বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
– ওই কুওা তুই আমার দিকে এতখন টিকটিকির মতো তাকিয়ে আছিলি ক্যান?
– কি বললি তুই???? আমি টিকটিকি!!
– তা নয়তো কি?? বেহায়া কোথাকার?
– দ্যাখ ভালো হচ্ছে না কিন্তু বলে দিলাম!
– কি করবি রে??
– যা ভালো বুঝবো তাই করব।
– ইয়য়া ছ্যা। আইছে রে, যা ভাগ।
– সামান্য একটু তোর দিকে তাকিয়ে আছিলাম বলে তুই আমাকে এভাবে বলতে পারিস না।
– তাকাবি ক্যান?
– ওই আমি তোর দিকে তাকাবো না তো কে তাকাবে শুনি।
– ওই আমি তোর কে রে? আমার দিকে তাকাবি তুই??
– আমি তোকে ভালবাসি আর আমিই তোর দিকে তাকাবো!
– থাপ্পড় দিয়ে গাল লাল করে দেব আবার তাকালে। যা ভাগ।
– ওক্কে। পরে আসবো।
এই বলে দিলাম দৌড়। একেবারে ক্লাসে চলে এলাম।
পরিচয় টা দেই। আমি আকাশ। আর ওই ডাইনোসর টা হলো জুই।
আমি এবার অনার্স ফাইনাল ইয়ার আর জুই হলো ফাস্ট ইয়ার। আমার আর জুঁইয়ের বাড়ি পাশাপাশি এক জায়গায়ই।
২
আমার থেকে জুই একটু ছোট। দুজনে একসাথে এক জায়গায় থেকে বড় হইছি তাই দুজনে তুই করেই বলি। আমরা যখন ছোট ছিলাম তখন আমি বউ জামাই খেলার জন্য কয়েক টা ছেলে পুতুল নিয়ে ওর বাড়িতে যেতাম আর ওর মেয়ে পুতুল দিয়ে দুজনে বউ জামাই খেলতাম। হুহ।
.
এখন আমি ওকে ভালবাসি। ওকে সত্যিকারের বউ বানাতে চাই। কিন্তু পাগলীটা রাজি হয় না। পরের দিন, সকাল বেলা কলেজে """""
৩
– ওই জুই কই যাস?
– মরতে যাই, যাবি!
– আমি বুঝতে পারি না তুই সবসময় আমার সাথে এমন করিস কেন?
– তোর বুঝা লাগব না, ভাগ এখন।
– আরে শুন না!
– কি বলবি বল, আমার ক্লাসের দেরী হচ্ছে!
– আমার বউ হবি। আমি তোর বর হবো।
– তোরে আমি কি যে করমু, জুতা কই ওই আমার জুতা কই, হারামিটাকে কয়টা পিটুনি দিয়া নই, ছোট বেলার স্বভাব এখনও যাই না??
– হুররর, ছোট বেলা বাদদে, এখন বড় হইছি। আর আমি সিরিয়াস। তোকে ভালবাসি আর তোকেই বিয়ে করব।
– পারলে করে দেখা।
– হুহ।
৪
দেখলেনই তো আমার সাথে কেমন আচরণ করে। অবশ্য ও আগে এমন ছিলো না, যেদিন ওকে আমি প্রথম প্রপোজ করি সেদিন থেকে এমন করছে।
আমি যেদিন থেকে ওর প্রতি দূর্বল তার ঘটনা টা বলি।
৫
আমি তখন ইন্টারে পড়ি। আর জুই এসএসসির ছাত্রী। দুজন দু জায়গায় থাকলেও বাড়ি ছিলো এক জায়গায়। তাই সবসময় দেখা হতো কথা হতো। কোনো খাদ ছিলো না। আমি তখনও বুঝতে পারতাম না, আমি কাউকে ভালবাসি কিনা।
জুঁইয়ের এসএসসি পরীক্ষা শেষ হয়ে গেল। আর আমি তখন কলেজে। দিনের অর্ধেক টা জুঁইয়ের সাথে আড্ডা দিয়েই কাটে। পরীক্ষা শেষ হয়ে যাওয়ার কয়েক দিন পর জুই ওর নানুর বাড়ি চলে গেল 16 দিনের জন্য
তারপর থেকে শুরু হলো আমার বুকের ভেতর চিনচিনে ব্যথা। জুই যাওয়ার ২দিন পর থেকে বুঝতে পারলাম জুই আমার জীবনে কতটা গুরুত্ব পূর্ণ। যখন দুজন একসাথে থাকতাম তখন জুঁইয়ের প্রয়োজনীয়তা বুঝতে পারতাম না, হেসেই উড়িয়ে দিতাম। আমার পরিবার আর জুঁইয়ের পরিবার খুব মিল ছিলো, তাই যেখানে যেতাম দুজন একসাথে যেতাম কেউ কিছু বলতো না।
যাকগে ওসব কথা,,, জুই যখন চলে গেল তখন আমার সময় একদম কাটতে চাইতো না, সবসময় শুধু মনটা জুই জুই করতো। আর ওকে ছাড়া জুঁইয়ের নাম টা মাথায় আসলেই কেমন যেন নিজেকে শূন্য লাগতো। জীবন টা অর্থহীন মনে হতো।
তাই একদিন চাচির কাছে জিগেস করলাম জুই কবে আসবে? চাচি বলল এইতো কয়েক দিন পরেই আসব। অপেক্ষা করো। নিজের একমাত্র সঙ্গী ছাড়া ভালো লাগছে না নাকি??
আপনি তো জানেনি চাচি এখানে জুই ছাড়া আমার আর কোনো সঙ্গী নেই তাই ওর সাথেই সবসময় থাকি। এখন ও চলে যাওয়ায় ভালো লাগছে না।
তারপর যে কয়দিন জুই ওর নানুর বাড়িতে ছিলো ও কয়দিন আমার ভালভাবে ঘুম হয়নি। কাছের মানুষ দূরে গেলে কার ই ঘুম আসে।
অপেক্ষা করতে লাগলাম জুঁইয়ের জন্য।
কয়েক দিন পর যখন জুই আসলো তখন যেন আমার দেহে আত্মা ফিরে এলো। হুম, বুঝলাম এটাই তাহলে ভালবাসা। ভালবাসা এরকমই হয়।
একজন আরেক জনের প্রতি দূর্বলতা বোধ এবং তাকে ছেড়ে থাকতে না পারাকেই ভালবাসা বলে। ছেলে + মেয়ে = দুটি দেহ একমন। একেই বলে ভালবাসা।
ঐ আমারও একই রকম হইছে। কিন্তু আমি পাগলটা এখনো পাগলীর মন পাই নাই।
অতঃপর, জুই ফিরে আসার পর আমার ভেতর পরিবর্তন আসতে লাগল যেমন :
এখন আমি আগের থেকে ওর কাছ থেকে বেশি সময় লাভের আশায় থাকি।
জুঁইয়ের সাথে বেশি কথা বলার চেষ্টা করি।
জুঁইয়ের যতটা সম্ভব কাছে যাওয়ার চেষ্টা করি।
কিন্তু পারি না। আমি এখনও আমার ভালবাসার কথা জুঁইকে বলে নাই। কারণ কি ভাবতে কি ভাবে! শেষে না হয় আমি ফেসে যাই, তারপর বাড়ি ছাড়া হই, হুহ।
এরপর চলে গেল অনেক দিন। আমি সেই আগের মতোই আছি। ওর সাথে মেলামেশা ঝগড়া দুষ্টামি খুনসুটি নিয়ে। পাশাপাশি বাড়ি তাই যেকোন সময় ঝগড়া করতে পারি। কিন্তু এখনও আমি আমার ভালবাসার কথা বলতে পারলাম না।
যখন জুই ইন্টার সেকেন্ড ইয়ারে পরে আমি তখন হটাৎ কিনা কি ভেবে বলদের মতো জুঁইকে প্রপোজ করি।
সেদিনের কথা মনে পরলে আমার আজও ভয়ে লেপের নিচে যেতে ইচ্ছে করে।
জুঁইকে প্রপোজ করার পর জুই আমাকে সারা এলাকা জুতা হাতে নিয়ে দৌড়ায়। কিন্তু শেষে ধরতে পারে নাই ধরতে পারলে কি যে করতো আল্লায় জানে।
জুই আমাকে তো ফিরিয়ে দিছে আর আমি হলাম আকাশ, হাল ছাড়ার পাএ আমি নই।
৬
হাল ছাড়িনাই বলেই সে দিনের পর থেকে আজ পর্যন্ত আমি জুঁইয়ের পেছনে পরে আছি। এতবছর হয়ে গেল কিন্তু এখনো আমি পাগলীর মনে জায়গা পেলাম না।
আর বাকিটা তো জানেনি। সব ইতিহাস, সে থেকে আমাকে নাকে দড়ি দিয়ে ঘুরাইতাছে। কিন্তু একবারও বলল না ( আকাশ আমি তোকে খুব ভালবাসি রে, তুই কি আমার হবি?) আমি এই কথাটা একবার শুনার জন্য কত চেষ্টা করি তবুও ওর মুখ থেকে বলাতে পারি না।
এইতো সেদিন কলেজ থেকে ফেরার সময় দেখি জুই একটা ছেলের সাথে রিকশা করে আসছিল। তখন মনে হচ্ছিল পোলাটারে পুকুরে চুবানি দিয়ে মাইরা ফালাই। আমার কলিজার টুকরা ওই পোলার লগে রিকশায় উঠবো কেন?
বিকেল বেলা """""
– জুই ওটা কে?
– কোনটা?
– তুই কলেজ থেকে ফেরার সময় যার সাথে রিকশায় উঠছিলি সে!
– কেন? সেটা দিয়ে তুই কি করবি?
– আমি জাস্ট জানতে চাইছি, উওর দে,
– যদি বলি ওটা আমার বয়ফ্রেন্ড –
– ( কথাটা শুনেই আমার কেমন যেন মাথা ঘুরতে লাগল) যদি মানে কি হ্যাঁ? সিরিয়াস বল। ও যদি তোর বয়ফ্রেন্ড থাকে তাহলে আমি নিজে তোর জীবন থেকে সরে যাব, কোনো দিন বিরক্ত করব না, আর যদি ফ্রেন্ড থাকে তাহলে তোর সাথে আসে আসুক, সমস্যা নেই।
– হুম, বুঝলাম। ওটা আমার বয়ফ্রেন্ড। আর তুই আমাকে বিরক্ত করা ছেড়ে দে।
– ( বয়ফ্রেন্ড। বয়ফ্রেন্ড। বয়ফ্রেন্ড। শব্দটা শুনেই দু চোখ ভিজে গেল) ওহ্, আচ্ছা পাগলী ভালো থাকিস রে, এই পাগল টা আর তোকে বিরক্ত করব না।
ওই বলে সেখান থেকে চোখ মুছতে মুছতে চলে এলাম। একবারও জুঁইয়ের দিকে তাকাইনি।
এখন আমার নিজের প্রতিই ঘৃণা লাগছে। এতদিন যাকে ভালবাসতাম সে এভাবে ঠকালো। আমাকে আগে বললেই পারতো যে ওর বয়ফ্রেন্ড। তাইলে আমি আর এতদিন শুধু শুধু পরে থাকতাম না। এখন শুধু একটাই আফসোস, নিজের ভালবাসা কে নিজের করে পেলাম না।
৭
ওই দিনের পর থেকে আমি আর জুঁইয়ের সামনে যাইনি। ওদের বাড়িতেও যাইনি।
আমি আর ওকে বিরক্ত করতে চাই না। আমি জুঁইয়ের সামনে গেলেই তো ও বিরক্ত বোধ করে তাই আমি যতটা পারি জুঁইয়ের থেকে দূরে চলে যাব।
.
.
এখন আমার সব কিছুই ধীর। ঠিকমতো কলেজ যাই না। কলেজ গেলেও রুম থেকে বের হইনা। কারণ মাঠে গেলেই যদি আবার জুঁইয়ের সামনে পরে যাই তাহলে তো জুই বিরক্ত হবে। আর আমি তো ওকে প্রমিজ করছি, আমি আর ওকে বিরক্ত করব না।
বাড়ি থেকেও বের হইনা বেশী। যদি কোনো খুব দরকার পরে তাহলে যাই, তাছাড়া আর না। মা যেতে বলছে অনেক বার, ঘরে থেকে বাইরে বের হ, জুঁইয়ের বাড়িতে যা। এটা আন ওটা আন। নানান কাজ। কিন্তু আমি যেতাম না। ঘাড় বাঁকিয়ে বসে থাকতাম।
.
মা অনেক বার জিগেস করছে কি হইছে কিন্তু আমি এড়িয়ে গেছি। কিছু হইনি বলে। কিন্তু এভাবে আর কয়দিন চলবে, আর কয়দিন নিজেকে বন্ধ ঘরে আটকে রাখব? তাই স্বিদ্ধান্ত নিলাম যে। আর এখানে থাকবই না। ফাইনাল পরীক্ষা হয়ে গেলেই এখান থেকে দূরে চলে যাব।
.
কয়েক মাস পর পরীক্ষা শুরু হলো। এই কয় মাসে আমি একবারও জুঁইয়ের সামনে যাইনি। ওর সাথে কথা বলতে চাইনি।
কি লাভ শুধু শুধু একজন কে বিরক্ত করে। যদি সে আমাকে ছেড়ে ভালো থাকে তো আমি কেন থাকতে পারব না।
.
এই কয় মাসে জুইও আমার খবর নেয়নি সেটা না। যখন আমি বাড়িতে একলা ঘরে বসে থাকতাম তখন জুই এসে মার কাছে জিগেস করতো আমি কই গেছি। আমি তখন সব ঘর থেকে শুনতাম।
তারপর আমি ওর সাড়া পেয়েই ঘরের পেছনের দরজা দিয়ে চলে আসতাম।
.
কি লাভ নিজের না পাওয়া ভালবাসাকে সামনে এনে বুকের চাপা কষ্ট টা বাড়াতে। .এতে আরও দুঃখ বাড়বে। কান্না পাবে।
৮
পরীক্ষা শেষে রেসাল্ট খুব তাড়াতাড়ি দিল। হাতে রেসাল্ট পাওয়া মাএই দৌড় লাগলাম ঢাকা কলেজে ভর্তি হতে।
.
এরপর চলে এলাম ঢাকা। আসার সময় মা অনেক কান্না করছিল। কিন্তু জুই পাগলীটাকে একবারও বলি নাই যে আমি ঢাকা চলে আসব। জুঁইকে না জানিয়েই চলে আসছি।
.
পাশাপাশি বাড়ি হলে কি হবে, কাউকে না জানিয়ে রাত 11 টার বাসে আসলে কে জানতে পারবে। আর আমি মাকে বলে দিছিলাম ওদের বাড়ির কাউকে না জানাতে, যে আমি ঢাকা চলে আসব।
.
ঢাকা ভালই চলছে দিন কাল। পড়াশোনা আর ব্যস্ত শহরের মধ্যেই নিজেকে নিজের মতো গুটিয়ে নিয়েছি।
.
এখানে আসছি। 15 দিন হয়ে গেল। এখন বোধ হয় পাগলীটা নিশ্চয় জানতে পারছে, আমি আর বাড়িতে নেই। ওদের সবাইকে না জানিয়ে রাতের আড়ালে চোরের মতো চলে আসছি এই ঢাকা নামক দূরের শহরটাতে।
.
এখন আমি নিয়মিত মা বাবার সাথে ফোনে কথা বলি। ফোন নাম্বার অনেক আগেই চেন্জ করছি। মা বাবা আর বন্ধুরা ছাড়া আর কেউ জানে না।
একদিন মার সাথে কথা বলছিলাম। তখন মা বলল, আকাশ তোর সাথে আর জুঁইয়ের সাথে কি কিছু হইছে? আমি বললাম, না তো।
তাহলে জুই কথা বলব এখন তোর সাথে কথা বল।
মা আমার এখন পড়া বাকি আমি পারব না, রাখলাম বায়।
.
এই কথা বলে ফোন রেখে দিলাম। আমি চাইনা পুরনো কষ্ট টা আবার মাথা নাড়া দিয়ে উঠুক।
এরপর মা আরও অনেক বার জুঁইয়ের সাথে কথা বলতে বলেছে এবং জুইও আমার সাথে কথা বলার চেষ্টা করছে কিন্তু আমি কথা বলি নাই।
৯
কেটে গেল ৪ মাস।
একদিন রাতে মেসে শুয়ে শুয়ে ফেসবুক চালাচ্ছি। 11:30 বাজবে হয়তো তখন। তখন একটা অপরিচিত নাম্বার থেকে কল আসলো। আমিও কি মনে করে কল কেটে দিলাম। অপরিচিত কারও কল আমি রিসিভ করি না।
তারপর আরও ২ বার আসলো কেটে দিলাম। কিন্তু তিন বারের বার কল ধরলাম। কে? আর কেন আমাকে এতো রাতে এতবার করে কল দিচ্ছে।
– হ্যালো
– ( ফুপানির শব্দ, মনে হয় কাঁদছে)
– হ্যালো, কিছু বলছেন না কেন??
– ( চুপ, এবার জোরে শব্দ করে কেদে দিল)
– আপনি কে? আমাকে কল দিয়ে কাঁদছেন কেন? কিছু বললে বলুন নাহলে রেখে দিলাম।
– কুওা হনুমান তুই শুধু কল কাটবি তোরে আমি কেটে দু টুকরা করে ফেলব।
– ( বুঝতে পারলাম কে ফোন দিছে, এ গলাটা যে আমার খুব চেনা) ওহ্, জুই তুই। কেমন আছিস? আর আমার নাম্বার কই পেলি।
– নাম্বার যেখানে পাওয়ার পাইছি তোর জানার দরকার নাই। আর এতদিন পর বলছিস কেমন আছি?
– হুহ, এর বেশী কিছু বলার প্রয়োজন মনে করি না
– কিহ্! আর কত কাঁদাবি আমায় আর কত কষ্ট দিবি বল না ! আমি আর পারছি না আমার সয্য হচ্ছে না আর.!
– মানে!
– আমিও তোকে খুব ভালবাসি রে। ফিরে আয় না আমার কাছে, বুকে টেনে নে না পাগলীটাকে প্লিজ। ( এই বলে আবার কাদতেঁ লাগল)
– তুই কি বলছিস এসব? পাগল হয়ে গেছিস নাকি??
– পাগল। হ্যাঁ আমি পাগল হইছি। যেদিন থেকে তুই আমাকে একা রেখে শূন্য জীবনটা উপহার দিয়ে চলে গেছিস সেদিন থেকে পাগল হইছি। ঠিক করে দে না এই পাগলীটাকে।
– তার মানে তুই আমাকে ভালোবাসিস!
– হুহ। নিজের থেকেও বেশি আমি তোকে ভালবাসি।
– তাহলে সেদিন যা বললি তুই ——–
– থাপ্পড় খাবি একটা হারামজাদা। যাকে ভালোবাসিস তাকে এতবড় ভুল বুঝতে পারলি কিভাবে। ওটা আমার ফ্রেন্ড ছিলো।
– হুম।
– হুম মানে কি হ্যাঁ? তোকে তো আমি অনেক মারতাম অনেক বকতাম। তবুও তো তুই আমার পিছু ছাড়িস নি। সবসময় আমার সাথে ছায়া হয়ে মিশে ছিলি। আর তখন ওইটুকু একটা সাজানো বিষয় নিয়ে এভাবে চলে গেলি। এভাবে কষ্ট দিতে পারলি তুই আমাকে।
– তাহলে তুই বললি কেন ওটা তোর বয়ফ্রেন্ড আর আমাকে ভালোবাসিস তাইলে এতবছর ঘুরাইলি ক্যান?
– সরি রে আমি বুঝতে পারি নাই, আমি ভাবছি ওকে আমার বয়ফ্রেন্ড পরিচয় দিলে তুই আমার উপর আরও ছায়ার মতো লেগে থাকবি আমার খোঁজ খবর রাখবি। কিন্তু বিলাই কোথাকার, আমাকে ছেড়ে চলে গেলি আর যে কয়দিন এখানে ছিলি তবুও আমার থেকে দূরে লুকিয়ে ছিলি। কেন করলি এমন আমার সাথে।
– ফাজলামো করার একটা মাএা থাকে আর তুই সেটা ছাড়িয়ে গেছিস এখন নিজেও কষ্ট পেলি আমাকেও কষ্ট দিলি।
– সরি রে প্লিজ মাফ করে দে না তোর পাগলীটাকে। ফিরে আয় প্লিজ।
– ওকে, কিন্তু শর্ত আছে।
– যেকোনো কিছুতে আমি রাজি।
– টেস্ট পরীক্ষার পর আমি আসব। আমি আসা মাএই আমাকে শক্ত করে জড়িয়ে ধরবি আর কখনো কষ্ট দিবি না।
– আচ্ছা ঠিক আছে, আয়।
– রাত হইছে অনেক এখন ঘুমা।
– আচ্ছা, ঠিক আছে।
.
.
ফোন কেটে দিলাম। আমি বুঝতে পারছি না কি করব। খুশিতে ঘুম হয়নি আমার। আমার পাগলীটা আমারই আছে। অন্য কারও হয় নাই, হুররে, আমার তো নাচতে ইচ্ছে করছে।
.
এরপর থেকে আমরা প্রতিদিন কথা বলতাম ফোনে। আমার ভালবাসা এখন আস্তে আস্তে পূর্ণতা পেতে লাগল।
পরীক্ষা এগিয়ে এলো।
.
পরীক্ষা দেওয়ার সময় জুঁইয়ের সাথে কম কথা হইছে। কারণ তখন পড়াশোনা আর পরীক্ষার চাপ ছিলো বেশি। জুই আমার সাথে বেশী কথা বলতো না পরীক্ষার সময়। শুধু বলতো সময় নষ্ট করলে নাকি পরীক্ষা খারাপ হবে। এই বলে কল কেটে দিত।
.
যাক বাচা গেল পরীক্ষা শেষ। বাড়ির পথে রওনা দেই এখন।
শেষমেষ বাসে উঠেই গেলাম। সকালে বাস ছাড়ল বিকেলে চলে আসলাম।
.
বাস স্ট্যান্ডে নেমে দেখি মা বাবা চাচা চাচি সবাই দাড়িয়ে অপেক্ষা করছে আমার জন্য কিন্তু আমি আমার পাগলীটাকে দেখছি না গেল কই।
.
হটাৎ কোথা থেকে যেন ঝড়ের গতিতে এসে আমাকে জড়িয়ে ধরল সবার সামনেই তারপর আবার আমার বুকে মুখ গুজে কাদতেঁ লাগল।
.
কি করব তখন কিচ্ছু বুঝতে পারছি না। না পারছি ছাড়তে না পারছি আমি জড়িয়ে ধরতে। সামনে থেকে মা বাবা আমাদের কান্ড থেকে হাসতে হাসতে গড়িয়ে পড়ার অবস্থা আর পাশের লোক গুলো তো তাকিয়ে আছেই।
.
অতি লজ্জা নিয়ে বাড়ি ফিরলাম। শুরু হলো এক নতুন প্রেম কাহিনীর।
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now