বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
পিশাচ চক্র !
লিখেছেন- সাচৌ ।
১
হেমন্তের শেষেও মেঘে ঢাকা গুমোট
আকাশ,তাই ভ্যাপসা গরমটা আরও বেশী লাগছে।
ঘামে পুরো শরীর ভিজে স্যাঁতস্যাঁতে হয়ে
আছে। শার্ট প্যান্ট খুলে একটা লুঙ্গি পড়তে
পারলে খুবই আরাম লাগত, কিন্তু সেই ইচ্ছে
পূরণের কোন উপায় নেই। প্রায় ১৭ ঘণ্টা পাহাড়ি
জঙ্গল আর ছোটখাটো ঝোপঝাড় সরিয়ে
হেঁটে চলেছে আবির।রাস্তা যতটা খারাপ হওয়ার
কথা ছিল,ততটা না।সরু একটা আঁকাবাঁকা পথ আছে যা
দিয়ে একজন পথচারী কোনরকমে হেঁটে
যেতে পারে। যদিও কোন মানুষের ছায়াও
চোখে পড়ে নি সারাদিনে।রাত ১১টা বাজতে তিন
মিনিট বাকী। টিক টিক টিক করে হাতের ফার্স্ট র্যাক
ঘড়ির নীল কাঁটা তার উপস্থিতি জানান দিচ্ছে।ঘড়িটা
ভালোই সঙ্গ দিচ্ছে তাকে , অনেকখানি ভয়ও
কেটে যাচ্ছে এতে।অন্তত নিজের হার্ট-বিটের
একঘেয়ে শব্দ শোনা থেকে বাঁচা গেল।সকাল
৬টায় লামার মারমা পাড়া ছিল চোখে পড়া শেষ জন-
বসতি। মাঝিকে ওইখানেই দুইদিন অপেক্ষা করতে
বলেছে আবির। টাকা পয়সাও ভালোই দিয়েছে,
বিশ্বাস রক্ষা করার ক্ষেত্রে পাহাড়িদের বিশেষ
সুনাম আছে।তবে মাঝি লোকটাকে তার কেমন
যেন সুবিধের মনে হয়নি, পুরো ৯ ঘণ্টা একসাথে
ছিল তারা কিন্তু ওই বেটা কোন কথা বলেনি এমনকি
দরদামও করে নি তার সাথে। সে যা বলেছে একটা
ফোঁস জাতীয় শব্দ করে তাতেই রাজী হয়ে
গিয়েছে। আশ্চর্য তো, এখনই খেয়াল হল
লোকটা একবারও তার চোখের দিকে তাকায়নি,
আর জানতেও চায়নি কোথায় যাচ্ছে!
ব্যাগের মধ্যে দুইটা বাড়তি টর্চ আর একটা কার্বলিক
এসিডের বোতল আছে, জিপিএসটা বের করে
একটু দেখে নেওয়া দরকার , latitude:21°48'
13.95"N & longitude:92°17'31.79"E খুব
কাছাকাছি চলে এসেছে আবির । তার দরকার
latitude:21°48'7.62"N & longitude:
92°18'55.56"E ! মেরিনার হওয়ার সুবিধেটা
ভালমতো কাজে লেগেছে। খুব ক্লান্ত
লাগছে, খুব। তার উপর একফোঁটা বাতাস নেই
এইখানে, কেমন যেন দম বন্ধও করা গুমোট
পরিবেশ।ক্লান্তিতে চোখ বুজে আসছে তার,
আর পারছে না চোখ মেলে রাখতে।আজই
আমাবস্যার সোমবার রাত, যা করতে হবে
আজকের মাঝেই করতে হবে ।সময় নেই
বেশিক্ষণ মাথার ভেতর কেউ যেন বলছে,
চোখ বন্ধ করিস না, সাবধান ! কিন্তু আবিরের
যেন মরণ ঘুম পেয়েছে আজ ।
২
তীব্র প্রাণী পচা কটু গন্ধে ঘুম ভাঙল আবিরের।
চারিদিকে তাকিয়ে অন্ধকার ছাড়া কিছুই দেখতে
পেলনা সে।
কেউ একজন বলে উঠল: আসলি তুই তাহলে
শেষ পর্যন্ত!
চমকে উঠল আবির!
-আপনি ত্রংখা মারমা? বাতিটাতি নেই নাকি এইখানে ?
-চুপ! শব্দ করবি না, এমনিতেই আজ রাতের সব
উপাসনা মাটি করলি তুই!
চোখ একটু সয়ে আসার পর লোকটার আবছা
অবয়ব বুঝতে পারল আবির, শুকনো রোগা, চুল-
দাড়ি বিহীন একজন মানুষ বসে আছে তার সামনে।
একটু খেয়াল করতেই দেখল লোকটা বস্রহীন
ও বটে।
-আমি ঠিক কোথায় আছি জানতে পারি,জনাব ত্রংখা?
ত্রংখা কোন জবাব না দিয়ে খুক খুক করে হাসল।
-মানে?
লোকটা গা হিম করা স্বরে সাপের মত হিসহিসিয়ে
বলল-চুউপ!তোকে যা যা আনতে বলেছিলাম
এনেছিস?
-জী! বোতলে আছে!
-বের কর!
আবির ব্যাগ থেকে তিন বোতল রক্ত বের
করল, মানুষের! এই রক্তগুলো একেবারে তাজা
সংগ্রহ করেছে, ব্লাড-ব্যাঙ্ক থেকে।
-সারা গায়ে মাখ।
-জী?
- কোন প্রশ্ন করবি না, সময় কম!
আবির সারা গায়ে রক্ত মেখে বসে আছে, গায়ে
একটা সুতোও নেই । মাথা ঝিম ঝিম করছে! নীল
রঙের একটা তরল পদার্থ খেতে দেওয়া
হয়েছে তাকে! সে নাক চেপে তরল গিলে
ফেলল!
মনে হয় ঘরের মাঝে কয়লা জ্বালাল ত্রংখা! আবছা
আলোয় একটা বাচ্চাকে দেখতে পাচ্ছে সে,
জন্তুর মত করে বেঁধে রাখা হয়েছে!
-তোর সামনের চাপাতিটা তোল!
আবির দেখল প্রায় চাপাতির মতই কিছু একটা তার
সামনে রাখা আছে। যদিও এটাকে চাপাতি বললে ভুল
হবে, কারন এই জিনিসটা প্রায় দেড় হাত লম্বা। সে
প্রানেপনে চাইছে চাপাতিটা না তুলতে, কিন্তু তার
নিজের যেন কোন ক্ষমতাই নেই! চাপাতিটা
উপরে তুলে সে দূরে ছুড়ে দিল, কিন্তু সেটা
লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়ে বাচ্চাটার গলা ঠিক সমান দুভাগ করে
দিল! রক্তের স্রোতে আবিরের চোখ মুখ
ভিজে যাচ্ছে। বাচ্চাটার তীক্ষ্ণ হাসিতে কানের
পর্দায় অসহ্য যন্ত্রণা হচ্ছে তার!
পুরো ঘরময় কারা যেন ছুটোছুটি করছে,তাদের
গায়ের বাতাসে কয়লাগুলো আরও জ্বলজ্বল
করছে।ত্রংখা মারমা ভয়ে ফিসফিসয়ে বলছে, প্রভু
তোর উপর সন্তুষ্ট হয়েছেন! তিনি আসছেন,
তিনি আসছেন!সে ঘরের এককোণে গুটিসুটি
দিয়ে সরে গেল।
হঠাৎ পুরো ঘর কেমন যেন গুমোট হয়ে
গেল! ত্রংখা ভয়ে বিড়বিড় করছে।জন্তু পচা গন্ধটা
আরও তীব্র হয়ে নাকে লাগল।
মৃত গলাকাটা বাচ্চাটা হঠাৎ সোজা হয়ে দাঁড়াল,গলগল
করে এখনও রক্ত বের হচ্ছে নাকমুখ দিয়ে!
প্রানহীণ কণ্ঠে হেসে বলল: তোর ইচ্ছে
ইফ্রিত কবুল করেছে। বলেই সে খসখস করে
রক্ত নিয়ে একটা চামড়ার মাঝে কি যেন আঁকিবুঁকি
করল!
-ধর, এই চামড়ায় প্রস্রাব করে কোন একটা
কবরস্থানে মঙ্গলবারে কবর খুড়ে ঠিক মুর্দার
বুকের ডান দিকে পুতে দিবি। কবরের বয়স যেন
৩ দিনের বেশী না হয়।
- কি হবে তাহলে?
রক্তচক্ষু নিয়ে ইফ্রিত তার দিকে তাকিয়ে আছে।
ফিসফিসিয়ে বললঃছেলেপক্ষের অন্তর হবে
মুর্দার অন্তর, মুর্দার অন্তরে কোন মায়া থাকে না।
আবির ভয়ে ভয়ে চামড়াটা হাতে নিলো! মাথা নুইয়ে
বললঃপ্রভু, আমি প্রতিশোধ চাই, অনেক ভয়ঙ্কর
প্রতিশোধ!
ইফ্রিত তীক্ষ্ণ চিৎকার দিয়ে বললঃতোর কষ্ট আমি
কখনও সইব না, কখনও না!
এরপর ইফ্রিত আবিরের ব্যাগ খুলে দুটো রুটি
বের করল। রক্ত দিয়ে একজোড়া মানব-মানবীর
ছবি আকল উভয় রুটির উপর।দেখতে অবিকল নীরু
আর রাসেদের মত! রুটিগুলো তার দিকে বাড়িয়ে
দিয়ে বললঃএকজোড়া কুচকুচে কালো কুকুর-
কুকুরীকে খাওয়াবি এইগুলো, দেখবি তিন রাত্রির
মধ্যে কেমন কুকুরের মত ঘেউ ঘেউ করা শুরু
করে তোর শত্রুরা!
-না না নীরু আমার শত্রু হবে কেন? আমি তো
তাকে ভালবাসি!
উত্তরে ইফ্রিতের অট্টহাসি শোনা গেল শুধু !
ভয়ে আর তৃষ্ণায় আবিরের চোখ অন্ধকার হয়ে
আসছে, সামনে রাখা পেয়ালাটা থেকে আরও
কয়েক ঢোক নীল তরল পান করল সে,চোখ
মেলে রাখতে পারছে না। অপার্থিব নারকীয়
অনুভূতি হচ্ছে ,দৃষ্টি যেন ঘোলাটে হয়ে
আসছে,একসময় সব অন্ধকার হয়ে গেল।
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now