বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

পোলা একটা

"মজার গল্প" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান Md mainul islam (sagor) (০ পয়েন্ট)

X কালাম সাহবে এই মুহূর্তে তার ছেলে রাজুর সাথে বসে আছে রিক্সায়। অপর রিক্সায় আছে তার মেয়ে আর স্ত্রী মানে রাজুর মা। সে ছেলে কে নিয়ে বিশেষ চিন্তিত। ছেলে এই দুপুর বেলা ক্যান তাকে নিয়ে চাইনিজ রেস্টুরেন্টে যাচ্ছে তার মাথায় আসছে না। এই ছেলে তো বিশেষ ভদ্র ছেলে না। যেই ছেলে বাবার টাকায় চলে সে কিভাবে ফ্যামিলিকে চাইনিজ খাওয়ায় সেটা কালাম সাহেবের মাথায় আসে না। আজকে দুপুর বেলা তার গুণধর পুত্র তার দোকানে এসে বলে বাবা চল সারপ্রাইজ আছে তোমাদের কে আজকে বাইরে খাওয়াব। . কালাম সাহবে চোখ থেকে চশমা নামিয়ে পরিষ্কার করে আবার ভাল করে তাকায় নাহ ঠিক আছে এইটা তারই ছেলে কোন সন্দেহ নাই। যেই ছেলে দোকানের কর্মচারী কে হুমকি দেয় যে বাবা না থাকলে এই দোকানের মালিক আমি তখন তোর চাকরি নট তাই যা চাই দিয়া দে সেই ছেলে খাওয়াবে চাইনিজ বিষয়টা বড়ই সন্দেহ জনক। কালাম সাহবে ছেলে কে এক দিন জিজ্ঞেস করল বাবা বয়স তো অনেক হল কি করবা কিছু চিন্তা করছ? তার ছেলে চেয়ার থেকে উঠে বাবার পায়ে হাত দিয়ে সালাম করে বলে বাবা এত দিনে আপনার ছেলের বয়সের দিকে নজর পরছে তা বাবা বিয়া কবে নাগাদ করাচ্ছেন ? . কালাম সাহেবের মেজাজা চরম গরম হয়ে গেছে ছেলের কথা শুনে তার পরেও মাথা ঠাণ্ডা রেখে বলে বাবা আমি বউয়ের কথা বলি নাই বলছি কাজ কাম কিছু করবা। তার ছেলের মুখ মলিন করে জবাব দিছে বাবা সেই চিন্তাই তো আমি সারাদিন করি। কালাম সাহবে মনে মনে আশার আলো দেখে হয়ত ছেলে কিছু একটা করবে। সে জিজ্ঞেস করে বাবা কি চিন্তা করলা ? ছেলে জবাব দেয় আপনে মারা গেলে এত সম্পদ দিয়া আমি কি করব সেই চিন্তা করতে করতে আমার দিন যায়। এই রকম ছেলের সাথে কথা চালিয়ে যাওয়ার কোন মানেই হয় না। কালাম সাহবে তার ছেলে রাজুকে অনেক আগেই খরচের বাতিল খাতায় লিখে রাখেছেন। . এই ছেলে জন্মের দিন থেকেই তার জীবন তামাতামা ছেলে যে দিন জন্ম হয়েছে সেদিন তার রিক্সা থেকে পরে পা ভাঙ্গে গেছে। তার পরে স্কুলে ভর্তি থেকে শুরু করে আজ পর্যন্ত শান্তি নামক জিনিষ তার জীবন থেকে উধাও। ছেলে স্কুলে পরার সময় একদিন স্কুলের প্রিন্সিপাল স্যার থাকে ডেকে নিয়ে জিজ্ঞেস করে আচ্ছা কালাম সাহবে আপনার বাপ কত জন? এই প্রশ্ন শুনে কি কার মাথা ঠিক থাকে বাপ আবার কত জন হবে একজন আর যদি শশুর আব্বা ধরেন তাইলে দুই জন। তার পরেও কালাম সাহেব হালকা হেসে বলেন ক্যান স্যার একজনি। হটাত এই প্রশ্ন করছেন ক্যান স্যার? . স্যার যা বলল তা শুনে কালাম সাহেবের মাথা চক্কর দিয়ে উঠল। প্রিন্সিপাল বলল আপনার ছেলে প্রতি মাসে একবার করে তার দাদা মারা গেছে বলে স্কুলে অনুপুস্থিত থাকে তো তাই জিজ্ঞেস করলাম। কালাম সাহবের বুঝতে বাকি থাকল না ঘটনা কি হয়েছে। সে দিন কালাম সাহেব সিরাম পরিমাণে পালিশ ( মাইর ) করেছিল তার ছেলে কে। দুঃখের বিষয় সেই পালিশের কারণে তাকে আরও বেশি পালিশ খেতে হয়েছে স্ত্রীর কাছে। . ছেলে কে পালিশ কার পরে দিন ছেলে গিয়ে তার আম্মার কাছে মানে কালাম সাহেবের স্ত্রীর কাছে বলছে বাবার ভাব সাব বেশি ভাল না পাশের বাড়ির রতন আঙ্কেলের বাসায় যায় ঘন ঘন বিশ্বাস না হলে নিজের চোখে দেখ। সে দুপুরে খাওয়ার পরে সোজা দোকানে যায় না রতন আঙ্কেলের বাসা হয়ে যায়। কালাম সাহেবের স্ত্রীও চোখে চোখে রাখছে.. এই দিকে দুপুরে খাওয়া শেষে রাজু তার বাবা কালাম সাহেবের কাছে গিয়ে বলেছে বাবা বাবা রতন আঙ্কেল তোমাকে জরুরী খবর পাঠিয়েছে তার ঘরে। কালাম সাহবে হন্তদন্ত হয়ে ছুটে গিয়ে দেখে রতন সাহবে নাই বাসায় সে অফিসে কিন্তু আর স্ত্রী বসে আছে রতন সাহেবের ঘরে। সেদিন আর কালাম সাহেবের দোকানে যেতে হয় নাই। স্ত্রী ধরে বাসায় নিয়ে আসছে। তার পরে কি হয়েছে সেটা আর কালাম সাহবে মনে করতে চায় না। সে দিনের পরে আর কালাম সাহবে তার ছেলে রাজুর সাথে পাঙ্গা নেয় না। . আরেক বার তার ছেলে রাজু পত্রিকার একটা কাটিং এনে তাকে বলে বাবা দেখছ যাদের ইনকাম বছরে এত টাকার বেশি তাদের উপরে সরকার কর ধার্য করেছে। তোমার তো মাশাল্লাহ ইনকাম তার থেকে অনেক বেশি কিন্তু তুমি তো কর দেও না। এখন আমাকে কিছু দিবা নাকি আমি ইনকাম ট্যাক্স অফিসে খবর দিব? কালাম সাহেব কোন ধরণের ঝামেলা ছাড়াই টাকা দিয়ে দিছে কারণ এই ছেলে কে দিয়ে বিশ্বাস নাই । আজকে আবার কি কিরছে কে জানে? . চাইনিজ খাওয়া শেষে কালাম সাহেবের ছেলে রাজু ঘোষণা করল আজকে তাদের জন্য বিশাল এক সারপ্রাইজ আছে এমন সারপ্রাইজ যে তারা কল্পনাও করতে পারেবে না। কালাম সাহবে মনে মনে খুব খুশি সে ভাবছে তার ছেলে হয়ত চাকরি পেয়েছে। বা এই জাতীয় কিছু। সেব শেষে রাজু পাশের টেবিলে বসে থাকা একটা মেয়ে কে নিয়ে এসে তার বাবা মাকে সালাম করতে বলল। তার বাবা কে বলল বাবা তোমার বউ মাকে দোয়া কর। কালাম সাহেবের কয়েক মুহূর্ত লাগল বিষয়টা বুঝতে। কয়েক মুহূর্ত পরে সে বুঝতে পারল তার গুণধর ছেলে বিয়ে করে বউ নিয়ে এসেছে। এই মুহূর্তে কালাম সাহেবের ইচ্ছা করছে পায়ের স্যান্ডেল খুলে ছেলে কে একটা দৌড়ানই দিতে কিন্তু সেটা সম্ভব না পাবলিক প্যালেস আছে সে। . তবে কালাম সাহেবের ছোট খাট একটা স্ট্রোক হয়ে গেল। সেখান থেকে সোজা হাসপাতালে। ডাক্তার রাজুকে বলে দিছে আর দুইবার স্ট্রোক করলে কিন্তু তোমার বাবা শেষ। রাজু তার বাবা কে জিজ্ঞেস করছে বাবা বউ কি এইটা মেনে নিবা নাকি আরও দুইটা বিয়া করব?


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১১৩০ জন


এ জাতীয় গল্প

→ পোলা একটা

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now