বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
পোকামাকড়ের ঘরবসতি
নাসির খান
::: দেখি একটু সরে বসো।
আমার পাশে বসা ধনী বাবার সুন্দরী মেয়ে কেয়া তীক্ষ্ম কণ্ঠে বলে উঠলো। কণ্ঠে বিরক্তি স্পষ্ট। মুহূর্তে চঞ্চল হয়ে ওঠা এই আমি আবার মুহূর্তে চুপসে গেলাম।
মিনমিন করে বললাম-
-"কেন?"
কেয়ার চটজলদি উত্তর, যেন আগে থেকেই কথাগুলো তৈরি ছিলো- "নিশ্চই শার্ট ট্রাংক থেকে বের করে পরেছো। বিশ্রী ন্যাপথলিনের গন্ধ আসছে। জামা-কাপড়ের ভেতর ওসব রাখো কেন আশ্চর্য!"
বললাম,
"ন্যাপথলিন রাখলে ট্রাংকে তেলাপোকা ঢুকতে পারেনা। এগুলো না রাখলে শার্ট দিয়ে এখন তেলাপোকার গন্ধ পেতে। তেলাপোকা থেকে নিশ্চই ন্যাপের গন্ধ সহনীয়?"
-"চুপ। একদম চুপ। একটা তেলাপোকার সাথে যদি রিকশা করে ঘুরতে পারি, তেলাপোকার গন্ধও মনে হয় সহ্য করতে পারতাম।"
-"তেলাপোকাকে ভালোবাসার কোন অর্থ তাহলে নেই।"
-"এই রিকশা থামাও।"
রিকশা পুরোপুরি থামার আগেই কেয়া ঝড়ের গতিতে নেমে গেলো এবং পূর্বের মতই মুহূর্তে গলি ঘুপচিতে ঢুকে অদৃশ্য হয়ে গেলো।
আমি খুব একটা বিচলিত হলাম না।
রিকশাওয়ালাকে স্বাভাবিকভাবে বললাম, উত্তরপাড়া যেতে। এই ফাঁকে মামাদের বাসা থেকে ঘুরে আসা যায়।
মামাতো বোন তিথী কে বলব ওর কোন ভালো ব্রান্ডের একটা স্নো আমাকে দিতে।
যা মাখলে অতি শিগগির ফর্সা হওয়া যায়। আমাকে খুব তারাতারি তেলাপোকা খেতাব ঘোচাতে হবে।
আমাকে কেয়া প্রায়ই তেলাপোকা বলে।
গায়ের রং কালো বলে।
ভালোবাসার মানুষের কাছে এসব শুনতে মনে মনে আমার খুবই খারাপ লাগে। কেয়া একই সঙ্গে আমাকে ভালোবাসে আবার অপমানজনক কথা বলে কিভাবে?
অথচ এই মেয়ে আমাকে ভালোবাসার জন্য কতটাই না নির্লজ্জ হয়েছিলো।
একদিন ভার্সিটিতে গিয়ে দেখি আমাদের ক্লাসের হোয়াইট বোর্ডে লাল রঙের মার্কার দিয়ে লেখা, "এই বিভাগে একজন তেলাপোকা বাস করে।"
কি অদ্ভূত! আমরা তো সবাই অবাক। এমন ছেলেমানুসি কথা বোর্ডে কে লিখতে পারে?
কেউ কিছু ধরতে পারলো না। সবার অদম্য কৌতুহল, কে এই তেলাপোকা? কে এর উদ্ভাবক?
এর মধ্যে বন্ধু আমান নিলো এক উদ্যোগ। ও জানালো,
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে আমাদের ডিপার্টমেন্টের দপ্তরীর কাছে লাল রঙের কোন মার্কার বর্তমানে নেই। সব কালো।
তাই বোর্ড রাইটার যেই হোক তার কাছে এখন লাল মার্কার থাকার কথা। সবাইকে সার্চ করা হবে?
আমি বাধা দিলাম। সবাইকে এই ব্যাপারে সার্চ করা উচিত হবে না।
আমান আমার দিকে বিরক্তির চোখে তাকিয়ে "চোপ ব্যাটা" বলে প্রবল উৎসাহে কাজ শুরু করলো।
বান্ধবী জিনিয়া খুব ত্যাদড় মেয়ে। মুহূর্তে সে চেঁচিয়ে উঠলো,
-"এ্যাই এ্যাই কেয়ার ব্যাগে মার্কার পাওয়া গেছে। হি হি হি।"
আমি অবাক হওয়ার চরমে। এই কথা কেয়া লিখেছে? কিন্তু কেন?
সবাই অনেক চাপাচাপি করাতেও কেয়া মুখ খুললো না।
শুধু ক্লাসের সবাইকে হতবাক করে দিয়ে ধনী বাবার সুন্দরী এবং একই সাথে অদম্য মেধাবী এই মেয়েটি বলে দিলো, সে নাকি বিচিত্র কোন কারনে তেলাপোকাটাকে ভালোবেসে ফেলেছে।
কি ছেলেমানুষি কথা !
আমাদের ক্লাসমেট ধবধবে ফর্সা ছেলে সুধাংশু জানালো,
"কেয়াকে পাওয়ার জন্য সে তেলাপোকা হতে রাজী।"
এর চারদিনের মাথায় আমরা আবিষ্কার করলাম,
আমি হচ্ছি সেই কাঙ্ক্ষিত ককরোচ.....!
আজীবন প্রেমবিদ্বেষী আমি কেমন কেমন করে কেয়ার সাথে জড়িয়ে গেলাম।
হয়তো অনাকাঙ্ক্ষিত কিছু ঘটনা ঘটে যাওয়া জীবন নিয়মের বিচিত্র কিছু অংশ বলেই এমনটি হলো।
কোথায় আমি! কোথায় কেয়া!!
... মামাদের বাড়ি থেকে সন্ধ্যায় বাসায় ফিরলাম। বাসায় ফিরেই আমি হকচকিয়ে গেলাম।
ছোটবোন রেনু দৌড়ে এসে হড়হড় করে বললো,
-"দাদা বিয়ে হবে। আমার খুব আনন্দ হচ্ছে। বাবাকে বললাম চার টাকা দিতে। গোলাপী কামিজ টা ইস্ত্রী করাবো। রাতে বিয়ের আসরে পরবো। বাবা দিল না। বাবা এত কিপ্টা কেন দাদা? জানিস বাবার কাছে কত টাকা? তুই অজ্ঞান হয়ে যাবি শুনলে। ষাট হাজার টাকা।"
এত রাগ হলো আমার। আগা মাথা কিছুই বুঝলাম না। রেনুর অতিরিক্ত আহ্লাদ দেখে কিছু না বুঝেই ঠাস করে একটা চড় বসিয়ে দিলাম ।
রেনুর কাছে এটা ছিলো চিরন্তন অপ্রত্যাশিত। ও চমকে গিয়ে আমার দিকে ভূত দেখার মত তাকিয়ে রইলো।
আমি নিশ্চিত, কিছুই হয়নি এমন ভঙ্গীতে রেনু একটু পরই হাসতে শুরু করবে।
কারন পৃথিবীতে সবচাইতে উদ্ভট কথা আর আচরণে রেনু আমার জরিপে শীর্ষে।
কিন্তু আমার ধারনাকে ভুল প্রমাণ করে রেনু শব্দ করে কেঁদে উঠলো। আমি যথেস্ট অবাক হলাম।
এর থেকে অবাক করা ব্যাপার ঘটলো একটু পরে।
রেনুর কান্না শুনে পাশের ঘর থেকে আসলো আপা আর বাবা।
সেই সাথে আরো আসলো কেয়া আর কেয়ার বাবা।
আমি কিছুই বুঝলাম না।
বড় আপা রেনুর কান্নার ধার দিয়েও গেলো না। আমার দিকে না তাকিয়েই বলল,
-"কেয়ার সাথে আজই তোর বিয়ে।"
আকাশ থেকে পড়লাম। বিয়ের হওয়ার কথা আরো দু'বছর পরে। কেবল মাত্র চাকরিতে ঢুকেছি। মাত্র ছয় হাজার টাকা দিয়ে আমাকে সংসার চালাতে হয়। এর মধ্যে কেয়াকে বিয়ে করে আমি ওর চাহিদা পূরণ করবো কিভাবে? ঈদে ওকে বত্রিশশো টাকা দামের শাড়ি দেব কিভাবে?
আমাদের কথা আমার আর কেয়ার বাড়ি থেকে অনেক আগে থেকেই জানতো। আমি নিশ্চিত যে কেয়ার চাপাচাপিতেই এমন কিছু হচ্ছে।
আমার কাছে ক্লিয়ার হয়ে গেলো এখন যে বাবার কাছে যে ষাট হাজার টাকার কথা রেনু বলছিল, তা কেয়ার বাবার দেয়া।
আমার চিন্তাক্লীস্ট মুখ দেখে কেয়ার বাবা চোখ টিপে অভয় দিলেন।
তার মত। মানুষ আমি পৃথিবীতে দুইটা দেখেছি।
আমার বড়মামা আর উনি।
আমার বাবা আমার ঘোর ভেঙে দিয়ে হাত ধরে টেনে বাথরুমের কাছে এসে ফিসফিস করে বললেন,
"এক লাখ চেয়েছিলাম। চল্লিশ কাল সকালে দিবে। বিয়ে হওয়ার পর।"
লজ্জায় আমার মুখ শুকিয়ে এতটুকু হয়ে গেলো।
মা মারা যাওয়ার আগে সবসময় বলতেন, "আমার ছেলের বিয়েতে কোন টাকা আনবো না।"
আমার বাবার সেটা মনে নেই।
বাবার সাথে আর কি বলব এখন বুঝলাম না।
বাবার সাথে কোনদিন ঝামেলা করিনি। আজও করলাম না। বাবাকে সহজ ভাবে বললাম,
"তুমি কোন চিন্তা করোনা। আমি বিয়ে করব। রাতে ওষুধ খেয়েছো?"
একফাঁকে কেয়াকে ডেকে বললাম,
"এত তারাতারি হুট করে আমাকে না জানিয়ে ঝামেলা করে তুমি অপরাধ করেছো কেয়া।"
কেয়ার সস্তা উত্তর,
"আমি তোমাকে কত ভালবাসি তুমি আঁচ করতে পারছো না। বিয়ের পর এটা তুমি বুঝবে। তাই তারাতারি...!"
সব সময় ছেলেমানুষি মানায় না কেয়া। আমার পরিবার নিয়ে আমার ভবিষ্যত পরিকল্পনা কি, তুমি সেটা তুমি জানোনা?"
জানিনা কি কারনে কথা বলতে বলতে আমার গলা ধরে এল। এত চিন্তা মাথায় মোচড় দিচ্ছিলো যে মনে হলো,পৃথিবীতে এত ঝামেলা নিয়ে বাঁচার কোন অর্থ নেই।
লক্ষ্য করলাম কেয়া আমার হাত শক্ত করে ধরে মাথা নিচু করে আছে।
আমি বললাম, "কাঁদেনা কেয়া। আজ আমাদের বিয়ে।"
জামা-কাপড় না বদলিয়ে সোজা রেনুর রুমে গেলাম। দেখলাম জড়সড় হয়ে শুয়ে আছে ও। চেয়ারে বসতে বসতে বললাম,
"রেনু ওঠ, শপিং করতে হবে। তুই আমি আর কেয়া যাবো।"
রেনু বিছানা থেকে লাফিয়ে উঠে বলল,
"রিকশা করে যেতে হবে কিন্তু। হাঁটলে আমার পা ব্যাথা হয়।"
প্রতিদিন দুইমাইল হেঁটে কলেজে যেতে রেনুর কষ্ট হয়না। অথচ আজ এইটুকুন দূরে মার্কেটে যেতে রেনুর পা ব্যাথা হবে। আজ এত আহ্লাদ কেন ওর,কে জানে।
সেদিন রাতেই আমাদের বিয়ে হলো।
প্রেমধর্ম বিসর্জনে স্বাগত জানালাম সংসারধর্মকে।
বিয়ের পরও কেয়ার ছেলেমানুষি গেলো না। বাবার হাতে টাকার গরম। বাবা প্রতিবেলা বউয়ের প্রশংসায় পঞ্চমুখ। অথচ সেবা যত্নের যা, সব করে বড় আপা।
বড় আপা বরাবরের মতই সব ব্যাপারে চুপ থাকলো। কোন বাক্য খরচ করল না।
আপারও প্রেমের বিয়ে ছিলো।
বিয়ের দুই বছরের মাথায় শোনা গেলো নরসিংদীতে দুলাভাই আপার আগেও একটা বিয়ে করে রেখেছে।
সেই থেকে আপা আমাদের সাথে।
আমাদের রেনুর সময় কাটে কেয়ার দেয়া থৃপিসের রং গুনতে গুনতে।
শুধু আমিই থাকি একটা অনিশ্চয়তার মধ্যে।
আমার এই অনিশ্চয়তা কিসের, তা খোদ আমিও জানিনা।
ব্যাস্ততম দিন গুলি পার হয়ে পাঁচ বছর কেটে গেলো।
আমাদের তিন বছর পাঁচ মাস বয়সী একটা মেয়ে আছে। ওর নাম নীতু। পটাপট কথা বলে। ছটফটে এই লক্ষীটাকে আমি ডাকি টিকটিকি।
টিভি নাটকে হাসান মাসুদকে দেখে বলে, "এইটা আমার বাবার মত।"
গত বছর রেনুকে বিয়ে দিলাম।
কিছুদিন আগে রেনুকে নিয়ে ছোটখাটো এক ব্যাপারে কেয়ার সঙ্গে আমার খুব কথা বাঁধলো। ওর এমন আচরণ কেন হলো বুঝলাম না।
আমাকে হতবাক করে দিয়ে বিশাল লাগেজ ভরে কেয়া বাবার বাড়ি চলে যাওয়ার প্রস্তুতি নিলো।
আমার মত ছেলের সাথে ঘর করা নাকি ওর পক্ষে আর সম্ভব না।
আজীবন যেমন চুপ থাকতাম, এবারএ নিরীহের মত মুখ করে বললাম,
"প্লিজ কেয়া বাদ দাও। আমি খুব কষ্ট পাবো তাহলে।"
আমার কথা কেয়া শুনলো না।
চলে গেলো কেয়া। সাথে আমার কলিজার এক টুকরা নীতু।
গাড়িতে ওঠার আগে নীতু বলল,
"বাবা ড্রয়ারে তোমার জন্য চিঠি রেখেছে মা।"
চিঠির কথা যখন মনে পড়ল, তখন মাঝ রাত।
খুললাম। কেয়া লিখেছেঃ
নীতুর বাবা,
এক ছাদের নীচে বসবাস করলে দুজনের যে কোন একজনকে অন্তত চালাক হতে হয়। আমি জানি, আমার আচরণ মানসিক রোগীর পর্যায়ে পরে।
কিন্তু তুমি এত গাধা কেন?
আমার আচরণ আগে এমন ছিলো না। তোমাকে ভালোবাসার পরে এমন হয়েছে। ডাক্তারও দেখিয়েছিলাম। ডাক্তার বলল, তোমাকে অতিরিক্ত ভালবাসি বলেই নাকি এমন হচ্ছে।
আমারও তাই মনে হয়ে। তা না হলে আমি অন্তরে তোমাকে যতটা ভালোবাসি, বাইরে তা প্রকাশ করতে অস্বস্তিবোধ করব কেন?
আমি সবসময় ইচ্ছা করেই তোমার সাথে খারাপ ব্যাবহার করি। যাতে তুমি কষ্ট পাও। কষ্ট পেলে তোমাকে দেখতে যে কতটা মায়াপূর্ণ নিরীহ লাগে, তা আমি ছাড়া আর কেউ এই পৃথিবীতে জানেনা। তোমার মুখ দেখে তখন আমার ভেতর টা আরো গহীন ভালবাসায় দুমড়ে-মুচড়ে যায়।
অথচ তা আমি তোমাকে বলতে পারিনা। তোমার মনে আছে, বিয়ের দিন তুমি আমাকে যে শাড়িটা কিনে দিলে তা আমি পড়লাম না। ইচ্ছা করেই পড়লাম না। বললাম, সস্তা শাড়ি পড়ি না। তুমি কষ্ট পেয়ে ঘুমিয়ে গেলে। সারারাত আমি সেই শাড়ি গায়ে জড়িয়ে মানসিক রোগীর মত অকারনে নীরবে কাঁদলাম।
রাতে তুমি মরার মত ঘুমাও। এ কারনে আমার জেগে থাকা তুমি দেখতে পাওনা। প্রায় রাতেই তোমার ঘুমন্ত অসহায় মুখের দিকে তাকিয়ে কিছুক্ষণ পরেই তোমাকে জড়িয়ে ধরি। মাকড়সার মত জড়িয়ে কত রাত কেঁদে পার করেছি। হ্যাঁ, এ কান্না তোমার মত অসম্ভব ভাল একজন মানুষ পাওয়ার সুখের কান্না।
নিজেকে আমার মাকড়সা মনে হয়। আর তোমাকে মনে হয় আমার জাল।
তোমাকে ছাড়া আমি থাকতে পারব না।
সকাল হলে আমাকে নিতে এসো।
-কেয়া।
চোখের পানি আটকাতে চাইলেও কখনও কখনও আটকানো যায়না। আমিও পারলাম না।
সহনশীলতার বাঁধ উপেক্ষা করে রাতেই আমি ওদের আনতে গেলাম।
টিকটিকি বুড়ি বাবা এসেছে বাবা এসেছে বলে আমার বুকে ছুটে আসলো।
ভোরের দিকে ঘুমাতে গেলাম আমরা তিনজন এক বিছানায়।
জড়াজড়ি মত তিন জন শুয়ে আছি।
আমার মেয়েটা তেলাপোকা, মাকড়সা যমের মত ভয় পায়।
অথচ ও জানেনা ওকে লেপ্টে আছে বাবা-মা রূপী দুটি তেলাপোকা আর মাকড়সা।
নীতু কি জানে আমরা কত সুখী।
নীতু কি জানে আমাদের পোকামাকড়ের ঘরবসতি?
(সমাপ্ত)
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now