বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

পরিচিত

"রোম্যান্টিক" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান মোঃ ছহিনুর রহমান বিন মনির (০ পয়েন্ট)

X আমি যখন টিনেজার, তখন অপ্সরার সাথে আমার পরিচয় হয়! অপ্সরা আমার চেয়ে ৩ বছরের ছোট! তবে বয়সে ছোট হলেও, অপ্সরা বেশ ম্যাচিউর ছিল! একটা ছেলের তুলনায় মেয়েরা একটু কম বয়সে ম্যাচিউর হয়ে যায়! সেই টিনেজ বয়সের সম্পর্ক গুলো এখনকার মতো না! সেসময় প্রতিদিন বিকেল বেলায় অপ্সরাদের বাসার সামনে যেয়ে অপেক্ষা করতাম ঘন্টার পর ঘন্টা! বাসার নিচে টং দোকানে বসে, একের পর এক চায়ের কাপ শেষ করতাম! ১ ঘন্টা, ২ ঘন্টা পর পর অপ্সরাকে বারান্দায় দেখা যেত! ও কখনো খেয়াল করেনি! বারান্দায় আসলেও বড়জোর ৫ মিনিটের মতো থাকতো! ঠিক যে পাঁচ মিনিট অপ্সরা বারান্দাতে থাকতো, সেই পাঁচ মিনিট আমার হার্টবিট চলতো দ্রুত গতিতে! হৃদপিন্ডের সিস্টোল-ডায়াস্টোল এর তীব্রতা এত বেশি হয়ে যেত যে, এক্ষনি বুক থেকে হৃদপিন্ড বেরিয়ে আসবে! এরপর একদিন অপ্সরার সাথে আমার দেখা হয়ে যায়, তার বাসার সামনেই! তারপর থেকে ও অনেক সময় নিয়ে বারান্দায় বসে থাকে! এভাবে দু মাস চলতে চলতে আমাদের মাঝে একটা সম্পর্ক তৈরী হয়! তারপর প্রতিদিন কথা হয়! দেখা হয়! হাত ধরে ঘন্টার পর ঘন্টা কাটানো হয়! আমরা একজন অন্যজনকে ছাড়া বাঁচবো না টাইপ একটা অবস্থা! এভাবে বেশ চলছিলো আমাদের! সময় বাড়তে থাকে, আমি টিনেজ থেকে বের হয়ে আসি! আমার শরীর থেকে অক্সিটোসিন কমতে শুরু করে! আগের মতো এখন আর প্রতিদিন অপ্সরার বাসার সামনে যেয়ে দাঁড়াতে ভালো লাগে না! ভালোবাসি না, এটা কখনো মনে হয়নি! তবে, সেই টিনেজের আকর্ষনটা কমে গিয়েছিলো! একটা সময় ছিল, যখন অপ্সরার সামনে যেয়ে দাঁড়ালেই আমার হাটু কাপতে থাকতো! শরীরে চিকন ঘাম দিত! সব কথা জীভের অগ্রভাগে এসে আটকে যেত! এখন আর সেসব অনুভূতি হয়না কখনো! আমি অপ্সরার সামনে যেয়ে দাঁড়ালেও তাকে স্বাভাবিক লাগে! আগের সেই লোম দাঁড়িয়ে যাওয়া অনুভব হারিয়ে গ্যাছে! মানুষটাকে মুখস্থ মুখস্থ লাগে! আমার এই মানসিক পরিবর্তনে অপ্সরা কষ্ট পায়! রাত হলে কান্না করে! টিনেজে রাত জেগে কান্না করাটাও সুখের! বয়সটা এমন যে, কষ্ট না পেলেও নিজে নিজে কষ্ট বানিয়ে, আমরা কষ্ট পাই! অপ্সরা ভাবতে থাকে, আমি বদলে গেছি! অবশ্য বদলেছি আমি ঠিকই, তবে ভালোবাসা যে কমেনি, তা বুঝাতে পারছিলাম না! আমাদের মাঝে বেড়ে চলে দূরত্ব! আমার বদলে যাওয়ার পেছনে আমার যে কোন হাত নেই, তা বুঝাতে পারছিলাম না অপ্সরাকে! আমি অল্প অল্প করে, ক্যারিয়ারের দিকে ছুটে চলি! আমার ব্যস্ততা বাড়তে থাকে! আমার ব্যস্ততা এবং আমাদের দূরত্ব সমানুপাতিক হারে বৃদ্ধি পায়! আমাদের যোগাযোগ কম হয়! সারাদিন পর ঘরে ফিরে ক্লান্ত শরীর নিয়ে বেশিক্ষন কথা বলতে ভালো লাগে না! মেজাজ খিটখিটে হয়ে থাকে! তবুও, বাধ্য হয়ে অপ্সরার সাথে কথা বলতে হয়! বেশিরভাগ দিনই ঝগড়া লেগে যায়! ক্যারিয়ার, পারিবারিক দায়িত্ববোধ এতসব ঝামেলা মাথায় নিয়ে, ঘুমানোর আগে প্রেম প্রেম কথা ভালো লাগে না! অপ্সরার বুকে হাজারটা অভিযোগ জন্মাতে জন্মাতে একসময়, মেয়েটা অভিযোগ করাই বন্ধ করে দেয়! এরপর রাত হলে, অপ্সরা আর ফোন দেয় না! একদিন, দুদিন, এক সপ্তাহেও আর অপ্সরার ফোন আসেনি! প্রথম দুদিন মনে হয়েছিলো, যাক এবার একটু শান্তি পাওয়া যাবে! কিন্তু সপ্তাহ শেষ হতে না হতেই, আমার ভীষন একা লাগতে শুরু হয়েছে! অনিদ্রা একদম জাপ্টে ধরেছে! রাত হলে, পুরো পৃথিবীটাকে এলোমেলো লাগে! আমি অপ্সরাকে ফোন দেই, ফোন রিসিভ হয়না! প্রায় এক মাস পর অপ্সরার সাথে কথা হয়! শেষবারের মতো আরেকবার সুযোগ চেয়েও পাইনি সেদিন! অপ্সরার শেষ কথা ছিল "খুব কষ্ট করে নিজেকে বদলে নিয়েছি! আর সম্ভব না! আবার নতুন করে কষ্ট পেতে চাইনা! তুমি ভালো থেকো!" আমাদের গল্পটা এখানেই শেষ! অপ্সরা ভালো থাকতে বলে গিয়েছিলো! কিন্তু আমার আর ভালো থাকা হয়নি! আজকাল রাত হলে, সেই টিনেজের অনুভূতি হয়! বুকের ভেতর হৃদপিন্ডের কম্পন বেড়ে চলে দ্রুত গতিতে! আমার খালি খালি লাগে! সব হাহাকার লাগে! শূন্য মনে হয় নিজেকে! আফসোস হয়, আরেকটু গুরুত্ব দিলেই হয়তো দূরত্ব বাড়তো না! আরেকটু মনোযোগ দিলেই বোধয়, মানুষটা এখনো ব্যক্তিগত থাকতো! আজকাল খুব করে টের পাই, " আমাদের ভালোবাসা গুলো মরে যায়, যত্নের অভাবে "


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১০৯৮ জন


এ জাতীয় গল্প

→ অপরিচিতা
→ মেহেদী হাসানের হাত ধরে বাংলা ভাষার পরিচিতি নতুন আঙ্গিকে !
→ জিজের যার যার সাথে যেভাবে পরিচিত হলাম (পর্ব-৭)
→ জিজের যার যার সাথে যেভাবে পরিচিত হলাম (পর্ব-৫)
→ জিজের যার যার সাথে যেভাবে পরিচিত হলাম (পর্ব-৪)
→ জিজের যার যার সাথে যেভাবে পরিচিত হলাম (পর্ব-৩)
→ জিজের যার যার সাথে যেভাবে পরিচিত হলাম (পর্ব-২)
→ জিজের যার যার সাথে যেভাবে পরিচিত হলাম
→ গল্প-অপরিচিত ভালোবাসা(পর্ব-1)
→ জিজের পরিচিতরা যে কারণে প্রিয় (শেষ পর্ব)
→ জিজের পরিচিতরা যে কারণে প্রিয় (পর্ব-২)
→ জিজের পরিচিতরা যে কারণে প্রিয় (পর্ব-১)
→ মধ্যরাতে ভেসে আসা পরিচিত কন্ঠস্বর!
→ আমার পরিচিতি (অনলাইন সংস্করণ)
→ অপরিচিতাকে পাওয়ার আশায়

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now