বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
লেখকঃ মোহাম্মদ শাহজামান শুভ।
শীতের সকালে কুয়াশা ঢেকে রেখেছে চারপাশ। ছোট্ট শহরের একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সদ্য ভর্তি হয়েছে তৃতীয় শ্রেণির ছাত্র রিয়াদ। মিষ্টি চেহারা, চঞ্চল স্বভাব, পড়াশোনায় মাঝারি মানের হলেও সবার সাথে মিশতে ভালবাসে। কিন্তু কয়েক মাসের মধ্যেই রিয়াদের চেহারায় এক অদ্ভুত পরিবর্তন দেখা দিল। সে চুপচাপ হয়ে গেল, কারো সাথে খেলত না, ক্লাসে প্রশ্ন করলেও জবাব দিত না।
শিক্ষকরা প্রথমে ভেবেছিলেন, হয়তো পড়াশোনার চাপেই রিয়াদ এমন হয়ে যাচ্ছে। কিন্তু তার ঘনিষ্ঠ বন্ধুদের কাছ থেকে জানা গেল, স্কুলের কয়েকজন বড় ছেলে তাকে প্রায়ই ভয় দেখায়, টিফিন ছিনিয়ে নেয়, কখনো আবার ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেয়। তারা তাকে নানা নামে ডাকে, মজা করে অপমান করে। রিয়াদ কিছুই বলতে পারে না, শুধু ভয়ে চুপ করে থাকে।
একদিন বাড়ি ফিরে রিয়াদ কান্না আটকাতে পারল না। মা কাছে এসে জিজ্ঞাসা করলেন, “কি হয়েছে বাবা?” প্রথমে সে বলতে চাইল না, কিন্তু মায়ের মমতায় ভেঙে পড়ল। সব ঘটনা খুলে বলল। মা তখন বাবাকে ডাকলেন। বাবা শান্তভাবে শুনলেন, তারপর রিয়াদের মাথায় হাত বুলিয়ে দিলেন।
“তুমি জানো রিয়াদ, মানুষকে আঘাত করে যারা মজা পায়, আসলে তারা নিজেরাই দুর্বল। তারা বোঝে না অন্যের কষ্ট কেমন। কিন্তু তুমি পারবে ভিন্ন হতে, যদি তুমি শিখে যাও কিভাবে মানুষের প্রতি সহমর্মিতা দেখাতে হয়।”
রাতের খাবারের পর বাবা-মা দুজন মিলে রিয়াদের সাথে বসে গল্প করলেন। তারা বললেন, “পরিবার হলো তোমার প্রথম স্কুল। এখান থেকেই তুমি শিখবে কিভাবে অন্যকে সম্মান করতে হয়, দুর্বলকে সাহায্য করতে হয়। মনে রেখো, যদি কেউ তোমাকে কষ্ট দেয়, তুমি কষ্ট দিয়ে প্রতিশোধ নেবে না। তুমি সাহসের সাথে বলবে এটা ভুল কাজ, আর আমাদের জানাবে।”
মায়ের মুখে একটি গল্প শোনা গেল। ছোটবেলায় তিনি এক প্রতিবেশী ছেলেকে দেখেছেন, যে সবসময় দুর্বলদের ভয় দেখাতো। কিন্তু তার নিজের পরিবারে ছিল ঝগড়া-বিবাদ, বাবা-মায়ের মধ্যে কলহ, গালাগালি। সেই পরিবেশই তাকে নির্মম করে তুলেছিল। “দেখো রিয়াদ,” মা বললেন, “শিশু পরিবারে যা দেখে তাই শিখে। এজন্য আমরা চেষ্টা করি তোমার সামনে কখনো অশান্তি না আনতে।”
বাবা বললেন, “তুমি যদি নিজের প্রতি আস্থা রাখো, তবে কেউ তোমাকে ভয় দেখাতে পারবে না। আত্মবিশ্বাসই তোমার সবচেয়ে বড় শক্তি।”
পরদিন রিয়াদ স্কুলে গেল নতুন মনোভাব নিয়ে। আবারও বড় ছেলেরা তাকে ভয় দেখাতে এল। কিন্তু এবার রিয়াদ কেঁদে ফেলল না। সে শান্ত গলায় বলল, “তোমরা যা করছো এটা ঠিক নয়। আমি তোমাদের ভয় পাচ্ছি না।” তার চোখে আত্মবিশ্বাসের ঝিলিক দেখে বড় ছেলেরা খানিকটা থমকে গেল। শিক্ষককেও পরে সে বিষয়টা জানাল। শিক্ষক সেই ছাত্রদের ডেকে বোঝালেন, “অন্যকে ছোট করা আসলে নিজেদের ছোট করা।”
কিছুদিনের মধ্যে রিয়াদের ভেতরের পরিবর্তন সবাই টের পেল। সে আবার খেলাধুলায় যোগ দিল, হাসিখুশি হয়ে উঠল। তার বন্ধুরাও বুঝল, বুলিংয়ের বিরুদ্ধে দাঁড়ানো যায় সাহস আর আত্মবিশ্বাস দিয়ে।
রিয়াদের পরিবার তাকে শুধু রক্ষা করেনি, বরং শেখাল—মানুষকে আঘাত দিয়ে নয়, ভালোবাসা দিয়ে জয় করতে হয়। বাবা যখন গৃহকর্মীকে সম্মান করে ডাকতেন, মা যখন প্রতিবেশীর অসুস্থ মেয়েকে দেখাশোনা করতেন—এসব দৃশ্যই রিয়াদের মনে স্থায়ী হয়ে গেল।
বছর কয়েক পরে রিয়াদ স্কুলের এক অনুষ্ঠানে বক্তৃতা দিল। সে বলল, “আমাদের সমাজে বুলিং অনেক বড় সমস্যা। কিন্তু আমি শিখেছি, পরিবারই প্রথম জায়গা যেখানে আমরা সহমর্মিতা, শ্রদ্ধা আর আত্মবিশ্বাস শিখতে পারি। যদি পরিবার শক্তিশালী হয়, তবে সমাজও শক্তিশালী হবে।”
অভিভাবক আর শিক্ষকরা করতালি দিলেন। মঞ্চে দাঁড়িয়ে রিয়াদ মনে মনে ভাবল, “আমার পরিবার আমাকে শিখিয়েছে, কেমন মানুষ হতে চাই।”
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now