বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
লাগল পৃথা। আমারও কেন জানিনা চোখটা ভিজে উঠল।
আস্তে করে বললাম,
-'হু, নিয়ে আসব মামুনি! তোমার বাবাই খুব জলদিই আসবে তোমার কাছে। এবার একটু হাসো!'
ওপাশ থেকে পৃথার হাসির শব্দটা শুনতে পেলাম। আমারও কেমন যেন প্রশান্তি আসল বুকে। 'এই পিচ্চিটা আমার জন্যই হেসেছে,'- ভাবতেও ভালো লাগল আমার।
৪.
অনেকক্ষন হল পার্কের এই বেঞ্চটা দখল করে বসে আছি। কিন্তু অপেক্ষা শেষ হচ্ছেনা। সামনেই একটা ছেলে চকোলেট আর সিগারেট বিক্রি করছিল। ওকে ডেকে একটা সিগারেট নিলাম, জ্বালাবো কি না ভাবতেই মনে হল, 'ধ্যাত! আজ নিজের মেয়ের সাথে দেখা করতে এসেছি! আজ সিগারেট বাদ।'- ভেবেই ফেলে দিলাম।
তখনই পকেটে ফোনটা বেজে উঠল, 'পৃথার আম্মু কলিং!', দেখেই হেসে উঠলাম। রিসিভ করতেই বলল,
-'অভি, কই তুমি?'
-'এইত ম্যাম! আমি আপনার নির্ধারিত পার্কের একটা বেঞ্চে কালো পাঞ্জাবী পরে বসে আছি। আমার মেয়ে কোথায়?'
-'বসে থাকুন। আপনার মেয়েকে নিয়ে খুব জলদিই পৌছব। বুঝেছো?'
-'হু,' বলেই কেটে দিলাম। এরপর বসে বসে অপেক্ষা করতে থাকলাম।
আজকেই প্রথম দেখা হবে পৃথার সাথে। অবশ্য সেটা পৃথার কাঁন্না আর জোর করার কারনেই।
তবে শেষ ক'মাসে পৃথার আম্মুর মানে মৃন্ময়ীর সাথে বেশ বন্ধুত্ব হয়েছে, আর পৃথা যেন আরও বেশি আপন হয়ে গিয়েছিল। মৃন্ময়ী অনেক কিছুই শেয়ার করত আমার সাথে, আর আমিও। অরণীকে হারানোর কষ্ট আর আঘাত করত না খুব একটা।
মৃন্ময়ী মেয়েটার কথাগুলো খুব ভালো লাগত আমার। প্রতিদিন কথা হত ওর সাথে। তার আগেই অবশ্য আমায় অনেক্ষন শুনতে হত আমার মেয়ের কথা। এরপর বলত, 'বাবাই, এই নাও; মামুনীর সাথে কথা বলো।'
এভাবেই একদিন ফোনে কথা বলার সময় জিজ্ঞেস করেছিলাম, 'মৃন্ময়ী, তোমার সব কথা আমায় বলবে? তোমার পরিবার, সংসার, সব কিছু।'
'হু,' বলেই পৃথাকে অন্য একটা রুমে যেতে বলল। এরপর উদাস কন্ঠে বলতে শুরু করল,
- 'অভি, আমার পরিবার বলতে এখন আসলে কিছুই নেই। অবশ্য পৃথা ছাড়া।'
আমি চুপ করে ওর কথা শুনতে থাকি। আর মৃন্ময়ী বলতে থাকে, "আমার বাবা, শহরের বেশ বড় ব্যবসায়ী। তিন ভাই বোনের মাঝে আমি ছিলাম ছোট। ভাইয়া ছিলেন বড়, এরপর মেজো আপু এবং আমি। মা অনেক আগেই ছেড়েছিলেন পৃথিবী।"
-'তারপর?' জিজ্ঞেস করি আমি।
- "তখন অনার্স প্রথম বর্ষ," দীর্ঘশ্বাস ফেলে বলতে থাকে মৃন্ময়ী, "শাওন নামের একটা ছেলেকে ভালো লাগত আমার, অবশ্য বন্ধু হিসেবে। ও মাস্টার্স করছিল। প্রথম দেখা হয়েছিল 'বাঁধন' এর একটা অনুষ্টানে। দ্বিতীয়বার কথা হয় হসপিটালে। সেদিন শাওনের ফোন পেয়ে ব্লাড ডোনেট করতে গিয়েছিলাম।" এটুকু বলেই থামে মৃন্ময়ী। আমি চুপ থাকি।
-"এরপর থেকে প্রায় নিয়মিত কথা হত ওর সাথে," বলতে থাকে মৃন্ময়ী, "অনেক লম্বা সময় নিয়ে কথা হত ওর সাথে। বলতে পারো সারারাত ই। তবুও কথা শেষ হত না। ভোরের দিকে নামাজ শেষ করে ঘুমাতে যেতাম। শাওন নিজেও নামাজ পড়ত। এরপর ঘুমাতো। সকালে আমি জাগিয়ে দিতাম। এভাবেই চলছিল আমাদের গল্পটা।" দম নেয় মৃন্ময়ী। আমি কিছুই বলিনা। চুপ থাকি।
- "আমার আজও মনে আছে," আস্তে করে বলে মৃন্ময়ী, "সেদিন ছিল ১৯ ফেব্রুয়ারী। আমার জন্মদিন। ঠিক রাত ১২টায় ফোন আসে ওর নাম্বার থেকে। উইশ করার আগেই বলে ওঠে, 'আজ একটা কথা বলতে চাই। জানিনা কি বলবে তুমি। বলব কী?' আমি সম্মতি জানালে ও বলে ওঠে,
''আমি সারাজীবন তোমার জন্মদিনে তোমার কপালে একটা আদর আঁকতে চাই। আমাকে সেই অধিকার দিবা? সারাজীবন তোমার মাথার চুলগুলো এলোমেলো করে বলতে চাই, 'ভালোবাসি... ভালোবাসি...''
আমি কি বলব বুঝতে পারছিলাম না। কিন্তু ভেতর থেকেই যেন বের হয়ে আসে, 'ভালোবাসি... ভালোবাসি...'। শাওন আনন্দে একটা চিৎকার দেয়। পাগল ছেলে তো, তাই।", বলেই হেসে ওঠে মৃন্ময়ী।
আমিও হেসে উঠি ওর কথা শুনে।
-"ভালোই চলছিল সব," আবার বলতে শুরু করে মৃন্ময়ী, "কিন্তু সমস্যা শুরু হয় তখন, যখন আমাদের ভালোবাসার কথাটা বাসায় জেনে ফেলে। বাবা আমার জন্য একটা পাত্র দেখে। আমার কোনো কথাই শুনতে চাইনি কেউ। না বাবা, না মেজোপু, না বড় ভাইয়া। মা থাকলে হয়ত বুঝত। কিন্তু..."
চুপ করে যায় মৃন্ময়ী। আমি বুঝতে পারি ও কাঁদছে। আমি কিছু বলতে পারিনা।
- "শাওনকে ছাড়া বাঁচা সম্ভব ছিল না, "ভারী কন্ঠে বলে ওঠে সে, "বিয়ের দিন পালিয়ে বিয়ে করেছিলাম আমরা। এরপর প্রথম গেলাম শাওনের বাসায়। কিন্তু ওর পরিবার কেন জানিনা আমায় মেনে নিল না। বলে দিল, আমরা যেন আর ও বাড়ি মুখো না হই। এরপর শাওনের এক বন্ধুর বাসায় গেলাম। সেখানেই কয়েকদিন ছিলাম। ভেবেছিলাম কদিন পর হয়ত পরিবার আমাদের মেনে নিবে। কিন্তু আমাদের পরিবার মেনে নিল না। তারপর নিজেদের পথ নিজেরাই খুঁজলাম।"
আমি খেয়াল করলাম আমার চোখটা ভিজে আসছে। কিছু বলার ছিলনা আমার। চুপ করে বসেছিলাম।
-"এরপর দুজন মিলে সংসার টা গুছিয়ে তুলছিলাম," বলল মৃন্ময়ী, "বিয়ের প্রায় ২বছরের মাথায় পৃথা আসল। ওকে নিয়ে আমরা দুজনে অনেক বেশিই ব্যস্ত ছিলাম। জানো, খুব ভালোবাসি মেয়েটাকে। আমাদের বেবি হয়েছে, এটা শোনার পরও আমাদের মেয়েকে কেউ দেখতে আসেনি। না শাওনের পরিবারের, না আমার পরিবারের। অবশ্য আমার মেজো আপু ছাড়া।"
- "তারপর?" জিজ্ঞেস করি আমি।
- "হঠাৎ কি যেন হল," ফুঁপিয়ে বলে ওঠে মৃন্ময়ী, "আমাদের সুখের ঘরে হয়ত কারও নজর পড়ল। ওর বাবাই চলে গেল না ফেরার দেশে।" কাঁদছিল মৃন্ময়ী। আমার কিছুই যে বলার ছিলনা তখন! সান্ত্বনা দেওয়া যে সম্ভব না!
- "এরপর বাড়ি ফেরার ট্রাই করলাম," বলল সে, "ভাবলাম, হয়ত মেনে নেবে আমায়। কিন্তু নাহ্, মেনে নিল না। অপমান করে তাড়িয়ে দিল বড় ভাইয়া, বাবা কিছুই বললেন না। কি করব কিছুই বুঝতে পারছিলাম না। তখনই মেজো আপু সাহায্য করল, একটা কিন্টার গার্ডেনে চাকুরী জুটিয়ে দিল। এরপর এইত বেঁচে আছি।" বলেই সম্ভবত চোখটা মুছে নিল সে।
- "আচ্ছা শোনো মৃন্ময়ী," বললাম আমি, "পৃথা আমায় দেখলে যদি মুখ ফিরিয়ে নেয়! যদি বলে,
-'তুমি আমার বাবাই না,' তখন?"
- "নাহ্," বলল মৃন্ময়ী, "পৃথার বাবাই এর চলে যাওয়ার পর ওর সব ছবি আমি লুকিয়ে রেখেছি আর ও তো পিচ্চি! ওর বাবার চেহার মনেই নেই!"
বুকটা যেন প্রশান্তিতে ভরে গেল। আমার মেয়ে, পৃথা আমার মেয়ে! ভাবতেও ভালো লাগল। আমি যে আমার মেয়েকে সত্যিই ভালোবাসি!
৫.
পার্কের এই বেঞ্চে বসেই হঠাৎ খেয়াল করলাম, আমার দিকে একটা মেয়ে, পিচ্চি বাচ্চার হাত ধরে হেটে আসছে। ওরা আসতেই আমি দাড়িয়ে পড়লাম। মেয়েটি আমার দিকে এসেই বলল,
-'অভি?'
-'জ্বী,' অবাক হয়ে মেয়েটির দিকে তাকিয়ে বললাম,
-'তুমি নিশ্চয়...'
-'পৃথার আম্মু,' আমার মুখ থেকে কথাটা কেড়ে নিয়ে ঐ পিচ্চিটাকে বলল,
-'পৃথা, এটা তোমার বাবাই!'
পৃথা আমার দিকে অবাক দৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকল অনেকক্ষন। আমিও আমার পরীর মত মেয়েটির দিকে তাকিয়ে রইলাম। এরপর আমার হাত দুটো ধরল পৃথা।
-'বাবাই জানো, আম্মু আমায় বকা দিয়েছে,' বলেই মুখটা নিচের দিকে নিয়ে বলল,
-'আমি আম্মুর ওপর রাগ করেছি।'
আমি পৃথাকে আমার বুকে নিতে নিতে ওর আম্মু মানে মৃন্ময়ীর দিকে তাকিয়ে বললাম, -'কেনো! তুমি আমার মামুনিকে বকা দিয়েছ কেনো?'
- 'এমনিতেই, বাদ দাও!', বলেই এড়িয়ে যায় মৃন্ময়ী। আমিও তেমন একটা গুরুত্ব দিইনা আর। তবে পৃথার কপালে একটা চুমু একে বললাম,
-'আর বকা দিবেনা তোমার আম্মু। আমি বকে দিব ওকে। আচ্ছা?'
-'আচ্ছা,' খিলখিল করে হেসে ওঠে পৃথা,
-'বাবাই আম্মুকে বকবে। কি মজা!'
ওর হাসিটা আমার বুকে যেন প্রশান্তির ঢেউ বইয়ে দেয়। আমি জড়িয়ে ধরে থাকি আমার মেয়েকে। চুপটি করে সেখানে লেগে থাকে পৃথা। মৃন্ময়ীর দিকে তাকিয়ে হাসতে থাকে মেয়েটা, চোখে নিষ্পাপ একটা আনন্দ!
এরকম হাজারটা আনন্দের সাথে কখন যে বিকেল গড়িয়ে সন্ধ্যা ঘনিয়ে আসে, বুঝতে পারিনি আমি। সম্ভবত হারিয়ে গিয়েছিলাম কোনো আনন্দের সাগরে। হঠাৎ মৃন্ময়ীর কথায় বাস্তবে ফিরলাম।
-'এই যে, আপনাদের বাবা আর মেয়ের বকবক কি শেষ হয়েছে? হলে আমাকে প্লিজ বলুন! আমায় যেতে হবে তো!'
-'ধুরর,'
আক্ষেপ ঝরে পড়ে পৃথার কন্ঠে,
- 'আম্মু সবসময় এমন করে। আমাকে বাবাই এর আদর নিতেই দেয়না। এতদিন পর বাবাই আমায় একটু আদর দিচ্ছে, সেটা উনার সহ্য হয়না! হুহ্!'
-'ইশশ,'
হাসতে হাসতে বলে মৃন্ময়ী,
-'অনেক আদর নেওয়া হয়েছে। এখন চলুন আপনি! পরে একদিন আবার এসে বাবার আদর নিয়ে যাবেন!'
-'মানে?'
খুব অবাক হয়ে জিজ্ঞেস করে পৃথা,
- 'আমরা এখন বাবাই এর সাথে যাবোতো! বাবাই কে একলা যেতে দিবনা! নইলে আবার বাবাই হারিয়ে যাবে! ও মা, বাবাই কে নিয়ে চলো না!'
মৃন্ময়ী স্তব্ধ হয়ে যায় পৃথার কথায়। আমিও কিছুই বলতে পারিনা। কিছু বলারও যে নেই!
-'ও বাবাই,'
আবার বলে ওঠে পৃথা,
-'চলোনা আমাদের সাথে। তোমায় ছাড়া থাকতে আমার একদম ভালো লাগেনা তো!'
-'হুমম,'
অস্ফুটভাবে বলি আমি,
-'আজ যাও লক্ষী মেয়েটা। ক'দিন পরেই একদম তোমার কাছে চলে আসবো, একেবারে।'
-'সত্যি তো?'
আনন্দ ঝরে পড়ে পৃথার কন্ঠে। আমিও সম্মতি জানায়। শুধু মৃন্ময়ী আমার দিকে অবাক চোখে চেয়ে থাকে। আমি চুপচাপ আমার মেয়েটির গাল টিপে আদর করে দিই।
একটু পরেই ওদের একটা রিক্সাতে উঠিয়ে দিয়ে বাসার পথে হাটতে থাকি আমি। আর অবিশ্বাস নিয়ে ভাবতে থাকি, 'সত্যিই এমন একটা মেয়ে খোদা আমার ভাগ্যে রেখেছিলেন?'
৬.
বেশ কদিন পরের কথা। সেদিন অফিস ছুটি। একা একা রুমে বসে আছি। হঠাৎ ফোন এল মৃন্ময়ীর নাম্বার থেকে।
-'বাবাই, এখন আমাদের কি হবে?'
পৃথার ক্রুন্দনরত শব্দটা যেন আমার বুকে বজ্রের মত আঘাত করল।
-'কি হয়েছে সোনা?'
আদুরে স্বরে বললাম,
-'কাঁদছে কেন আমার মেয়েটা? আমার মেয়েটা কাঁদলে আমিও কাঁদব কিন্তু।'
- "বাবাই,"
একই কন্ঠে বলল আমার মেয়েটা,
-"বাসার মালিক কাক্কুটা আজকেই বাড়ি খালি করতে বলেছেন। আম্মু নাকি টাকা দেয়নি উনাকে। আম্মু অন্য রুমে কাঁদছে। আমরা এখন কোথায় যাবো?"
কিছুক্ষন এর জন্য যেন স্তব্ধ হয়ে গেলাম। পৃথা এসব কি বলছে? আর মৃন্ময়ী কেনোই বা আমার কাছে এসব লুকিয়েছে? এমন অনেক প্রশ্ন মনে আসতে শুরু করল। হঠাৎ পৃথার কাছে থেকে ফোনটা হয়ত কেড়ে নিয়ে মৃন্ময়ী বলল,
-"পৃথা তোমায় কী কী বলেছে?"
-"যাই বলুক,"
রাগত স্বরে বললাম,
-"নিশ্চয় মিথ্যে বলেনি। ও তোমার মত মিথ্যে বলেনা।"
-"আরে ও মজা করেছে!"
- "কি হয়েছে বলবা? নাকি ফোন রাখব?"
- "কিছুই হয়নি বলার মত!"
- "শোনো,"
উচ্চস্বরে বললাম,
-"তোমায় নিয়ে আমার বিন্দু পরিমান চিন্তা নেই। কিন্তু আমার মেয়ে একটু কষ্ট পেলেও আমি তোমায় ছেড়ে কথা বলব না। সত্যিই তোমায়..."
- "আসলে,"
অস্ফুটভাবে বলল সে,
-"আমার চাকুরীটা চলে গিয়েছে কয়েক মাস হল। যে টাকা সেভ করা ছিল, তাও শেষ। মেজোপু কিছু হেল্প করতে পারেনি। তাই..."
- "ওহ্,"
প্রচন্ড রেগে বললাম,
-"আমি তো তোমার কেউ হইনা। আমায় কেন বলবা এসব? আমার মেয়েটার কথাও একবার ভাববে না?"
- "সরি,"
বলেই কাঁদতে শুরু করল মৃন্ময়ী।
আমি ঠিক করে ফেললাম আমার কি করতে হবে। এটাই একমাত্র উপায়। মৃন্ময়ীকে একটু হোল্ড করতে বললাম। এরপর সরাসরি মায়ের নাম্বারে ফোন দিলাম। মা রিসিভ করতেই মৃন্ময়ীর নাম্বারটা আনহোল্ড করে বললাম,
-"মা, আমি বিয়ে করেছি কি না সেই প্রশ্ন করোনা। কিন্তু তোমার একটা নাতনী আছে। ওর নাম পৃথা।"
মা হয়ত অবাক হল, সাথে মৃন্ময়ীও। মা আর মৃন্ময়ী দুজনেই চুপ করে থাকল অনেক্ষন। এরপর মা বলল,
-"আমার নাতনীর সাথে কথা বলব।"
- "মৃন্ময়ী,"
আস্তে করে বললাম আমি,
-"পৃথাকে একটু দাও।"
এরপর মৃন্ময়ী পৃথাকে দিয়ে বলল,
-"তোমার দাদীমা, সালাম দাও।"
-"আসসালামু আলাইকুম দাদীমা।"
-"ওয়ালাইকুম সালাম পৃথা,"
বলল মা,
-"আমার ছেলেটা কি তোমার আব্বু?"
-"উহু,"
বলল পৃথা। ওর কথাটা শুনে আমি প্রচন্ড অবাক হলাম। মৃন্ময়ীও হয়ত অবাক হল!
-"তবে কে?"
শান্ত কন্ঠে বলল মা।
-"আমার বাবাই,"
বলল পৃথা। এটা শুনে যেন বুকটা আমার ভরে উঠল। ডুকরে কেঁদে উঠলাম আমি। নিজেকে ধরে রাখা খুব শক্ত লাগছিল যে!
-"পৃথা,"
বলল মা,
-"তোমার মামুনিকে ফোনটা দাও।"
এরপর পৃথা ফোনটা দিতেই মা বলল,
- "আমার ছেলেটা আমাকে না জানিয়ে কিছু করবেনা সেটা আমি জানি। তাই ও বিয়ে করেছে, এটা বিশ্বাস করছি না। যাকগে, আমার ছেলের বউ হতে কোনো আপত্তি আছে তোমার?"
মৃন্ময়ী কিছুই বলল না। তবে কাঁদতে শুরু করল। জানিনা এটা কিসের কান্না ছিল। কিন্তু এটা বুঝলাম, আমার মাকে 'না' বলার সাহস নেই মৃন্ময়ীর। আমার মাকে না বলার সাহস কেন যেন হলোও না মৃন্ময়ীর।
হঠাৎ মায়ের পাশে থেকে উষা বলল,
-'দেখো ভাবী, তুমি না বললেও কিছু করার নেই। আমি আমার মেয়ের জন্য অপেক্ষা করছি। পৃথা কিন্তু এখন শুধু ভাইয়ার ই মেয়ে না, আমারও মেয়ে।'
কথাটা শুনে মৃন্ময়ী মৃদু হেসে বলল,
-"হু। তোমারও মেয়ে।"
- "ঐ বেয়াদবের দল,"
মা সম্ভবত আমাদের দুজনকে উদ্দেশ্য করে বলল,
-"কাঁন্না থামিয়ে জলদি আমার নাতনীকে, আমার সইকে আমার কাছে নিয়ে আয়।" কথাটা শুনে হেসে উঠলাম দুজনেই। পৃথার হাসির আওয়াজ ও কানে আসল।
-"মা," বললাম আমি,
-"তুমিও না! এই বয়সে রসিকতা করো!"
-"আমি রসিকতা করি?"
তাচ্ছিল্যের স্বরে মা বলল,
-"তোমার মেয়ে কত বড় রসিকতা করল হ্যাঁ? আব্বু না, বাবাই! হেহ্! যাকগে, জলদি আয়, আমি আমার আরেকটা মেয়ে, এবং সই এর জন্য অপেক্ষা করছি।"
বলেই কেটে দিল মা।
-"মৃন্ময়ী,"
বললাম আমি,
-"আমার মেয়েটার দায়িত্ব সম্পুর্ন নিতে চাই। বঞ্চিত করোনা প্লিজ।"
-"হেহ্,"
আদুরে স্বরে বলল মৃন্ময়ী,
-"ঢং না করে জলদি আসো। নইলে আম্মাকে বলে দিব, 'আপনার ছেলে লেট করেছে।"
-"হ্যাঁ বাবাই! জলদি আসো, তোমার কাছে যাবো।"
পাশে থেকে বলল পৃথা। আমি হাসতে হাসতে রুম থেকে বের হলাম।
রাস্তায় আজও হাটছি রিক্সা নিতে ইচ্ছে হচ্ছেনা। হঠাৎ মনে হল আবার যদি কাগজের প্লেন ক্রাশ করে? ভাবতেই গা সিউরে উঠল। সামনেই একটা রিকসা যাচ্ছিল। চিৎকার দিয়ে বললাম,
-"এই মামা, আমি আমার পৃথা মামুনীর বাসায় যাবো। যাবা?"
রিক্সাওয়ালা ভ্রু কুঁচকে তাকালো। আমি হেসে উঠলাম। আমি হাসলাম, কারন পৃথিবীতে আজ যদি একটা সুখী মানুষ থাকে, সেটা আমি। আমি, আমি অভি। পৃথার বাবাই অভি। মৃন্ময়ীর অভি।
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now