বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

পিশাচ কল . ৩য় পর্ব

"ভৌতিক গল্প " বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান MD Azadul Islam (Tutul) (০ পয়েন্ট)

X পিশাচ কল . ৩য় পর্ব . এই বলেই কলটা কেটে দিলো। আমি ভয়ে আতকে উঠলাম। মেয়েটা আবার আমার সাথে দেখা করতে কেনো আসলো!? আর মেয়েটার বাবা ইবা কিভাবে মারা গেলো।! তাকে তো সকালেও সুস্থ্য দেখেছিলাম। এরপরেই হঠাৎ কলিং বেল বেজে উঠলো। আমি আরো বেশি ভয় পেয়ে যাই। আসলেই কী মেয়েটা বাহিরে এসেছে?! . . এরপর আমি ভয়ে ভয়ে দরজার দিকে এগিয়ে যেতে থাকি। এই ভেবেই ভয়ে আমার হাত পা ঠান্ডা হয়ে যাচ্ছিলো যে এতো রাত্রে একটা মৃত মেয়ের আত্মা আমার সাথে দেখা করতে এসেছে। তাও আবার আমি এখন বাড়িতে একা। তাই আত্মাটা আমার সাথে যেকোন কিছু করতে পারে। . এরপর কিছুটা ভয় কাটিয়ে দরজাটা খুলেই ফেললাম। দরজাটা খুলে ঘর থেকে বাহিরে এসে চারিদিকে খুজতে লাগলাম কে কলিং বেল বাজালো! ঐশীর আত্মা কি এখানে এসেছে!! তবে আশেপাশে আমি কাউকেই দেখতে পেলাম না। কিছুটা অবাক হয়ে আমি বলতে লাগলাম: -এখানে কী কেউ আছে? কে কলিং বেল বাজালো? ঐশী? আপনি কী এখানে আছেন? . এরপর বাতাসে ভাসা ভাসা একটা কন্ঠের উত্তর আসলো: -হ্যাঁ মাসুদ। আমি এখানেই আছি। তবে আমি মৃত আত্মা। তাই আপনি আমায় দেখতে পারবেন না। -তাতো বুঝলাম কিন্তু আপনি এতো রাতে আমার বাড়িতে আসলেন কেনো? ফোনেই তো কথা বলতে পারতেন। আর আপনার বাবাইবা মারা গেলো কিভাবে? -আমার হঠাৎ মৃত্যু বাবা কিছুতেই সহ্য করতে পারেনি। আপনি তাকে হাসপাতালে দেখে আসার পরেই বাবা কিছুটা সুস্থ্যতা বোধ করে এবং বাড়িতে চলে আসে। এর পরে তিনি আবার আমার কথা ভেবে কাঁদতে থাকে এবং এক পর্যায়ে হার্ট এটাক করে মারা যায়। -কি বলছেন?! এর জন্য আপনি এখানে এসেছেন? আমাকে কী আপনার বাবার দাফনে সাহায্য করতে হবে? মানে প্রতিবেশীদের এই কথাটা জানাতে হবে যে আপনার বাবা মারা গেছেন!!? -নাহ। আমার আত্মীয় স্বজনেরা এর মধ্যেই চলে এসেছে। আমার অন্য আরেকটা সাহায্য চাই। -অন্য সাহায্য?! আচ্ছা এর আগে আপনি আমার ঘরে আসুন। এখন তো রাত প্রায় ২টা বাজে। কেউ যদি দেখে এতো রাতে আমি বাহিরে দাড়িয়ে একা একা কথা বলছি তাহলে সবাই আমাকে পাগল ভাববে। -আপনার ঘরে আমি যেতে পারবো না। আপনার ঘরে পবিত্র কোরআন শরীফ রয়েছে আর আমি এক অভিশপ্ত আত্মা। তাই চাইলেও আমি আপনার ঘরে প্রবেশ করতে পারবো না। আপনাকে আগে সেটা সড়াতে হবে। -দুঃখিত এটা আমি কিছুতেই সড়াতে পারবো না। চলুন তার চেয়ে ভালো আমরা ছাদে যাই। -চলুন। . এরপর আমি সিড়ি দিয়ে ছাদে উঠছিলাম আর মনে মনে ভাবছিলাম একটা মৃত মেয়ের আত্মার সাথে আমি এখন ছাদে দাড়িয়ে থাকবো! এর চেয়েতো নিচেই ভালো ছিলো। একটা মৃত মেয়ের আত্মা আমার সাথে এতো রাতে ছাদে যাচ্ছে এটা ভেবেও প্রচন্ড ভয়ে আমার পুরো শরীর শিহরে উঠছিলো। . এরপর আমরা দুজনেই ছাদে উঠলাম। আমি ভয়ে ভয়ে তাকে প্রশ্ন করলাম: -ঐশী? আপনি এসেছেন? কী যেনো সাহায্যের কথা বলেছিলেন? -হ্যাঁ। একমাত্র আপনিই আমায় সাহায্য করতে পারেন। আমাকে এই সব কিছুর প্রতিশোধ নিতে হবে। আপনি আমায় সাহায্য করবেন?! -প্রতিশোধ! কিসের প্রতিশোধ? -যারা আমাকে হত্যা করেছে আমি তাদের খুজে বের করে তাদের রক্তে স্নান করতে চাই। -মানে কী?! তাদের শাস্ত্রী একদিন ঠিকই হবে। আপনি মারা গেছেন। এখন আপনার এপার দুনিয়ার মায়া কাটিয়ে ওপার দুনিয়ায় চলে জাওয়া উচিত। -হ্যাঁ। আমি অবশ্যই যাবো। তবে এর আগে ঐ নরপশুদের হত্যা করে যাবো। আপনিই বলুন আমার কী অপরাধ ছিলো? তারা আমাকে কেনো হত্যা করেছে? শুধু শারীরিক চাহিদা পুরণের জন্য? আমার জন্মের পরেই আমার মা মারা যায়। তাই সবাই আমাকে অপয়া বলতো। কিন্তু আমার বাবা নিজের থেকেও আমাকে বেশি ভালোবাসতো। তার স্বপ্ন ছিলো আমাকে ডাক্তার বানাবে। তাই শত অভাবের মাঝেও বাবা আমার লেখাপড়া কখনো বন্ধ হতে দেয়নি। আমি এইবার এইচ.এস.সি পরীক্ষা দিতাম। একটা সরকারী মেডিকেলে ভর্তি হওয়ারো প্রস্ত্তুতি নিচ্ছিলাম। কিন্তু হঠাৎ আমার জীবনটা পুরো বদলে দিলো সেই নরপশুগুলো। কী দোষ ছিলো আমার!? আর কী দোষ ছিলো আমার বাবার!! আমরাতো সুখেই ছিলাম কিন্তু কেনো আমার সাথে তারা এমন করলো। আমাকে তাদের খুন করে প্রতিশোধ তো নিতেই হবে। -দেখুন আপনি যাহ খুশী তাই করুন। কিন্তু আমাকে এর মধ্যে টানছেন কেনো? আর আপনি আমাকে কী করে চিনেন সেটাতো আগে বলুন। -সেটা বলার সময় এখনো হয়নি। আপাতত আপনি আমাকে সাহায্য করুন। -আমি আপনাকে আর কোন সাহায্য করতে পারবো না। আপনি চলে যান। -আমি যদি এখান থেকে চলে যাই তাহলে বুঝে নিন আপনার পরিবারের সাথে এমন কিছু খারাপ ঘটবে যেটা আপনিকল্পনাও করতে পারবে না। -আপনি সব কিছুর মাঝে কেনো শুধু আমার পরিবারকে টেনে আনো? -আপনাকে তো বললাম যে শেষ বারের মতো আর একবার আমাকে সাহায্য করুন। কথা দিচ্ছি এরপরে কখনো আপনাকে আর বিরক্ত করবো না। মুক্ত করে দিবো আপনাকে। -আচ্ছা বলুন আপনার কী সাহায্য চাই? -আমার একটা শরীর চাই। যেই শরীরে আমি আমার আত্মাকে প্রবেশ করাতে পারবো। আমি সেই শরীরকে নিজের আয়ত্তে আনবো। তখন আর আমার অন্য কারোর সাহায্যের প্রয়োজন হবে না। নিজেই নিজের প্রতিশোধ নিতে পারবো । কথা দিচ্ছি সেই শরীরটা পেলেই আমি আপনাকে মুক্ত করে দিবো। -আপনি কী পাগল হয়ে গেছেন?! আপনাকে আমি শরীর দিবো কোথা থেকে? আপনি কী কোন ভাবে আমার শরীরে আপনার আত্মা প্রবেশ করাতে চাইছেন?! -সেটা পারলে কী আর এতক্ষন আপনার সাথে দাড়িয়ে কথা বলতাম! কখন আপনার শরীরে ঢুকে যেতাম। আমি কোন জীবিত শরীরে ঢুকতে পারবো না। আমার একটা মৃত লাশ লাগবে। -কিসের লাশ ? আমি এখন আপনার জন্য লাশ পাবো কোথা থেকে? আর আমি লাশইবা আনবো কিভাবে? -সেটা আপনি জানেন। কিন্তু কাল আমাবস্যা রাত। কালকের মধ্যেই আমার একটা মেয়ের লাশ চাই। না হলে কিন্তু আমি আপনার বাঁচা মুশকীল করে দিবো। -বিশ্বাস করুন, আমার পরিচিত কোন হাসপাতাল নেই। যেখান থেকে আমাকে একটা লাশ কেউ জোগাড় করে দিবে। আমি এমন কাজ করতে পারবো না। ত আপনি অন্য কোথাও চেষ্টা করেন। -হাসপাতালের কী দরকার মাসুদ? আপনার বাড়ি থেকে কিছুটা দুরেই তো একটা কবরস্হান রয়েছে। সেখানে শুনেছি রোজ ২-৩ টা লাশ দাফন দেওয়া হয়। -হ্যাঁ। তো? - আপনার বাড়িতেতো কোদাল আছে তাই না? কবরস্হানে চলে যান আপনি। সেখান থেকে একটা নতুন কবর খুরে একটা মেয়ের লাশ নিয়ে আসবেন আমার জন্য। পারবেন না? -আমি এতো জঘন্য কাজ কিছুতেই করতে পারবো না। আপনি চলে যান এখান থেকে। -নাহ। আপনাকে এই কাজটা করতেই হবে। আমার কালকের মধ্যেই একটা মেয়ের তাজা লাশ চাই। . . মৃত মেয়েটার আত্মার এইসব কথা শুনে আমার মাথা পুরো গরম হয়ে গেলো। যেই আমি কবর দেখলে দিনের বেলায়ই সেই রাস্তা দিয়ে হাটতাম না। আর সেই আমাকেই এই মেয়েটার আত্মা রাতের বেলায় কবরস্হানে গিয়ে কবর খুরে লাশ আনতে বলছে!! আমার পক্ষে এটা করা কিছুতেই সম্ভব না। সে চাইলে যেকোন কিছু করুক আমি আর তার কোন কথা শুনতে পারবো না। ভাবতে লাগলাম তাকে কী করে এখন এখান থেকে তাড়িয়ে দিবো। . হঠাৎ মনে পড়লো মেয়েটার আত্মাতো অভিশপ্ত। তাই আমার ঘরে কুরআন শরীফ থাকাতে সে প্রবেশ করতে পারেনি। তারমানে আমি যদি এখন কুরআনের কিছু আয়াত তাকে পড়ে শুনাই তাহলে সে ভয়েই চলে যাবে। . এরপর আমি কুরআনের কিছু আয়াত পড়তে শুরু করি। এরপর যাহ ভেবেছিলাম তাই হলো মেয়েটার আত্মা জোড়ে জোড়ে চিৎকার করতে লাগলো আর বলতে লাগলো: -নাহ! তুমি এটা করতে পারো নাহ! তুমি এটা ঠিক করলে না! আমাকে এখান থেকে তাড়িয়ে তুমি ঠিক কাজ করলে না। এর ফল তোমাকে ভোগ করতেই হবে। তোমার পরিবারকে ভোগ করতে হবে। . এই বলেই মেয়েটার আত্মা চিৎকার করতে করতে সেখান থেকে চলে গেলো। আমি যেনো হাফ ছেরে বাঁচলাম। এরপর দৌড়ে এসে নিজের ঘরে প্রবেশ করলাম। . অনেক রাত হয়ে গিয়েছিলো। এরপরে আবার পুরো বাড়িতে আমি একা রয়েছি। তাই তারাতারি ঘুমিয়ে পড়লাম। এরপরে হঠাৎ একটা অদ্ভুত ভয়ংকর স্বপ্ন দেখে ঘুমটা ভেঙে গেলো আমার। . স্বপ্নে দেখলাম," আমি একটা কোদাল হাতে নিয়ে বাড়ির পাশের সেই কবরস্হানের দিকে হেটে যাচ্ছিলাম। এরপরে হঠাৎ একটা নতুন কবরের সামনে এসে দাড়ালাম। কবরটা কোদাল দিয়ে খুরতে লাগলাম। কবরটা খুরার পর একটা কাফনে মোরা লাশ দেখতে পেলাম। লাশটার মুখটা থেকে কাফনের কাপড়টা সরালাম লাশটার মুখ দেখার জন্য। ঠিক তখনি দেখলাম একটা অচেনা মেয়ের লাশ এটা। মেয়েটা বড় বড় চোখ করে আমার দিকে তাকিয়ে রয়েছে আর ভয়ংকর ভাবে হেসে চলেছে। আমি অনেক ভয় পেয়ে যাই। হঠাৎ কবরের উপর থেকে কতগুলো টুপি পড়া লোক কবরের ভেতরে আমার উপরে মাটি ফালাচ্ছিলো। এরপরে আমি কবর থেকে উঠে আশার চেষ্টা করি কিন্তু মেয়েটার লাশটা শক্ত করে আমাকে জড়িয়ে ধরে। এরপরে আমি চিৎকার করতে থাকি। কেউ আমাকে বাচাও। কেউ আছো!??" . এর পরেই আমার ঘুমটা ভেঙে যায়। মাঝরাতে বাড়িতে একা ছিলাম। একে বিদ্যুত ছিলো না তার উপর বাহিরে টানা বৃষ্টি আর বজ্রপাত হচ্ছিলো। তার উপর আমি আবার এতো ভয়ংকর একটা স্বপ্ন দেখলাম। আমার মনে হচ্ছিলো যে আমি এখন ভয়েই মারা যাবো। আমার মনে হচ্ছিলো আমার ঘরে কেউ হাঁটাচলা করছে। কিন্তু এটা তো অসম্ভব কারণ আমার বাবা-মা বাড়িতে নেই আর ঘরে পবিত্র কুরআন শরীফ রয়েছে যাতে করে ঘরে কোনো অভিশপ্ত আত্মা প্রবেশ করতে পারবে না। . এরপরে অনেক কষ্টে কাঁথার ভেতরে মাথা ঢুকিয়ে ভয়ে ভয়ে ঘুমিয়ে পরলাম। . সকাল বেলা মায়ের ডাকে ঘুম ভাঙলো। বুঝলাম যে মা আর বাবা, মামা বাড়ি থেকে ফিরেছে। যাক কিছুটা সঃস্তী পেলাম। . এরপর ঘুম থেকে উঠে চোখ খুলেই দেখি মা আমার দিকে রাগান্বীত ভাবে ভয়ংকর দৃষ্টিতে তাকিয়ে রয়েছে। . এরপর মা যাহ বললো: -তোর এটা করা উচিত হয়নি। মেয়েটা বিপদে পরে তোর কাছে সাহায্য চাইতে এসেছিলো। তোর ওকে সাহায্য করা উচিত ছিলো। . আমি মায়ের কথা শুনে এক লাফে বিছানা থেকে উঠে দাড়িয়ে গেলাম আর ভাবতে লাগলাম আমিতো মা কে কিছু বলিনি মেয়েটা সম্পর্কে তাহলে মা মেয়েটার কথা জানলো কিভাবে!! ? . এরপর দরজার সামনে আমার বাবা আসলো। সেও বললো: - বাবা! তোর এই মৃত মেয়েটার আত্মাকে সাহায্য করা উচিত ছিলো। . . আমি আমার বাবা আর মায়ের কথা শুনে আৎকে উঠলাম। এরা এসব কী বলছে?! এরা মেয়েটা সম্পর্কে কিভাবে জানলো? মেয়েটা কি তাহলে . . . . . . . . . . . . . . . চলবে . . . . . . . লেখা: Masud_ . . . ৪র্থ পর্ব


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১১৪২ জন


এ জাতীয় গল্প

→ ভয়ংকর পিশাচীনির কবলে জিজেসগণ।
→ বন্যা এবং এক পিশাচ
→ পিশাচ কাহিনীঃ শয়তানের পাল্লায় ৩
→ পিশাচ কাহিনীঃ শয়তানের পাল্লায়
→ পিশাচ কাহিনীঃ শয়তানের পাল্লায় ২
→ রাতের পিশাচ
→ পিশাচের কবলে।
→ নরকের পিশাচ-৩
→ নরকের পিশাচ-২
→ নরকের পিশাচ--১
→ পিশাচ-কথন
→ নরপিশাচ বুখেনওয়ার্ল্ডের ডাইনি
→ রক্তচোষা পিশাচ(200বছর পর)part#1
→ কালো যাদু (পিশাচ কাহিনী)
→ মানুষ খেকো পিশাচিনী

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now