বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

পরিচিত অপরিচিতা

"রোম্যান্টিক" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান রিয়েন সরকার (০ পয়েন্ট)

X পরিচিত অপরিচিতা অতঃপর সেই আমি আজ আবার চকবাজারের শাহেনশাহ মার্কেটের মোড়ে দাড়িয়ে, প্রায় তিন তিনটি বৎসর পর। কপালটা নেহাত খারাপই বলতে হয়, আর না হয়, এই সময়ে বেহুদাই স্মৃতিমন্থন করতে বের হয়? সকাল ১০ টা বাজে, কিন্তু তাতেই রোদের যে তেজ! কাপালের ঘামসব কপলের হয়ে চুয়ে চুয়ে ঝরছে, অশ্রু ঠিক যেভাবে গড়িয়ে পড়ে। বন্দরনগরী চট্টলার ব্যস্ততম এই মোড়টা আজো নৈমাত্তিক দিনের মতই জনাকীর্ণ। ওদিকে চট্টগ্রাম কলেজ মহসিন-কলেজের ছাত্রীরা সাদা এপ্রনটা স্টাইলবশত ঘাড়ে করে ঝুলিয়ে যাচ্ছে, তাদের সিল্কি চুলগুলোতে সূর্যের কিরন লেগে কালছে-রুপালীভাবে চকচক করছে। ডানদিকে উঁকি দিচ্ছে অলিখাঁ মসজিদের পুরোনো মনুমেন্ট আদলের সুরম্য গম্বুজ তিনটি। আর এদিকে লালচাঁদ রোড থেকে বেরুচ্ছে পিপড়ার লাইনের মতো কোচিংগামী আনুজদের ঝাঁক।মোড়ের উপর ক্ষণিকের জন্য দাড়িয়ে থাকা মাহিন্দ্রাগুলো “মার্কেট, মার্কেট... আন্দরকিল্লা… আন্দরকিল্লা” বলে ডেকে ডেকে যাত্রী আকর্ষণ করার চেষ্টা করছে। রোদের তিব্রতা থেকে বাঁচতে শাহেনশাহ মার্কেটের নিচতলার বইয়ের দোকানগুলোর সামনে দাঁড়ালাম।সামনের মোড়ের দিকে তাকালাম। চোখ বাড়িয়ে দেখতে লাগলাম নগরীর হাঁকডাক আর ছুটে চলা মানুষগুলোর ব্যস্ততা কিন্তু স্মৃতির ঝাপি থেকে অতীতকে খুঁজে বের করে মেলাতে লাগলাম সেই চকবাজার আর আজকের চকবাজারকে।একটুও বদলায় মোড়টা, কমেনি কিংবা বাড়ে নি এর ব্যস্ততা।তিন বৎসর আগে যেমন ছিলো আজো তেমনি আছে। মাত্র তিনটি বৎসরে কতোটুকুইবা বদলাবে? তবে হ্যাঁ, ব্দলে গেছে মানুষগুলো, বদলে গেছে পথের পথিকগুলো। কোথাও নেই সেই চেনা মুখগুলো। ঠিক যেন কফি হাঊজের আড্ডার সেই গল্পের মতো। “সেই সাতজন নেই আজ টেবিলটা তবু আছে, সাতটা পেয়ালা আজও খালি নেই, একই সে বাগানে আজ এসেছে নতুন কুঁড়ি শুধু সেই সেদিনের মালী নেই।” এসএসসি পরীক্ষার সময় থেকে চকবাজার আমার পরিচিত হতে শুরু করে।তারপর আকাদেমিক কোচিং, এফএম মেথডে ইংলিশ কোর্স, আজীম স্যারের TOFEL, ভার্সিটি কোচিং সবমিলিয়ে চকবাজার আসাটা আমার নিত্যদিনের রুটিনে পরিণত হয়। সকাল ১০ টা করে কাঁধে কোচিং এর ব্যাগ ঝুলিয়ে বাসা থেকে বের হতাম। বহদ্দারহাট এসে কচ্ছপের কল্লার মতো রাইডারগুলোতে উঠে স্ট্যান্ড ধরে বাঁদরের মতে চ্যাংদোলা হয়ে ঝুলে যেতাম। সিটে বসে যাওয়ার সৌভাগ্য কাদাচিত মিলতো।চকবাজারের মোড়টা তখন প্রচুর চেনা মুখে ভরপুর ছিলো। এই কোচিংএর ফ্রেন্ড, ঐ কোচিং এর ব্যাচমেইট আরও কতো হাবিজাবি। অনেক সময় দ্রুত পাশ কাটিয়ে চলে যেতাম আড্ডায় দীর্ঘ সময় নষ্ট হয়ে যাওয়ার ভয়ে। আজ তিনটে বৎসর পর সেই মোড়টিতে দাড়িয়ে এদিক সেদিক তাকিয়ে চেনা মুখগুলোকে খুঁজছি, কিন্তু দৃষ্টির প্রসারতা যতটুকুই যাচ্ছে নেই তারা কোথাও নেই, দেখা মিলছে ঘর্মাক্ত ললাটের আচেনা সব মুখ। যারা এসেছে জীবিকার টানে কিংবা প্রজাপতির মতো স্বপ্নের ডানা মেলে। একেবারেই যে বেহুদাই এসেছি তা নয়। গতকাল রাতে সেই এসএসসি এর আগের একাডেমিক কোচিং এর এক ঘনিষ্ঠ ব্যাচম্যাটের কাকতালীয় ফোন পেয়ে। চট্টগ্রামে এসেছি শুনে বল্লল “চল! কাল তাহলে দেখা করি। চকবাজারে, সকাল ১০ টায়”। “হুমম! চল” বলে উত্তর দিলাম। সময়ের কাঁটা গুনে গুনে ঠিক ১০ টায় চলে এলাম। থায় ১ ঘণ্টা দাড়িয়ে রইলাম। কিন্তু তার দেখা নেই। গতকাল যে নাম্বারটা থেকে ফোন দিয়েছিলো সেটি অপরিচিত নম্বার ছিলো। সেভ করা হয় নি। ভেবেছিলাম পুরনো নাম্বারটাতে ফোন দিলেই পাব। কিন্তু না সেই নাম্বারটি বন্ধ। পুরনো কয়েক বন্ধুকে ফোন দিলাম। কিন্তু হতাশ হতে হলো। প্রায় সবকটি নাম্বার হয় বন্ধ নাহয় সুললিত নারী কণ্ঠে “আপনি যে নাম্বারটিতে কল দিয়েছেন, তা এই মুহূর্তে সংযোগ দেয়া সম্ভব নয়” কথাটিই ঘুরে ফিরে শুনিয়ে দিচ্ছে। কারন সময়ের সাথে সাথে হয়ত তাদের নাম্বারগুলোও বদলে গেছে। আর আমার আনআপডেটেড কন্টাক্ট লিস্টে তাদের নতুন নাম্বারটি নেই। ঘণ্টা দেড়েক পর যখন বুঝলাম তার আসার আর কোন সম্ভাবনা নেই, তখন ফেরার জন্য পা বাড়ালাম।বাসে ছড়লাম, তবে সিট নেই। পুরনো দিনগুলোর মতো স্ট্যান্ড ধরে বাঁদরের মতে চ্যাংদোলা হয়ে ঝুলে পড়লাম, পার্থক্য শুধু এটিই যে আজ আর কাঁধে কোচিংয়ের ব্যাগটা ঝোলানো নেই। হটাত ডানদিকের সিটে বসে থাকা বাচ্ছা কোলে করা মেয়েটির চোখ দুটোর দিকে নজর জেতেই চোখ আটকে গেলো। কুচকুচে কালো চোখের মনি, পাপড়িজোড়ায় কাজলের সরু রেখা টানা।মনে হলো এই কাজলরেখা চোখদুটো বড্ড চেনা। সহসা মনে পড়ল। মুখ বাড়িয়ে বললাম “ হাই, তারিন। কেমন আছো?” ঘটনার আকস্মিকতায় সে ভকড়ে গেল, ঠিক যেভাবে মধ্যবিত্ত পরিবারের রক্ষণশীল নারীরা হটাত অপিরিচিত করো সামনে পড়লে ভকড়ে যায়। “চিনতে পার নি? আমি নাকীব। তোমার ক্লাসমেইট ছিলাম” “ও হ্যাঁ, তুমি কেমন আসো?” কণ্থল।তার চেনার ভাব ফুটে উঠল। নবম-দশম শ্রেণীর কথা খুব মনে পড়ে গেলো।মেয়েটির কাজলরেখায় টানা কুচকুচে চোখদুটো আমার খুব ভালো লাগত। ক্লাসে প্রায় ওর চোখদুটোর দিকে তাকিয়ে থাকতাম। সে ও প্রায় আমার দিকে তাকিয়ে থাকত। কিন্তু ভালো লাগাটা ঐ পর্যন্তই ছিলো, নানা কারনে তা আর ভালোবাসায় রুপ নেয় নি। সে তার পাশের যুবকটির সাথে পরিচয় করিয়ে দিলো তার স্বামী আর কোলেরটি তার সন্তান।যুবকটির সাথেও “হাই হ্যালো” হলো। তার সাথে কথা বলতে বলতে বাস বহদ্দারহাট পৌছে গেল। একসাথেই নামলাম। এবার তার প্রসস্থানের পালা। সে ফেরার পথে পা বাড়াল সে পথটা ধরে যেদিকে বহদ্দারহাঁট হতে কক্সবাজারমুখী পথটা সিটি কর্পরেশনের অর্থায়নে নির্মিত আতিকায় ক্লক টাওয়ারটাকে সাপের মতো কুন্ডুলী পাকিয়ে বেঁকে গেছে। আর আমি ফিরে চল্লাম তার ঠিক উল্টো দিকের পথটি ধরে, আমার গন্তব্যে। পথে পথে মনে পড়ল সময়ের আবর্তনে নগরীর চেনা মুখ গুলোর হারিয়ে যাওয়ার কথা, কালচক্রে পথ ও পথিকের ভিন্ন হয়ে যাওয়ার কথা। আর মনে পড়ল সময়ের অগোচরে অপরিচিতা হয়ে যাওয়া একটি পরিচিত একটি মেয়ের কথা। @written by Nakeeb Adnan ✔ ভাল লাগলে ১ হলেও রেটিং দিন এতে করে অন্যরাও গল্পটা পরতে উৎসাহীত হবে ✔


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১০৮০ জন


এ জাতীয় গল্প

→ অপরিচিতা
→ অপরিচিতাকে পাওয়ার আশায়
→ অপরিচিতা-২(session-2)
→ অপরিচিতা-১(session-2)
→ অপরিচিতা-৯
→ অপরিচিতা-৮
→ অপরিচিতা-৭
→ অপরিচিতা-৬
→ অপরিচিতা-৫
→ অপরিচিতা-(৩+৪)
→ অপরিচিতা-(১+২)
→ অপরিচিতা
→ অচেনা অপরিচিতা
→ অপরিচিতা ১
→ এক জন অপরিচিতা মেয়ে

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now