বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
Writing by #md sumon al hasan.Part-4
.
জঙ্গলের মধ্যে অামি একা
একা হাটছি। ভোর অথবা
গোধূলি, অামি ঠিক
নিশ্চিত করে বলতে পারবো
না। এখানে অারো একজন
অাছে, অবশ্য দেখতে পাচ্ছি
না তাকে। শুধু টের পাচ্ছি
কেউ অাছে। অামার খুব
কাছে চলে অাসছে।
চাচ্ছিলাম না কেউ অামার
কাছে অাসুক। দৌড়ে এখান
থেকে বেরিয়ে যেতে ইচ্ছে
করছে, কিন্তু দৌড়াতে
পারলাম নাহ। পা দুটো
অনেক ভারি মনে হচ্ছিলো,
কিছু একটা ধরে রেখেছে।
চিৎকার করতে চাচ্ছি
কিন্তু কোন শব্দ বের হচ্ছে
না। জেগে উঠে দেখলাম
জানালা ভেদ করে সাদা
অালো অাসছে। বৃষ্টি টা ও
থেমে গেছে। বাহিরে
পাখি কিচিরমিচির করছে।
অাবির এখনো ঘুমোচ্ছে।
খাট থেকে নেমে গিয়ে
পর্দা সরিয়ে জানালার
পাশে এসে দাড়ালাম, অার
স্বপ্নটার কথা ভাবতে
লাগলাম। এর অাগে অবশ্য
এমন স্বপ্ন কখনো দেখিনি।
জানালার পশে দাড়িয়ে
বাহিরটা দেখছি। মৃদু একটা
হাওয়া এসে গায়ে লাগলো।
পাখিদের উড়ে যাওয়া
দেখে ছোট বেলার কথা মনে
পড়ে গেলো। ছোট বেলায়
সুপার ম্যান ছবিটা দেখে
অনেক উড়তে ইচ্ছে করতো।
অাম্মু সুপার ম্যান এর চাইল্ড
কস্টিউম টা কিনে
দিয়েছিলো। অামি
কস্টিউম টা পড়ে সুপার ম্যন
এর মতো দৌড়ে এসে আম্মুর
গালে চুমো দিতাম। আম্মুকে
খুব মিস করছি।
খাটের কাছে গিয়ে
বালিশের পাশ থেকে
ফোনটা নিয়ে আম্মুকে কল
দিলাম।
ফোন ধরলো আম্মু।
এতো সকালে ঘুম থেকে উঠে
গেছো। অাবির দের ঐখানে
কেমন লাগছে?
=ভালো লাগছে আম্মু। একটা
স্বপ্ন দেখে ঘুম ভেঙ্গে
গেছে। জানালায় দাড়িয়ে
ভাবছিলাম সুপার ম্যান এর
কথা অার তোমাকে ও মিস
করছিলাম ভিষন।
মিস ইউ টু মাই সুইট হার্ট।
অাবিরদের বাসার সবাই
কেমন অাছেন?
=সবাই ভালো অাছে।
বাসায় অনেক গেস্ট।
-অাচ্ছা তুমি কি কোন গিফট
নিয়ে গেছো নাকি অামি
ড্রাইভার কে দিয়ে গিফট
কিনে পাঠিয়ে দিবো?
=অাম্মু অামি অাসার সময়
গিফট নিয়ে অাসছি।
-ভেরি গুড। যাও ফ্রেশ হও।
এখন রাখি আম্মু একটু পর
অফিসে যাবো। নিজের
খেয়াল রেখো, ঠিক মতো
খাবার খেয়ো। লাভ ইউ।
=লাভ ইউ টু আম্মু,
উমমমমমমাহহহহ।
,
ফ্রেশ হয়ে এসে দেখি
অাবির ঘুম থেকে উঠেছে।
-গুড মরনিং
=বেড মরনিং
কেনো কি হয়েছে?
=বাজে একটা স্বপ্ন দেখে ঘুম
ভাঙ্গছে।
কি স্বপ্ন?
=জঙ্গলের মধ্যে
হাটতেছিলাম।
ও অাচ্ছা স্বপ্নে কোন মেয়ে
অাসে নি?
=ধূর মেয়ে নিয়ে স্বপ্ন আমি
দেখি না। যা ফ্রেশ হ।
অামি ছাদ থেকে ঘুরে
অাসি।
-ফোনটা নিয়ে যা নাশতা
করার সময় ফোন দিবো নেমে
অাসিস।
=হুম।
ফোনটা নিয়ে ছাদে উঠে
পরলাম, ছাদের দোলনা টা
অনেক সুন্দর, অাজ সূর্য টাকে
দেখতে ভীষণ ভালো লাগছে
ইনফেক্ট যান্ত্রিক নগরীতে
চার দেয়ালের মাঝে
এভাবে সূর্য দেখার সময় কই।
তবে মাঝে মাঝে চাঁদ
দেখি। দোলনার দিকে
তাকাতেই মনে পড়লো
রিয়ার বলা ঘটনাটির কথা।
ছাদের ও পাশ টা তে গিয়ে
পুকুরের সেই ঘাট টা দেখি
অার ভাবতে থাকি সেই
মেয়েটির কথা। এমন সময়
পিছন থেকে কেউ একজন
অামাকে হাল্কা ধাক্কা
দিয়ে বল্লো ভুও। হঠাৎ
ধাক্কা দেয়াতে ভীষণ ভয়
পেয়ছিলাম। পিছন ফিরে
দেখি অাবিরে কাজিন
তৃশা।
-ভয় পেয়েছেন?
=কিছুটা।
হা হা হা হা হা করে
পেতনির মতে দাত বের করে
হাঁসা শুরু করলো। সুন্দর
মেয়েরা দাঁত বের করে
হাঁসলে যে এতো বাঁজে
লাগে তৃশা কে না দেখলে
হয়তো কখনো বুঝতেই
পারতাম না।
-এই যে মিষ্টার কি
ভাবছেন?
=কিছুনা।
-বাদ দেন, এখানে এসে কেমন
লাগছে সেইটা বলেন?
=অনেক ভালো লাগছে।
এমন সময় দেখি তমা অার
অায়ান অাসছে ছাদে।
অায়ান হলো তৃশার ছোট
ভাই ক্লাস সেভেন এ পড়ে।
গতকাল রাতে খাবারের
টেবিলে বসে অনেক
দুস্টামি করেছিলো।
বোনের মতই চটপটে। তমা
বল্লো ভাইয়া এতো সকালে
অাপনি ঘুম থেকে উঠছেন
অবিশ্বাস্য ব্যাপার।
অাবির ভাইয়া বলে অাপনি
নাকি প্রতিদিন অনেক লেইট
করে ঘুম থেকে উঠেন অার
অনেক রাত পর্যন্ত বই পড়েন।
নিচে চলেন নাশতা করবেন।
অামি অাপনাকে ডাকতে
অাসছি। হঠাৎ অায়ান
অামার হাতটা ধরে বলে
চলো ভাইয়া একসাথে
নাশতা করবো।
-অাচ্ছা চলো।
অমি ওদের সাথে নিচে
নেমে অাসলাম।
তৃষা মুখ বাকা করে বিড়
বিড় করে বলতেছে ঢং দেখে
বাঁচি না যার বিয়ে তার
খবর নাই পাড়াপরশীর ঘুম
নাই।
মনে হয় নতুন জামাই কি
অাল্লাহদ হু বলে মুখটা
অাবার বাকা করলো।
,
নাশতা করে অাবির
ফায়াজকে নিয়ে বের
হয়েছে গ্রাম দেখাতে। পথে
ফায়াজের সাথে অাবিরের
ছোট বেলার কয়েকটা বন্ধুর
সাথে অাবির পরিচয়
করিয়ে দেয়।
কিছুক্ষণ ঘুরোঘুরি করার পর
তারা বাসায় ফিরে
অাসে। এদিকে বিয়ের গেইট
স্বাজানোর কাজ শুরু হয়ে
গেছে। অাবিরের আম্মু
আবিরকে ডেকে বল্লো
বাজারে গিয়ে ঈলিশ মাছ
কিনে নিয়ে অায়। এর
অাগেও অান্টি অনেকবার
বাসা থেকে ঈলিশ মাছ
রান্না করে অামার জন্য
পাঠিয়ে ছিলো। অাবির
অামাকে বল্লো তুই যাবি
অামার সাথে। সাথে সাথে
আন্টি অাবিরকে বল্লো, ও
একটু অাগে বাহির থেকে
অাসছে অার বাজার অনেক
দূরে ওরে নেয়ার দরকার নাই
তুই জা ফায়াজ বাসায়
থাকুক। অাবির অাচ্ছা বলে
টাকা নিয়ে বাজারে চলে
গেলো।
বাড়িটা অনেক সুন্দর করে
স্বাজানো হচ্ছে। অান্টি
বল্লো তুমি তো মাছ ধরতে
চাইছিলা যাও পুকুরে
অায়ান,তৃশা,রিয়া মাছ
ধরতেছে।
-অাচ্ছা অান্টি।
অামি বাড়ির পিছনের
দরজা দিয়ে পুকুরের দিকে
গিয়ে দেখি অায়ান অার
রিয়া মাছ ধরছে। তৃশা
পুকুরের অন্য পাশের
ঘাটলাতে বসে অাছে।
অায়ান অার রিয়ার কাছে
গিয়ে বল্লাম দেখি কে
কয়টা মাছ ধরেছো?দেখলাম
রিয়ার থেকে ও বেশি মাছ
অায়ান ধরেছে। রিয়া
বল্লো ভাইয়া অাপনি
ধরবেন? হে ধরবো তার
অাগে তোমার তৃশা অাপুকে
নিয়ে অাসি। অামি উঠে
গিয়ে পুকুরের ও পাশটাতে
গেলাম। তৃশা মুখটা কে
কালো করে বসে অাছে।
পাশে গিয়ে বল্লাম বসতে
পারি?
-অাপনার ইচ্ছে।
বসার পর বল্লাম বয় ফ্রেন্ড
কে মিস করতেছেন?
-অামার কোন বয় ফ্রেন্ড
নাই।
অাপনার কি মন খারাপ?
পানি খাবেন?
ও মুচকি একটা হাঁসি দিয়ে
বল্লো মন খারাপের সাথে
পানির কি সম্পর্ক?
এমনিতেই বল্লাম।
-অাচ্ছা একটা কথা বলবেন?
কি কথা?
-অামি কি অাপনাকে খুব
বেশি জ্বালাই।
কই না তো। অাপনার এমনটা
কেনো মনে হলো?
-জানি না।
মাছ ধরবেন?
-অাপনি অামার সাথে মাছ
ধরে পারবেন না।
তাই ওকে চলুন দেখা যাক।
তবে একটা শর্ত অাছে
-কি শর্ত
অামি যদি অাপনার থেকে
বেশি মাছ ধরি তাহলে
অামি যা বলবো অাপনাকে
তাই করতে হবে। অার
অাপনি যদি অামার থেকে
বেশি ধরেন তাহলে অাপনি
যা বলবেন অামি তাই
করবো।
-অামি রাজি চলেন হাঁসি
মুখে তৃশা বল্লো।
.
চলবে..........
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now