বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
“মালয়েশিয়ায়। কিন্তু আমি কখনো মালয়েশিয়ায় যাই
নি। তুমি চাইলে আমার পাসপোর্ট দেখতে পারো।
হোয়াইট কফির পুরো নাম হল ‘ইপোহ হোয়াইট
কফি’। তুমি ওটাকে এখানকার ‘ফ্ল্যাট হোয়াইট কফি’র
সাথে মিলিয়ে ফেলেছিলে”
“আচ্ছা”
“কিন্তু আমরা ব্যাপারটা মেনে নিতে পারছিলাম না।
আমরা যেটা ভাবছি সেটা সত্য হলে, এটা হবে
যুগান্তকারী আবিষ্কার। যেসব সত্য কখনো
আলোর মুখ দেখেনি, সেসব সত্য আলোর
মুখ দেখবে। অনেক বড় বড় রহস্য ও প্রশ্নের
উত্তর মিলবে”
“Soul-travel! আত্মা এভাবে অতীতে যেতে
পারে। ভবিষ্যতেও কি যেতে পারে?”
“না”
“শরীর যদি বর্তমানে থাকে, তাহলে আত্মা
অতীতে গিয়ে কি ইনভিজিবল থাকে?”
“উহু, আমরা যতটুকু বুঝেছি, আত্মা অতীতে
গিয়ে ঐ মুহূর্তের কোন অচেতন বা ঘুমন্ত
শরীরকে বেছে নেয়”
“অতীতে গিয়ে আত্মা কি কিছু বদলাতে পারে?”
“না। শুধু উইটনেস করে, even mind of that
body will be controlled by the unconscious
body। আত্মা শরীরকে চুজ করলেও নিয়ন্ত্রণ
করতে পারে না”
“টু কমপ্লেক্স”
“জানি। তুমি ট্রাই করবে?”
“মিউজ থেকে গিনিপিগ বানাচ্ছো?”
“যুগান্তকারী আবিষ্কারকে প্রত্যক্ষ করার
সুযোগ হেলায় হারাতে চাও?”
“বাহ। এমনভাবে বাংলা বলছো যেন তুমি
বাংলাদেশী”
“বাংলাদেশেও গিয়েছি আমি 71এ। যা দেখেছি, তা
যেকোনো দুঃস্বপ্ন থেকেও ভয়াবহ”
“কি যে বলো!”
“আমি নিজে চোখে না দেখলে হয়ত বিশ্বাস
করতাম না। মানুষ কতোটা হিংস্র হতে পারে। এতো
রক্ত আমি কখনো দেখিনি”
“আমি সিওর। ভারতীয়দের প্রোপ্যাগান্ডা থেকে
তোমার হ্যালুসিনেশন হচ্ছে। 71এ মোটেও
৩০লাখ হত্যা ও ২লাখ রেপ হয় নি। সব ভুয়া। ১লাখের
মত মানুষ মরেছে, ২হাজারের মত রেপ।
যেকোনো যুদ্ধেই অমন হয়”
“রবিনও দেখেছে”
“Shared Psychotic Disorder”
“হয়ত। Why don’t you let your soul visit
71?”
“মানে?”
“যদি আমাদের রিসার্চ ভুল হয়, আমি আর রবিন
সাইক্রিয়াট্রিক কাউন্সিলিং নেয়া শুরু করবো। আর যদি
রিসার্চ ঠিক হয়, 71এর আসল কালপ্রিটরা ধরা পড়বে।
যাদের উপর ফলস অ্যাকুউজেশন আছে, তা মিথ্যা
প্রমাণ করাও ব্যাপার না”
“ওকে। আমার আত্মা দেহ দখল করলেও
নিয়ন্ত্রণ করতে পারবে না বললে- তাই না?”
“হুম”
“কথাও কি অচেতন আত্মা দ্বারা নিয়ন্ত্রিত?”
“হুম”
“Ok. Your muse is ready to be your guinea
pig.”
ক্লার্ক শরিফাকে ল্যাবের ওটি-টেবিলের উপর
শুতে বলল। রবিনকে ফোন করে আসতে বলল।
শরিফা বলল, “তুমি ওকে কেন আসতে বললে?”
“সে আমার রিসার্চের সহযোগী”
শরিফা দেখল, ক্লার্ক অনেকগুলো ইনফিউশন
সেট, স্যালাইন ব্যাগ বের করছে। শরিফার ভাইটাল
সাইনগুলো দেখার জন্য টিভি মনিটর সেট করল,
ইলেক্ট্রোএনকেফালোগ্রাফ মেশিন সেট
করল। কিছুক্ষনের মধ্যেই রবিন চলে এল। শরিফার
হাতে cannula ওপেন করে ইনফিউশন সেট
যুক্ত করল রবিন। শরিফার ঘুম আসতে লাগলো।
শরিফা বলল, “আমি অতীতে কোথায় যাবো?”
ক্লার্ক বলল, “বাংলাদেশে”
“বাংলাদেশে কোথায়?”
রবিন বলল, “মোহাম্মদপুর ক্যাম্পে যেতে
পারো”
ক্লার্ক বলল, “উহু। তুমি যাবে যেখানে তোমার
পরিবারের ঠিকানা”
“কখন ক’টায়?”
“৪ এপ্রিল ১৯৭১, সন্ধ্যা ৬টা”
শরিফা ঘুমিয়ে পড়ল।
শরিফা চোখ মেলল, সে শুয়ে আছে। বাসাটা
চেনা চেনা লাগছে। রুমগুলো একইরকম।
ফার্নিচারগুলো জায়গামত নেই। অনেক ফার্নিচার
কখনো দেখেনি সে। বাথরুমের দিকে গেল
মুখ ধুতে। আয়নায় তাকিয়ে দেখে সিঁদুর পরা
১৬-১৭বছরের সবুজ শাড়ী পরা তরুণীকে।
শেষমেশ একটা হিন্দুমেয়ের শরীরে ওর
আত্মা ঢুকেছে। বাথরুম থেকে বের হতেই
সমবয়সী সালোয়ার-কামিজ পরা এক তরুণীকে
দেখল। সে তাকে ‘দুর্গা’ বলে সম্বোধন
করল। শরিফার আত্মা যে শরীরটির মধ্যে আছে
তার নাম দুর্গা। দুর্গা মেয়েটিকে বলল, “মরিয়ম,
কী হয়েছে?”
“আমি নামায পড়ব। কোথায় পড়ব?”
“নামাজের সময় হয়েছে?”
“হুম, হয়েছে। খুব চিন্তা হচ্ছে, জানো। আমি
আর মা তো চলে এসেছি। কিন্তু বাবা ও ভাইজানের
কোন খবর এখনো পাই নি। নামায পড়ার পর
দোয়া-দরুদ পড়ব”
“আচ্ছা, চলো। আমি দেখিয়ে দিচ্ছি”
মরিয়ম ও মরিয়মের মা নামায পড়তে লাগলো। দুর্গা
পাশের রুমে গিয়ে রেডিও ছেড়ে খবর শুনতে
লাগলো। শরিফা দেখল, ধুতিপরা একজন এগিয়ে
আসছে। খুব সম্ভবত দুর্গার স্বামী। সে বলল,
“একটু চা করে আনো। বড্ড ক্লান্ত লাগছে”
“অফিস নেই। এতো ক্লান্তি কিসের?” বলেই
দুর্গা রান্নাঘরের দিকে গেল। হঠাৎ দরজায় দড়াম
দড়াম শব্দ। বাইরে থেকে শোনা গেল, বাঙালি
কেউ একজন বলছে, “এটা হিঁদুবাড়ী”।
দরজা ভাঙ্গার শব্দ পেল দুর্গা রান্নাঘরে থেকেই।
দুর্গা ভয়ে চুলার পাশে বসে পড়ল। বৈঠকঘরেই
নামায পড়ছিল মরিয়ম ও মরিয়মের মা। দুর্গার স্বামী
বৈঠকঘরে আসতেই গুলি খেয়ে লুটিয়ে পড়ল।
দুর্গা রান্নাঘর থেকে দেখতে পাচ্ছিল, ফুঁপিয়ে
ফুঁপিয়ে কাঁদতে লাগলো। পাকি ২জন সৈন্য মরিয়ম ও
মরিয়মের মায়ের উপর ঝাঁপিয়ে পড়ল। সম্পূর্ণ
বিবস্ত্র করে ধর্ষণ করতে লাগলো। মরিয়ম ও
মরিয়মের মা চিৎকার করতে লাগলো। পাকি সৈন্য
দুজনের পিছে লুঙ্গিপরা একজন দাঁড়াল, পেছন
থেকে বাঙালি মনে হল।
লুঙ্গিপরা লোকটা বলল, “এই বাসায় একটা হিঁদু মাইয়া
থাকার কথা”
বলেই পাশের রুমে গেল। দুর্গার হৃদস্পন্দন শরিফা
টের পাচ্ছে। শরিফারও ভীষণ ভয় লাগতে শুরু
করেছে। একটু পর এই ঘরটাতেও আসবে। কী
করবে ও? মিনিটবাদেই লুঙ্গিপরা লোকটা রান্নাঘরে
ঢুকল। শরিফা বিস্ফোরিত চোখে তাকাল।
লোকটিকে সে চেনে, খুব ভালভাবে চেনে।
শরিফার আব্বা। ভয়ংকর বীভৎস হাসি হাসছে লোকটা।
শরিফা কথা বলার চেষ্টা করছে “আব্বা, না”, কিন্তু
দুর্গা কোন কথা বলছে না।
শরিফা দেখল, লোকটা তার সামনে এসে
বসেছে। বলছে, “খানসাহেবেরা তো ব্যস্ত।
আমি এসেছি। হিঁদু মেয়েদের কখনো ছুঁই নি।
আজ তোকে ছোঁব, মাগি” বলেই দুর্গাকে
মাটিতে ফেলে দিল। শরিফা কিছুই করতে পারছে
না। কতক্ষণ দুর্গার শরীরে থাকবে ও? ওর
শরীর ঘিনঘিন করছে। শরিফা শুনতে পেল, দুর্গা
একা চিৎকার করছে না, মরিয়ম ও মরিয়মের মাও
চিৎকার করছে। শরিফা দেখল, দুর্গার ব্লাউজ,
পেটিকোট খুলে ফেলল আব্বা। এরপর নিজের
লুঙ্গিটা খুলে ঝাঁপিয়ে পড়ল দুর্গার উপর। একটা সময়
দুর্গার বাঁধা দেয়ার শক্তি শেষ হয়ে গেল। সারা
শরীরের ব্যাথা অনুভব করছে শরিফা। শরিফার শুধু
দেখার কথা। ও ব্যথা কেন অনুভব করছে?
শরীরের প্রত্যকটা জায়গা কামড়িয়েছে লোকটা।
লুঙ্গি পরে খানসেনাদের ডাক দিল। দুজন খানসেনা
একসাথে ঝাঁপিয়ে পড়ল।
ক্লার্ক বলছিল, Soul-travel কয়েকঘন্টার। শরিফার
মনে হল, কয়েক যুগ ধরে ও আটকে আছে
অতীতে। নিজের আব্বাকে এভাবে দেখবে
ভাবে নি ও। শরিফার মনে হচ্ছে, ওর কোন শক্তি
নেই। ও কোন দুঃস্বপ্ন দেখছে, এগুলো সত্যি
নয়।
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now