বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

পরীদের বেঁচে থাকা।

"রূপকথা " বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান টি.বি তৌহিদ (০ পয়েন্ট)

X পরী বসে আছে দামী এক হোটেল কক্ষে। কক্ষটা ছিমছাম, দেখতে সুন্দর। এক পাশে দুইটা সোফা সেট, তার পাশে সাইড টেবিলে রাখা কারুকাজ করা চীনামাটির ফুলদানী। তার সামনে শ্বেত পাথরের টেবিল। টেবিলের উপর প্লেটে কিছু পিঁজার টুকরা। পিঁজার দিকে তাকিয়েই পরীর মনে হলো সে সকালের পর থেকে কিছুই খায়নি। সকালে বাসা থেকে বের হওয়ার সময় একটা রুটি চা দিয়ে খেয়ে বের হয়েছে। পরী বসে আছে প্রায় আধ ঘণ্টা যাবৎ। যে লোকটার কাছে পরী এসেছে তাকে সে চিনে না, নামও জানে না। কিন্তু লোকটা বড় একজন শিল্পপতি তা বোঝা যায়। তার কাছে যে ফোন গুলো আসছে তার কথোপকথনে বুঝা যায় ফোন গুলো গুরুত্বপূর্ণ। লোকটা পরীকে বসিয়ে রেখে বাথরুমে ঢুকেছে। পরী যে কারণে এখনে এসেছে তার প্রয়োজন শেষ। তারপরও কেন তাকে বসিয়ে রেখেছে তা পরিস্কার না। এ ধরনের প্রয়োজন শেষ হয়ে গেলে তাদের মতো মেয়েদের কেউ বসিয়ে রাখে না। পরীর আজ তারাতারি বাসায় ফিরতে হবে। তার মা রহিমা বেগম তার জন্য অপেক্ষা করে বসে আছে। বাসায় বাজার নাই। পরী বাজার করে নিয়ে গেলে তার মা রান্না বসাবে। ঘড়ির দিকে তাকিয়ে দেখল রাত আটটা পঁচিশ বাজে। এই অবস্থায় বসে থাকতে পরীর খুব ঘিন্না লাগে। তারপরও তাকে বসে থাকতে হবে, সে এখনও টাকাটা হাতে পায়নি। পরী মনে মনে চিন্তা করছে আজ বাজার থেকে কিছু মাংস কিনবে। তার ছোট বোনটা খারাপ খাবার একদম খেতে চায় না। পরীর ছোট বোন সীমার বয়স ১৬ বছর। এই বয়সের মেয়েদের বুঝার কথা সংসারে অবস্থা কিন্তু সীমা একদমই বুঝতে চায় না। যেমন গতরাতে ভাত খেতে বসে বলল- রোজ রোজ ভর্তা ভাত খেতে ভাল লাগে না। এই কথা শুনে রহিমা তার মেয়ের গালে জোরে চড় বসিয়ে দিল। সীমা মার দিকে হতভম্ব হয়ে কিছুক্ষণ তাকিয়ে থেকে ভাতের থালা রেখে উঠে চলে গেল। পরীর মনটা খুব খারাপ হয়ে গেল। সে মনে মনে বলল বেঁচে থাকার জন্য যে গ্লানিময় জীবন বেছে নিয়েছে সেই আঁচ সীমার গায়ে কখনো লাগতে দিবে না। লোকটা বের হয়ে বলল- আপনি এখনও যাননি ? পরীকে সবাই সবসময় তুমি করে বলে। তার মতো মেয়েদের কেউ আপনি বলে না। কিন্তু এই লোকটা প্রথম থেকেই আপনি বলে সন্মধন করছে। -পরী কিছু বলল না । -ওহ আপনাকে তো টাকাই দেওয়া হয়নি। বলেই সে তার মানিব্যাগ থেকে এক হাজার টাকার একখানা নোট তার দিকে বাড়িয়ে দিলো। পরী নোটখানা তার ব্যাগে ভরতে ভরতে উঠে দাঁড়ালো। হোটেলের বাহিরে এসে দেখল ঝির ঝির বৃষ্টি পড়ছে। তার ব্যাগে সবসময় ছাতা থাকে কিন্তু আজ কি মনে করে যেন ছাতাটা আনা হয়নি। পরী রিক্সার কথা ভেবে ব্যাগে হাত দিয়ে দেখল ভাংতি টাকা আছে কিনা। একখানা পাঁচ টাকার নোট ছাড়া কিছু নাই অগাত্যা বৃষ্টিতে ভিজেই বাজারের দিকে রাওনা হলো। পরী বাজারে ঢুকেই আধা কেজি মাংস কিনল। পাঁচ কেজি চাল আর কিছু তরিতরকারি কিনে বাসার দিকে রাওনা হোল। বাসায় ঢুকেই দেখে বাড়ীওয়ালা রশিদ মোল্লা বসে আছে। পরীকে ঢুকতে দেখেই সে বলল- আম্মাজান কেমন আছেন ? -জী চাচা ভাল, আপনার শরীর কেমন এখন? -বুড়ো মানুষের আর শরীর, জ্বর ঠাণ্ডা, কাশি লেগেই থাকে। যাক একটু আগেই আপনাকে নিয়ে আপনার মার সাথে কথা বলছিলাম। আপনার মতো মেয়ে পাওয়া ভাগ্যের ব্যাপার।আপনি সংসারের জন্য যা করছেন তা কেউ করে না। -তো আম্মাজান একটা কথা , লোকজন বলাবলি করে আপনি নাকি প্রায় রাতে দেরী করে বাসায় ফিরেন ? তয় লোকে যা'ই বলুক আমি বলছি আমার আম্মাজানে মতো মানুষ হয় না। -ধন্যবাদ চাচা। -আমি অন্য একটা কথা বলতে আসছিলাম। আপনার মার সাথে আলাপ হয়ছে, তারপরও আপনি যখন আসছেন আপনাকেও বলে যাই। তো আম্মাজান বাসাটা যে সামনে মাসে ছাইড়া দিতে হয়। -বলেন কি চাচা! বার দিনের মধ্যে বাসা পাব কোথায় ? -তা ঠিকই বলছেন তয় আম্মাজান আমি যে নিরুপায়। আমার শালা আসতাছে পরিবার নিয়া। -চাচা দয়া করে একটা মাস সময় দেন। -সময় দিতে পারলে আমার চেয়ে খুশী কেউ হত না কিন্তু আম্মজান আমি যে নিরুপায়। তো আম্মাজান আমি আসি। এক তারিখে বাসা খালি চাই।আপনি তো জানেন আমি এক কথার মানুষ। পরী মার সাথে কোন কথা না বলে সোজা বাথরুমে চলে গেল। রহিমা বেগম রান্না বসিয়েছে, সীমা মার পাশে বসে আছে। একটু পর পর বলছে মা রান্নার আর কতো দেরী। পরী এসে বোনের পাশে বসলো। আজ ভরা পূর্ণিমা। চাঁদের আলোয় ফক ফক করছে সারা বাড়ি। রহিমা তাকালো তার দুই মেয়ের দিকে। চাঁদের আলোয় মনে হোল তার পাশে দু'টা পরী বসে আছে। আনমনে তার দু চোখ অশ্রুতে ঝাপসা হয়ে এলো। তিনি মনে মনে ভাবলেন বেঁচে থাকার মধ্যেও একটা আনন্দ আছে।


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১০৯৩ জন


এ জাতীয় গল্প

→ পরীদের বেঁচে থাকা।

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now