বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
আঁখ খেতে ছাগল বন্দি জলে বন্দি মাছ,
বইয়ের মধ্যে পড়া বন্দি ঘুরায় বারো মাস,
জিএফ গো আমার মন ভালা না,
বইয়ের সাথে পিরিত কইরা সুখ পাইলাম না!!!
একটু তন্দ্রা ধরেছে কি ধরে নি, অমনি কানের কাছে ঘ্যান ঘ্যান শুরু হলো।
-- কে রে গাইছে?
-- আমি গাইছি,
-- গান গাইছিস নাকি আমার ঘুমের বারোটা বাজাচ্ছিস?
-- তোর ঘুমের বারোটা বাজাবো কেন? আমি তো ঘড়ি না। আর তোকে তো কিছু বলছি না!
-- তো কাকে বলছিস?
-- আমার জিএফকে!
-- তোর আবার জিএফ এলো কোথা থেকে রে?
-- বারে, তোর জিএফ থাকতে পারে আর আমার থাকতে পারে না!
-- তবে রে, তুই গান গাইতে থাক, আমি প্যাড বাজাতে আসছি!!
আমার কথা শুনে পিচ্চিটা দৌরে পালালো। ও আমার কাকাতো ভাই। ক্লাস ফোরে পড়ে। লেখাপড়ায় ভালো। তবে একটু দুষ্টুমি বেশি করে আরকি। এইতো সেদিন পুকুরপাড়ে ফোনে গার্লফ্রেন্ডের সাথে কথা বলছিলাম। পিচ্চি শুনে ফেলেছিলো।
-- হ্যালো মামনি,
-- হ্যাঁ বাবু বলো,
-- বলছিলাম যে কাল দেখা করলে হয় না!
-- কেন বাবু?
-- তোমাকে দেখতে খুবই ইচ্ছে করছে মামনি!
-- আমার সোনা বাবুটা,তোমার ফোনেই তো আমার ফটো আছে, সেটা দেখো না!
-- ধুরর, ফটোতে মন ভরে না,
-- মনে হচ্ছে আমার বাবুটার পকেটে একটু মালকড়ি জমেছে!
এই রে! আমার পকেট তো খালি! কাল তাহলে কি দেখা করা হবে না! আমার গার্লফ্রেন্ড আবার বেশি দেখা করতে চায় না। যেদিন দেখা করে, সেদিন তো পকেটকে গড়ের মাঠ বানিয়ে দেয়।
তাই হকচকিয়ে বললাম, ঠিক আছে মামনি, কাল যদি দেখা করতে না চাও, তবে দেখা করার দরকার নেই।
-- কেন? চলো না দেখা করি!
-- আরে না, কাল হবে না। এখন রাখি মামনি!
-- ওকে বাবু!
আচ্ছা বাবু,তুই তোর কোন মামনির সাথে কথা বললি?
-- কার সাথে আবার ! আমার নি.....
এই রে প্রশ্নটা কে জিজ্ঞেস করেছিলো! পিছনে ফিরে দেখি পিচ্চিটা। ধমকে বললাম, অ্যাই পিচ্চি, তুই এখানে কেন? বাড়ি চলে যা!
-- বাড়ি তো যাবো অবস্যই। আর বড়বাবা আর বড়মাকে বলবো যে তোর একটা নতুন মামনি হয়েছে !
এই রে, এতো নির্ঘাত বাড়িতে একটা ঝামেলা পাকাবে। নাহ্, কি যে করি।
-- শুন আমার লক্ষ্মী ভাইটি!
-- আরে তোর কি আমাকে ধনের দেবী বলে মনে হয়?
-- আরে পাগল, আমি তো তোকে আদর করে ডাকলাম।
-- কি? আমাকে কি তোর পাগল মনে হয়? এবার তো অবস্যই বাড়িতে যাবো।
-- আমি তা বলতে চাই নি।
-- কী বলতে চাইছিলি?
-- তোর জন্য একটা গরম খবর আছে।
-- খবর গরম হোক আর ঠাণ্ডা হোক তাতে আমার কি?
-- তুই আমার কাছে যা চাইবি, আমি তোকে দিবো।
-- তুই কি মহাদেবের মতো আমাকে বর দিবি নাকি?
-- হুম, এই সুযোগে অমর হওয়ার বর চেয়ে নে!
-- নারে ভাই, আমার অমর হওয়ার দরকার নেই।তার চেয়ে বরং তুই আমাকে একটা ক্রিকেট ব্যাট, একটা ফুটবল আর একশ ক্যান্ডি দিলেই হবে!
-- এই মাথামোটা, ক্রিকেট ব্যাটের সাথে ফুটবল কেন? তুই কি ক্রিকেট ব্যাট দিয়ে ফুটবল পেটাবি?
-- তুই আমাকে মাথামোটা বললি? এজন্য ক্রিকেট ব্যাট যোগ।
-- মানে !
-- মানে ক্রিকেট ব্যাট, ফুটবল, একশ ক্যান্ডির সাথে ক্রিকেট বল যোগ।
-- একটু কম কর রে ভাই, পকেট তো গড়ের মাঠ! ফুটবলটা বাদ দে!
-- বটে আছে!
-- মানে!
-- বারে, তুই যখন তা ঠিক কথাটা না বলে বলিস যে তা বটে। আর আমি ঠিক আছের জায়গায় বটে আছে বললে বুঝিস না!
-- দিন দিন জ্ঞানী হচ্ছিস?
-- তা তুই জানিস!
-- এবার বল তো তোকে এসব কেন দিচ্ছি?
-- দিচ্ছিস কোথায় ! এখনো তো আনিসই নি।
-- দেবো তো। কিন্তু বল কেন দেবো?
-- যাতে আমি ভালো ক্রিকেটার হতে পারি।
-- আহ্! সেটা নয়। যাতে তুই আজকের পুকুরপাড়ের ঘটনা কাউকে না বলিস!
-- ঠিক আছে বলবো না। কিন্তু কালকের ঘটনাটা বলবো কী?
-- মানে?
-- কালও আমি সব শুনেছি!
-- আরে না না, কোনো দিনের ঘটনাই বলবি না।
-- ওকে। আমার জিনিসগুলো আজ চাই।
-- আজ! কদিন পরে পাবি।
-- তাহলে বাড়িতে গিয়ে.....
-- ঠিক আছে আজ পাবি।
তারপর পিচ্চি চলে গেলো। যাক বাবা হাফ ছেড়ে বাঁচলাম।
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now