বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
আমি এখন আমার ঘরের
বিছানায় শুয়ে আছি।
আমার শরীরের সবগুলো
অংশই এখন অচল। আমি
চাইলেই নড়তে পারি
না। শুধুমাত্র আমার চোখ
গুলো আর মস্তিষ্ক এখনো
বেঁচে রয়েছে। আমার
পাশেই আমার স্ত্রী
জুলেখা বসে আছে। সে
আজ নতুন একটা লাশ
নিয়ে ঘরে ঢুকেছে।
লাশটা একটা ৬-৭
বছরের বাচ্চা মেয়ের।
মেয়েটার গলা দিয়ে
এখনো রক্ত পড়ছে।
বুঝলাম হয়তো কোন
বাচ্চা মেয়েকে সবে
মাত্র ছুরি দিয়ে গলায়
আঘাত করে খুন করেছে
জুলেখা। আমার সামনেই
মেয়েটাকে নিয়ে বসলো
সে। একটু পর পর জুলেখা
বিকট শয়তানী হাসির
শব্দ করে হাসছিলো ।
জুলেখা একটা ছুরি এনে
বাচ্চা মেয়েটাকে
নিয়ে বসলো। এরপর ছুরি
দিয়ে মেয়েটার গলা
থেকে মাথাটা আলাদা
করলো। এরপর মাথাটা
নিয়ে আমাদের ঘরের
ফ্রিজে রাখলো। ফ্রিজে
এই নিয়ে ১৩ টা বাচ্চা
মেয়ের মাথা রয়েছে।
এরপর জুলেখা আবার
লাশের কাছে ফিরে
এলো। এরপর লাশের
গলায় জিহ্বা ঢুকিয়ে
বাচ্চারা যেভাবে
পাইপ দিয়ে জুস খায়
সেভাবে মেয়েটার পুরো
শরীর থেকে রক্ত চুসে
চুসে খেয়ে মেয়েটার
শরীর রক্তশুন্য করে
দিলো। এরপর জুলেখা
মেয়েটার শরীর থেকে
একেকটা অংশ আলাদা
করতে লাগলো এবং বন্য
পশুদের মতো সেখুলো
ছিড়ে ছিড়ে খেতে
লাগলো। জুলেখা
মেয়েটার শরীর ছুড়ি
দিয়ে গলা থেকে মাঝ
বরাবর দুই ভাগ করে
ফেললো।
তারপর মেয়েটার বুকের
বামপাশ ছিদ্র করে
হার্টটা বের করে
তৃপ্তি সহকারে খেতে
লাগলো। একের পর এক
করে মেয়েটার পুরো
শরীর খেয়ে ফেললো সে।
.
আমি চোখ বড় বড় করে
অনেক ঘৃণার সাথে তার
এই নোংরামো
দেখছিলাম। আমার
চিৎকার করে বলতে মন
চাচ্ছে "থামায় এসব
জুলেখা! আর এতো নিষ্ঠুর
হয়ো না মানুষের
প্রতি।" তবে আমার কন্ঠ
দিয়ে কোন শব্দ বের
হচ্ছিলো না। আমি এই
দৃশ্য দেখতে চাই না
ভেবে চোখটাও বন্ধ
করতে পারছি না কারণ
আমি আমার চোখ বন্ধ
করতেও অপারক। একটু পর
জুলেখা আমার কানের
কাছে এসে বললো।
-১৩ টা বাচ্চার মাথার
জোগাড় হয়ে গেছে। আর
মাত্র ৮ টা মাথা
লাগবে। এতোদিন একটু
কষ্ট করে বেঁচে নাও।
কথা দিচ্ছি এরপর
আমিই তোমায় মৃত্যুর
দুয়ারে পৌছে দিয়ে
আসবো। হাহাহা।
.
আমি তার কথা শুনতে
পাচ্ছিলাম তবে এর
কোন উত্তর দেওয়ার
সক্ষমতা আমার নেই।
এইরকম একটা পিশাচ
বউ এর সাথে বেঁচে
থাকার কোন ইচ্ছাই
নেই আমার। আমি মনে
মনে শুধু বিধাতার
কাছে মৃত্যুই কামনা
করি। এর বেশি আর
কিছুই না।
.
তবে আমি কোন পিশাচ
মেয়েকে বিয়ে করিনি।
আমার সাথে এই ঘটনার
শুরু আজ থেকে ৬ মাস
আগে।
.
আমি সবেমাত্র আমার
লেখাপড়া শেষ করি।
তারপরেই একটা নতুন
কম্পানীতে চাকরীও
পেয়ে যাই। সেলারীও
বেশ ভালো ছিলো। আমি
আমার বাবা-মায়ের
একমাত্র
ছেলে ছিলাম তাই
তারা আমার বিয়ের
জন্য পাগল হয়ে যায়।
আমি বাধ্য হয়েই বাবা-
মায়ের চাপে বিয়ের
জন্য রাজি হয়ে যাই।
.
জুলেখা খাতুন নামে
একটা মেয়ের সাথে
আমার বিয়ে ঠিক হয়ে
যায়। আমাদের দুজনেরই
একে অপরকে খুব পছন্দ
হয়। সবকিছু ঠিকই
চলছিলো। তবে বিয়ের
আগে হঠাৎ একদিন
জুলেখা তার পরিবার
আর আমার কাছে বায়না
ধরে যে সে নাকি তার
ভার্সিটি থেকে শিক্ষা
সফরে সুন্দর বনের
পাশেই একটা জঙ্গলে
যাবে। সেখানে তারা ৩
দিনের জন্য থাকবে।
জুলেখা এমন ভাবে
আমাকে অনুরোদ
করেছিলো যে আমি আর
তাকে না করতে
পারিনী। তবে তখন কে
জানতো যে তাকে
জঙ্গলে ঘুরতে জাওয়ার
অনুমতি দেওয়াটাই
আমার কাল হয়ে
দাড়াবে।
.
ঐখানে থাকার সময়
রোজই জুলেখার সাথে
আমার কথা হতো। তবে
৩য় দিন কল করে তার
নাম্বার বন্ধ পাই।
এরপর জানতে পারি যে
সেইখানে নাকি
জুলেখাকে খুজে পাওয়া
যাচ্ছে না। আমরা
কথাটা শুনে বেশ অবাক
হয়ে ছুটে যাই তাকে
খুজতে। টানা ৭ দিন
জঙ্গলে পুলিশ সহ আমরা
খোজাখোজির পর
জঙ্গলের অনেক ভেতরের
একটা গাছের নিচে
অজ্ঞান অবস্হায় আমরা
জুলেখাকে খুজে পাই।
জুলেখার কাছে জানতে
চাই যে জুলেখা
কিভাবে জঙ্গলের এতো
ভেতরে চলে আসে।
জুলেখা বললো সে নাকি
কিছুই জানে না। কখন ৭
দিন কেটে গেছে এটাও
সে বুঝেনি।এরপর থেকে
একেবারে
বদলে যায় জুলেখা। বেশ
অদ্ভুত ব্যবহার করতে
থাকে সে। আমার সাথেও
আগের মতো কথা বলেনা
সে।
.
তবে এরপর আমাদের
বিয়ে হয়ে যায়। তবে
জুলেখা আর স্বাভাবিক
ভাবে আমাদের সাথে
কথা বলে না। তার
বাবা-মা এর কাছেও
জুলেখা অপরিচিত মনে
হয়। আমি কিছুই
বুঝছিলাম না তবে সব
কিছু স্বাভাবিক ভাবে
গ্রহন করি।
.
আমার আর জুলেখার
বিয়ের দিন হঠাৎ করে
শুনি আমাদের বাড়িতে
বেড়াতে আসা একটা ৮
বছরের মেয়েকে খুজে
পাওয়া যাচ্ছে না।
আমরা সবাই পুরো বাড়ি,
পুরো এলাকা খুজে
মেয়েটাকে পাইনি।
তবে আমাদের বিয়েটা
ভালোমতই হয়ে যায়।
.
এরপর আমাদের বিয়ের
রাতে আমরা দুজনেই
ঘুমিয়ে পড়ি। তবে
মাঝরাতে কারো
একজনের হাড় চিবানোর
শব্দে ঘুম ভেঙে যায়
আমার। ঘুম থেকে উঠে
দেখি জুলেখা আমার
পাশে নেই। আর শব্দটা
ঘরের ওয়াশরুম থেকেই
আসছিলো। আমি ঘরের
খাটের নিচ থেকে
একটা রক্তের দাগ
দেখতে পাই যেটা
ওয়াশরুম পর্যন্ত ছড়িয়ে
আছে। রক্তের দাগ দেখে
এমন মনে হচ্ছে যে কোন
একটা মৃত বস্তুকে টেনে
ওয়াশরুম পর্যন্ত নিয়ে
জাওয়া হয়েছে। আমি
বেশ ভয় পেয়ে যাই।
ভয়ে ভয়ে ওয়াসরুমের
দিকে যাচ্ছিলাম আর
ডাকছিলাম:
- "জুলেখা? তুমি কোথায়!
তুমি কি ওয়াসরুমে?
আমাকে ভয় দেখানোর
জন্য এসব করছো! তাই
না!"
.
তবে ওয়াশরুমের ভেতর
থেকে কোন উত্তর
আসেনি।
শুধু হাড় কামরে
খাওয়ার শব্দ আসছিলো।
আমি ওয়াশরুমের ভেতর
তাকিয়ে যাহ দেখলাম।
তার জন্য আমি মোটেও
প্রস্তুত ছিলাম না।
জুলেখা একটা বাচ্চা
মেয়ের শরীর ছিড়ে
ছিড়ে চিবিয়ে
খাচ্ছিলো। আমি
মেয়েটার মুখ দেখে
চিনতে পারলাম আরে
এইটাতো সেই মেয়ে যে
আজ আমাদের বাড়ি
থেকে হারিয়ে
গিয়েছিলো। এই দৃশ্য
দেখে ভয়েতো আমার
পুরো শরীর অবস হয়ে
আসছিলো। আমি
জুলেখাকে প্রশ্ন করি:
-জুলেখা? তুমি কি পাগল
হয়ে গেছো? এইগুলো কি
করছো! এইভাবে একটা
মানুষ আরেকটা মানুষকে
কিভাবে হত্যা করে
খেতে পারে? তুমি কি
পশু হয়ে গেছো? আমি
এখনই আমার বাড়ির
সবাইকে ডাকছি।
.
এই বলেই যেই আমি
আমার বাবা-মাকে
ডাকতে যাচ্ছিলাম।
হঠাৎ আমার গলা থেকে
শব্দ বের হওয়া বন্ধ
হয়ে গেলো। আমি আর
সামনের দিকে হাটতে
পারছিলাম না। আমার
পুরো শরীর অবস হয়ে
গেলো। জুলেখা আমাকে
উচুঁ করে বিছানায়
শুইয়ে দিলো। আর কানে
কানে আমাকে বললো:
-সবেতো মাত্র একটা খুন
করেছি আরো পুরো
পৃথিবীকে হত্যা করা
বাকি। আমি একের পর
এক হত্যা করবো আর তার
সাক্ষী থাকবে তুমি। আর
তুমি এখন থেকে
প্যারালাইসড। যাহ
দেখবে আর শুনবে তা আর
কাউকে বলতে পারবে
না। হাহাহা।
.
এরপরে সবাই ভাবে
আমি প্যারালাইসড হয়ে
গেছি। এরপরে একে একে
আরো মানুষকে হত্যা
করতে থাকে সে
।
আমার চোখের সামনে
জুলেখা আমার বাবা-মা
দুজনকেই হত্যা করে
ছিড়ে খায় তাদের দেহ।
এরপর তার নিজের
বাবা-মাকেও এনে খুন
করে নিজের ক্ষুধা
মেটাও সে। আমি সবকিছু
দেখতে পারছিলাম তবে
কোন কিছু বলার শক্তি
ছিলো না আমার।
.
এরপর হঠাৎ একদিন
একের পর এক বাচ্চা
মেয়েদের এনে আমার
সামনেই তাদেরকে
ছিড়ে ছিড়ে খায়
জুলেখা।
.
আজ সে ১৩ নাম্বার
বাচ্চাটাকে হত্যা
করলো। আরো ৭ জনকে
হত্যা করতে পারলে
নাকি জুলেখা অমরত্ব
লাভ করবে।
.
আমি বুঝতে পারছিলাম
যে জুলেখার শরীরে
কোন পিশাচের আত্মা
প্রবেশ করেছে। হয়তো
সেই জঙ্গল থেকেই
জুলেখার সাথে এমন
কিছু হয়েছে। ঐ ৭ দিন
যে নিখোজ ছিলো
জুলেখা তখনই ওর সাথে
কিছু হয়েছিলো। তবে কি
হয়েছিলো! এর উত্তর
আমাকে জানতেই হবে।
কিন্তু এই পিশাচ বউ আর
প্যারালাইসড শরীর
নিয়ে কিভাবে এর
রহস্য ভেদ করবো?!
.
তবে হঠাৎ একটা দারুন
বুদ্ধি এলো আমার
মাথায়।
.
. . . . . . চলবে . . . . .
.
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now