বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
ওই মেয়ে আমার লুঙি দাও বলছি?
পরী :- আমি কি নিছি নাকি? কইলেই
হইলো নাকি?
শুভ্র:- লুঙি গেঞ্জি দুইটাই তুমি নিছো।
এখানে আর কেউ আসেনি।
পরী :- আমারে বইলা লাভ নাই।আমি কিচ্ছু
জানিনা।গামছা পরা তো আছে।সোজা
বাসায় চলে যান। আর কখনো এই পুকুরে
গোসল করতে আসবেন না।এখানে কিন্তু
পেত্নী আছে। কথাটা যেনো মনে থাকে।
শুভ্র:- প্লীজ পরী, এমন করোনা।এমন
করলে সারাদিন পুকুরের পানিতে দাড়িয়ে
থাকতে হবে।
পরী :- থাকেন গা।তাতে আমার কি? যতো
ঢং! সারা দুনিয়ার মানসি নেংটি পইরা ঘুইরা
বেড়ায়
।আর ওনার কত্তো বাহানা।আপনি ঢাকা
থেকে আপনার বন্ধু মানে আমার বড়
ভাইয়ের সাথে ঘুরতে আসছেন তাতে আমার
কোনো আপত্তি নাই।কিন্তু আমার
দিকে ওইভাবে তাকায় ছিলেন কি জন্নে।
আমি কি আপনার বিয়া করা বউ নাকি!
যতসব আজাইরা পোলা পাইন।
শুভ্র:- আরে বুঝতাছোনা ক্যান!আমি
তো ইচ্ছে করে তাকাই নি।অজান্তে চোখ
পড়লে আমি কি করবো বলো!
পরী :- আর শোনেন। এটাই ফুল এন্ড
ফাইনাল।এর পর যদি আমার দিকে ভুল
করেও তাকান কি যে হবে অবস্থা।ওই
গামছাটাও জুটবে না।আর মাইয়া মানসের
লাগান ছিচ কান্দন বন্ধ করেন তো।
আমি জানিনা আপনার লুঙি গেঞ্জি কেটায়
নিচে।চললাম আমি।গামছা পইরা ভদ্র
মানসের লাগান চইলা আইসেন।গেলাম
আমি।
ও আল্লাহ এ কোন বিপদে পরলাম আমি।
এই পিচ্চি গামছা পইরা কি পানি থেকে ওঠা
যায় নাকি।মান সন্মান তো গেলো
আমার।আহারে এই শীতের সকালে কেমনে
কি করি।
হায় হায় হায় এখন দেখি আন্টি এই দিক
দিয়া কই জানি যাচ্ছেন?
আন্টি:-ও বাবা,তুমি এখনো গোসল
করছো? ঠাণ্ডা লেগে যাবে তো? বাসায়
গিয়ে খেয়ে দেয়ে পরীকে নিয়ে গ্রাম টা ঘুরে
দেখো। ভালো লাগবে।তোমার বন্ধুর
তো জ্বর কমেনি। এখনো ঘুমোচ্ছে।
শুভ্র:- ও আন্টি আমাকে রক্ষা করেন।
আপনি আমার মায়ের মতো?
আন্টি:- কেনো বাবা কি হয়েছে?
শুভ্র:- কি করি এখন।ওই দরজাল মেয়ের
নামে নালিশ দিলে তো আমার কপালে
শনি নামবে।আন্টি আমি ভুলে লুঙি রেখে
এসেছি।গামছা পরেই চলে এসেছি।
আন্টি মুচকি হাসি দিতে দিতে বললেন।
আচ্ছা পরীকে দিয়ে পাঠিয়ে দিচ্ছি।
পরী রাগে আগুন হয়ে লুঙি নিয়ে এসে গাল
ফুলিয়ে বসে আছে।
পরী :- শোনেন,আপনার কপাল টা ভালো
যে আম্মুর কাছে নালিশ দেন নি।দিলে যে
আপনার কি অবস্থা করতাম! এই নেন লুঙি।
এত্তো বড় মানুষ। লজ্জা শরমের মাথা
খাইছেন নাকি! নিজের লুঙি ও সামলায়
রাখতে পাড়েন না।
আন্টি:- পরী মা,তোর শুভ্র ভাইয়াকে
খেতে দে।খাওয়া হলে একটু গ্রাম টা ঘুরিয়ে
নিয়ে আসিস।
পরী :- এই যে বসেন।মাথা নিচু করে খাবেন।
মাইয়া মানুষ দেখলে তো চোখ উল্টাইয়া
যায়।
শুভ্র:- না,আমি খাবো না। আমার খুদা
নাই।আজ সন্ধায় আমি চলে যাবো।আমার
অনেক খারাপ লাগছে।আচ্ছা তুমিই বলো!
আমি কি এমন করছি যে তুমি এমন করছো।
আর তাকাইছি তো কি হইছে।ভুল তো
হইছে।কয়বার ক্ষমা চাইলাম এ জন্য?
পরী :- আচ্ছা ঠিক আছে।মাফ করে দিছি
এখন খেয়ে নিন।
মেয়েটা মাত্র এস এস সি দিছে।এমন
বুদ্ধিমান চালু আর সুন্দরী মেয়ে আগে
কখনো দেখিনি। না তাকায় কি থাকা যায়।
আর ওখানেই ওর যতো আপত্তি।
পরী :- কি চিন্তা করেন হুম।খাওয়ার সময়
আজাইরা চিন্তা করা ঠিক না।পেটের plm
হয়।পরে সবার সামনে পরিবেশ নষ্ট কইরা
ফালাইবেন।আরে কি হলো আপনার?
গলায় ভাত আটকাইছে নাকি? এতো
কাশতাছেন ক্যান?
ভাইয়া পানি খান। ভালো লাগবে।
তারপর পুরো গ্রাম ঘুরে দেখা হলো।
কিন্তু ওর মানসিকতা বদলালো না।ওই
রকম করে কথা বলতেই থাকলো।
আহারে কি মায়াবী চেহারা! না তাকিয়ে কি
থাকা যায়। কাল তো সকালে চলে যেতে
হবে।তাই জানালা দিয়ে ওর ঘুমন্ত চেহারার
দিকে অনেক ক্ষন চেয়ে থাকলাম।
কি যে মায়াবী চেহারা আমি বিশেষনহীন!
পরী :- রেডি তো হইছেন।এক্ষনি যাবেন।
বিকেলে গেলে হয়না।নিয়মিত খোজ
নিয়েন। আমার ফোন নম্বর টা ভাইয়ার
কাছে নিয়েন।আবার আসবেন।আসার সময়
আমার জন্য একগুচ্ছ রজনীগন্ধা আর
একটা সাদা খরগোশ নিয়ে আসবেন।
মেয়েটার গলাটা শেষ দিকে ভাঙা ভাঙা
লাগছিলো।
শুভ্র:- আর আসা হবেনা পরী। বাবার
বিজনেস দেখার জন্য বিদেশে চলে যাবো
ঢাকা গিয়েই।প্রতি পাচ বছরে একবার দেশে
আসা হবে।আরে তুমি কান্না করছো
কেনো?
পরী :- কে কানতাছে।কানতে আমার বয়ে
গেছে।তারপর এক দৌরে বাড়ির ভিতরে
আরাল হয়ে গেলো। পরী চোখ মুছতে
মুছতে বাসার সীমানায় প্রবেশ করলো।
তারপর ওর ভাই শ্রাবনের রুমে চলে
গেলো।
পরী :- ওই ভাইয়া।তোর বন্ধু চলে যাচ্ছে।
তুই একটু এগিয়ে দিতেও গেলিনা! এতো
সেলফিস তুই ভাইয়া?
শ্রাবন:- দেখছিস না জ্বরে শরীর পুড়ে
যাচ্ছে। আর কে বলছে ও চলে যায়?
পরী :- উনিই তো বললেন।ঢাকায় গিয়ে
নাকি বিদেশ চলে যাবেন। পাচ বছর পর
নাকি ফিরবেন।
শ্রাবন:- মজা নিছে।ও সিম তুলতে সদরে
গেছে।বিকেলে ফিরে আসবে।
পরী :- কি বললি! ওই শয়তান আসুক আগে।
কি যে করমু ওরে।
শ্রাবন:- তোর যা ইচ্ছে হয় কর গিয়ে।
খারাপ লাগতেছে।কানের কাছে ভনভন
করিস না তো।যা ভাগ।
বিকেলে সদর থেকে ফিরে বাহিরে উঠোনে
চক্কর দিচ্ছে শুভ্র।
পরী রাগে অগ্নিকোণ হয়ে ফুসতেছে
বারান্দায় বসে।
শুভ্র:- ও আল্লাহ্, আমার কপালে যে কি
আছে আজকে।রক্ষা করুন মাবুদ।গুটিগুটি
পায়ে ভিতরে প্রবেশ করলাম।আন্টিও
বাসায় নেই।
পরী :- এই দিক আসেন কইতাছি।
শুভ্র:- হুম।বলো।
পরী :- ড্রেস চেঞ্জ কইরা খাওয়া দাওয়া
কইরা বাহিরে আসেন।আমি পুকুর পাড়ে বসে
আসি।অনেক কথা আছে।খাবার টেবিলে
সাজায় রাখছি।দেরী হইলে কপালে শনি
আছে বুঝলেন।
শুভ্র:- হুম,তুমি যাও আমি আসতেছি।
খাওয়া দাওয়া শেষ করে পুকুর পাড়ে এসে
পরীর পাশে বসলাম।
পরী :- এর আগে কি কখনো লুঙি পড়েন
নাই।এটা কি লুঙি নাকি মহিলা মান্সের
সায়া।
শুভ্র:- জি মানে।বুঝলাম না।
পরী :- গিট ভালো কইরা দেন।আপনার
তো আবার লুঙি পড়লে হুস ঠিক থাকেনা।
লুঙি উধাও হইয়া গেলেও খেয়াল থাকেনা।
শুভ্র:- দেখো,এসব কিন্তু ঠিক হচ্ছেনা।
আজ আন্টি আসুক।সব বলে দিবো হুম।
পরী :- কইলে রাইতে আর ঘুম হইবো না
আপনার।এই শীতের রাতে বালতি দিয়া
পানি ঢালমু হুম।তখন বুঝবেন মজা কারে
কয়?
শুভ্র:- আজব তো! এ কি রকম কথা! পরী
অনেক খারাপ হবে কিন্তু?
পরী :- আপনি মিথ্যা কথা কইছেন ক্যান?
এই ভাবে কেউ মিথ্যা কথা কয়।তারপর
মাথা নিচু করে কান্না করতে শুরু করলো।
শুভ্র:- আমি ওর মুখ টা উপড়ে তুলে ধরে
কান্না থামানোর আপ্রান চেষ্টা করলাম।
ও কি আর থামার মতো মেয়ে নাকি।জেদ
চেপেছে।আরো বেশী করে কান্না করছে।
মাফ করো প্লীজ।আর কখনো এমন
হবেনা।এই কান ধরছি।আমার কান ধরা
দেখে ওর মুখে হাসির ঝিলিক খেলা করতে
শুরু করলো। একদিকে চোখ দিয়ে
ছলছলিয়ে পানি পড়ছে আর অন্যদিকে
মুখে মিষ্টি হাসে,এমন অপরুপ drissho
দেখাটা সত্যি ই ভাগগের ব্যাপার।
পরী :- পুকুর থেকে ওই শাপলা ফুল টা নিয়ে
আসেন যান।
শুভ্র:- অনেক শীত তো।আর ওটা তো
অনেক দূরে।
পরী :- যা বলছি জলদি করেন।তা না হইলে
কিন্তু আবার কান্মু হুম।
শুভ্র:- আচ্ছা ঠিক আছে।যাচ্ছি।
পরী:- কি যে বলদ রে বাবা।লুঙিটা নেংটি
করে নিন।কিচ্ছু বোঝেন না দেখি।পানিতে
লুঙির সাথে পল্টি খাইবেন তো।
শুভ্র:- তুমি ওদিকে তাকাও তাহলে?
পরী :- আচ্ছা ঠিক আছে আমি চোখ বন্ধ
করলাম।Thank u.অনেক গুলা ফুল
আনছেন।এগুলা দিয়া কালকে আপ্নারে
মালা বানায় দিমু।
শুভ্র:- আজব তো শাপলা ফুলের মালা
দিয়া আমি কি করবো!
পরী :- কথা কম।যা বলছি ভালো করে
শোনেন।কেউ খুশি হয়ে কিছু দিলে
হাসিমুখে নিতে হয়।মালাটা গলায় রাখবেন
সব সময়।তাহলে আমার দুষ্টমি সব সময়
মনে পরবে।
শুভ্র:- আচ্ছা ঠিক আছে।
পরী তোমার কাউকে কখনো ভালো
লাগেনি।
পরী :- হুম লাগছে।কিন্তু বইলা লাভ কি?
শুভ্র:- এমন বলছো কেনো?
পরী :- এই প্রশ্নটা আর কক্ষনো
আমাকে করবেন না।তারপর কান্না করতে
করতে উধাও হয়ে গেলো।
কি রহস্যময়ী চরিত্র!
কিছুতেই কুল কিনারা খুঁজে পাওয়া যায় না।
রাতে আমি খাবার করার আগে আমার বন্ধু
শ্রাবনের সাথে কথা বলছিলাম।
শ্রাবন:- দোস্ত পরীর আচরনে কিছু মনে
করিস না।ও ছোটকাল থেকেই এমন।কিন্তু
ওর অনেক সুন্দর রহস্যময়ী একটা মন
আছে।যে মনটা কেউ বুঝতে পারেনা।তিন
বছর আগে গ্রামের এক দল বখাটে ছেলে
ওকে জংগলে নিয়ে গিয়ে পালাক্রমে ধরষণ
করেছিলো। অনেক বেশী রক্তক্ষরন
হয়েছিলো।আমার ফুলের মতো নিস্পাপ
বোনটাকে প্রেমের প্রলোভন দেখিয়ে
কমিশনারের ছেলে এমন করেছে।তুই
আমার বেস্ট ফ্রেন্ড তোর কাছে কিচ্ছু
আরাল করবো না।ও এখনো রাতে ওই
কথা ভেবে নীরবে কাদে। জানিস ক্ষমতাধর
হওয়ায়ায় আমরা আজ অবধি বিচার পাইনি।
তারপর আমি শ্রাবনের রুম থেকে বেরুনো
মাত্র জানালার পাশে পরীকে দাড়িয়ে
থাকতে দেখলাম।
পরী :- ভাইয়া সবি তো জেনে গেছেন তাই
না?কি আর বাকি রইলো।অনেক ghrina
হচ্ছে এই নষ্টা মেয়েটাকে দেখে তাই না।
আপনার সামনে যেতে অনেক লজ্জা হচ্ছে
আমার।মাফ করেন আমাকে।অনেক কষ্ট
দিয়েছি আপনাকে।
তারপর নিজের রুমে গিয়ে গেইট লক করে
দিলো। কি যে কষ্ট হচ্ছে আমার।এমন
পবিত্র একটা মেয়ের জীবনে এমনটা
ঘটলো কেনো।আর যাই হউক।আন্টির
কাছে কালকে জানাচ্ছি আমি যে পরীকে
বিয়ে করতে চাই।
ঘুম থেকে উঠেই দেখলাম চারদিকে কান্নার
রোলে ছেয়ে গেছে।জানালার গ্রিল দিয়ে
দেখা যাচ্ছে রেলিং এর সাথে ঝুলে আছে
পরীর লাশটা।হাতে শক্ত করে চেপে ধরে
আছে শাপলা ফুলের মালাটা।সবাই চিৎকার
করে পাগলের মতো কাঁদছে। ও যে
পরিবারের সকলের নয়নের মনি।আমিও
প্রান খুলে কাঁদছি।এই কান্নার যে কি কষ্ট!
হৃদয় টা ফেটে চুরমার হয়ে যাচ্ছে।
মোর হিয়া আজি আখি ছলো ছলো।
কিছুতেই মানে না যে মানা।
পরী একবার,শুধু একবার,
চোখ মেলে দেখে যা, দেখে যা দেখে যা।
ভালোবাসি ভালোবাসি ভালোবাসি।
সমাপ্ত***
এই গল্পটা একটা সত্য ঘটনা কে কেন্দ্র
করে লেখা হয়েছে।একটা নষ্ট মেয়েকে এই
সমাজ কখনই স্বাধীন ভাবে বাচতে দেয় না।
আর অপরাধীদের কি বিচার হয়েছে
কখনো? কথার মাধ্যমেও অগনিত বার
তাদের কে ধরষণ করা হয়।এর দায় আমাদের
সবাইকে নিতে হবে।
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now