বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

পরীর পালক-০২

"রূপকথা " বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান রিয়েন সরকার (০ পয়েন্ট)

X কি উপায় যে হবে?'' -''আচ্ছা।সব বুঝলাম, কান্না কর না।আমরা দুজন মিলে একটা রাস্তা বের করবই।আগে আমাকে সবকিছু বল, কিভাবে কি করতে হবে, এরপর দেখছি কি করা যায়।'' বেশ গম্ভীর একটা ভাব নিয়ে ভারী কন্ঠে কথাগুলো বলল ইতু। -''আরেএএএ... তোমার নামটাই তো এখনও জানা হল না।আমি ইতু। তোমার নাম কি?'' -''আমার নাম তিম্বরী।'' -''উহু... বড্ড কঠিন নাম।আমি তোমায় তিথু বলে ডাকব, ইতুর বন্ধু তিথু।'' তিম্বরী একগাল হেসে সায় দিল তাতে।অতঃপর বলতে শুরু করল সেই আজব উপায়ের কথা। স্বর্ণকমল আনার প্রথম চাবি হচ্ছে রূপনগরের কেশবতী রাজকন্যা।দ্বিপ্রহরে সে ক্ষনিকের জন্য এসে দাঁড়ায় তার জানালার ওপাশে।ঠিক তখুনি পদ্মদীঘিতে পরে তার ছায়াখানি।সেই ছায়া দেখেই আঁকতে হবে তার প্রতিকৃতি, হুবহু এক, একচুলও যাতে এদিক সেদিক না হয়। এরপর সেই ছবি নিয়ে দিতে হবে বনরক্ষীর হাতে।বনরক্ষী সেই ছবি দেখে তুষ্ট হলে, তবেই বলবে একচোখা ডাইনীর ডেরার রাস্তা। প্রচন্ড ভয়ংকর সেই একচোখা ডাইনী, তার ঐ একটিমাত্র চোখ দিয়ে ঘরে বসেই দুনিয়ার সমস্ত কিছু দেখতে পায় সে।নিষ্ঠুর, বর্বর তার স্বভাব। তবে তার একখানা দূর্বলতা আছে, নিখুঁত গোলকৃতির রুটি।পেটুক ডাইনীকে একবার যদি নিঁখুত গোল রুটি বানিয়ে দেয়া যায়, তাহলে খুশিতে গদগদ হয়ে কাটামুন্ডুর সরোবরের পথ বাতলে দিবে সে। সেই সরোবরের পাশেই একটা পাতাশূন্য গাছ, আর গাছে ঝুলন্ত অসংখ্য কাটা মাথা।কাটা মাথার গাছের সর্দার জ্বীনের দুটো প্রশ্নের জবাব ঠিকঠাক দিতে পারলে তবেই মিলবে স্বর্ণকমল।আর যদি উত্তরে ভুল হয়ে যায় তবে ধর থেকে মুন্ডু ছিন্ন হয়ে অনন্তকাল ঝুলতে থাকবে সেই খুনে গাছের ডালে। -''চিন্তা করো না।আমার কাছে তোমাকে সাহায্য করার উপায় আছে।'' -''তাহলে তুমি কি যাবে আমার সাথে রূপকথার রাজ্যে?'' -''হ্যাঁ যাব।কিন্তু বাবা যদি টের পেয়ে যায়?'' -''কেউ টের পাবে না, আমি মন্ত্রবলে ঘুম ছড়িয়ে দিব চারপাশে। চল তাহলে।'' -''দাঁড়াও সঙ্গে কিছু জিনিস নিতে হবে আমার স্কুল ব্যাগে করে।'' টুপটাপ করে প্রয়োজনীয় কিছু জিনিস নিয়ে রাক্ষস রাজকন্যার সাথে রূপকথার রাজ্যের উদ্দেশ্যে পা বাড়াল ইতু।ঘাড়ের ঢাউসমার্কা ব্যাগটার ওজন একটু বেশি লাগছিল বটে কিন্তু এই সমস্যার সমাধান করে দিল তিম্বরী।যাদুবলে ওজন একেবারেই কমিয়ে দিল সে।তারপর বলা নেই কওয়া নেই হুঁস করে তিম্বরীর আকৃতির মত ক্ষুদ্রাকৃতির হয়ে গেল ইতু।এও নিশ্চয়ই তিম্বরীরই কারসাজি...! -''ঐ যে দেখ আমাদের বাহন।'' -''এমা... এটা তো একটা গোলাপী রংয়া কাপের মত লাগছে!'' -''হ্যাঁ ওটাই আমাদের নিয়ে যাবে রাক্ষসপুরীর দোরগোড়ায়। উঠে বস ঝটপট।'' ইতু তিথু দুজনে কাপটাতে চড়ে বসতেই বারান্দার গ্রীল গলিয়ে সাঁই সাঁই বেগে ছুটে চললো ওটা।সহসা রাজ্যের ঘুম এসে ভর করল ইতুর চোখের পাতায়, ঘুম ভাঙ্গল তিথুর অর্থাত্ তিম্বরীর ডাকে।রাক্ষসপুরীতে পৌঁছে গেছে তারা।কাপ থেকে নিচে নামতেই ঝট্ করে পুনরায় পূর্ণাকৃতিতে ফেরত এল তিথু ইতু।সম্মুখে বিশাল এক স্বর্ণালি রাজপ্রাসাদ, চারিদিকে কত মনিমুক্তা রত্নপাথর খোদাই করা, প্রকাণ্ড আকৃতির এক একটা কক্ষ, প্রহরী সৈনিকের ছড়াছড়ি! সকলেই তাদের কুর্নিশ করায় স্বব্যস্ত।সবকিছু অবাক চোখে মাথা ঘুরিয়ে দেখতে লাগলো ইতু। -''এস আমার সাথে।'' রাজকন্যা, ইতুর হাত ধরে সোজা নিয়ে গেল তার মা মিঠে পরীর কক্ষে।কক্ষটায় শোকের ছায়া, সকলের মন ভারী।মাঝে বিরাট পালঙ্কে শুয়ে আছে সাদা ডানাওয়ালা অনন্ত সুন্দর এক নারী। পরীরা বুঝি এমন সুন্দরীই হয়! পায়ের দিকটায় কিছু অংশ বালি হয়ে গেছে।মুখটা মলিন।ইতুর দিকে তাকিয়ে স্মিত হাসলেন মিঠে পরী। -''মা, মর্ত্যলোক থেকে আমার বন্ধু এসেছে আমাদের এই বিপদ থেকে বাঁচাতে। ওর নাম ইতু।'' -''না... না।ঐ কঠিন পথে আমি তোদেরকে কিছুতেই যেতে দেব না তিম্বরী।তুই ওকে ফিরিয়ে দিয়ে আয়, ঘরের মানিক ঘরেই মায়ের বুক জুরে থাকুক।আমার ভাগ্যে যা আছে তাই হবে।'' -''আপনি অহেতুক চিন্তা করছেন পরী আন্টি। আমি আপনাদের ঠিক ঠিক সাহায্য করতে পারব।'' -''হ্যাঁ মা, ও পারবে।জানো মা ও আমার একটা নাম দিয়েছে।তিথু। ইতুর বন্ধু তিথু।নামটা সুন্দর না মা?'' এবার আর কিছু বললেন না রাক্ষসপুরীর রানি, কথা বলার শক্তি কম। মৃদু হেসে চোখ মুঁদলেন। রাতে রাজা হিকুড়ার সাথেও দেখা হয়ে গেল তাদের, তিনিও তাদের সাবধান করলেন ঠিকই কিন্তু সে সব বানী তারা এক কান দিয়ে শুনে অন্য কান দিয়ে সুড়সুড় করে বের করে দিল।মিঠে পরীকে যে সাড়িয়ে তুলতেই হবে, ওসব কথা শুনলে চলে? খাওয়া পর্ব সেরে নিয়ে কিছু সময় এদিক সেদিক ঘুরে এরপর রূপনগরের পথে রওনা দিয়ে দিল দুজনে।অনেক দূরের রাস্তা, রাতারাতি রওনা না দিলে দ্বিপ্রহরের আগে পৌঁছানো যাবে না পদ্মদীঘির পাড়ে।


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১০৮৩ জন


এ জাতীয় গল্প

→ পরীর পালক-০২

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now