বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
পিশাচ কল
.
২য় পর্ব
.
এইগুলো ভাবতে ভাবতে আবার মোবাইলের স্ক্রীনে সেই অদ্ভুত নাম্বারটা ভেসে উঠলো, "২৬০৯৯৯" । ভয় পেয়ে গেলাম মেয়েটা আজ আবার আমাকে কেনো কল দিয়েছে।
.
আমি কিছুতেই বুঝতে পারছিলাম না যে মেয়েটা আবার আমার কাছে কী চায়! একটা মৃত মেয়ে আমাকে কল দিয়েছে এটা ভেবেই শরীরটা শিহরে উঠলো। যদিও এর আগেও মেয়েটা আমাকে কল দিয়েছিলো কিন্তু তখন তো বিশ্বাস করিনি যে মেয়েটা মৃত। কিন্তু এখন সব জানি তাই ভয়ে কলটা কেটে দিলাম। এরপর মোবাইলটা বন্ধ করে রাখলাম যাতে মেয়েটা আর কল দিতে না পারে।
.
এরপর যাহ ঘটলো তা দেখে আমি আরো ভয় পেয়ে গেলাম। আমার বন্ধ মোবাইলেই কল বেজে উঠলো ঠিক সেই একই নাম্বার থেকে। এবার আমার আর বুঝতে বাকি রইলো না যে এটা কোন স্বাভাবিক কল না। এরপর ভয়ে ভয়ে কলটা ধরেই ফেললাম। কলটা ধরেই ভয়ে ভয়ে আমি বললাম:
-আপনি যে সাহায্য চেয়েছিলেন সেটাতো আমি করেছি। তারা আপনার লাশটা পেয়েছে।আবার কেনো কল দিয়েছেন?
-হ্যাঁ। এর জন্য আপনাকে অনেক ধন্যবাদ। কিন্তু আপনার কাজ এখনো শেষ হয়নি। আমার আরেকটা সাহায্য চাই।
-দেখুন। দয়া করে আমাকে আর কিছু করতে বলবেন না। আমি নিজেই বুঝতে পারছি না যে আমার সাথে এসব কী হচ্ছে! আপনি আমাকে পাগল বানিয়ে ফেলেছেন। আপনি আর আমাকে কল দিবেন না।
-আপনি ছাড়া আর কেউ আমাকে সাহায্য করতে পারবে না। প্লিজ না করবেন না।
-আচ্ছা আপনি তো সরাসরি আপনার বাবার কাছ থেকে সাহায্য নিতে পারেন। আর সত্যি আমি আপনাকে চিনি না। আপনি আমাকে কি করে চিনেন! বিশ্বাস করুন এর আগে আপনাকে কখনোই দেখিনি। আপনি কেনো শুধু আমাকেই কল দিচ্ছেন।
-এর উত্তর আপনাকে আমি পরে দিবো।
-পরে দিবেন মানে ? আর কতো পরে?
-যেদিন আপনার সাথে আমি দেখা করবো সেদিন আপনাকে সব বলবো।
-দেখা করবেন মানে? আপনিতো মারা গেছেন। তাহলে আর আমার সাথে দেখা করবেন কিভাবে?
-যেভাবে আমি মারা জাওয়ার পরেও আপনার সাথে কথা বলি সেভাবেই দেখা করবো।
-কী বললেন!?! নাহ! আপনার সাথে দেখা করার কোন ইচ্ছাই আমার নেই। আপনার কল আসার পরেই আমি প্রায় পাগল হয়ে গেছি। আর দেখা করলেতো আমি ভয়ে মরেই যাবো।
- কিন্তু আপনি যদি আমাকে সাহায্য না করেন তাহলে তো আমাকে আপনার সামনে আসতেই হবে।
-আচ্ছা শেষ বারের মতো সাহায্য করছি। বলুন কিভাবে সাহায্য করতে পারি আপনাকে। এর পর আর আমাকে কল দিবেন না।
-শেষ বার না । এর পরেও আপনি আমাকে সাহায্য করবেন। না হলে আমি আপনার সামনে আসতে বাধ্য হবো। এবং আমি যদি আপনার সামনে আসি তাহলে আপনি সহ আপনার পুরো পরিবারকে একরাতেই কবরস্হানের বাসিন্দা করে দিবো।
-দেখুন এইভাবে কথা বলবেন না। আচ্ছা বলুন আমি করতে পারি?
-আপনি এখন পলাশনগরে আমার বাড়িতে যাবেন। সেখানে আমার বাবা একা রয়েছে। আমার লাশ পাওয়ার পর থেকে বাবা একটানা কান্না করছে। আর বাবা অনেক্ষন কান্না করার কারণে তার শ্বাসকষ্ট শুরু হয়ে গেছে। এখন দ্রুত তাকে হাসপাতালে না নিয়ে গেলে সে মারা যাবে। আপনি দ্রূত সেখানে যান এবং আমার বাবাকে হাসপাতালে ভর্তি করানোর ব্যবস্থা করুন।
-কিন্তু এতো রাত্রে আমি আপনার বাড়িতে যাবো কিভাবে?! প্লিজ এমন কাজ করতে বলবেন না।
-আমার বাবার কিছু হলে আপনার পরিবারকেও আমি শেষ করে দিবো। আপনি যেভাবেই পারেন এখন পলাশনগরের ১২৩ নাম্বার বাড়িটাতে যান।
.
.
এরপর মেয়েটা কলটা কেটে দেয়। আমি বেশ ভয় পেয়ে যাই আর চিন্তায় পরে যাই। এতো রাত্রে এখন আমি বাড়ি থেকে বের হবো কিভাবে এটা ভেবে!! আর চিন্তা হতে থাকে যদি আমি পলাশনগরে না যাই তাহলে মেয়েটা নিশ্চই আমার পরিবারের ক্ষতি করবে। যে মেয়ে মারা জাওয়ার পর কল করে কথা বলতে পারে সে যেকোন কিছু করতে পারে।
.
আর কোন উপায় না দেখে আমি বাবা-মাকে মিথ্যা কথা বলেই বাড়ি থেকে বেরিয়ে আসলাম। তাদের বলেছিলাম যে আমার এক বন্ধু এক্সিডেন্ট করেছে তাই যেতে হবে।
.
রাতে অনেক কষ্টে গাড়ি পেলাম। তারপর পলাশনগরের সেই বাড়িটাতে পৌছালাম। পৌছে যাহ দেখলাম। মেয়েটার বাবা আসলেই অসুস্হ্য হয়ে মাটিতে পরেছিলো। আমি দ্রুত তার চোখে মুখে পানি দিয়ে জ্ঞান ফিরানোর চেষ্টা করি কিন্তু তার জ্ঞান ফিরে না। আমি ভয় পেয়ে গেলাম। লোকটা কী মারা গেলো নাকি! এরপর পালস চ্যাক করে দেখলাম এখনো বেঁচে আছে। এরপর আমি প্রতিবেশীদের ডাক দেই এবং তারা এসে লোকটাকে হাসপাতালে নিয়ে যায় আর আমি বাড়িতে ফিরে আসি।
.
পরের দিন লোকটা সুস্হ্য আছে কিনা তা দেখতে হাসপাতালে যাই। গিয়ে দেখি লোকটা অনেকটাই সুস্হ্য রয়েছে। আমাকে দেখে একজন লোক আমাকে নিয়ে ভেতরে ঢুকলেন এবং মেয়েটার বাবাকে বললেন যে
-আমিই প্রতিবেশীদের উনার অসুস্হ্যতার খবর দিয়েছিলাম।
এরপর সেই লোকটা চলে গেলো। মেয়েটার বাবা আমাকে বললো:
-ধন্যবাদ, বাবা। তোমার জন্যই আজ আমি বেঁচে গেলাম। কিন্তু তুমি কোথায় থাকো আর আমি যে অসুস্হ্য হয়ে পরেছিলাম সেটাই বা জানলে কিভাবে?
.
আমি তাকে কী বলবো বুঝতে পারছিলাম না। এরপর সাহস করে বলেই ফেললাম:
-আপনার মেয়ে আমাকে কল দিয়ে জানিয়েছে যে আপনি অসুস্থ্য।
.
লোকটা অবাক হয়ে আমার দিকে তাকিয়ে প্রশ্ন করলো:
-আমার মেয়ে মানে? তুমি মজা করছো? সেতো ৩ দিন আগেই মারা গেছে।
.
এরপর আমি মেয়েটার বাবাকে সব কথা খুলে বললাম। যে আমিই তার মেয়ের লাশের খবর প্রথমে দিয়েছিলাম। এর আগে মেয়েটা মারা জাওয়ার পরেই আমাকে কল দিয়ে সব কথা বলেছিলো। মেয়েটাকে কারা কিভাবে হত্যা করে তা মেয়েটাই আমাকে কল দিয়ে বলেছিলো। এরপর গতরাতে মেয়েটাই কল দিয়ে আমাকে বলেছিলো যে লোকটা অসুস্হ্য।
.
এইসব কথা আমি মেয়েটার বাবাকে বললাম। মেয়েটার বাবা আমার কথাগুলোতো বিশ্বাসই করলো না উল্টো রেগে বললো:
-আমার মেয়ে মারা গেছে আর তুমি মজা করছো?
আমার মেয়ে মারা জাওয়ার পরেও তোমার সাথে কথা বলেছে? বেড়িয়ে জাও এখান থেকে। মেয়ে হারানোর কষ্ট তুমি কি বুঝবে!!
মজা নিতে এসেছো আমার সাথে।
.
আমি জানতাম যে লোকটা আমার কথা বিশ্বাস করবে না। কিন্তু আমারতো আর কিছু করার ছিলো না। যাহ সত্য তাই বলেছি মাত্র
.
হঠাৎ একটা কথা মাথায় আসলো। আমার মোবাইলে তো অটো কল রেকর্ডার আছে। তার মানে হয়তো মেয়েটার সাথে বলা সব কথা গুলো সেভ করা আছে। এই কথাটা এর আগে আমার মাথায় কেনো আসেনি! মেয়েটার বাবাকে কথাগুলোর রেকর্ড শুনিয়ে দিলেইতো সে বিশ্বাস করবে।
.
এরপর মোবাইলের সেভ করা কল রেকর্ডিং এ ঢুকে খুঁজতে লাগলাম সেই কল গুলোর রেকর্ড। তবে যাহ দেখলাম আমি পুরাই অবাক হয়ে গেলাম। গত কয়েক দিনের সব কলগুলোর রেকর্ডই রয়েছে শুধু রাতে আসা সেই মেয়েটার নাম্বারের কোন কলের রেকর্ড এখানে নেই।
.
আমি অবাক হয়ে আমার কল লিস্টে ঢুকি নাম্বারটা চেক করার জন্য। তবে পুরো কল লিস্ট খুজেও "২৬০৯৯৯" নাম্বারটা খুজে পাই না। তার মানে মোবাইলের মতে গত কয়েকদিন ধরে রাত ১২ টার পরে আমার কোন নাম্বারের সাথেই কথা হয়নি। কিন্তু মেয়েটাতো রোজ রাতে আমাকে কল দিতো ২৬০৯৯৯নাম্বার থেকে।
.
আমার মাথা পুরো উলটপালট হয়ে গেলো। আমি মেয়েটার বাবাকে আর কিছু না বলেই সেখান থেকে বেড়িয়ে চলে আসি।
.
এরপর রাস্তায় দাড়িয়ে ভাবতে থাকি মেয়েটা কেনো শুধু রাতেই আমাকে কল দেয় আর
কেন শুধু আমার কাছেই সাহায্য চায়।
.
মেয়েটা যাহ যাহ বলে তাই হয়। তার মানে মেয়েটার আত্মা নিশ্চই আশেপাশেই রয়েছে। কিন্তু মেয়েটার আত্মা এখনো মুক্তি পায়নি কেনো তার উত্তর আমার কাছে নেই।
.
দিন শেষে রাতে আমি ঘরে শুয়ে ছিলাম। আজ বাড়িতে আমি একা। বাবা আর মা , মামা বাড়িতে বেড়াতে গিয়েছে। মোবাইলটা হাতে নিয়ে ভাবছিলাম আজকে রাতেও কী মেয়েটা আমাকে কল দিবে?! কিন্তু আজ কেনো কল দিবে। মেয়েটাকেতো আর কোন সাহায্য করার প্রয়োজন নেই। মেয়েটা আমাকে যা বলেছিলো আমি তাই করেছি।
.
এরপর হঠাৎ আবার সেই ২৬০৯৯৯ নাম্বার থেকে কল। আমি কিছুটা ভয় পেয়ে গেলাম। কেনো আবার কল দিলো মেয়েটা। এরপর মেয়েটার কলটা ধরলাম ওপাশ থেকে মেয়েটা কাঁদো কাঁদো কন্ঠে বললো:
-আমার বাবা মারা গেছে। আমি আপনার বাড়ির বাহিরে দাড়িয়ে আছি। আপনি দয়া করে একটু বাহিরে আসবেন।
.
এই বলেই কলটা কেটে দিলো। আমি ভয়ে আতকে উঠলাম। মেয়েটা আবার আমার সাথে দেখা করতে কেনো আসলো!? আর মেয়েটার বাবা ইবা কিভাবে মারা গেলো।! তাকে তো সকালেও সুস্থ্য দেখেছিলাম। এরপরেই হঠাৎ কলিং বেল বেজে উঠলো। আমি আরো বেশি ভয় পেয়ে যাই। আসলেই কী মেয়েটা বাহিরে এসেছে?!
.
.
. . . . . চলবে . . . . .
.
.
লেখা: Masud Rana
.
৩য় পর্ব
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now