বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

পিশাচ দম্পতি পর্ব ১

"ভৌতিক গল্প " বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান রিয়েন সরকার (০ পয়েন্ট)

X পিশাচ দম্পতি পর্ব - ১ (এক) ধুর বেটা ভাললাগে না , তুই কি তোর বাসা থেকে নামবি কিনা বলতো ? দোস্ত এতো রাতে বের হলে বাবা আর বাসায় ঢুকতে দিবে না । - ¬তারমানে তুই বের হবি না । আচ্ছা আমি আজ একাই চাদ দেখবো । ঐ সালা আমি কি তোর গার্লফ্রেন্ড যে তুই আমাকে নিয়ে বের হবি , আমার বাসার নিচে আয় । এই হলো সোহার্থ আর অনিকের কথোপকথন ।সোহার্থ প্রায় রাতেই বের হয় রতের ঢাকা দেখতে । আর সংগী হয় অনিক , যদিও বেশিরভাগ সময়ই অনিচ্ছাকৃত । আজও বের হয়েছে । অনিকের বাসার সামনে । অনিক ঃ আসতে এতো সময় লাগে ? সোহার্থ ঃ তুই তোর বাসা থেকে নামছিস আর আমি ১৭টা বাড়ি পার করে এসেছি ।চল সামনে যাই । অনিক ঃ আচ্ছা আজ হটাৎ আবার বের হলি কেন ? মন খারাপ নিশ্চয় ? সোহার্থ ঃ হুম । বিড়ি আনছিস ? অনিক ঃ হ্যা । আব্বুর একবন্ধু আব্বুওকে ১ কার্টুন সিগারেট গিফট করছে । ঐখান থেকে ১প্যাকেট নিয়ে আসছি । সোহার্থ ঃ এইতো আমার গুড গার্ল । অনিক ঃ ঐ হারামী আমি গুড গার্ল ? ……… আচ্ছা মন খারাপ কেন আগে সেটা বল ? সোহার্থ ঃ সাবরিনের সাথে ঝগরা হয়েছে । ব্রেকাপ । অনিক ঃ আবার । এবার দিয়ে ৬৪বার হলো । এইবার আর আমি মিটমাট করতে পারবো না । সোহার্থ ঃ তোর মিটমাট করতে হবে না । চল আজ সাবরিন দের বাসায় ঢেল মেরে জানলার কাচ ভাংগবো । অনিক ঃ সত্ত্যি দোস্ত । এইধরনের বিটলামি করতে আমার সেই লাগে । তাইলে চল । এরপর ২ বিটল সাবরিন দের বাসার সামনে গিয়ে হাজির হয় । ইটের ঢিল মেরে ভেঙ্গে ফেলে ২তালার সাবরিনের বাবার রুমের জানালা । টের পেয়ে দারোয়ান বেশ খানিক দৌ্রের উপর রাখে সোহার্থ আর অনিককে । সাবরিনের বাবা আজ সাবরিনকে বলে দিয়েছে যে সে জেনো আর সোহার্থের সাথে কোন সম্পর্ক না রাখে । সোহার্থ বলতে গেলে এতিম , বাবা মা অনেক আগেই মারা গিয়েছে আর চাচা সব সম্পত্তি নিজের নামে করে নিয়ে বাসা থেকে বের করে দিয়েছে সোহার্থকে । তাই সাবরিনের বাবা কোন এতিম ছেলের হাতে তার মেয়েকে দিবে না । আর সাবরিনও বাধ্য সন্তানের মত ব্রেকয়াপ করে । তবে মনে হয় না সে সোহার্থের সাথে কথা না বলে থাকতে পারবে । ২জনই তো ২জনকে অনেক ভালোবাশে । অনিক ঃ দোস্ত আর দৌড়াতে পারবো না রে । একটু থাম প্লিজ । সোহার্থ ঃ আমিও । অনিক ঃ তোর ফোন বাজে । সোহার্থ ঃ দারা সাবরিন ফোন দিছে । হ্যালো ব্রেকাপ গার্ল সাবরিন ঃ তুমি এইকাজ টা কেন করলা ? সোহার্থ ঃ আমি আবার কি করলাম ? সাবরিন ঃ কি করলাম মানে ? আমি বারান্দায় বসে সব দেখেছি । এইটা ঠিক করো নাই । সোহার্থ ঃ যা করছি ভালো করছি । সাবরিন ঃ আন্ডা ভালো করছেন আপনি ? অনেক রাত হয়েছে , বাসায় যাও । কাল লেকে যাবো , দেখা হবে । সোহার্থ ঃ জি মহারানী । ফোন টা কেটে পকেটে রাখে সোহার্থ । অনিক ঃ কি মহারাজ , অভিমান পর্ব শেষ ? সোহার্থ ঃ হুম । চল বাসায় গিয়ে ঘুমাবো । অনিক ঃ হুম । আজ তোর মেসে থাকবো । বাসায় গেলে বাপে ঘার ধাক্কা দিয়ে বের করে দিবে । হেটে যাচ্ছে ২জন । এমন সময় পিছনে চিৎকারের শব্দ শুনতে পায় ওরা । চিৎকারের উৎস খুজতে পিছনে দৌড় দেয় ওরা ২জন । বুঝতে পারে পাশের গলি থেকে আসছে আর্তনাদ । ঢুকে পরে গলিতে । গলির শেষ মাথায় দেখতে পায় , যা দেখে সেটা দেখে নিজের চোখকে বিশ্বআস করতে পারছে না । হাত পা কাপছে । ওদের দেখে সামনে ২জন পালিয়ে যায় । এগিয়ে যায় সোহার্থ আর অনিক । দুজনেরই হাত পা কাপছে । চিৎকার বন্ধ হয়ে গেছে । সামনে পরে আছে ক্ষত বিক্ষত একটি নথর দেহ । একটু আগে ২জন লোক এই লাশ থেকে মাংশ ছিড়ে ছিড়ে খাচ্ছিল । অনিক ঃ দোশ্ত এখানে আর একমুহুর্ত ও থাকা ঠিক হবে না । চল । সোহার্থ ঃ কি বলিশ তুই এইসব > একটা লাশ এভাবে রেখে চলে যাবো ? অনিক ঃ হ্যা । কারন সে মৃত । বেচে থাকলে কিছু চেষ্টা করতাম । চল এখন । এখানে থেকে নতুন করে কোন বিপদে পরতে চাই না । এর পর চলে আসে তারা । বাসায় এসে বমি করতে থাকে অনিক । পরের দিন তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয় । । বিকেলে সাবরিন আর সোহার্থ দেখা করে লেকে । সাবরিন ঃ তোমার মন খুব খারাপ তাই না ? আমি তোমাকে ছেরে যাবো না বাবু , আমি তোমাকে ছেরে বাচতে পারবো না । সোহার্থ ঃ সাবরিন আমার মনে হয় তোমার বাবাই ঠিক । আমি তোমার যোগ্য না । আমার উচিত তোমার থেকে দূরে সরে যাওয়া । সাবরিন ঃ জান প্লিজ এভাবে বলে না । আমার খুব কষ্ট হয় । সোহার্থ ঃ কষ্ট হলেও এটাই সত্ত্যি । প্রথম প্রথম এমন লাগবে । পরে ঠীক হয়ে যাবে । কথাগুলো বলেই সোহার্থ উঠে চলে যায় । সাবরিন কিছু খন একা একা কেদে ফিরে যায় বাসায় । রাতে সুস্থ হয়ে উঠে অনিক ।বাসায় নিয়ে আসে । পরেরদিন দুপুর ২টা বাজে । অনিক ফোন দেয় সোহার্থকে । অনিক ঃ দোস্ত পত্রিকা পরেছিস ? সোহার্থ ঃ না। কেনো ? অনিক ঃ পত্রিকায় দেখ , শিরোনামে এসেছে * নগরীতে আরো ৪টি সহ মোট ৯টি বিভৎস লাশ * সোহার্থ ঃ তাই কি বলিশ এই সব ? অনিক ঃ ময়না তদন্ত করে কিছুই বোঝা যাচ্ছে না যে কিভাবে মানুষ গুলির এই হাল হলো । কিন্তু আমরা তো জানি । সোহার্থ ঃ তুই আমার বাসায় আয় । অনিক ঃ আচ্ছা আসতেছি । রাস্তায় আসার সময় একটা মেয়ের সাথে পরিচয় হয় অনিকের । অনিক সচরাচর মেহেদের সাথে কথা বলে না । কিন্তু কেনো জানি আজ হটাৎ করে এই মেয়েটার সাথে যেচে অনেক কথা বললো । বন্ধুত্ব হয়ে গেলো ২জনের । সোহার্থের মেসে চলে এসেছে অনিক অনিক ঃ দোস্ত জানিশ আজ তো আকাশের পরি মাটিতে নেমে এসেছে । সোহার্থ ঃ কেন তোম পরিমনি কি ছিনেমা করা ফেলে রেখে কোমর দুলিয়ে তোর সাথে নাচতে এসেছে ? অনিক ঃ আরে না । মেয়েটির নাম আরাত্রিকা । সোহার্থ ঃ আরাত্রিকা ? এটা কোন মানুষের নাম ? অনিক ঃ নাহ , এটা তো পরির নাম । সোহার্থ ঃ তুই কি মেয়েটার প্রেমে ট্রেমে পরিছিস ? অনিক ঃ হ্যা দোস্ত । সোহার্থ ঃ শালা তুই ও শেষ । আচ্ছা যেটা বলতে চাই ছিলি । অনিক ঃ ওহ হা আ। মানুষ গুলোকে কোন জানোয়ার মেরে খাচ্ছে । দোস্ত আমি খুব রোমান্টিক মুডে আছি সো আজ আর এইসব বলে মন খারাপ করতে চাচ্ছি না । আমি চলে যাই কাল কথা হবে । সাবরিন বেশ কয়েকবার ফোন দেই সোহার্থের ফোনে কিন্তু ফোন পিক করে না । রাতে ১টা এসএমএস পাঠায় সাবরিন * তুমি এমন করতে থাকলে হয়তো আমি মারায় যাবো , প্লিজ আমাকে বাচাও শোনা * এসএমএস পরে বেশ কিছুখন কাদে সোহার্থ , আর ভাবে নিজের অযোগ্যতার কথা । একসময় ঘুমিয়ে পরে । খুব ভোড়ে অনিক সোহার্থের মেসে আসে । ঘুম থেকে উঠায় সোহার্থকে । সোহার্থ ঃ কি রে এতো সকালে তুই ?কি হয়েছে ? অনিক ঃ দোস্ত , সাবরিন । সোহার্থ ঃ কি হয়েছে সাবরিনের ? (বলেই ফোন হাতে নেয় সাবরিনকে ফোন দেওয়ার জন্য) অনিক ঃ সাবরিন মারা গেছে , সোহার্থ ঃ হোয়াট ? ও সুইসাইড করেছে । অনিক ঃ না । বাসার ছাদে ওর ক্ষত বিক্ষত লাশ পরে ছিল । আমাকে কথা ফোন দিয়ে রাতে জানায় , তারপর আমি ওদের বাসায় গিয়ে শিওর হই । সোহার্থ দৌড় দেয় , অনিক ও পিছু পিছু । চলবে…………………………………………


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১০৯০ জন


এ জাতীয় গল্প

→ পিশাচ দম্পতি পর্ব – ২
→ পিশাচ দম্পতি পর্ব ১

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now