বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
পল্লবী কাঁদছে....।
-আবদুল মতিন সোহাগ
রাত ততোটা গভীর হয়নি এখনো । বাইরে উথাল পাথাল জোছনার ঢল নেমেছে । দীর্ঘ দিন প্রবাসে থাকার কারণে সহসা এমন জোছনা আমার দেখা হয়ে উঠেনি । দেশে ফিরে কোথাও বেড়াতেও বের হইনি । তাই এই চাঁদনী রাতে পাড়ার পুরোনো বান্ধবী পল্লবীকে দেখার গোপন ইচ্ছেটা দমন করতে পারিনি ।
পল্লবীর মা আমাকে দেখে ভূত দেখার মতো করেই চমকে উঠলেন । দীর্ঘ সাত বছর পর তিনি আমার কৃষ্ণকাল মুখ দেখেছেন । আমি পায়ে হাত দিয়ে সালাম করলাম । তিনি পরম মমতায় আমার মাথায় হাত বুলিয়ে দিয়ে নাস্তা পানি দিতে ভেতরে চলে গেলেন ।
আমি পল্লবীর রুমে প্রবেশ করলাম । মেয়েলি রুম । দেয়ালে কয়েকটি বলিউডি নায়কের পোষ্টার লাগানো । অন্য পাশে মাইকেল জ্যাকসনের কালো রঙের শার্ট পেন্ট পরা ছবি । রেক ভর্তি বিভিন্ন বিদেশি মুভির সিডি এলবাম ।
দক্ষিণের খোলা জানালা দিয়ে এক ফালি জোছনা এসে পল্লবীর পিঠে পড়েছে । সে আলোয় পল্লবীর ফুঁপিয়ে ফুঁপিয়ে কেঁদে উঠার দৃশ্যটা আমার কাছে বড় করুণ ঠেকলো । কেন এ কান্না ?
এমন উথাল পাথাল জোছনা মনের পুরোনো শুকিয়ে যাওয়া ক্ষতকে নতুন করে দগদগে ঘা'য়ে পরিণত করে । অকারণে মনকে উদাস করে দেয় । এমন জোছনা বিপদজনক বয়সী যুবকদেরকে ঘর থেকে টেনে বের করে গৌতম বুদ্ধ বানিয়ে দেয় । মাতাল করে দেয় । উন্মাদ করে দেয় । প্রেমিক বানিয়ে দেয় !
পল্লবীর মনে কি পুরোনো কোন প্রেম নতুন করে জেগে ওঠা চড়ের মতো করে জেগে উঠেছে ? জিজ্ঞেস করা উচিত হবে কি না ভাবছি ।
কলেজে পড়ার সময় পাড়ার এক সিনিয়র ভাইয়ের সাথে পল্লবীর দহরম মহরম সম্পর্ক ছিল । অবশ্য কোন এক লঘু কারণে প্রেমটা দীর্ঘায়ু লাভ করতে পারেনি । অকালেই প্রেমের কাহিনি ইতিহাসে ঠাঁয় নেয় । এই জোছনা রাতে কি সেই প্রেম পল্লবীর কাজল কাল চোখ ভিজিয়ে দেবার কারণ ?
হলেও হতে পারে । মেয়েদের মন বড়ই বিচিত্র । বস্তুত মেয়েদের সম্পর্কে চট করে কোন মন্তব্য না করাই উত্তম । এটা বড় দুঃসাহসিক কাজ । পল্লবীর কান্নার পেছনে আর কি কি কারণ থাকতে পারে, আমি বরং তা আরেকটু ভাবতে থাকি ।
পল্লবীর মাথার কাছেই টমাস হার্ডি নামক এক ভদ্র লোকের "টেস অব দ্যা ডার্বাবিলস" নামক এক বই পড়ে আছে । ঐ বইয়ে কি এমন কোন হৃদয়বিদারক ঘটনা আছে, যা পড়ে এমন মায়াবী জোছনা রাতে কোন তরুণীর হৃদয়ে গভীর কান্নার সৃষ্টি হতে পারে ?
পল্লবীর স্বামীও আমার মতো প্রবাসী । হয়তো স্বামীর প্রতি অভিমান জেগেছে । প্রেম উথলে উঠেছে । স্বামী দেশে থাকলে হয়তো ছাদে বসে একসাথে চা খেতো । চাঁদ দেখে গল্প করে রাত কাটিয়ে দিতো । কিছু সমাজ স্বীকৃত রোমান্স ও করতো ! স্বামী বেচারা পল্লবীর কোলে মাথা রেখে বলতো, বৌ, তুমি চাঁদের চেয়েও সুন্দর !
পল্লবী তখন খুশি হয়ে বলতো, যাও, এতো রাতে ঢং করতে হবে না !
এমন বিরহ অনুভব করে কান্না করাটাও বিচিত্র কিছু নয় ।
কিন্তু কাহাতক এইসব ভাবা যায় ? আসল ঘটনা তো জানতে হবে, না কি ? একা একা বসে থেকে পায়ে খিল ধরে গেছে । পল্লবী এখনো আমার সাথে কথা বলেনি । আমার আর ভাল লাগছে না । আমি উঠব । যাবার আগে একবার কি পল্লবীকে জিজ্ঞেস করা উচিত না, সে কেন কাঁদছে ?
-এই তুই এভাবে কাঁদছিস কেন ?
কোন জবাব নেই ।
-আচ্ছা আমি বরং যাই । তুই ইচ্ছে মতো কেঁদে নে । আমি কাল পরশু আরেকবার আসব ।
=মতি ভাই, যাবার আগে তুমি কি বাবাকে একটা অনুরোদ করে যাবা ?
-কি অনুরোধ ?
=বাবাকে বলো হিন্দি চ্যানেল গুলো অপেন করে দিতে । প্লীজ....! বাবা পাসওয়ার্ড দিয়ে সব কয়টা হিন্দি চ্যানেল লক করে দিসে । বাসায় না কি হিন্দি সিরিয়াল চলবে না ! আজ তিন দিন ধরে সিরিয়াল দেখা বন্ধ । এর কোন মানে হয় ?
-এটাই কি তোর কান্নার কারণ ?
পল্লবী আমার কথার কোন জবাব না দিয়ে ফের বালিশে মুখ গুজে কাঁদতে লাগলো । আমি একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলে উপর দিকে তাকিয়ে একবার ঈশ্বরকে দেখার চেষ্টা করে পল্লবীর রুম থেকে বেরিয়ে এলাম!
●●●
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now