বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

পরীর পালক-০৩

"রূপকথা " বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান রিয়েন সরকার (০ পয়েন্ট)

X গোলোকটা যখন ভূমি স্পর্শ করলো তখন সময় দ্বিপ্রহর, পদ্মদীঘির কিনার ঘেঁষটে নেমে পড়ল ওরা। স্বচ্ছ কাঁচের মত টলটলে পানি, ঢেউহীন, নীলাভ। -''কেশবতী রাজকন্যার জানালার ধারে আসার সময় বুঝি হয়েই গেল।তোমার ঝোলা থেকে পত্র, রং, কাঠের তুলি এইসব বের কর ঝটপট।'' -''আরে দাঁড়াও না অত ব্যস্ত কেন হচ্ছো তিথু? আমার কাছে জাদু আছে। সবুর।'' -''ঐ... ঐ তো রাজকন্যা এল, জলে তার ছায়া দেখা দিল।'' অবাক চোখে দেখছে তিম্বরী, ঝোলার ভেতর থেকে কালচে রংয়া চৌকাকৃতির কি যেন একটা বের করল ইতু। ক্যাঁচ ক্যাঁচ শব্দ তুলছে অদ্ভুত বস্তুটা। -''কাজ শেষ।চল।'' -''এঁ... ওটা কি গো ইতু?'' -''হাঃ হাঃ হাঃ... এটা? এটা হচ্ছে আব্বুর মোবাইল ফোন।যে কারও ছবি তুলে নেয়া যায় এতে। রাজকন্যার ছবি তুলে নিলাম।'' -''ভারী মজার বস্তু তো...!'' -''হ্যাঁ এটাই প্রযুক্তি।'' -''ও আবার কি?'' -''ধূর... বুঝবে না।চল বনরক্ষীর কাছে চল, দেরি হয়ে যাচ্ছে তো।'' -''হ্যাঁ... হ্যাঁ, তাড়াতাড়ি গোলোকে চড়ে বস।'' সাততাড়াতাড়ি গোলোকে চড়ে বসতেই গোলোক চলল ছুটে।পরবর্তী ঘটনাগুলো বলা যায় খুব দ্রুতই ঘটে গেল।গোলোক তেপান্তরের মাঠ পেরিয়ে শেষ সীমানায় এসে থামল খান্ডব বনের সামনে।রাক্ষসকন্যা কিছুক্ষন হাঁক ডাক দিতেই গভীর জঙ্গল থেকে হড়হড় করে শব্দ তুলে বেড়িয়ে এল বনরক্ষী। পুরো দেহ পাতায় মোড়া, পায়ের দিকটা শেকড়ে ঘেরা আর শরীরটা কান্ডের মত।বনরক্ষীর এ হেন চেহারা দেখে বুকটা একটু ঢিপঢিপিয়ে উঠল ইতুর।কোনমতে তিথুকে দিয়ে বনরক্ষীটার হাতে মোবাইলটা ধরিয়ে দিয়ে তবেই স্বস্তি, বনরক্ষীটা অবাক হয়ে কিছুক্ষন ছবিটা উল্টে পাল্টে দেখে এরপর আবার ফিরিয়ে দিল মোবাইল। ছবি তো নিখুঁত, তাই ঠিকানা বলতেও বাধ্য সে। ডাইনির ঠিকানা জেনে তারা গোলকে চড়তে পা বাড়ানোর আগে পেছন থেকে বিস্মিত চোখে একটা প্রশ্নই শুধু করল বনরক্ষী, -''কালো মত ওটা কি ছিল গা?'' প্রত্যুত্তরে ইতু বলল ঠিকই 'মোবাইল', তবে বনরক্ষী কি ছাই বুঝল কে জানে? অত দেখার সময় কি আর আছে? গোলক তো তখন শূন্যে। লাল পাতা কালো কান্ডের উদ্ভিদে ঘেরা বনের ঠিক মাঝখানে গোলাকৃতির ফাঁকা জায়গায় একটা কাঠের বাড়ি।এখানে সেখানে ঝুলছে মাকড়সার বাসা।আচমকা ভেতর থেকে ভেসে এল খলখলানো হাসির আওয়াজ। -''একচোখা ডাইনিটা বোধ হয় ভেতরেই আছে। আমার একটু একটু ভয় লাগছে তিথু।'' -''ভয় পেও না।দুজন থাকলে ভয় কিসের?'' -''আচ্ছা চল।'' -''দাঁড়াও।এখনও ভেবে দেখ ঠিকঠাক নিখুঁত গোল রুটি বানাতে পারবে তো? না হলে এখনও সময় আছে ফিরে যাওয়ার, আমি চাইনা আমার জন্য তোমার কোন ক্ষতি হোক বন্ধু।'' -''আরে না... না বন্ধু।সে চিন্তা আমার, চল ভেতরে যাই।'' ঘরটার অভ্যন্তরে হালকা আলো ছড়িয়ে বেশ রহস্যময় এক পরিবেশের সৃষ্টি করেছে।এক কোঁনায় কাঠের কুঠুরির মধ্য জ্বলছে নীলাভ আগুন।তার পাশেই কালো আলখেল্লা পড়ে কুঁজো হয়ে বসে আছে একচোখা ডাইনিটা। ওদের দুজনকে দেখা মাত্রই হিসহিসিয়ে তেড়ে এল। -''কে রে তোরা? এখানে আসার সাহস পেলি কি করে?'' একচোখা ডাইনিটার চেহার দেখে কোত্ করে ঢোক গিলল ইতু।অমন বিদঘুটে চেহারা জীবনেও দেখেনি আগে।হাতির গায়ের মত চামড়ার রং, গোটা মুখের মাঝে একটি মাত্র ডিমাকৃতির চোখ আর সূঁচালো হলদেটে দাঁত। বাপরে কি ভয়ংকর...! -''আমরা এসেছি তেপান্তরের মাঠ পেরিয়ে দূরদেশ থেকে আপনাকে রুটি খাওয়াব বলে। আপনি যদি আমাদের বিদ্যুত্ অর্থাত্ বিজলির ব্যবস্থা করে দেন তাহলে আমরা আপনাকে খাওয়াতে পারব গোল গোল সুস্বাদু রুটি।'' -''রুটিইইই...'' লোভাতুর দৃষ্টিতে সবকয়টা সুঁচালো দাঁত বিকশিত হাসি দিল ডাইনি। -''হ্যাঁ।গোল গোল রুটি। তবে এক শর্তে, কাটামুন্ডুর সরোবরের পথ বাতলে দিতে হবে।'' -''গোল রুটিইইই... হ্যাঁ হ্যাঁ বলব পথ। আগে গোল রুটি দে না।'' ডাইনিটা লোভের বসে বিজলীর ব্যবস্থা করে দিল।এদিকে তিম্বরীর তো ভয়েই কলজে শুকিয়ে কাঠ কিন্তু ইতুর মাঝে কোন ভয়ের লক্ষনই নেই।তিম্বরী মন্ত্রবলে আটার কাঁইয়ের ব্যবস্থা করতেই ব্যাগ থেকে একটা যন্ত্র বের করলো ইতু।এরপর যন্ত্রটা সাথে সংযুক্ত লতার মত কি একটা, বিজলীর স্ফুলিংগের মধ্যে ধরতেই ঝটপট তৈরি হতে শুরু করলো নিঁখুত গোল রুটি।ডাইনি তো রুটি খেয়ে বেজায় খুশি তরতর করে বলে দিল ঠিকানা।


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১০৮১ জন


এ জাতীয় গল্প

→ পরীর পালক-০৩

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now