বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
খুব গরীব ঘরেই জন্ম হয়েছিল রাফিন এর। গরিব বললে ভুল হবে অতী গরিব ঘরে জন্ম হইছিল।
ছোট বেলায় মা-বাবা কে হারায়।
অনেক কষ্টে করে এস.এস.সি ও এইচ.এস.সি পাশ করে। ক্লাসে অনেক মেধাবী ছিল রাফিন। ভার্সিটি তে ভর্তি হতে ঢাকায় আসে। এক দুসম্পর্ক এর মামার মাধ্যমে একটা পিজ্জা শপে চাকরি পায় রাফিন।
তার কাজ ছিল ৯টা থেকে ৫টা। সারাদিন চাকরি করত আর রাতে পড়াশুনা করত। ভালই কাটছিল তার দিন গুলি।
"
"
"
" একদিন তাদের দোকানে একটা ডেলিভারি অর্ডার আসল পিজ্জা দিয়ে আসতে হবে। রাফিন যায় পিজ্জা দিয়ে আসতে। কলিংবেল বাজাতেই একটা মেয়ে আসল দরজা খুলে দিয়ে পিজ্জা নিল আর তার টাকা দিল।
রাফিন চলে আসল,সেই দিনের মত।
মেয়েটাকে তার খুব ভাল লাগল।
যাকে বলে প্রথম দেখায় প্রেম।
কিন্তু রাফিন ভাবে কই সে আর কই ওই মেয়ে। সে শুধু পিজ্জা দেবার জন্য জন্মেছে,আর মেয়েটার জন্ম হইছে পিজ্জা অর্ডার দেবার জন্য।
"
"
"
" আবার দুই দিন পর অর্ডার আসল,পিজ্জার।
রাফিন আবার দিয়ে আসতে গেল। সপ্তাহে ৩/৪ দিন মেয়েটাকে পিজ্জা দিতে যেতে হত।
মেয়েটা হয়ত খুব পিজ্জা ভালবাসে,হয়ত তাই প্রায় অর্ডার দেয়।
"
"
"
" এমনি করে এক মাস কেটে গেল।
মেয়েটার কথা খুব মনে পরত তার।
খুব মায়া মাখা একটা মুখ দেখলেই মনে হয় প্রেমে পড়ি। যত বার দেখি তত বার প্রেমে পড়ি,এমন ভাবছে রাফিন আর একা একা হাসছে। মেয়েটার অর্ডার লিস্ট থেকে নামটা জানা হয়ে গেছে রিমি। রিমঝিম বৃষ্টির মত কথা বলে যখন তাকে বিল দিত তার সাথে একটু কথা বলত খুব ভাললাগত তার।
আস্তে আস্তে রাফিন এর মনের ভিতর খুব যত্ন করে তাকে একটা যায়গা দিল মেয়েটিকে,ঠিক বুকের বাম পাশে।
যেখানে মেয়েটাকে দেখলেই ডিপ-ডিপ শব্দ শুরু হয়।
কেমন অস্তির লাগে রাফিন এর।
"
"
"
" কিন্তু কি করে বলবে তাকে? যদি ফোন দিয়ে দোকানে নালিশ করে তবে তার চাকরী শেষ। পরে তার আর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এ পড়া হবে না।
বুকের ভিতর নিজের সুপ্ত ভালবাসা টা লুকিয়ে রেখে নিজের পড়াশুনা করতে লাগল।
আর ১মাস পর তার ভর্তি পরিক্ষা।
আবার একদিন পিজ্জার অর্ডার আসল।
অনেক দিন পরই আসল।
রাফিন মেয়েটাকে দেখার জন্য খুব অস্তির হয়েই উঠছিল।
কেমন যেন একটা টান অনুভব করছে তার জন্য।ভাবছে আজকে বলে দিবে ভালবাসি। যদি চাকরী চলে যায় যাক।
তবু যাকে এক নজর দেখার জন্য এত ব্যাকুল মনটা তাকে না বলে থাকবে কি করে।
"
"
"
"ভাবতে ভাবতে রাফিন পিজ্জা নিয়ে গেল। আজকে রিমি কে খুব সুন্দর লাগছিল। সাদা-কাল একটা ড্রেস পড়া।
অনেক বেশি সুন্দর লাগছিল।
অনেক সুন্দর করে সেজেছে মেয়েটা।
মানুষ মেকআপ ছাড়া এত সুন্দর করে সাজতে পারে রিমিকে আজকে না দেখলে রাফিন জীবনে বিশ্বাস করত না।
রাফিন বলতে যাবে এর মাঝেই রিমি বলল আপনি ভিতরে এসে একটু বসুন আমি টাকা দিচ্ছি।
রিমি কারো সাথে কথা বলছিল ফোনে।
কথা গুলি এমন ছিল,,,,,""না রে অংকটা একদম মিলছে না। স্যার বলল এইটা আসবেই।এখন কি করি""।
রাফিন তার সামনেই দেখল একটা খাতায় খুব অংক করা। কিন্তু কিচ্ছু মিল নাই।
একি অংক বার বার ট্রাই করা।
রাফিন অংকটা দেখে বুজল রিমিও তাদের সাথে পরিক্ষা দিবে কারন এই অংক সে পারে।আর তাদের ই অংক।
রাফিন খুব তাড়াতাড়ি অংকটা খাতায় নির্ভুল ভাবে করে দিল আর নিচে লিখে দিয়ে গেল ""ভালবাসি তোমায়""।
"
"
"
"রিমি এসে তাকে টাকা দিল।রাফিন টাকা নিয়ে চলে এল। রিমিকে রাফিনের ভালবাসি কথাটা বলার সাহস হল না।
সে নিজের বুকের বাম পাশে ভালবাসার পাখি টাকে আবার বন্দি করে চলে এল।
রাফিন চলে যাবার পর,রিমি আবার সেই ম্যাথ নিয়ে বসল। কিন্তু সে নতুন পেজে যেতেই দেখল খাতায় ম্যাথটা করা।খুব সহজ নিয়মে করা। অল্পেতে বুঝে গেল রিমি। কিন্তু সে তো করেনি, তবে কে করল।আর হাতের লেখাটাও অনেক সুন্দর।কেমন মায়া মায়া ভাব লেখার মধ্যে।
রিমি ভাবল বাসায় আর কেউ নেই যে ম্যাথটা করে রাখবে।আর বাইরে থেকে আসল শুধু মাত্র পিজ্জা বয়।তবে কি সে........?
"
"
"
"কিন্তু সাধারণ একটা ছেলে এত কঠিন ম্যাথ কি করে পারবে।
তবে কি সে পড়া লেখা পারে?
"
"
না রিমির জানতেই হবে।
আবার খাতাটা ভাল করে দেখতেই নিচের লেখাটা চোখে পড়ল একি
"ভালবাসি তোমায়"
মানে তবে কি ছেলেটা.....না এই সব কি লিখা।নাকি অন্য কেউ।
রিমির ছেলেটাকে খারাপ লাগে না।
খুব সুন্দর দেখতে শুধু পিজ্জাহাট এ জব করে।
যদি সে ভালবাসেও তার বাবা মা মেনে নিবে না।
ছিঃ কি সব ভাবছে রিমি।
কিন্তু ছেলেটার সাথে কথা বলতেই হবে কালকে।
"
"
৭দিন পর তাদের পরিক্ষা,রাফিন তাই ছুটি নিল একটু ভাল করে পরার জন্য।
কারন সে কোন কোচিং করেনি।
নিজের বুদ্ধি দিয়ে মেধা দিয়েই পরিক্ষা দিতে হবে।
"
"
"
" পরের দিন রিমি আবার ফোন দিল পিজ্জার জন্য।
যখন দরজায় বেল বাজল তখন সে দৌড়ে এসে দরজা খুলে দেখল সেই ছেলেটা না।অন্য কেউ আজকে পিজ্জা নিয়ে আসছে।
রিমির মনটা খারাপ হয়ে গেল। সে বিল দিয়ে দিল।
পিজ্জা নিয়ে যেই ছেলেটা আসছে সে চলে যেতেই রিমি পিছন থেকে ডাক দিল,ভাইয়া শুনুন আগে যেই ছেলেটা আসত পিজ্জা নিয়ে সে কই?
"তখন সে ছেলে বলল আপনি রিফান এর কথা বলছেন ও তো সাত দিনের ছুটি নিছে।
রিমির মন খারাপ হয়ে গেল।
সে কোন মতে পড়াশুনা তে মন বসাতে পারছে না।
কোন মতে কাটিয়ে দিল দিন গুলি।
"
"
"
"আজকে সকাল সকাল ঘুম থেকে উঠল রিমি।
পরিক্ষা আজকে তার,পরিক্ষা দিতে গেল।
হলে ঢুকে দেখল তার সিট একদম সামনের সারিতে।
কিন্তু সে বসে আছে কিন্তু তার পিছনের সিটটা এখন ও ফাকা।
ভাবছিল আসে পাশে থেকে একটু সাহাজ্য নিবে কিন্তু কি পোড়া কপাল পিছনের কোন মদন আসেইনি।
এদিকে খাতা দিয়ে দিছে,সে একটু নরমাল স্টুডেন্ট তাই তার একটু চিন্তা হচ্ছে বেশি।
যখন ঘন্টা দিল রিমির আরো খারাপ লাগছিল।
"
"
১৫............মিনিট পর স্যার আসতে পাড়ি..........?
সবাই অবাক হয়ে পিছনে তাকাল।
কারন যেই খানে পরিক্ষার প্রতি সেকেন্ডের মুল্য আছে সেই খানে এই ছেলে ১৫মিনিট লেট।
স্যার জানতে চাইল তা আপনি এত লেট করে আসছেন কেন? কই ছিলেন।
পরিক্ষার কথা মনে নাই।
না মানে স্যার ঘুম ছিলাম আর হেঠে আসছি তো তাই।
সবাই হো হো করে হেসে দিল।
আচ্ছা আচ্ছা এই নাও খাতা আর নিজের সিটে গিয়ে বস।
"
"
"
" রাফিন কে দেখে রিমি যত খুশি হল তার চাইতে অবাক হল কেননা 20মিনিট পর কি লিখবে।
রাফিন রিমির পিছনের ছিটটাতে বসল।
রাফিন রিমি কে দেখে চিনল।
রাফিন জানে রিমি ভাল পারবে না।
তাকে হেল্প করতে হবে।
নিজে থেকেই সে রিমিকে হেল্প করছে।
নিজের খাতায় খুব তাড়াতাড়ি পুরন করল রাফিন। রিমি কে বলে দিচ্ছিল।
অনেক হেল্প হচ্ছে রিমির।
কিন্তু নিজে না লিখে রিমি কে বলছে কেন।
খুব কমন আসছিল রাফিন এর কাছে।
তাই তার অল্পতে পূরন হয়ে গেল।রিমি কে দেখাতে দেখাতে খাতা নিয়ে গেল স্যার রাফিন এর কাছ থেকে।
রাফিন অনেক টা হাসি মুখ নিয়ে বের হয়ে এল হল থেকে।
"
"
"
" সে অপেক্ষা করছে রিমির।
পরিক্ষা শেষে রিমি এল রাফিন এর কাছে।
সব শুনল রাফিন এর কথা।
খুব মায়া হচ্ছিল রাফিন এর জন্য।
রিমি নিজেই জানতে চাইল তুমি কি আমায় ভালবাস?
রাফিন কি উত্তর দিবে বুঝতে পারে না।
শুধু তাকিয়ে আছে রিমির দিক।
আর হয়ত ভাবছে সে কি রিমির যোগ্য? ভাবতে ভাবতেই নিজের বুকে জড়িয়ে নিল রিমি কে।
খুব শক্ত করে আগলে রাখল রিমিকে নিজের বাহুডোর এ।
"
"
"খুব ভালই যাচ্ছিল রিমি আর রাফিন এর সম্পর্ক। কিছু দিন পর রেসাল্ট দিল। রাফিন সবার থেকে বেশি নাম্বার পেয়ে ফাস্ট হল এবং সাথে রিমি ও চান্স পেল।
এখন তারা খুব ভালই আছে,রিমি তার পিজ্জা বাবু কে নিয়ে।
জানে না ভবিষ্যৎ কি তার,হয়ত রাফিন ভাল রেসাল্ট করলে ভাল জব করলে মেনে নিবে এই সম্পর্ক সবাই।
হোক না সে আগে ছিল পিজ্জাবয়।কিন্তু এখন সে তার ভালবাসার মানুষ এইটাই অনেক কিছু তার কাছে।
আর মানুষের বড় পরিচয় সে মানুষ।
আর তার কর্ম তার সব পরিচয় বদলে দিতে পারে এক মূহুর্তে।
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now