বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
"প্ল্যান"
লিখেছেন- একজন আমি ।
বিবাহিত জীবনের উপরে বিরক্তি এসে গেছে ।
খুব বেশিদিন হয় নি আমাদের বিয়ের । মাত্র ৬ মাস
কাটিয়েছি এক ছাদের তলে ।লোপার ব্যবহার ,
কথাবার্তা সব আজকাল সব পাল্টে গেছে । বিয়ের
আগে ও বলত , ওর বরটাকে হতে হবে একটু
পাগলাটে , একটু অগোছালো ,একটু ঝগড়াটে
আর অনেক দুষ্ট ।অথচ এখন পান থেকে চুন
খসলেই কথার তীর ছুটে আসে ।একটু দেরি
করে বাসায় ফিরলে হাজারটা কৈফিয়ত দিতে হয় ।কথায়
কথায় রাগারাগি , মান অভিমান , ওর ভাত না খেয়ে
ঘুমিয়ে পড়া সব কিছু খুব অসহ্য লাগে ।মনের
সুখে সিগারেটে টান দিতে গেলেই ওর বকাবকি ।
কাপড় চোপড় গুছিয়ে রাখা , জুতাগুলা ঠিক জায়গায় রাখা
অভ্যাস করতে হয়েছে । ফোনে বন্ধুদের
সাথে আড্ডা দিতে গেলে ওর বাঁকা চাহনি সব
আজকাল অসহ্য লাগে ।আমি আবার সেই আগের
তপু হতে চাই । চোখে সানগ্লাস লাগিয়ে ফিটফাট
হয়ে মেয়েদের সামনে সেই একটা ভাব নিতে
চাই , আবার চার পাঁচটা মেয়ের সাথে লাইন মারতে
চাই ।টং দোকানে চা খেতে খেতে
মেয়েদের দেখে অশ্লীল কথা বলতে চাই ,
বন্ধুরা মিলে জনপ্রিয় কোন গানের অশ্লীল
প্যারোডী করতে চাই ।আবার আমি গাঁজার নেশায়
বুঁদ হতে চাই । লোপা আমার জীবনে আসার পর
থেকে লাইফটা নিরামিষ হয়ে গেছে ।আমাকে
আবার স্বাধীন হতে হবে ।তাই ওকে সরিয়ে
দিতে হবে ।লোপাকে আমি খুব ঘৃণা করি এখন ।
ওকে আমি খুন করব ।ওকে খুন না করলে আমার
মনে শান্তি আসবে না । তবে খুব ঠান্ডা মাথায় ।খুব
যত্ন করে প্ল্যান করতে হবে যেন দেখে
সবার মনে হয় স্রেফ দুর্ঘটনা ।
লোপা আর আমি দুজন ই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে
পড়েছি । আমার সাবজেক্ট ছিল এপ্লায়েড ফিজিক্স
আর ওর কেমেস্ট্রি ।তবে আমাদের দুজনের
বাসা কাছাকাছিই ছিল । হঠাত্ করে একদিন দেখা ,
ভালোলাগা আর ভালোবাসা ।তারপর একদিন হুট করে
কাজী অফিসে গিয়ে বিয়ে করে ফেলা ।
ততোদিন অবশ্য দুজনেই জব করি ।
লোপাকে খুন করার প্ল্যান রেডী ।ইলেকট্রিক
আয়রন মেশিনটার তারের ইনসুলেশন কিছু জায়গায়
ড্যামেজ করে দিয়েছি ।ও আয়রন করার সময়
কোন ভাবে তারে হাত লাগলেই শক খাবে ।
তারপর আসবে আমার মুক্তি ।এই খুশিতে ঠিক করলাম
লোপাকে নিয়ে শেষ বারের মত একটা ভালো
রেস্টুরেন্টে ডিনার করতে যাবো ।
লোপা , চলো সারিন্দায় যাই
হঠাত্ সারিন্দায় কেনো ?
এমনি ।যাবা ?
যাব ।তবে একটু দেরি হবে ।শাড়ি পরে আসি
এখন থাক শাড়ি । এসে আমার নীল শার্টটা আয়রন
কোরো । আজকে সালোয়ার কামিজ পরে
চলো
ও ভিতরে চলে গেল । তারপর দেখলাম কার
সাথে যেন ফোনে কথা বলল ।ওকে আজ
অনেক দিন পর খুশি লাগছে ।অথচ ও জানেই না কি
অপেক্ষা করছে ওর জন্য ।
রেস্টুরেন্টে দুজন বেশ খাওয়া দাওয়া করলাম ।
বের হয়ে দুজন ফুটপাত ধরে হাঁটছি ।হঠাত্ করে
শরীরটা বেশ দুর্বল লাগছে ।
আমি সরি তপু
কেন ?
তুমি আমি দুজন দুরকম মানুষ । দেড় বছরের
এফেয়ারেও আমি তা বুঝে উঠতে পারি নি ।আমি সরি
পুরানো কথা তুলে লাভ কি ?
ডা. এহসানকে মনে আছে ?
হুম । তোমার কাজিন ?
হ্যাঁ ।তোমাকে এখন নিয়ে যাবো তার কাছে ।
কেন ? কোথাও যাবো না । শরীর খারাপ লাগছে
। বাসায় চলো
তপু , তোমার পোলাও এর সাথে আর্সেনিক
মেশানো ছিল । আর অল্প কিছুক্ষণ বাকি তোমার
আয়ু !!
হোয়াট ??
তোমাকে আর সহ্য হচ্ছিল না ।ডিভোর্স নেয়া
যেত , কিন্তু ইচ্ছে হলো না ।তোমাকে খুন
করার স্বাদ হলো ।তোমার মৃত্যুর পর এহসানকে
বিয়ে করব ।আর ওই তোমার ডেথ সার্টিফিকেট
দিবে । আর্সেনিকে কারো মৃত্যু হ্ওয়ার আগে
সাধারণ রোগের মত উপসর্গ দেখা যায় ।তাই সবাই
মনে করবে সাধারণ কোন রোগে মারা গেছ
তুমি । আমাকে সন্দেহ করবে না কেউ ।
_____________________
গতকাল তপুর লাশ দাফন হয়েছে । এহসান
পুলিশকেও ম্যানেজ করেছে ।সব কিছু প্ল্যান
মতোই হয়েছে । তপুকে আমি সত্যি ঘৃণা করতাম ।
গত ছয়মাসে ওর প্রতি ভালোবাসা কর্পুরের মত
উবে গিয়ে তার জায়গা নিয়েছে ঘৃণা ।ওর অবহেলা
ই এর মূল কারণ ।
তপুর নীল শার্টটা পড়ে আছে খাটে । ওর খুব
প্রিয় ছিল শার্টটা । ধুয়ে রেখেছি । শার্টটা আয়রন
করে রাখা দরকার ।
লোপা তপুর শার্টটা আয়রন করতে শুরু করল ।ওর
মনে পড়ে গেল ওদের বিয়ের দিন এই শার্টটাই
পরেছিল তপু !!
হঠাত্ করে লোপার সারাশরীর কেঁপে উঠল
প্রচন্ডভাবে । তারপর নিথর হয়ে গেল ।
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now