বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
এই ঘটনাটা অনেক দিন আগের।
তিরিশ কি চল্লিশ বছর আগের কথা, বা তার বেশিও হোতে পারে, তখন কার দিনে যোগাযোগ ব্যাবস্থা ভালো ছিলো না, চিঠিই ছিলো যোগাযোগের মূল মাধ্যম, একটা চিঠি পোষ্ট করলে অনেক সময় লাগতো প্রাপ্যকের কাছে পৌছাতে, আর রেজিষ্ট্রি করা চিঠিতো অরর্জিনাল মালিকের হাতে দিতে হোতো।
এমনই এক রেজিষ্ট্রি করা চিঠি মালিকের হাতে পৌছানোর জন্য পিওন রমজান রওনা করে।
আসলে তার চাকরির বয়স মাত্র কয়েক মাস।
রমজান দেখতে একেবারে খারাপ না, বয়স কম তাগরা শরির, কোনো কাজ সে ফেলে রাখা পছন্দ করে না। আর দায়িত্বে তো কখনোই অবহেলা করে না।
চাকরীর সু বাদে শোশুর বাড়ি থেকে উপহার হিসেবে একটা বাই সাইকেল পেয়েছে। তাই চিঠি বিলি করাটা তার জন্য অনেক সহজ হওয়াতে মাঝে মোধ্যেই তার স্ত্রীর কাছে অনেক প্রসংসা করে।
চিঠি বিলি করতে করতে কোনো কোনো সময় রাতও হয়ে যেতো। সাইকেলটা পাওয়ার পর থেকে ধকলটা অনেক কমে গেছে।
বেশ কয়েক দিন হোলো একটা পার্সেল এসেছে, ঠিক মতো রাস্তা না চেনার কারনে পার্সেলটা ডেলিভারী দিতে পারে নাই,তার জন্য পোষ্ট মাষ্টার একটু বকা ঝকা করেছে। তাই রমজান ঠিক করে আজই পার্সেলটা মালিকের কাছে পৌছে দেবে, হোতে পারে অনেক জরুরী পার্সেল।
ঠিক মতো রাস্তার বিবরন শুনে রওনা করে সে। এমনিতেই সন্ধ্যা ঘোর, পাশের হিন্দু বাড়ি থেকে শাখের ধ্বনী ভেষে আসছে, অজানা রাস্তা বেশি দেরি না করে সাইকেলটা নিয়ে বেরিয়ে পরলো।
চাঁদনী রাত, জোৎসনার আলোতে একশ হাত দুরের বস্তুুও স্পষ্ট দেখা যায়। রমজান বেশ কিছুদুর আসার পর দেখলো ডানে বামে দুই দিকে রাস্তা চলেগেছে এখন কোনটা যে সঠিক রাস্তা বুঝে উঠতে না পেরে ওখানেই দাড়িয়ে আছে। যদি কেউ আসে তবে সঠিক রাস্তা ধরে যাওয়া যাবে।
যাক এখন একটা বিড়ি খাওয়া যায়।
পকেট থেকে একটা বিড়ি বের করে ধরানোর সময় হঠাৎ কে যেনো ফুদিয়ে আগুনটা নিভিয়ে দিলো। স্পষ্ট দেখতে পায়নি, তবে মনের ভূল ভেবে বিষয়টা আমলে নিলোনা, কোষে কয়েকটা টান দিয়ে খেয়াল করলো কে যেনো এই দিকে আসছে, লোকটা কাছে আসার পর জিগ্গেস করলো শিমুল তলি যাবো রাস্তাটা কোন দিকে বলতে পারেন, লোকটা ভ্রুকুচকে তাচ্ছিল্লের সাথে জবাব দিলো,
তা মিয়া এতো রাইতে ঐ হানে কি দরকার।
না মানে একটা চিঠি দেবার ছিলো।
ও আচ্ছা,,,,,
তো মিয়া দুই রাস্তা দিয়াই যাওয়া যায়। এক রাস্তায় ভুত পিশাচে ভরা, আরেকটা কাদায় ভরা কোন রাস্তায় যাবেন,
ঠিক বুঝলাম না। কোনটা দিয়ে তারাতারি যাওয়া যাবে সেটা যদি বলতেন।
হ তারা তারি, তয় ডাইনের রাস্তা দিয়া যান। ডরাইয়েন না মিয়া, রাস্তাডা ভালা না।
দুঃর আজগবি কথা সুনে দেরি করার কোনো মানেই হয়না।
রমজান তার বিড়িতে আরেকটা টান দিয় সাইকেলে চেপে বসলো।
মাটির রাস্তা, একেবেকে চলে গেছে, দুপাশ দিয়ে গাছের শারি। খুবই সুন্দর লাগছিলো রমজানের, একটা গান ধরলো নিচু গলায়।
হঠাৎ সামনে একটা বিড়াল এসে পড়াতে কাদার মোধ্যে চোলে গেলো, রমজানের বেজায় রাগ হোচ্ছিলো। ভাগ্গিস তার গায়ে কাদা লাগেনি, বিড়ালটাকে ধুতে ধুতে আবার রওনা করলো।
বারবার বৌটার কথা মোনে হোচ্ছিলো, না জানি কখন বাড়ি ফিরবে সে। বৌটা পথ চেয়ে বসে থাকবে। গ্রামের পথ, একটু ভয়ও করছিলো। কিছুদুর পর সাইকেলটার চেইন পরে গেলো, বিরক্তির সুরে,,, তুই আর পরার সময় পেলিনা।
রমজান আবার পথ চলা শুরু করলো, কিছুদুর যাবার পর আবার চেন পরলো।
মেজাজটা গেলো বিগরে, না এবার চেন পরেনি, চেনটা ছিড়ে গেছে কি মুসকিল এখন কি করি।
দুরে একটা বাড়িতে আলো জ্বলছিলো, রমজান মোনে মোনে ভাবলো যাক এবার একটা ব্যাবস্হা করা যাবে, কিন্তুু রাস্তা যেনো শেষই হয় না, রাত তো দুরের আলোকে অনেক কাছে মোনে হয়।
হাটতে হাটতে বাড়িটার কাছে পৌছালো,
বাড়িতে কেউ আছেন।
একজন বৃদ্ধ মহিলা বাতি হাতে, কে গো বাবা তুমি, আসো ভেতরে আসো।
রমজান বাড়ির ভিতরে গেলো।
মহিলা বুঝি রান্না করছিলো, তার পাশে সুন্দর একটা মেয়ে বসা।
কামিনি একটা জল চৌকি দে তো মা।
মেয়েটা একটা জলচৌকি হাতে,
বসো বাবা,,,,।
না আমি তো বসবো না, যাবো শিমুল তলি, একটা চিঠি আছে তো।
কামিনি এক গ্লাস পানি আর কয়েকটা বাতাসা নিয়ে,
নাও বাবা একটু পানি খাও।তার পর না হয় যাবে।
এমনিতেই রমজানের পেট চো চো করছিলো। বাতাসা আর পানি খেয়ে একটু ভালো লাগলো।
বাতাসা আর পানি খেয়ে রমজানের কেমন যানি ঝিমুনি আসছে, রমজান ওখানেই বসে পরলো।
বৃদ্ধ মহিলা কাছে এসে কপালে হাতদিয়ে দেখে তার প্রচুর জর।
পুরো শরির অবশ, নরাচরার কোনো বল নেই।
কামিনি পাশে এসে বসলো। তার ভিতর আগের সেই সৌন্দর্য আর নেই। কিছুটা চোখ খুলে দেখলো রমজান।
কামিনির কান দুটো বড়, চোখটাও লাল, আর দাঁত গুলো হলদেটে আর হাতের নখ কুকুরের নখের মতো।
রমজান বুঝে গেছে আজই তার শেষ দিন হয়তো বাড়ি ফেরা হবে না, কেউ জানবেই না কোথায় তার লাশ,
পরের দিন, রমজান অফিসে আসে নাই, পোষ্ট মাষ্টার একটু চিন্তায় পরলো, কারন ছেলেটা কখনও দেরি করে আসেনা, বেলা একটার আগেই অফিস বন্ধ করে ছুটলো রমজানদের বাড়ি, না সে গতো রাতে বাড়ি ফেরে নাই।
পোষ্ট মাষ্টার ভাবলো নিশ্চই কোনো সমস্যা হোয়েছে। তারা তারি কয়েক জন লোককে নিয়ে রমজানের উদ্দেশ্যে বেড়িয়ে পরলো।
শিমুল তলি চেয়ারম্যান বাড়ি চিঠি দেবার কথা ছিলো, সেখানে গিয়ে দেখলো রমজান আসেই নাই চিঠি নিয়ে। চেয়ারম্যান কয়েক জন লাঠিয়াল দিয়ে খুজতে পাঠালো।
তাদের মোধ্যে একজন বললো, তারা তারি তাল তলির বিলে খুজতে হবে, সেখানেই হয়তো,, ,,,,,।
আসলেই তাই, দুর থেকে তারা দেখলো রাস্তার পাসেই সাইকেলটা ইষ্টান্ড করা, কিন্তুু রমজানের কোনো দেখা নেই। অনেক খোজা খুজির পর দেখাগেলো রমজানের নিথর দেহটা একটা তাল গাছের নিচে রাখা। শরিরটা সাদা ফেকাসে হয়ে গেছে, মনে হয় কেউ বুঝি তার শরিরের রক্ত নিংরে নিয়েছে, কিন্তু প্রানটা এখনো আছে। একটানা তিনমাস বিছানায় থাকার পর রমজান শুস্হ্য হয়। তার পর সে আর পিওনের চাকরিটা করে নাই।
ধন্যবাদ সবাইকে, মাথা বেথার কারনে গল্পটা হয়তো ভালো হয়নি, সবাই ভালো থাকবেন।
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now