বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
প্রাচীন মিশরীয় দেবদেবী
প্রাচীন মিশরীয় দেবদেবী বলতে প্রাচীন মিশরে পূজিত দেবদেবীদের বোঝায়। এই দেবদেবীদের কেন্দ্র করে যে সকল মতবিশ্বাস, প্রথা ও রীতিনীতিগুলি গড়ে উঠেছিল, সেগুলিই ছিল প্রাচীন মিশরীয় ধর্মের সারবস্তু। প্রাগৈতিহাসিক যুগের কোনও এক সময়ে এই ধর্মবিশ্বাসের উদ্ভব ঘটেছিল। দেবদেবীরা ছিলেন প্রাকৃতিক শক্তি ও ঘটনাবলির প্রতীক এবং মিশরীয়রা বলি ও অন্যান্য অনুষ্ঠানের মাধ্যমে তাঁদের সহায়তা ও প্রশমিত করতেন যাতে এই সকল শক্তি মা’আট অর্থাৎ দৈব অনুশাসন অনুসারে কাজকর্ম চালিয়ে যেতে পারেন। খ্রিস্টপূর্ব ৩১০০ অব্দ নাগাদ মিশরীয় রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর যে কর্তৃপক্ষ এই ধরনের অনুষ্ঠান সম্পাদনা করতেন, তাঁদের নিয়ন্ত্রণ করতেন ফ্যারাওগণ। ফ্যারাওরা নিজেদের দেবতাদের প্রতিনিধি বলে দাবি করতেন এবং যে সব মন্দিরে সেই সকল অনুষ্ঠান আয়োজিত হত, সেই সকল মন্দির পরিচালনা করতেন।
পৌরাণিক কাহিনিতে এবং দেবতাদের মধ্যে পারিবারিক বন্ধন, শিথিল গোষ্ঠী ও পদমর্যাদাক্রম ও এক দেবতার মধ্যে আলাদা আলাদা দেবতার সমন্বয়ের মধ্যে জটিল সম্পর্কের মধ্যে দিয়ে এই দেবদেবীদের জটিল বৈশিষ্ট্যগুলির কথা প্রকাশিত হয়েছে। শিল্পকলায় জীবজন্তু, মানুষ, বস্তু সামগ্রী ও বিভিন্ন রূপের সমন্বয়ের মাধ্যমে এই দেবদেবীদের বিভিন্ন ধরনের রূপ প্রতীকতত্ত্বের মাধ্যমে পরোক্ষভাবে তাঁদের মূল বৈশিষ্ট্যগুলিকে ইঙ্গিত করে।
বলা হয় যে, বিভিন্ন যুগে পৃথক পৃথক দেবতা দিব্য সমাজে সর্বোচ্চ স্থান অধিকার করেছিলেন। এঁদের মধ্যে ছিলেন সৌর দেবতা রা, রহস্যময় দেবতা আমুন এবং মাতৃ দেবী আইসিস। সর্বোচ্চ দেবতাকে সচরাচর বিশ্বের স্রষ্টা মনে করা হত এবং তাঁকে যুক্ত করা হত সূর্যের জীবনদায়ী শক্তির সঙ্গে। মিশরীয়দের লেখালিখির ভিত্তিতে কোনও কোনও গবেষক মনে করেন যে, মিশরীয়রা ক্রমে শুধুমাত্র এক দেবতাকে স্বীকৃতি দান করেছিলেন, যিনি সব কিছুর পিছনে বিদ্যমান এবং অন্যান্য সিজিকি দেবতার মধ্যে বর্তমান। তবে তাঁরা তাঁদের বিশ্বের মূল বহুদেববাদী দৃষ্টিভঙ্গি পরিত্যাগ করেনি। শুধুমাত্র খ্রিস্টপূর্ব ১৪শ শতাব্দীতে আটেনবাদের যুগে এই ব্যবস্থার ব্যতিক্রম ঘটেছিল। সেই সময় আনুষ্ঠানিক ধর্মের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠেছিলেন নৈর্ব্যক্তিক সূর্য দেবতা আটেন।
সেকালের মিশরীয়রা বিশ্বাস করতেন যে, দেবদেবীরা সমগ্র জগতে উপস্থিত রয়েছেন এবং তাঁরা প্রাকৃতিক ঘটনা ও মানুষের জীবনের গতিপথটিকে প্রভাবিত করতে সক্ষম হন। ব্যক্তিগত কারণে, এমনকি রাষ্ট্রীয় কৃত্যানুষ্ঠানের বৃহত্তর উদ্দেশ্যে মন্দিরে ও অপ্রাতিষ্ঠানিক প্রার্থনাস্থলে সাধারণ মানুষ তাঁদের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করতেন। মিশরীয়রা দেবতাদের সাহায্যের জন্য প্রার্থনা করতেন, দেবতাদের কাজ করতে বাধ্য করার জন্য আনুষ্ঠানিক রীতিনীতির প্রয়োগ করতেন এবং পরামর্শের জন্য তাঁদের ডেকে পাঠাতেন। দেবতাদের সঙ্গে মানুষের সম্পর্ক ছিল মিশরীয় সমাজের একটি মৌলিক অংশ।
প্রাচীন মিশরীয় ঐতিহ্যের মাঝে যে সমস্ত সত্ত্বাকে ঈশ্বর হিসাবে গণ্য করা হতো, তাদের সংখ্যা গণনা করা সত্যই কঠিন । বিভিন্ন মিশরীয় প্রাচীন গ্রন্থ এবং পুরাণে এমন অনেক দেবদেবীর নাম পাওয়া যায়, যাঁদের ভূমিকা, প্রকৃতি এমনকি পৌত্তলিক রূপও অজানা এবং অস্পষ্ট এবং এমন অনেক দেবতাদের এমন পরোক্ষ উল্লেখ পাওয়া যায়, যাঁদের নামও সঠিকভাবে পাওয়া যায় না। মিশরতত্ত্ববিদ জেমস পি অ্যালেন অনুমান করেন যে মিশরীয় গ্রন্থে প্রায় ১৪০০ টিরও বেশি দেবতাদের উল্লেখ করা হয়েছে, যদিও তার সহকর্মী ক্রিশ্চিয়ান লেইৎস বলেছেন যে "হাজার হাজার" দেবতা রয়েছে মিশরীয় পুরাণ এবং প্রাচীন গ্রন্থাবলী তে । মিশরীয় ভাষায় দেবতাদের নামে 'nṯr' (দেব) এবং দেবীদের নামে 'nṯrt' (দেবী) যোগ করা হয় নামকরণের সাধারণ পরিভাষা অনুযায়ী। পণ্ডিতরা এই শব্দগুলির বৈয়াকরণিক ব্যবচ্ছেদ দ্বারা দেবতাদের মূল প্রকৃতি উপলব্ধি করার চেষ্টা করেছেন, কিন্তু কোন প্রস্তাবিত ব্যাখ্যাই সর্বজনগ্রাহ্য না হওয়াতে এই পরিভাষাগুলির মৌলিক উতপত্তি এখনো অজানা। যে সমস্ত হায়ারোগ্লাইফস চিত্রলিপি এবং নির্ণায়ক হিসাবে ব্যবহার করা হয়েছে এই পরিভাষা গুলি লিপিবদ্ধ করার জন্যে, তাদের বৈশিষ্ট্য থেকে বোঝা যায় যে মিশরীয়গণ দেবতাদের সাথে সংযোগ স্থাপন করতে চেষ্টা করেছেন। এই চিহ্নগুলির মধ্যে সবচেয়ে জনপ্রিয় একটি খুঁটি থেকে উড়ন্ত পতাকা। অনুরূপ চিহ্ন বিশিষ্ট বস্তু প্রাচীন মিশরীয় ইতিহাস জুড়ে সমস্ত মন্দির প্রবেশদ্বার এ স্থাপন করা হত ভিতরে দেবতার উপস্থিতির প্রতিনিধিত্ব স্বরূপ। অন্যান্য অনুরূপ হায়ারোগ্লিফগুলির মধ্যে রয়েছে একটি বাজ, কিছু মৌলিক প্রথম দেবতাদের স্মরণিকা স্বরূপ, যাদেরকে বাজপাখি হিসাবে চিত্রিত করা হত এবং একজন উপবিষ্ট দেবতা বা দেবী। দেবীদের অনেক সময় ডিমের হায়ারোগ্লিফ দ্বারা সংজ্ঞায়িত, লিপিবদ্ধ করা হত যা আসলে সৃষ্টি এবং জন্মের প্রতীক অথবা কেউটে সাপের প্রতীক দিয়ে বোঝানো হত। প্রাচীন মিশরীয় বিশ্বাস অনুযায়ী মৃতদেরকে 'nṯr' বলা হতো কারণ তারা দেবতাদের মত গণ্য হত যদিও এই শব্দটি খুব কমই মিশরের কম সংখ্যক অতিপ্রাকৃত প্রাণীর ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হত, যা আধুনিক পণ্ডিতরা প্রায়ই "দৈত্য" (অসুর) বলে গণ্য করেন। মিশরের ধর্মীয় চিত্রশিল্পে স্থান, বস্তু এমনকি কোন ধারণাকেও মানুষের আকারে গড়ে তোলা হত। দেবতা এবং অন্যান্য মানুষের মধ্যে এই সূক্ষ্ম পার্থক্য বোঝানোর জন্য, পণ্ডিতরা "দেবতা" র বিভিন্ন সংজ্ঞা প্রস্তাব করেছেন । একটি ব্যাপকভাবে গ্রহণযোগ্য সংজ্ঞা হল জ্যান অ্যাস্ম্যান (Jan Assmann) দ্বারা প্রস্তাবিত; তিনি বলেছেন যে একটি দেবতার একটি নির্দিষ্ট পূজাপদ্ধতি (cult) থাকবে, তিনি মহাবিশ্বের কোন না কোন দিকের সাথে সংশ্লিষ্ট থাকবেন এবং পুরাণ বা অন্য কোন প্রাচীন গ্রন্থে তাঁর উল্লেখ থাকবে। দিমিত্রি মিক্স(Dimitri Meeks) দ্বারা প্রস্তাবিত একটি ভিন্ন সংজ্ঞা অনুসারে, 'ntr' যে কোনও কারোর জন্য প্রযোজ্য হতে পারে, যদি তাঁকে কেন্দ্র করে কোন ধর্মীয় আচার অনুষ্ঠান পালন করা হয়ে থাকে। এই সংজ্ঞা অনুযায়ী, রাজ্যাভিষেক এর পরে রাজারাও দেবতা তে পরিণত হতেন। এমনকি সাধারণ মানুষও মৃত্যু এবং পারলৌকিক সংস্কার সম্পন্ন হওয়ার পরে দেবতাতে রূপান্তরিত হতেন।
প্রাচীন মিশরীয় দেবদেবীর আরো কিছু রহস্য লুকিয়ে আছে।
সংগ্রহীত
ভালো লাগলে কমেন্ট করবেন।
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now