বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

পরীর পালক-০১

"রূপকথা " বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান রিয়েন সরকার (০ পয়েন্ট)

X পরীর পালক -পিনাক দে রাক্ষস খোক্কোসগুলো অমন পঁচা হয় কেন কে জানে? এর এটা নষ্ট করছে তো ওর ওটা গুঁড়িয়ে দিচ্ছে। রাজকন্যাকে তুলে নিয়ে যাচ্ছে, রানীকে পাথর বানিয়ে দিচ্ছে, রাজপুত্রকে মারতে তেড়ে আসছে, রাজ্যসহ সবাইকে ঘুমে তলিয়ে দিচ্ছে এইরকম হাবিজাবি আরও কত কি... কি অমন হয় বাপু একটু লক্ষী সেজে থাকলে? ইতুও তো কত লক্ষী মেয়ে।বাবার কথা শোনে, মায়ের কথা মানে।একটু একটু দুষ্টুমি মাঝে মাঝে করা হয়ে যায় তবে সেগুলো ধরার মত অত গুরুত্বপূর্ন কিছুই নয়।দীদু প্রায়ই বলেন, মাঝে মধ্যে একটু আধটু কারও ক্ষতি হয় না অমন ধরনের দুষ্টুমি করলে কিছু হয় না। দীদুর কথা মনে পড়তেই মনটা ভারি হয়ে আসে ইতুর।আজ তার জন্মদিন কিন্তু দীদু কিনা আঁটকে আছে ছোট ফুফিদের বাড়িতে।সন্ধ্যা থেকে কত্ত মজা হল; বেলুন, কেক, উপহার, ঝাড়বাতি, এত এত লোকজন আর তার মাঝে শুধু দীদুটাই গায়েব। ভাল লাগে? ঘুমও আসছে না, দীদু কাছে থাকলে এখন সুন্দর রূপকথার গল্প আর ঘুমপাড়ানি ছড়াটা শুনাতো আর ওমনি টুক করে ঘুমপরী এসে চোখে বসে পড়ত। আব্বুটা না কিছুই পারে না। ঘুমপরীকে মনে মনে বারকয়েক ডেকে, খানিকটা সময় এপাশ ওপাশ করে অবশেষে খাট থেকে নেমে এল সে।বারান্দায় নাইটএঙ্গেল ফুলটা কি ফুঁটেছে? না হলে অত মিষ্টি গন্ধ ছড়াচ্ছে কোথা থেকে? উঁউউউউমমম... হঠাত্ চাঁপা কান্নার আওয়াজে চমকে উঠল ইতু। আওয়াজটা বারান্দার ওপাশ থেকেই আসছে।ভয়ে খানিকটা কুঁকড়ে গেল সে, মামাদো ভুত নয় তো? উল্টোদিকে একটা দৌড় দিবে ভাবছিল কিন্তু সহসা কান্নার শব্দটা কিছুটা শিথিল হয়ে এল, এখন কেমন যেন ফোঁপানোর আওয়াজ পাওয়া যাচ্ছে।বারান্দার দরজার পাশের দেয়ালের জানালাটায় গ্রীল ঘেঁষটে দাঁড়িয়ে আছে কাঁটাওয়ালা এক ঝোঁপালো গোলাপ গাছ, সেই গাছে ফুটেছে ঢাউস মার্কা এক লাল গোলাপ।শব্দটা বোধ হয় সেই গোলাপটার ভেতর থেকেই ভেসে আসছে। ইতু বেজায় সাহসী মেয়ে, চটপট নিজেকে সামলে নিয়ে পড়ার টেবিলের ওপর থেকে আব্বুর মিনি টর্চলাইটা এক ছুটে নিয়ে এল।অতঃপর ধীরগতিতে পা টিপে টিপে এগিয়ে গেল জানালার দিকে।এখনও পাওয়া যাচ্ছে ফোঁফানোর আওয়াজটা, আরও জোড়ালো এবং স্পষ্ট।টুক করে টর্চের আলোটা ফেলল ফুলের উপর, আর আলোটা ফেলতেই হতবাক হয়ে গেল সে। চোখগুলো ডিম সাইজ হয়ে গেল, মুখটাও হা। ওম্মা...! ফুলের ভেতর দেখি ইঞ্চি দেড়েক আকারের ছোট্ট একটা মেয়ে বসে হাঁপুস হাঁপুস নয়নে কেঁদেই যাচ্ছে। কি ফুটফুটে দেখতে! -"উফফ! কে হে বাপু রাতদুপুরে বিরক্ত করছ? এমনিতেই মন্ত্রবলে নিজের শরীরের আভা কমিয়ে রেখেছি, আর তুমি কিনা আলগা আলো নিয়ে এলে।সরাও ওটা।" সাততাড়াতাড়ি টর্চটা নিভিয়ে দিল ইতু। মেয়েটাও মনে হল যেন নিজের গায়ের আভাটা একটু বাড়িয়ে দিল। -"তুমি কে? তুমি কি ফুলপরী?" -"না, আমি ফুলপরী নই।আমি রাক্ষসপুরীর রাজকন্যা।" -"ধ্যাঁত...! কি বল? রাক্ষসপুরীর রাজকন্যারা অত সুন্দর হয় নাকি? তোমার দেখি একজোড়া ডানাও আছে।কিন্তু ওগুলো কালো রংয়ের কেন?" -"বললাম তো, আমি রাক্ষসপুরীর রাজকন্যা।আর তোমাকে কে বলল যে রাক্ষসেরা দেখতে সুন্দর হয় না? হুম বুঝেছি, রূপকথা থেকে জেনেছো নিশ্চয়ই।ওখানে তো ভুলভাল লেখায় ভরা।রাক্ষস খোক্কোসদের নামে কিসব লিখে রেখেছে! আমরা অত খারাপ নই বাপু, এই আমাকেই দেখ না..." ডানহাতের তালুর উল্টো পিঠ দিয়ে ডাগর ডাগর চোখজোড়া মুছে হড়বড়িয়ে কথাগুলো বলল ছোট্ট মেয়েটা। -"হুম... তাই তো দেখছি।তা তুমি অমন করে কাঁদছিলে কেন গো?" -"আমার মন খারাপ।" -"কেন? কেন?" -"আজ আমার জন্মদিন ছিল, তবে এমন দিনে আমার মা ভীষন অসুখে শয্যাশায়ী।" -"ওমা কি বল! আজ তোমারও জন্মদিন ছিল? আজ তো আমারও জন্মদিন।আমারও দীদুর জন্য মনটা ভীষন খারাপ হয়ে আছে।যাক্ গে... কি যেন বলছিলে? ও হ্যাঁ... কি হয়েছে তোমার মায়ের?" -"সে এক কঠিন ধারা অসুখ হয়েছে তার।ঐ যে তুমি বলছিলে না, আমার ডানা কালো কেন? আমি পরী কিনা? আমি পুরোপুরি পরী নই তবে আমার মা পরী। মিঠে পরী তার নাম। আর আমার বাবা রাক্ষস।নাম তার হিকুড়া।" -"হিকুড়া! এটা আবার কেমন নাম?" কথার মাঝে ফোঁড়ন কাঁটল ইতু। -"রাক্ষসদের অমন নামই হয়।তো যেটা বলছিলাম। আমাদের রাক্ষসপুরীতে একধরনের পদ্মফুল ফোঁটে।নীলপদ্ম।পরীরাজ্যে সাতরংয়া পদ্ম ফুঁটলেও নীল রংয়া পদ্ম কখনও ফোঁটে না। নীলপদ্ম আমার মায়ের খুব পছন্দের ফুল।ঐ ফুল নিতে ছদ্মবেশে প্রায়ই রাক্ষসপুরীর অতলদেশী পুকুরে চুপিচুপি হাজির হত মা।ঐ আসা যাওয়ার ফাঁকে একদিন ধরা পড়ে গেল আমার বাবা হিকুড়ার হাতে।প্রথমটায় ভীষন ভয় পেয়ে যায় মা, ভাবে, এইবুঝি বিশালদেহী রাক্ষসের হাতে প্রানটা বেঘোড়ে হারাতে হচ্ছে। এরপর বাবা যখন একগাল হেসে নিয়ে মায়ের হাতে একবারে একশত আটটা বৃষ্টিভেজা নীলপদ্ম উপহার হিসেবে তুলে দিল, তখন তার ভয় একদম কর্পূরের মত গেল উবে। সেই থেকেই শুরু, অতঃপর পরিচয়... পরিনয়... বিয়ে... আর সেটাই হল কাল!'' -''কেন? কি হল তারপর?'' -''কি হল? যা হওয়ার তাই।পরীদের রাজমাতা বেজায় ক্ষেপে গেলেন মায়ের উপর, পরী হয়ে কিনা শেষমেষ রাক্ষসের সাথে বিয়ে? জাত মান কিছুই আর থাকল না।অতএব পরীস্থানের দুয়ার চিরদিনের মত বন্ধ হয়ে গেল তার জন্যে।এ নিয়ে প্রথম প্রথম অনেক কষ্ট পেত মা কিন্তু আমাকে পেয়ে একটা সময় সব কষ্টের অবসান ঘটল।সবমিলিয়ে বেশ সুখেই ছিলাম আমরা।'' -''তা বেশ ভালই তো? তাহলে ঝামেলাটা কোথায় হল?'' -''হয়েছে বাপু হয়েছে..., সেই সুখ আমাদের কপালে বেশিদিন টিকলই না। মা হঠাত্ অসুখে পড়ল, বড় ভয়ংকর সে রোগ...!'' -''রোগটা কি? ডাক্তার আংকেলকে দেখিয়েছো ?'' বেশ চিন্তিতভঙ্গিতে প্রশ্ন দুটো করল ইতু। -''ডাক্তার কি জিনিস আবার?'' ইতুর কথা শুনে ডাগর ডাগর চোখজোড়া ডিম্বাকৃতি হয়ে গেল রাক্ষসকন্যার। -''এমা...! তুমি ডাক্তার আংকেলকে চিনো না? সবসময় আমার অসুখ হলে আব্বু আমাকে ডাক্তার আংকেলের কাছে নিয়ে যায়।তিনি কি একটা নল কানে দিয়ে আমার জ্বিভ দেখেন, চোখ দেখেন, শ্বাস নিতে বলেন।এরপর কাগজে খসখস্ করে কিসব লিখে দিলে, আব্বু ঔষধ নিয়ে এসে আমাকে খাইয়ে দেয় আর অমনি আমার শরীর একদম ঠিকঠাক হয়ে যায়।'' -ও আচ্ছা... আচ্ছা ! তুমি বৈদ্যের কথা বলছো? সে রোগ বৈদ্যে সারাতে পারবে না। সাধারন কোন ঔষধিতে হবে না কোন কাজ।'' -''ঔষধেও কাজ হবে না? কি অমন রোগ?'' -''রেত রোগ। রেত রোগ হয়েছে মায়ের।পরীরা যদি বেশিদিন পরীস্থানের বাইরে অসমশক্তির সংস্পর্শে থাকে তাহলেই দেখা দেয় এই রোগ। ধীরে ধীরে পা থেকে মাথা পর্যন্ত পুরো শরীর বালি হয়ে যায়।'' -''ওমা বল কি? এমনও রোগ হয় নাকি? পুরো শরীর বালি হয়ে যায়?'' -''হ্যাঁ... রেত রোগ হলে তাইই হয়, সমস্ত দেহ রেত অর্থাত্ বালি হয়ে বাতাসে মিশে যায়।'' -''এই রোগের কি কোন ঔষধ নেই?'' -''আছে।এই রোগ সারানোর একমাত্র দাওয়াই স্বর্ণকমল ফুলের রস।তবে স্বর্ণকমল হাসিল করার পথ যে বড়ই কঠিন।তাই কি করব বুঝতে না পেরে মর্ত্যলোকে এসে এদিক সেদিক উড়ে বেড়াচ্ছিলাম।সহসা তোমাদের বারান্দায় এই গোলাপটা নজরে আসল, ক্লান্ত শরীর নিয়ে বসে পড়লাম এখানে।এখন আমার ভীষন কান্না পাচ্ছে।


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১০৮৫ জন


এ জাতীয় গল্প

→ পরীর পালক-০১

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now