান্না হয়েছে? খুব ক্ষুধা লেগেছে।আম্মা আপনি কাদবেন না তো আমি সব দেখছি।
[বলেই হন হন করে বাড়ির ভেতর চলে গেল ।মেয়েটা এমন ভাবে আম্মা আম্মা বলে ডাকছে তাতে মনে হচ্ছে যেন তার নিজের আম্মা । কিন্তু এই আপদটা আামাদের বাড়িতে সোওয়ার হলো কেন? সব কিছু কেমন যেন মাথার উপর দিয়ে যাচ্ছে। বোকার মত দাড়িয়ে রইলাম]
এতোক্ষণে মেয়েটা ফ্রেশ হয়ে রান্না ঘরে এন্টি নিয়েছে ।
…..ইতোমধ্যে বাবা বাড়িতে এসে পরিস্থিতি আরো ঘলাটে করে তুলল।আম্মা এখনো ফুফিয়ে ফুফিয়ে কাদছে।
-: মেয়েটাকে তুমি কিভাবে চিনো?[বাবার রাগি কন্ঠ]
-: বাসে
-: বাসে পরিচয় আর তুমি বাসায় নিয়ে চলে এলে?
-: আমি নিয়ে আসি নি , শূণ্যতা নিজেই এসেছে।
-:বাহঃ মেয়েটার নামও জানো???? আর কি কি জানো??
-: শূণ্যতার বাসায় শশুর শাশুড়ি আর বর আছে।
[কথাটা শুনে বাবা মা দুজন দুজনের মুখের দিকে তাকিয়ে আম্মার কান্না আবার ৫ ডিগ্রী বাড়িয়ে 108 ডিগ্রীতে চলতে শুরু করল।]
…… না আমি আর ভাবতে পারছি না। এদের সাথ থাকলে আমিও এদের মত পাগল হয়ে যাবো।রুমে গিয়ে ফোনে ফুল ভলিয়ম দিয়ে গান প্লে করলাম “….আমি ফাইসা গেছি, ম্যাইসকাচিপায়।.......
”
….মেঝেতে গ্লাস ভাঙ্গার শব্দে হাকচুকিয়ে গেলাম। রুমের সিটকিনি দিয়ে আমার দিকে রাগি লুক নিয়ে তেড়ে আসছে মেয়েটা ।কিছু বলার আগেই র্শাটের কলার ধরে বুকের সাথে চেপে ধরেছে।
-: [ভয়ে, লজ্জায় ট্যাচু হয়ে হয়ে গেলাম] ছছছছছছাড়ুন। কিককককক করছেননন?
-: কি করছি বুঝতে পারছো না?
-: নননননা । আমার গররররম লাগছে।
-: আমি খুব হট । গরম তো লাগবেই।
-: দেখুখুখুন আমি কিন্তু আম্মাকে ডাক দিবো।
-: ধেত শালা । দিলি তো মেজাজ টা খারাপ করে।
স্বামী স্ত্রীর মাঝে আম্মাকে জড়াচ্ছ কেন?
-: কিসের স্বামী কিসের স্ত্রীর? আমি আপনাকে চিনি না।
-:বাসের ভেতর একবার জ্বলিয়েছিস। এখন যদি আবার জ্বালাস না, তোকে খুন করে ফেলবো।বলেই ঘুশি নিয়ে তেড়ে আসতেই আম্মা ডাক পড়লো।
-: অরন্ত বউমাকে নিয়ে খেতে আয়।
…খাওয়ার কথা শুনে খিদে দুইগুন বেড়ে গেল। মনে হচ্ছে পেটের নাড়িভুড়ি সব হজম হয়ে যাচ্ছে।এই সুযোগেই রুম থেকে বের হতে হবে।আচ্ছা আম্মা আমাকে কি বললো? ”বউমাকে নিয়ে খেতে আয়” . আম্মা এই ডাইনি মেয়েকে পুত্র বধু হিসাবে মেনে নিলো নাকি? কি মশকিলে পড়লাম রে বাবা।চিনি না জানি না অথচ বউ সেজে আমার ঘাড়ে বসে হারমুনিয়াম বাজাচ্ছে আর আমার পরিবারের মাথা খেয়ে ফেলেছে।মেয়ের মতলব কি সেটা এখনো পরিষ্কার না ।ডাকাত বা সিরিয়াল কিলার নয় তো? খালি পেটে আমি আর ভাবতে পারছি না । আগে খেয়ে আসি।খাবার টেবিলে এসে আমার চোখ ছানা বড়া। আামার পছন্দেরর খাবার সহ নানা পদের রান্না করেছে আম্মা।রান্নাও খুব স্বাদ্ধ হয়েছে।
-: আজকের রান্না খুব স্বাদ্ধ হয়েছে আম্মা
-: [আম্মা হাসি মুখে উত্তর দিলো] আজকের সব রান্না তো বউমা করেছে।
[ শোন মা্ত্রই মুখটা পানশে হয়ে গেলো । বাবার পাশে ডাইনিটা দাড়ানো। আম্মার ভয়ে মেয়েটাকে বকতেও পারছি না।আর বাবার মাথা আগেই খেয়ে ফেলেছে।]
-: তুমিও খেয়ে নাও বউমা । এখানে বসো।
[ ডাইনিটা চেয়ারে বসা মাত্র আমি উঠে দাড়ালাম। আার যাই হোক এই মেয়ের সাথে এক টেবিলে খাবার খাওয়া যায় না।]
…. কলিং বেলের আওয়াজ শুনে নড়লাম না । আবার কোন আপদ হাজির হলো কে জানে?...
-: [আম্মা বললো] তুই বস আমি দেখছি..
[ মেয়েটা প্লেট ধুয়ে নিচ্ছে কিন্তু এখন আর আমার দিকে একবারো তাকাচ্ছে না। দেখে খুব মায়া হচ্ছে । রাগি হলেও চোখদুটো মায়ায় ভরা। প্রথম দেখায় ভালোবেসে ফেলার মত। বকা দেয়ার পর থেকে নিজেকে অপরাধি মনে হচ্ছে]
…বাইরে থেকে আম্মার আতঙ্কিত কন্ঠ শোনা যাচ্ছে,,, পুলিশ/ আমার ছেলে কিছু করে নি।
……বিষয়টা আন্দাজ করতে পেরে গেটের দিকে এগিয়ে গেলাম।]
-:আসুন ইনস্পেক্টর সাহেব । ভেতবে আসুন।
-: না অরন্ত সাহেব । বের করে দেন আমরা চলে যাবো।
[ দুজন মহিলা কনেস্টেবল মেয়েটাকে ধরে টেনে হিচড়ে বের করে আনছে।আম্মা চিৎকার করে বলে উঠলো ওকে ধরছেন কেন? আমি বলতে যাবো কিন্তু ইনস্পেক্টর আমাকে থামিয়ে দিয়ে আম্মাকে উদ্দেশ্য করে বলতে লাগলো….]
-: মেয়েটা পরশু দিন পাবনার পাগলা গাড়ত থেকে পালিয়েছে। আজ অরন্ত সাহেব যখন 999 নাম্বারে ফোন করে আমাদের সাথে যোগাযোগ করে তখন আমরা বিষয়টি বুঝতে পারি।]
-: ক্ষিনো কন্ঠে আম্মা বলে উঠলো । মেয়েটাকে না নিয়ে গেলে হয় না?
-: না আন্টি । বাইরে মেয়ের বাবা মা দাড়িয়ে আছে।ভালো থাকবেন অরন্ত সাহেব।
[পুরো বাড়িটা শূণ্য শূণ্য মনে হচ্ছে।যে আমাদের জন্য এতো কিছু রান্না করলো অথচ তার খাওয়া হলো না। জানি চাইলেও এখন আর ভালো থাকা সম্ভব না।]
[সমাপ্ত]
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now