বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

পিপাসা

"ভৌতিক গল্প " বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান অয়ন ভৌমিক (০ পয়েন্ট)

X সুনসান একটা রেলস্টেশনে বসে আছে রাফি। রাতের ট্রেনে চড়ে গ্রামের বাড়ি যাচ্ছিল সে। কিন্তু এই স্টেশনে আসার পর ট্রেনে কী যেন একটা সমস্যা দেখা দিয়েছে। তাই তাই এই স্টেশনে থামতে হল। যাত্রীর সংখ্যা এমনিতেই কম ছিল, আর যারা ছিল তারা যে যার মত কেটে পড়েছে। ট্রেন আজকে রাতে আর ঠিক হবে বলে বলে মনে হয় না। তাই সবাই দূরের একটা শহরের দিকে হাঁটা শুরু করেছে। এতক্ষণে মনেহয় পৌঁছেও গেছে। রাফি অনেকটা কিংকর্তব্যবিমূঢ় হয়ে বসে আছে। রাতের ট্রেনে একা একা আগে কখনো চড়েনি সে। শহরে গিয়ে হোটেলে থাকবে সেই টাকাও নেই। আবার শহরে গেলে আবার ফিরে আসার আগেই যদি ট্রেন ছেড়ে দেয়, সেটা নিয়ে কিছুটা দুর্ভাবনা ও আছে। আপাতত কী করবে কিছুই বুঝতে পারছে না সে। পথে গেম খেলে মোবাইল এর চার্জ ও শেষ। কিছুক্ষণ পর একটা লোক এসে বসল রাফির পাশে। ভিক্ষুক- টিক্ষুক হবে। লোকটা একেবারে অদ্ভুত। পরনে একটা ছেঁড়া লুঙ্গি। এই গরমেও সে পুরো শরীর চাদরে ঢেকে রেখেছে। এমনকি চোখ আর নাকও ঢাকা। কালো ঠোঁট নাড়িয়ে কি যেন চিবাচ্ছে। রাফির হঠাৎ ভয় লাগতে লাগল। লোকটা রাফির দিকে মাথা ঘুরিয়ে হাসল। সামনের পাটিতে তার একটা মাত্র ক্ষয়িষ্ণু দাঁত। কালচে লাল রঙের দাঁত দিয়ে লোকটা লাল কি যেন চিবাচ্ছে। লোকটা তাকে বলল, "কই যাইবেন? বইসা আছেন ক্যান?" কেমন যেন ঠান্ডা নিঃসাড় গলা। কথাগুলো কেমন যেন দীর্ঘশ্বাসের মত শোনাল। রাফি কোন উত্তর দিল না। লোকটা আবার বলল, " গরম কিছু গায়ে দিয়া লন, এই ইস্টিশনে ম্যালা বাতাস দেয়। এই বাতাস গায়ে লাগান ঠিক না।" লোকটার কথা সত্যি, যেন একথা প্রমাণ করার জন্যই হঠাৎ ঝোড়ো হাওয়া বইতে লাগল। কনকনে ঠান্ডা বাতাস। তবে রাফি গরম কাপড় পরার কোন চেষ্টা করল না। যা গরম লাগছিল এতক্ষণ! ঠান্ডা বাতাস ভালোই লাগছে। অদ্ভুত সেই লোকটা চাদর গায়ে ভালো করে পেঁচিয়ে নিয়ে ঝিমাতে লাগল। কিছুক্ষণ পর রাফির কিছুটা পিপাসা পিপাসা ভাব হল। হঠাৎ করেই কেমন যেন অসহ্য পিপাসা। মনে হচ্ছে যেন বুক ফেটে যাবে। ব্যাগ থেকে পানির বোতল বের করে ঢক ঢক করে পানি খেল সে। কিন্তু পিপাসা মিটল না। পিপাসার তাড়নায় রাফি হঠাৎ কেমন যেন অন্যরকম হয়ে গেল। পশুর মত হাঁসফাঁস করতে করতে পাশের লোকটার দিকে এগিয়ে গেল সে। লোকটা বসে বসে কেমন যেন অদ্ভুতভাবে ঝিমোচ্ছে। লোকটার দিকে কিছুটা এগোতেই হঠাৎ দাঁতগুলো কেমন যেন ব্যাথা করতে লাগল রাফির। মনে হল দাঁতগুলো যেন বেরিয়ে আসতে চাইছে। কিছু বুঝে ওঠার আগেই সে কামড়ে ধরল সেই অদ্ভুত লোকটাক ঘাড়। চাদর ভেদ করে সেই কামড়ে লোকটার গলার ধমণী, শিরা, স্নায়ু ছিন্নভিন্ন হয়ে গেল। ব্যাপারটা এত তাড়াতাড়ি ঘটল যে লোকটা চিৎকার করার পর্যন্ত সময় পেল না। লোকটার গলা বেয়ে গলগল করে রক্ত পড়তে লাগল। রাফি অপ্রকৃতিস্থের মত চু্ষে চুষে খেতে লাগল সেই রক্ত। কনিষ্ঠ আঙুলের নখটা বড় রাখা রাফির অনেক দিনের অভ্যাস। সেই নখ দিয়ে সে উপড়ে ফেলল লোকটির দুটি চোখ। সেই চোখের কোটর থেকেও চুষে খেতে লাগল রক্ত। ধীরে ধীরে তার পিপাসা মিটে যেতে লাগল। কিছুক্ষণের মধ্যেই সংবিৎ ফিরে পেল রাফি। ভয়ে কাঁপতে লাগল রাফি। এটা সে কি করেছে? সে একপজনকে মেরে ফেলেছে! মেরে তার রক্ত খেয়েছে! বমি করার চেষ্টা করল সে। কিন্তু বমি হল না। কিছুক্ষণ কিংকর্তব্যবিমূঢ় হয়ে বসে রইল সে। একটু একটু কান্নাও পাচ্ছে তার। কিন্তু এখন ঠান্ডা মাথায় কাজ করতে হবে। তাই আপাতত নিজের রক্তমাখা শার্টটা পাল্টে ফেলল। লোকটার লাশটা টেনে নিয়ে ফেলে দিল ডাস্টবিনে। লাশটার দিকে তাকানো যায় না। লাশটা টেনে নেওয়ার সময় রাফির বারবার মনে হতে লাগল লোকটা উঠে বসবে এবং ঠান্ডা গলায় বলবে, "আমারে মারছেন ক্যান?" লোকটার চাদরের কিনারায় কিছু টাকা বাঁধা ছিল। সেগুলো খুলে নিয়ে টলতে টলতে শহরের দিকে রওনা হল সে। একটা আবাসিক হোটেলে ঢুকে কোন মতে একটা রুম ভাড়া নিয়ে রুমের চাবিটা নিয়েই দ্রুত রুমের ভেতর ঢুকে গেল সে। রুমের খাটে কোন বালিশ আর চাদর নেই। নিশ্চয়ই কিছুক্ষণের মধ্যেই কেউ এসে দিয়ে যাবে। রাফি বাথরুমে ঢুকে দরজা বন্ধ করে হাঁপাতে লাগল। বেসিনের কাছে যেতেই হড়হড় করে বমি করে দিল সে। বমির সাথে গাঢ় লাল রক্ত বেরিয়ে এল। রাফি তাড়াতাড়ি বেসিনের কল চালু করে দিল। তারপর চোখে মুখে পানি দিল। আয়নার দিকে তাকাতেই ভয়ে পাথরের মত জমাট বেঁধে গেল সে। আয়নায় দেখল তার পেছনে দাঁড়িয়ে আছে স্টেশনের সেই লোকটা। চোখের কোটরে গভীর দুটো গর্ত। সেখান থেকে গলগল করে রক্ত বের হচ্ছে। গলা বেয়ে সেই রক্তে তার সাদা চাদর ভিজে লাল হয়ে যাচ্ছে। লোকটার মুখে নিষ্ঠুর একটা হাসি। আর আয়নায় রাফির নিজের চোখের রঙ গাঢ় হলুদ, সেখানে লাল চোখের মণি জ্বলজ্বল করছে। তার মুখে ধূর্ত একটা হাসি। মুখের ভেতর ধারালো দাঁত আর লিকলিকে জিহবা। হঠাৎ করেই রাফির আবার পিপাসা পেল। সে শুনতে পেল তার রুমের দরজা খোলার শব্দ। একটা হোটেল বয় এসেছে বিছানার চাদর আর বালিশ দিয়ে যাওয়ার জন্য, একা! দাঁতে ব্যাথা শুরু হল রাফির। অন্যমনষ্কভাবে হোটেল বয় এর দিকে এগিয়ে গেল সে। যাওয়ার আগ মুহূর্তে তার মনে পড়ল স্টেশনের লোকটার সেই কথা, "এই বাতাস গায়ে লাগান ঠিক না।" সেই বাতাসই কি তাকে ধরিয়ে দিয়েছে এই ভয়ংকর পিপাসা।


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১১২৫ জন


এ জাতীয় গল্প

→ পিপাসার্ত জীবন
→ পানির পিপাসা
→ পিপাসা
→ পিপাসা
→ পিপাসা—তানভীন নাহার

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now