বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
-''ঐ যাদুর জিনিষখানা আমায় দিয়ে যা না রে।নিত্য
গোল রুটি খাব।''
-''ওটা তো দেয়া যাবে না।আমরা বরং অন্য
আরেকদিন এসে রুটি খাইয়ে যাবখন।''
-''এএএইই মেয়েরা শোন না...''
কিসের কি? ঠিকানা হাসিল করে তারা কি আর তখন আর
ডাইনির ডেরায় বসে থাকবে?
একছুটে সোজা গোলোকে উঠে পগারপার।
-''ওটা কি ছিল রে।টপাটপ রুটি বেরিয়ে এল।''
-''ওটা তো রুটিমেকার।মায়ের রুটি তৈরির যন্ত্র।
প্লাগ লাগিয়ে আটার গোলা দিতেই ঝটপট রুটি তৈরী
হয়ে যায়।প্রযুক্তির কারিশমা, বুঝলে?''
-''হ্যাঁ গো, তোমাদের ঐ প্রযুক্তি বড্ড
কাজের।''
খুব এক চোট হেসে নিল দুই বন্ধু।অতঃপর
নির্দেশনা অনুযায়ি উড়ন্ত গোলোক তাদেরকে
কিছুক্ষনের মধ্যে পৌঁছে দিল সেই কাটামুণ্ডুর
সরোবর নামক জায়গাটায়।
চারিদিকে পাতাহীন শুষ্ক গাছপালার মাঝে গোলাপি
রংয়া পানির এক সরোবর, পাশেই এক বটগাছের মত
মোটা বিরাটাকৃতির বৃক্ষ আর তাতে ঝুলছে অগনিত
কাটা মাথা।গাছটার কান্ডের অংশের মাঝামাঝিতে একটা
মুখ, চোখ দুটো বোঁজা।ওটাই বুঝি কাটামুন্ডু
গাছের জ্বীনের সর্দারের মুখ।
-''এই যে শুনছো?''
ভয়ার্থ কন্ঠে ডাক ছাড়ল তিম্বরী, আর তাতেই
চোখ মেলে চাইল জ্বীন।
মুখে একটা বিটকেলে হাসি ছড়িয়ে বলল,
-''কে রে তোরা খুকি?এই অবেলায় ডাকিস
আমায়।''
-''আমরা অনেক দূরদেশ থেকে এসেছি
স্বর্ণকমলের খোঁজে।''
-''স্বর্ণকমল? হাঃ হাঃ হাঃ...
স্বর্ণকমল পেতে হলে আমার দুটি প্রশ্নের
সঠিক জবাব দিতে হবে।ফিরে যাও বালিকা, ওটা
তোমাদের কম্ম নয়।
হাঃ হাঃ হাঃ...''
পৃথিবী কাঁপানো হাসি হেসে উঠল জ্বীনটা।
তবে তাতে একটুও না ঘাবড়ে আরও দ্বিগুন
উত্সাকহ নিয়ে সামনে এগিয়ে এল ইতু।
-''আমি দিব তোমার প্রশ্নের জবাব।সময় নষ্ট
করার মত সময় নেই আমাদের হাতে।
কর তোমার প্রশ্ন।''
-''ঠিক আছে, যেমন তোদের ইচ্ছা।শোন
তবে আমার প্রথম প্রশ্ন-
কালো রংয়া শক্ত পাথর,
পাতায় ফোটায় মনের আঁখর।''
প্রশ্ন শুনে তো ইতুর মাথায় হাত...!
এ কেমন প্রশ্ন? তথাপি উত্তর তো দিতেই
হবে, তাই খুব গভীরভাবে ধাঁধাঁটা ভাবতে লাগল।
কিছুক্ষন ভাবার পরেই বুঝতে পারল ব্যাপারটা।
কালো পাথর পাতায় ফোটায় মনের আঁখর? আঁখর
মানে কি অক্ষর? হবে হয়তো।
সাতপাঁচ ভেবে অবশেষে জবাব দিল সে।
-''কয়লা আর কালির কথা বলছো তুমি।ঠিক?''
-''হুমম উত্তর সঠিক।এবার দ্বিতীয় এবং শেষ
প্রশ্ন,
জলের তলে আগুন জ্বলে,
সেই আগুনে শিলা গলে।''
এইবারও যথারীতি দুঃশ্চিন্তার রেখা ফুটলো ইতুর
কপালে।গত ধাঁধাঁটা তো বুঝলো, কিন্তু এই ধাঁধাঁটা
তো আরও বিটকেলে লাগছে।এটার মানে কি?
জলের নিচে আবার আগুন জ্বলবে কি করে? কি
করে? অকুল ভাবনায় দাঁত দিয়ে ঠোঁটে চিমটি কাটল
সে।বেশ কিছু সময় পেরিয়ে গেলেও কিছুতেই
উত্তরটা বুঝতে পারছে না কি হবে।এযাত্রায় গর্দান
বুঝি গেলই।ভাব ইতু ভাব...
হ্যাঁ পেয়েছে।ঠিক।সে যা ভাবছে ওটা নিশ্চয়ই
ঠিক।
-''তোমার এই প্রশ্নের উত্তরও তো বেশ
সোজা।একটা কাঁচের পাত্রে পানি ভরে তার নিচে
জ্বলন্ত মোমবাতি রাখলেই তো হয়ে গেল।
জলের তলে আগুনও জ্বলবে আর সেই
আগুনে শিলাও গলবে।ব্যাস্...''
জ্বীন মনে হয় কিছুটা মনক্ষুন্ন হল, কারন এই
প্রশ্নের উত্তরটাও যে সঠিক।তদস্বত্তেও
পুঁচকে মেয়ের সাহস দেখে কিছুটা খুশিও হল
সে।শর্তানুযায়ি এবার তো স্বর্ণকমল দিতেই হয়।
স্বর্ণকমলের সাথে সাথে পরীদের রাজমাতার
তেলেসমাতি আংটিও উপঢৌকন হিসেবে ইতু তিথুর
হাতে তুলে দিল জ্বীন।দীঘির অতলে এতকাল
সংরক্ষিত ছিল দুটোই।কথা ছিল যেই প্রশ্নের সঠিক
উত্তর দিতে পারবে সেই ব্যাক্তিই হবে
স্বর্ণকমল আর আংটির মালিক।
যাই হোক, স্বর্ণকমল নিয়ে এসে তার রস মিঠে
পরীর ঠোঁটে ছোঁয়াতেই এক্কেবারে
ঝরঝরে সুস্থ হয়ে গেলেন তিনি।রাক্ষসপুরী
তে আবারও উত্সহবের আমেজ ফিরে এল।
এদিকে তিম্বরী গিয়ে পরীদের রাজমাতাকে
সেই তেলেসমাতি আংটিটা উপহার দিতেই,
নাতনীকে বুকে জরিয়ে নিলেন তিনি।রাক্ষসরাও
পেল পরীস্থানে অনুপ্রবেশের অনুমতি।
সকলেই সুখি।
মিটে গেলে রূপকথার রাজ্যের গন্ডগোল।
যাক্... গন্ডগোল তো মিটে গেল এবার ইতুরও
ঘরে ফেরার পালা।
-''ইতু, এবার তোমার ফেরার পালা বন্ধু।যেতে
দিতে মন চাইছে না,
তবুও যেতে তো দিতেই হবে।''
-''হ্যাঁ, আমারও কি যেতে ইচ্ছে করছে বল
বন্ধু? কিন্তু মা, বাবা, দিদুর জন্যেও তো মনটা
কেমন করছে।আমাকে না পেয়ে তাদের যে
কি অবস্থা কে জানে?''
-''এ বিষয়ে তুমি একদম ভেবো না।আমি
তোমাকে সেই সময়ে পৌঁছে দেব যখন
আমাদের প্রথম দেখা হয়েছিল।আর এই পালক টা
রাখ, যখনই আমার কথা মনে পড়বে এতে তিনটা ফুঁ
দিও, যেখানেই থাকি হাজির হয়ে যাব।তবে যাওয়ার
আগে একটা প্রশ্ন বন্ধু,
জ্বীনের প্রশ্ন দুটোর জবাব তুমি কি করে
দিলে বলতো...?''
-''ও আচ্ছা।সে আর এমন কি।আমাদের সাধারন
বিজ্ঞান বই থেকে অমন বহু তথ্যই জানতে পাওয়া
যায়।পড়াশুনা অনেক কাজে লাগে বন্ধু, আর এটা শুধু
আমার কথা নয়, মাও বলে সবসময়।''
অবশেষে রাক্ষসপুরী আর পরীস্থানের
সকলে মিলে হাসিমুখে বিদায় দিল ইতুকে।রাক্ষস
খোক্কসগুলো আসলে বড্ড ভাল।সহসা হুঁস হুঁস
করে রাজ্যের ঘুম চোখের পাতা ভারী করে
দিল তার, ঝাপসা চোখে শেষবারের মত
তিম্বরীর হাসি হাসি মুখটা দেখতে পেল সে।
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now