বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
.
দিনটা শুরু করেছিলাম কিছুটা টেনশন নিয়ে, তখন সময় দুপুর প্রায়২+ রোদটাও ছিলো প্রখর ৪৫ডিগ্রি+ কাজ করতেছিলাম একটা TNB বক্সের ভেতরে।
বক্সটা কিছুটা ফেটেগেছিলো সেটা ভেঙে প্লাস্টার করতে হবে, কিন্তু ভয় একটাই ছিলো অইটাতে কারেন্ট এর সংযোগ ছিলো, রুমটাই আমি একাই কাজ করতেছিলাম।
.
যা সন্দেহ করেছিলাম তাই ই হলো, আমার হাতে থাকা হাতুরি আর লোহার ফলা টা দিয়ে ভাঙছিলাম ফলার আঘাতে কারেন্ট এর তারের রাবার ভেদ করে কারেন্ট শকড করলো। অতিরিক্ত ভোল্ট থাকায় কোনো প্রকার চিৎকার চেঁচামেচি র সুযোগ ই হলোনা, অনেক স্বাধের প্রানপাখিটা আমার দেহত্যাগ করলো।
.
ইতি হলো আমার প্রবাস নামক কস্টের,
কিছুক্ষনের মধ্যেইআশেপাশে র সবার চোখে পড়লাম ওরা এসে আমার দেহটাকে সরিয়ে রুমটার বারান্দায় রাখলো, পুলিশ কে খবর দেয়াহলো আমার Boss ও চলে আসলো।
.
আশেপাশে কাজকরা আমার পরিচিত অপরিচিত রা, পুরেযাওয়া শরীর টা দেখে আপ্সস করলো।
কেউ কেউ দু ফোটা চোখের পানিও ফেললো,
পরিচিত কাছের লোকগুলো আমার আগামী সপ্নের কথাগুলো জানতো ওরা বলাবলি করছিলো ছেলেটার অনেক সপ্ন ছিলো পকেটে থাকা মোবাইল ফোনে বাসায় ফোন করে জানানো হলো আমি আর ইহকালে নেই, মা বাবা পরিবার আত্বীয়স্বজন সবাই কান্নাকাটি করছিলো কেউ কেউ আমার পরিবারের লোকদের শান্তনা দিচ্ছিলো।
.
সবার মুখে একটাই কথা লাশ কবে আসবে।
আমি শুধু ভাবছিলাম ১ ঘন্টা আগেও জিবিত মানুষ ছিলাম,
আমার একটা নাম ছিলো কিন্তু এখন লাশ হয়েগেলাম।
কি করলাম জিবনে নামায রোজা সেটাও তো করিনাই রক্তের গরমে।
অবশেষে ৪/৫ দিন পরে সব প্রস্তুতি শেষে boss এর সহায়তায় আমার লাশটা দেশে পাঠানো হচ্ছে কিন্তু ৪/৫ দিন হয়ে যাওয়ার মাংস পচা একটা গন্ধ হচ্ছিলো, যেই লাশের সামনে আসছিলো নাকে কাপড় অথবা রুমাল দিয়ে ঢাকছিলো। ঢাকা এয়ারপোর্ট থেকে এম্বুলেন্স যোগে আমার বাসায় ডেটবডি টা পৌছালো সবাই শোকে কাতর লাশটা কিন্তু তখনো এম্বুলেন্স এ,
সবাই আমাকে এত ভালবাসে না মরলে হয়তো জানতাম ই না।
এম্বুলেন্স থেকে লাশটা নামানো হলো মা বাবা পরিবার এর সবাই, মুখটা দেখার জন্য অনুরোধ করছিলো সবার নাকে কাপড় বুঝলাম পচা গন্ধটা বোধহয় একটু বেশিই হচ্ছে, কফিনের মুখের কাপোড় খুলে দেয়াহলো।
গন্ধটা আরো তীব্র হলো কেউ ছুঁয়ে দেখলোনা দুরথেকেই দেখে দেখে সরেযাচ্ছে। আমার Boss টা ভালো ছিলো, কফিনের সাথে ক্ষতিপূরণ বাবদ ৪০
হাজার টাকা দিয়েছিলো।
.
যেটা বাংলাদেশের ৮ লাখ টাকা প্রায়
সেইটাকা বাবা মার হাতে দেয়াহলো ৬/৭ আগে মারা যাওয়ার তাদের শোকটাও কিছুটা কমেছে মনেহয় ছেলে হারিয়েছে, তবে টাকটা হাতে পেয়ে কিছুটা মনেহয় স্বস্তি পেলো।
পাওয়াটাই স্বাভাবিক কারন মানুষের জিবনের ৯৫% চাহিদা পুরনের জন্য টাকা টাই দরকার
সবাই তড়িঘড়ি করে দাফনের ব্যবস্থা করলো আমাকে দাফন করাহলো,
আমার নানার কবরের পাশেই অইটা অবশ্য আমার ই ইচ্ছাছিলো।
আর একপাশে নানীর জন্য যায়গা রাখাহলো, কারন আমার নানীটা তখনো জিবিত ছিলো।
.
১/২/৩/ এভাবে দিন অতিবাহিত হতে লাগলো,
আমার পরিবারের লোকজনদের শান্তনা দিতে পাশের বাড়ির চাচী ফুপুরা আসতো এভাবে আরো কিছুদিন গেলো।
তেমন কেউ আর কাদেনা, আমার জন্য অই মা শুধু মনেহলে কাদে তারসাথে নানীটাও
।
আব্বা বললো কবরটা র
চারপাশে দেয়াল তুলেদিতে, যেনো মুরগী বা গরুছাগল কবরটার উপরে এসে অত্যাচার না করতে পারে। কিন্তু পাড়ার একটা হুজুর চাচা এসে বললেন কবর পাকাকরা দেয়াল তোলা এইগুলা ঠিকনা,
আর যেহেতু ৩ টা কবর একসাথে দেয়াল তুলতেও অনেক খরচা হবে। সবশুনে কেউ আর কিছু করলোনা ওভাবেই থাকলো মাস খানেক পরে আমি যে আমার পরিবারের কেউ ছিলাম এটা তারা কিছুটা ভুলতে শুরু করলো তাদের কে হাসিখুশি দেখলাম অবশ্য আমারো ভালো লাগলো। জিবনের বিনিময়ে কিছু টাকা দিয়ে এদের জন্য
সুখ কিনে দিলাম।
হঠাত ঘুম ভেঙেগেলো, বুঝতে পারলাম এটা একটা সপ্ন ছিলো। গলাটা শুকিয়ে গেছে, মাথার উপর হাইস্পিডে ফ্যান চলছে তবুও শরীর টা ভিজে বালিশ বিছানা ভিজেগেছে।
উঠার চেষ্টা করলাম পানি খাওয়ার জন্য,
কিন্তু শরীর এতটাই নিস্তেজ উঠতে পারলাম না। কিছুক্ষন সময় নিয়ে উঠলাম ৩/৪ গ্লাস পানি খাওয়ার পরেও যেনো তৃষ্ণা মিটছেনা কেমন যানি ভয় ভয় লাগছিলো।
পাশে থাকা মোবাইল টা হাতে নিয়ে দেখলাম রাত ২.৩৭ বাজে বাকি রাতটুকু আর ঘুমানো সম্ভব হয়নি। এখনো ভাবছি অইটা সপ্ন হলেও কিন্তু পুরোটা মিথ্যেনয় ।
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now