বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
ক্লাশরুম থেকে বেরিয়ে পৃথা আহাদকে ফোন দিতে গিয়েও দিলোনা।আনমনে আহাদের ক্যাম্পাসের দিকে হাঁটতে লাগলো ও। ফাল্গুন মাস।, ভার্সিটির আনাচেকানাচে কৃষ্ণচূড়া ফুটে আছে।দূর থেকে কোকিলের ডাক শুনা যাচ্ছে।ফুরফুরে হাওয়া।মনটা ভাল হয়ে উঠলো পৃথার।ভাবলো আহাদের সাথে লেকের ধারে বসে অনেকক্ষণ ধরে গল্প করবে আজকে।
ভাবতে ভাবতেই আহাদের ক্যাম্পাসে চলে এলো ও।ইতিউতি করে খুঁজতে লাগলো আহাদকে।হঠাৎ দেখতে পেলো আহাদ একটা মেয়ের সাথে হাসিমুখে গল্প করতে করতে এদিকেই আসছে।রাগে চোখ লাল হয়ে উঠলো ওর।আহাদ ওকে দেখার আগেই দ্রুত সেখান থেকে চলে এলো ও। আহাদের সাথের মেয়েটার নাম খিয়া। আহাদের বান্ধবী আর ক্লাশমেট।পৃথাও ওর ক্লাশমেট তবে অন্য সাব্জেক্টের স্টুডেন্ট। আহাদের সাথে পৃথার পরিচয় ২ বছর আগে। প্রথম দেখাতেই ভাল লেগে গিয়েছিলো আহাদকে।তারপর বন্ধুত্ব আর সেখান থেকেই প্রেম।
আহাদকে অন্য কোনো মেয়ের সাথে সহ্য করতে পারেনা ও।আহাদকে সেটা বারবার বলার পরেও আহাদ অন্য মেয়েদের সাথে কথা বলে বিশেষত এই খিয়া নামক মেয়েটার সাথে।কিছু জিজ্ঞাসা করলেই বলে পড়ালেখা নিয়েই আলাপ হচ্ছিল ব্লা ব্লা ব্লা....
আজকে ওদের দুজনকে একসাথে দেখতে পেয়ে আর সহ্য হলোনা ওর। ও যদি আহাদের জন্য অন্য ছেলেদের সাথে কথা বলা বন্ধ করে দিতে পারে তাহলে আহাদ কেন পারবেনা।বিভিন্ন চিন্তা মাথায় ঘুরঘুর করতে থাকে ওর সাথে আহাদকে হারানোর ভয়। আহাদ শুধুই ওর।ও অন্য কারোর হতে পারেনা।আর পৃথা সেটা কখনওই হতে দেবেনা।আহাদকে নিয়ে আজকের করা প্ল্যানটা বাদ দিয়ে বাড়ি চলে যাবে ভাবলো।সামনে একটা রিকশা যাচ্ছিলো। এই রিকশা......
থামতেই বাড়ি যাওয়ার জন্য রিকশায় উঠে বসলো ও।
পর্ব ২ঃ
বাড়ি পৌঁছেই রুমে গিয়ে দরজা বন্ধ করে দিয়েই ডুকরে কেঁদে উঠলো ও।ওর সাথেই শুধু কেন এমন হয়? কেন আহাদ পারেনা সবাইকে দূরে ঠেলে দিয়ে শুধুমাত্র ওর হয়ে যেতে। কেন পারেনা?
অনেকক্ষণ কান্নাকাটি করে ফ্রেস হয়ে রুমে ঢুকতেই ওর মা খেতে যেতে বলল।খিদে নেই বলে ফোন সাইলেন্ট করেই ঘুমিয়ে পড়লো। মাথা ব্যথা করতেছে প্রচণ্ড।
মাগরিবের একটু আগে ঘুম ভাঙলো।বাইরে রোদ পড়ে গেছে। ফোন অন করে দেখলো ১২ টা মিসডকল সাথে অনেকগুলো মেসেজ।আহাদ করেছে।
মেসেজ অন করে দেখলো, আহাদকে না বলে কেন চলে এসেছে, আহাদের সাথে দেখা কেন করলোনা এসব.....
মেজাজ খারাপ হয়ে গেলো ওর।নাহ, এমনটা আর হতে দেয়া যায়না।আহাদ শুধুই ওর আর ওর হয়েই থাকবে।কঠিন একটা সিদ্ধান্ত নিয়ে বসলো পৃথা।ঠোঁটের কোনায় ফুটে উঠলো এক চিলতে হাসি।হ্যাঁ, আগামীকাল থেকে আহাদ শুধু ওর হয়ে যাবে....শুধুই ওর।আহাদ থাকবে ওর মনের মধ্যে।অন্য কারো হতে পারবেনা কখনওই।
এক কাপ কফি হাতে নিয়ে বারান্দায় গিয়েই ফোন করলো আহাদকে....
আহাদ: হ্যালো পৃথা....
পৃথা:হুম বলো?
আহাদ: কেমন আছো তুমি? আর আমাকে না বলে কেন চলে এলে?
পৃথা: আমি ভাল আছি, আর মাথাব্যথা করছিলো বলেই চলে এসেছি।
আহাদ:তোমার কণ্ঠটা এমন লাগছে কেন? কিছু হয়েছে কী?
পৃথা: না এমনিইই।কিছু হয়নাই।আগামীকাল ভার্সিটি আসবেনা?
আহাদ: হাহাহা কাল তো শুক্রবার......বারের হিসেবটাও রাখোনা নাকি?
পৃথা: ওহ(!) খেয়াল নাই। কাল বিকেলে দেখা করতে পারবে?
আহাদ: হুম পারবো। চারটার দিকে.....
পৃথা: শুনো আগামীকাল তুমি ব্লাক জিনস আর ব্লাক টিশার্ট পরে আসবে,ওকে?
আহাদ : হুম আসবো।কিন্তু এটা তো তোমার পছন্দের ড্রেস, আমাকে শুধু স্পেশাল দিনগুলোতে এটা পরতে বলো।কাল কী স্পেশাল কিছু নাকি?
পৃথা: হুম। কাল আমার জন্য স্পেশাল একটা দিন। কাল থেকে তুমি শুধু আমার হয়ে যাবে (শব্দ করে হেসে উঠলো পৃথা).....
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now