বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
ধনী বাবার একমাত্র মেয়ে মিথিলা। ছোটবেলায় মিথিলার মা মারা যান এবং বাবা শহরের নামকরা বিজনেসম্যান হওয়ায় মেয়ের দিকে তেমন নজর দিতে পারেন না তিনি। কিন্তু তিনি মেয়ের সব চাহিদা পূরণ করেন। ছোটবেলা থেকে কোনো অভাব পায়নি মিথিলা। যখন যা চেয়েছে তখন তাই পেয়েছে। এজন্যই অনেকটা জেদী আর অহংকারী হয়ে উঠেছে মেয়েটা।
অন্যদিকে গ্রামের মধ্যবিত্ত পরিবারের ছেলে আবীর। সহজ, সরল,শান্ত প্রকৃতির। পড়াশুনাতে খুব ভালো আর খেলাধুলাতেও সমান পারদর্শী।
আজকের গল্পটা আবীর আর মিথিলাকে নিয়েই...............
.
আবীর মাধ্যমিক পরীক্ষায় খুব ভালো ফলাফল করে। পড়াশুনায় ভালো হওয়ায় আবীরের বাবা ছেলেকে শহরে পাঠায় উচ্চমাধ্যমিক পড়ার জন্য। শহরের নামকরা কলেজে ভর্তি হয় আবীর। ঐ কলেজের সভাপতি হলেন মিথিলার বাবা। সেই সূত্রে ঐ কলেজেই ভর্তি হয় মিথিলা। আবীর এবং মিথিলা দুইজন একই কলেজের একই শ্রেণীর শিক্ষার্থী কিন্তু দুইজন যেনো দুই পৃথিবীর মানুষ। আবীর সারাদিন পড়াশুনা নিয়ে ব্যস্ত সাথে একটা টিউশানীও করতো। আর অন্যদিকে মিথিলা সারাদিন ঘুরাঘুরি আর পার্টি নিয়েই ব্যস্ত, পড়াশুনা করার কোনো সময়ই নেই তার কাছে। এইভাবে চলে গেলো কয়েকমাস। সামনে তাদের পরীক্ষা। আবীর ভালোভাবেই প্রস্তুত পরীক্ষার জন্য কিন্তু মিথিলা, তার তো কোনো বইই পড়া হয়নি। সে তো পরীক্ষায় পাশই করতে পারবে না। আর পরীক্ষায় পাশ করতে না পারলে তার বাবার এবং নিজেরও সম্মানহানি হবে। চিন্তায় পড়ে যায় মিথিলা। মিথিলার বন্ধু-বান্ধবীরা মিথিলাকে তখন আবীরের কথা বলে। আবীর যদি মিথিলাকে সাহায্য করে তাহলে খুব সহজেই পাশ করতে পারবে মিথিলা।
পরেরদিন আবীর কলেজে যায় আর মিথিলাও আবীরকে খুঁজতে কলেজে আসে......
- এই যে মিস্টার.....
- জ্বি আমাকে বলছেন??
- এইখানে তো আপনাকে ছাড়া আর কাউকে দেখতে পাচ্ছি না যার সাথে মিথিলা চৌধুরী কথা বলবে....
- তো আমার সাথে কেনো মিথিলা চৌধুরী কথা বলবে???
- প্রয়োজন আছে বলেই। অন্যথায় মিথিলা চৌধুরী কারো সাথে আগ বাড়িয়ে কথা বলে না.......
- তো কোথায় আপনার মিথিলা চৌধুরী????
- চোখে কি দেখতে পান না?? আমিই মিথিলা চৌধুরী....
- ওহ্। তো প্রয়োজনটা কি জানতে পারি???
আগামীকাল থেকে তো আমাদের পরীক্ষা। আর পরীক্ষায় আমায় সাহায্য করতে হবে।
- ওহ্। তার মানে আপনি আমার সাথেই পড়েন। কিন্তু আমি আপনাকে সাহায্য করতে যাবো কেনো??
- আমি বলেছি তাই। আর অতো আজইরা প্যাচাল পারেন না। আগামীকাল আপনার পাশে আমার জন্য জায়গা রাখবেন এবং আমাকে পরীক্ষায় সাহায্য করবেন। বাই.....
এই বলে মিথিলা চলে গেলো। আর আবীর অনেকটা অবাক হয়ে মিথিলার দিকে তাকিয়েই রইলো। প্রথম দেখাতেই মিথিলাকে ভালো লেগে যায় আবীরের। তার মায়া জড়ানো মুখ আর সুন্দর কণ্ঠের প্রতি দুর্বল হয়ে যায় আবীর। কিন্তু মেয়েটা অনেক অহংকারী। মিথিলার কথা ভাবতে ভাবতে আবীরও চলে যায়। পরেরদিন যথারীতি পরীক্ষা হলে পৌঁছায় মিথিলা। গিয়ে দেখে ক্লাসের প্রথম বেঞ্চে বসে আছে আবীর এবং তার পাশের সিটটা খালি। মিথিলার প্রতি একটু দুর্বল হয়ে পড়ায় তার কথা মতো পাশে কাউকে বসতে দেয় নি আবীর। কিন্তু এইদিকে মিথিলার মাথা তো গরম হয়ে গেলো। প্রথম বেঞ্চে বসে সে কি করে দেখে লিখবে......
- আপনার মাথায় কি গোবর আছে নাকি???
- কেনো কি হয়েছে?? আপনার জন্য তো জায়গা রেখেছি.....
- আপনি প্রথম বেঞ্চে বসেছেন কেনো?? পিছনে বসতে পারেন নি??
- আমি তো সবসময় প্রথম বেঞ্চেই বসি....
- কিন্তু প্রথম বেঞ্চে বসে আমি দেখে লিখবো কিভাবে??
- সেটা আমি কি জানি?? সেটাতো আপনার ব্যাপার।
মিথিলা ক্রমশ আরো রেগে গেলো। কিন্তু রেগে তো কোনো লাভ নেই, তাকে তো এখানেই বসতে হবে। তা না হলে পাশ করবে কিভাবে। অবশেষে অনেকটা রাগ নিয়ে আবীরের পাশেই বসলো মিথিলা। শিক্ষকদের চোখে ফাঁকি দিয়ে অনেকটা কষ্ট করেই পরীক্ষা দিলো মিথিলা আর আবীরও তাকে সম্পূর্ণ সাহায্য করলো। পরীক্ষা শেষে নিজের মতো চলে গেলো মিথিলা আর মিথিলার কথা ভাবতে ভাবতে আবীর ও চলে গেলো। পরের পরীক্ষাগুলো আবীর পিছনেই বসলো যাতে মিথিলার কোনো অসুবিধা না হয়।
এইভাবে সব পরীক্ষা শেষ হয়ে গেলো। পরীক্ষা শেষে মিথিলা আবার আগের মতোই জীবনযাপন করতে লাগলো কিন্তু আবীরের জীবনটা অনেকটা বদলে গেলো। একয়দিনে মিথিলার প্রতি আরো দুর্বল হয়ে পড়লো আবীর। তাকে অনেকটা ভালোবেসে ফেললো সে।
মিথিলা প্রতিদিন কলেজে গিয়ে বন্ধু-বান্ধবদের সাথে আড্ডা দিতো আর আবীর কলেজের ক্লাস বাদ দিয়ে মিথিলাকেই দেখতো সবসময়,তাকে প্রায়ই ফলো করতো। এইভাবেই চলতে থাকলো। মিথিলাও ব্যাপারটা লক্ষ্য করলো কিন্তু সে ব্যাপারে মাথা ঘামালো না। মিথিলা তার বন্ধু বান্ধব আর পার্টি নিয়েই ব্যস্ত। এইসব ছেলেদের নিয়ে চিন্তা করার মতো সময় তার কাছে নেই। একদিন রাতে লেট নাইট পার্টি করে বাড়ি ফিরছিলো মিথিলা। অনেকটা মাতাল অবস্থায় ছিলো সে। আর সেই সময় রাস্তার কিছু বখাটে ছেলের হাতে পড়ে মিথিলা।
প্রতিদিনের মতো টিউশানী সেরে ওই রাস্তা দিয়েই হোস্টেলে ফিরছিলো আবীর। সৌভাগ্যক্রমে তার চোখ পড়ে মিথিলা ও ছেলেগুলোর উপর। ছেলেগুলো মিথিলার মাতলামির সুযোগ নেওয়া চেষ্টা করে আর সেই সময় সেখান থেকে মিথিলাকে উদ্ধার করে আবীর...
মিথিলাকে মাতলামি করতে দেখে ঠাস করে চড় মারে আবীর....
- আপনি আমায় মারলেন কোন সাহসে??
- চড়টা অনেক আগেই মারা উচিত ছিলো...
- কি?? আপনি জানেন আমি কে???
- আপনি যেই হোন না কেনো..প্রথমত আপনি একজন নারী আর নারীদের এইসব মানায় না। নারীদের শান্ত হতে হয় আপনার মতো উশৃঙ্খল না। আর এইসব কি ড্রেস পরেছেন আপনার কি কোনো লজ্জা নাই? নিজেকে পরিবর্তন করুন প্রকৃত নারী হতে শিখুন। আপনার মা কি আপনাকে কোনো শিক্ষা দেন নি। আমি আপনাকে পছন্দ করতাম কিন্তু আপনার মতো মেয়েদের ভালোবাসা যায় না। ছিঃ।
অনেকটা রাগ নিয়ে কথা গুলো বলে আবীর আর মিথিলা চুপচাপ শুনতে থাকে। আবীর মিথিলাকে বাড়ি পৌঁছিয়ে দেয় এবং মিথিলার বাবাকেও কিছু কথা শুনিয়ে আসে। সেখানে জানতে পারে মিথিলার মা নেই। আর বাবাও তার দিকে নজর দিতে পারে নি জন্য আজ মিথিলার এই অবস্থা। কথাগুলো শুনে আবীরের অনেকটা খারাপ লাগে। মিথিলাকে এতোগুলো কথা বলা ঠিক হয়নি। সেদিন রাতে আর ঘুম হয়নি আবীরের। সারারাত মিথিলার কথা ভেবেছে। পরেরদিন সকালে মিথিলাকে সরি বলার জন্য কলেজে যায় আবীর কিন্তু সেদিন আর কলেজে আসে না মিথিলা। এভাবে কয়েকটাদিন কেটে যায় কিন্তু মিথিলা কলেজে আসে না আর আবীর প্রতিদিন পাগলের মতো খুঁজতে থাকে তাকে। আবীর মিথিলাদের বাড়ির সামনেও যায় কিন্তু ভেতরে ঢোকার সাহস পায় না।
কয়েকদিন পর হঠাত মিথিলা কলেজে আসে আর আবীর তাকে দেখতে পায়। মিথিলাকে দেখে চমকে যায় আবীর। মেয়েটা সম্পূর্ণ বদলে গেছে। যে মেয়ে জিন্স,টপস্ শর্টস্কাট ছাড়া পড়তো না সে মেয়ে আজ শাড়ি পড়ে কলেজে এসেছে। মিথিলা সরাসরি আবীরের কাছে আসে....
- আবীর সেইদিনের ব্যবহারের জন্য আমি দুঃখিত।
- আরে নাহ্। সরি তো আমার বলা উচিত। সেইদিন আপনাকে ওইভাবে চড় মারাটা উচিত হয় নি। তারপর আপনাকে ওতোগুলো কথা বলাও উচিত হয় নি। আমি দুঃখিত।
- আমি তোমার কথাগুলো ভেবে দেখেছি আবীর। তুমি কথাগুলো ঠিকই বলেছো। আসলেই আমার আচরণ নারীর মতো ছিলো নাহ্। তাই নিজেকে পরিবর্তন করার চেষ্টা করছি।
- আসলেই শাড়িতে আপনাকে অনেক সুন্দর লাগছে....
- ধন্যবাদ। আমাকে কি তুমি করে বলা যায় না??
- হুমম...তোমাকে অনেক সুন্দর লাগছে....
- আবীর আমাকে আর একবার সাহায্য করবে???
- পরের পরীক্ষায়???
- নাহ্...
- তাহলে???
- আমাকে তোমার মনের মতো নারী হয়ে উঠতে সাহায্য করবা??
- অবশ্যই....সেটা তো অনেক আগে থেকেই চাই... তোমাকে আমার মনের রানী বানাতে।
এভাবেই আবীর আর মিথিলার মধ্যে কথা চলতে থাকে। চলতে থাকে তাদের নতুন জীবনের কথা.......♥
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now