বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

পিশাচের রাত-০৮

"ভৌতিক গল্প " বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান রিয়েন সরকার (০ পয়েন্ট)

X "পিশাচের রাত" লেখক : অনীশ দেব ------------------ পর্ব ৮ আজ আকাশে মেঘ থাকায় চাঁদ চোখে পড়ে নি। তাতে হরিহরবাবুর কি কোনও অসুবিধে হবে? বোধহয় না। আকাশে কোথাও একটা গোল চাঁদ থাকলেই হল। তাহলেই অমানুষিক প্রবৃত্তিটা মাথা চাড়া দিতে পারবে। ওরা দুজনে কুলকুল করে ঘামছিল আর ফ্যালফ্যাল করে স্যারের দিকে তাকিয়ে ছিল। " আয়, আয়...বোস", একগাল হেসে বললেন হরিহরবাবু, " বসে একটু জিরিয়ে নে। তারপর সব বলছি। তোরা যা যা জানতে চাস, সব আমায় জিজ্ঞেস করবি। আমি তোদের সব প্রশ্নের উত্তর দিয়ে দেব।" শতরঞ্চি পাতাই ছিল। ওরা স্যারের থেকে একটু দুরত্ব রেখে জড়সড় হয়ে বসল। কাকিমা একটা তোয়ালে নিয়ে ঘরে এসে ঢুকলেন। বললেন, " এই নাও, এটা দিয়ে ভিজে গা-হাত-পা মুছে নাও। " তোয়ালেটা প্রিয়াঙ্কার হাতে দিয়ে একবার আড়চোখে স্বামীর দিকে তাকিয়ে জিজ্ঞেস করলেন, " আজ আর কেউ আসবে না?" "না, আজ ওদের দুজনকে স্পেশাল ক্লাস করাব বলে ডেকেছি", হরিহরবাবু বললেন। কাকিমা বললেন, " তোমরা পড়ো। আমি পেঁয়াজি আর বেগুনি ভাজছি। খেয়ে যাবে।" কাকিমা আড়ালে চলে যেতেই হরিহরবাবু নড়েচড়ে বসলেন। বললেন, " তোদের আজ সব বলব। আমার একটা মারাত্মক অসুখ হয়েছে। যে অসুখের কথা খোলাখুলি সবাইকে বলা যায় না। তা স্বত্তেও আমি অনেক ডাক্তার দেখিয়েছি। তাদের ঘুরিয়ে ফিরিয়ে অসুখটার আভাস দিয়েছি। তাঁরা ওষুধ দিয়েছেন, কিন্তু সেসব ওষুধে কোনও কাজ হয়নি।" চিকু আর প্রিয়াঙ্কা দম বন্ধ করে স্যারের কথা শুনছিল। ওদের গলা শুকিয়ে কাঠ হয়ে গিয়েছিল। বাইরে থেকে বৃষ্টির অবিশ্রান্ত শব্দ ভেসে আসছিল। সেই সঙ্গে ব্যাঙের ডাক। সিলিং ফ্যানের হাওয়ায় চিকুর কেমন শীত-শীত করছিল। আনমনা ভাবে একটা বন্ধ জানলার দিকে তাকিয়ে হরিহরবাবু বলে চললেন, " এই ব্যাপারটা আমার আগে ছিল না। গত বছর অক্টোবরে আমি আর তোদের কাকিমা....দুজনে মিলে হিমাচল প্রদেশ বেড়াতে গিয়েছিলাম। কুলুমানালি ওইসব আর কি! সেখানে একদিন এক পাহাড়ি পথে এক ট্রাইবোলের সাথে....মানে এক উপজাতীয় লোকের সাথে আলাপ হল। লোকটা পথের ধারে একটা ঝুপড়িতে বসে উলকি কাটার কাজ করছিল। আমি আর তোদের কাকিমা সেখানে দাঁড়িয়ে পড়ে লোকটির কাজ দেখছিলাম। লোকটি ভাঙা ভাঙা হিন্দিতে আমায় বলল, বাবু, আপনারা উলকি কেটে গায়ে ছবি এঁকে নিন। আমার কাছে নানান ধরনের ছবি আছে। আমার কাছে এমন ছবিও আছে, যেগুলোতে অনেক ক্ষমতা আছে....মানুষকে তেজি করে দেয়....সব মুশকিল আসান করে দেয়। এইসব ছবি মন্ত্র তন্ত্র করে আঁকতে হয়। মাত্র একশো টাকা দিলেই এঁকে দেব। কি যে হল আমাদের! লোকটার কথায় রাজি হয়ে গেলাম। " বলতে বলতে হরিহরবাবু পরনের পাঞ্জাবির বোতামগুলো খুলে ফেললেন। ওটার গলার কাছটা ধরে বাঁদিকে টেনে নামালেন। " এই দ্যাখ"! চিকু আর প্রিয়াঙ্কা ঝুঁকে পড়ে দেখল। ঘরের আলোয় দেখা গেল, স্যারের বাঁ বাহুতে একটা লোমশ পশুর ছবি আঁকা। পশুটা কেমন যেন কুঁজো হয়ে রয়েছে। যেন এখুনি শিকার লক্ষ্য করে ঝাঁপ দেবে। পাঞ্জাবিটা আবার ঠিকঠাক করে নিলেন স্যার। " তারপর থেকেই আমার ক্লান্তি ক্রমশ কমতে লাগল। সবসময় শরীরের ভেতর একটা চনমনে ভাব টের পেতাম। বিশেষ করে পূর্ণিমার রাতে একটা কিছু করার নেশায় একেবারে ক্ষেপে উঠতে লাগলাম। সেই সঙ্গে কেমন জ্বর জ্বর লাগত।" একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলে মুখ নিচু করে হরিহরবাবু বলতে লাগলেন, " বেশ মনে আছে, গত ডিসেম্বরে আমি প্রথম খুন করেছিলাম। না, না, মানুষ নয়....একটা ছাগলকে মেরেছিলাম। তারপর ধীরে...ধীরে অসুখের তেজটা বাড়তে লাগল। আর...আর..এ বছর ফেব্রুয়ারিতে প্রথম একজন ভবঘুরে ভিখিরিকে খুন করে বসলাম। তোরা হয়ত বলবি আমি মহাপাতক। কিন্তু আমি বলব, আমি নির্দোষ। আমার একটা অসুখ হয়েছে, যে অসুখটা ডাক্তাররা সারাতে পারছে না। তোরা আমায় ভুল বুঝিস না। মাঝে মাঝে আমার মনে হয়, আমি অপরাধী। আত্মহত্যা করে এই নোংরা জীবনটাকে শেষ করে দিই। তারপরেই মনে হয়, আমার তো কোনও দোষ নেই।" এতদূর বলে মুখ তুললেন হরিহরবাবু। ওঁর চোখে জল। কান্নাভরা গলায় বললেন, " আসলে এই অসুখটা আমার নিয়তি...." বলতে বলতে কর্কশ হয়ে যাচ্ছিল হরিহরবাবুর গলা। " আমার ভবিতব্য.... আমার নিয়তি....তোদেরও বোধহয় নিয়তি......." তারপরই সব অর্থহীন জড়ানো শব্দ ওঁর মুখ দিয়ে বেরিয়ে আসতে লাগল আর তখনিই ভয়ঙ্কর পরিবর্তনটা শুরু হয়ে গেল। (ক্রমশ) ( আজ রাতের মধ্যে শেষ পর্ব) ---------------------------


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১১২৮ জন


এ জাতীয় গল্প

→ পিশাচের রাত-০৮

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now