বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
পৃথিবীর প্রথম প্রোগ্রামার "অ্যাডা লাভলেস" এর জীবনী
X
অ্যাডা লাভলেস
পৃথিবীর প্রথম প্রোগ্রামার ১৮১৫ সালের ১০ ডিসেম্বর মাসে ইংল্যান্ড এর লন্ডন এ জন্ম নেয় এক শিশু সন্তান। পিতার ইচ্ছা ছিল তার সন্তান হবে একজন “মহিমান্বিত পুরুষ”। কিন্তু পিতার সেই ইচ্ছা অপূর্ণই থেকে যায়, কেননা সন্তানটি ছিল মেয়ে ।
বিখ্যাত বায়রন পরিবারে সদ্য জন্ম নেয়া এই শিশুটি হলেন বিখ্যাত কবি ও রাজনীতিবিদ লর্ড জর্জ গর্ডন বায়রন (কবি বায়রন) এবং অ্যানি ইসাবেলা এর সন্তান অগাস্টা অ্যাডা, পৃথিবীর প্রথম কম্পিউটার প্রোগ্রামার;যিনি অ্যাডা লাভলেস নামেই সমধিক পরিচিত।
তার নামের প্রথম অংশটি(অগাস্টা) নেয়া হয়েছে তার বাবার সৎ বোন অর্থাৎ তার সৎ ফুফু অগাস্টা লেই এর নাম থেকে। কিন্তু তার বাবা তাকে অ্যাডা নামেই ডাকতেন।
তার জন্মের এক মাস এর মাথাতেই তার মার সাথে বায়রন এর বিচ্ছেদ হয় এবং তার মা তাকে নিয়ে ম্যালরি তে চলে যান। এর পরে তার আর কখনো বাবার সাথে দেখা হয়নি, তার আট বছর বয়স এ ১৮২৪ সালে কবি লর্ড বায়রন মারা যান।
অ্যাডা ছোটবেলা থেকেই অসুস্থ ও কিছুটা পক্ষাঘাতগ্রস্থ ছিলেন,কিন্তু শারিরিক প্রতিবন্ধকতা কে পাশ কাটিয়ে তিনি লেখাপড়া চালিয়ে যান।
১৭ বছর বয়সে তার গাণিতিক প্রতিভার উন্মেষ ঘটে। অবশ্য ছোটবেলা থেকেই তার মা তাকে গণিতে দক্ষ করে তুলতে চাইতেন, যাতে বাবার প্রভাব কোনোভাবেই অ্যাডার উপর প্রতিফলিত না হয়। এমনকি অ্যাডা তার ২০তম জন্মদিন এর আগে জানতেন ও না যে লর্ড বায়রন তার পিতা । গৃহশিক্ষকেরা তাকে বিভিন্ন বিষয় শিক্ষা দিতেন।
তার শিক্ষকদের মধ্যে বিখ্যাত গণিতবিদ ও যুক্তিবিদ ডি-মরগান ও ছিলেন। স্যার চার্লস ডিকেন্স, স্যার হুইটস্টোন এবং বিজ্ঞানী মাইকেল ফ্যারাডে সাথে ও তার জানাশোনা ছিল।
ছোটবেলায় তার স্বপ্ন ছিল আকাশে ওরা, অ্যাডা তার এই পরিকল্পনা নিয়ে পদ্ধতিগত ভাবে কাজও করেছেন। তখন তার বয়স ছিল মাত্র ১২ বছর।
৮জুলাই,১৮৩৫ সালে তিনি উইলিয়াম কিং এর সাথে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন। এবং তার নামের সাথে কিং যুক্ত হয়। ১৮৩৩ সালে স্যার চার্লস ব্যাবেজ এর সাথে অ্যাডার পরিচয় হয়। চার্লস ব্যাবেজ এর সাথে তার আবেগঘন সম্পর্ক গড়ে উঠে ।
ব্যাবেজ অ্যাডা কে আদর করে লেডি ফেয়ারি বলে ডাকতেন। ব্যাবেজ অ্যাডার ধীশক্তি, সাবলীলতা, প্রতিভা এবং গাণিতিক দক্ষতায় মুগ্ধ ছিলেন।
ব্যাবেজ অ্যাডা সম্পর্কে তার লেখায় অ্যাডা কে সংখ্যার জাদুকরি বলে আখ্যা দিয়েছেন। অ্যাডা তার সারা জীবন ধরে বৈজ্ঞানিক অগ্রগতির জন্য কাজ করেছেন। ব্যাবেজ এর সাথে তার বিখ্যাত কাজের পরও তিনি তার অন্যান্য কাজ গুলো চালিয়ে যান।
তার ইচ্ছা ছিল এমন একটি গাণিতিক তৈরি করা যা দিয়ে নার্ভ (স্নায়ু) কিভাবে উদ্দীপ্ত হয় তা বের করা । অর্থাৎ তিনি নার্ভ সিস্টেম এর উপর একটি গাণিতিক মডেল তৈরি করতে চেয়েছিলেন। এছাড়া তিনি ইলেক্ট্রিক্যাল সিগন্যাল এবং ম্যাগনেটিসম এর উপর গবেষণা করেছেন। তার সবচাইতে বিখ্যাত কাজ ছিল স্যার চার্লস ব্যাবেজ এর সাথে অ্যানালিটিকাল ইঞ্জিন (ডিফারেন্সিয়াল মেশিন) এর উপর গবেষণা। ব্যাবেজ কে মানুষ তখন পাগল মনে করত। তার ধ্যান ধারণা গুটিকয়েক মানুষ বুঝতে পেরেছিলেন, তার মধ্যে অ্যাডা অন্যতম।
অ্যাডা তার গাণিতিক প্রতিভার দ্বারা সদ্য নির্মিত যন্ত্রটি দ্বারা তখনকার দিনে এই যন্ত্রটির কাজ ব্যাখ্যা করা খুবই কষ্টসাধ্য ছিল, এবং অনেক বিজ্ঞানী ও গনিতবিদ চিন্তাধারা টিকে সমর্থন করেন নি। কিন্তু অ্যাডা যন্ত্রটির কার্যপদ্ধতি ও সম্ভাবনা সম্পর্কে সঠিক ব্যাখ্যা দেন।
অ্যাডার মৃত্যুর ১০০ বছর পর অ্যানালিটিকাল যন্ত্র সম্পর্কে তার একটি নোট প্রকাশিত হয়, সেই নোটের G নং এ তিনি Bernoulli numbers এর একটি সিকোয়েন্স ক্যালকুলেসন করার জন্য একটি অ্যালগরিদম বর্ণনা করেন যা পৃথিবীর প্রথম কম্পিউটার প্রোগ্রাম হিসেবেই পরিচিত। অ্যানালিটিকাল মেশিন (যা বর্তমান কম্পিউটার এর পূর্বপুরুষ) এর মত এই নোটটি ছিল মেশিনটির হার্ডওয়্যার ও সফটওয়্যার এর বর্ণনা । আর এ কারনেই অ্যাডা অগাস্টা লাভলেস পৃথিবীর প্রথম প্রোগ্রামার হিসেবেই পরিচিত ।
বিশ্ববিখ্যাত এই মহীওসী নারী ২৭ নভেম্বর ১৮৫২ সালে জরায়ুর ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুবরন করেন। তার প্রতি সম্মান স্বরূপ আমেরিকার (USA) প্রতিরক্ষা বিভাগের গণিত প্রোগ্রামিং ভাষার নাম রাখা হয় অ্যাডা, মাইক্রোসফট এর প্রোডাক্ট অথেনটিসিটি হলোগ্রামে ও তার ছবি আছে। তাকে নিয়ে “Conceiving Ada” নামে একটি মুভি ও আছে।
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now